09/09/2026
আমি উন্মুক্ত আলাপ আলোচনায় আগ্রহি। এমনকি আমার মধ্যে কোনো ভুল ভ্রান্তি থাকলে সেটা শুধরে নিতেও আমার আপত্তি বিশেষ নাই। আলোচনায় আমি একদম 'টু দ্যা পয়েন্ট' থাকার চেষ্টা করি। আজাইরা ইস্যু নিয়ে এসে আলোচ্য বিষয় কে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করি না। জানি না এমন কিছু সামনে আসলে জানার চেষ্টা করি।
এইগুলো লিখতে হচ্ছে, কারণ, আমার ফ্যাইসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে নানা রকম মানুষ আছেন। যদিও ফ্রেন্ড লিস্ট খুব বড়ো না। কিন্তু, বৈচিত্র কম নেই।
আস্তিক, নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদি, ইসলামি স্কলার, আলীম, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞানি, মিডিয়া পারসন, প্রকাশক, লেখক, খেলোয়াড়, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক সবকিছুই আছে লিস্টে।
আমি সাধারণত যেটা বুঝি বলে মনে করি, সেটাতে কমেন্ট করি। আমার তরফ থেকে আলোচনায় যতটুকু অংশ নেয়া যায়, নিতে সচেষ্ট হই। যদি সেটা সামাজিক, নাগরিক কোনো বিষয় হয়।
ম্যালাদিন থেকে লক্ষ্য করছি, অনলাইনে এক শ্রেণির ব্যবহারকারির দৌরাত্ম বৃদ্ধি পেয়েছে, যারা নিজের মতের বিরুদ্ধে কোনো কিছু গেলে সেটাকে নাকচ করে দিতে চায়, খুব সস্তা এবং নিম্ন বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যায়ের বিদ্রূপ করে। আমি সাধারণত সেসবে যুক্ত হই না।
কিন্তু, আমি আমার প্যাইজ কিংবা টাইমলাইনে পোস্ট করার পর, কিছু রিঅ্যাকশন দেখি, কমেন্ট পড়ি। যারা বিদ্রূপ করে। আমি বিভিন্ন গ্রুপ, প্যাইজ ইত্যাদির পোস্টে কিছু লিখলে সেখানেও দেখা যায় ফ্রেন্ড লিস্টের কারো রিঅ্যাকশন বা কমেন্ট আসছে।
ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা সাধারণ আইডি এবং উপরেল্লিখিত বিশেষ শ্রেণির মানুষের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার মধ্যে আমি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ফারাক লক্ষ্য করছি দীর্ঘদিন থেকে।
সাধারণ আইডির বেশিরভাগই আমার পরিচিত। আমি একেবারে অচেনা, অজানা কাউকে আগে ফ্রেন্ড লিস্টে যোগ করতাম না। এখন করি। কারণ, এটি নিয়েও অনেক কথা হয়েছে।
তো এই পরিচিত লোকেদের মধ্যে কতিপয় ব্যক্তি আমাকে কমেন্ট করে 'সবক' শেখানোর খায়েশাত পূরণ করছেন বলে আমার ধারণা হয়েছে। বিভিন্ন সময় উদ্ভট রিঅ্যাকশন দিয়ে আমার মতামত কে অবজ্ঞা বা অবহেলার নজরে দেখা হয়েছে বলে আমি অনুমান করছি।
এদের অ্যাকাডেমিক এবং উপলব্ধিজাত শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে আমার বিশেষ কিছু বলার নাই। কিন্তু, কোন লিখা বা মতামতে কী রিঅ্যাকশন এবং কমেন্ট করা প্রাসঙ্গিক তা ফ্রি কেউ শেখালে তাদের শেখা উচিত বলে মনে করি। কেউ মুহুর্তের আবেগে কিংবা উত্তেজনায় পরিচিত কারো সঙে অস্বাভাবিক আচরণ করলে তার মানসিক সমস্যা রয়েছে এ নিয়ে সন্দেহ থাকে না।
আমি তো শুধু পরিচিতদের পোস্টে কমেন্ট করি, তা না। দুনিয়ার আরো অজস্র মানুষের পোস্টে কমেন্ট করি। নানান রকম আলাপ আলোচনা হয়। আজ অব্দি কেউ আমাকে 'সবক' দেবার খায়েশে কমেন্ট করেননি। তারা সবাই জ্ঞানে, গুণে, অবস্থানে, মর্যাদায় আমার চেয়ে অজস্র গুণ উত্তম। এমনকি কি আমি ভুল কিছু বললেও অনেকেই সেটা শুধরে নেবার জন্যে পরামর্শ দিয়েছেন।
এই পুরো বিষয়টা নিয়ে ভাবতে গেলে আমি মাঝে মাঝে তব্দা হয়ে যাই।
কী বুঝে কিংবা না বুঝে অর্থহীন একটা রিঅ্যাকশন বা কমেন্ট করছে কিছু লোক। আজব লাগে।
এদের মত 'বয়ঃসন্ধিকালীন' উত্তেজনায় আক্রান্ত অনেকেই দুনিয়া জুড়ে অনলাইন এবং অফলাইনে বিচরণ করে সমাজ কে অস্থিতিশীল করে তুলছে। দলাদলি, হানাহানি, বিভেদ, বিদ্বেষের বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে।
এদের কি ছেটে ফেলা দরকার?
না, আমি মনে করি, এদের সামনে কিছু উদাহরণ তুলে ধরা প্রয়োজন যাতে এরা পার্থক্য করতে পারে, কোনটা সঠিক, কোনটা ভুল। যদিও এটি বেশ দীর্ঘমেয়াদি একটা প্রক্রিয়া।
এই লেখাটার প্রধান উদ্দেশ্য হলো, ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা। চাইলে স্ক্রিনশট জুড়ে দিয়ে, নাম মেনশন করে প্রশ্ন করা যেত কেনো এই রিঅ্যাকশন বা কমেন্ট করা হলো। তাতে আমার আগ্রহ নাই।
কুয়ায় থাকা মন্দ না, তবে, দুনিয়ায় যে সাগর, মহাসাগর আছে সে জ্ঞান থাকা জরুরি। না হলে দিন শেষে বিপত্তি বাড়বে।
ধন্যবাদ।
| আলাপ
→ তানজীল শাহরিয়ার
~ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১