25/05/2026
আজ ২৫শে মে ২০২৬ (১১ই জ্যৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী। ১৮৯৯ সালের এই দিনে পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। 'দুখু মিয়া' ডাকনামের কৃষক সন্তান নজরুল, ছোটবেলায় পিতৃহারা হয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে দিন কাটালেও, তাঁর ভেতরে লুকিয়ে থাকা সাহিত্য প্রতিভা খুব দ্রুত বিকশিত হতে শুরু করে। তিনি হয়ে উঠেন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, বিদ্রোহের আগ্নেয় অস্ত্র যিনি ধারণ করেছিলেন কলমে। তিনি শুধু একজন বিদ্রোহী কবিই নন, ছিলেন একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সঙ্গীতস্রষ্টা, সাংবাদিক ও সৈনিক।
নজরুলের কবিতা, গান, উপন্যাস ও গল্পে বাঙালি জেনেছে বীরত্বের ভাষা, দ্রোহের মন্ত্র। তাঁর লেখনীকে বানিয়েছিলেন সাম্প্রদায়িকতা, সামন্তবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের হাতিয়ার স্বরূপ। ফলশ্রুতিতে ব্রিটিশ শাসনামলে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে তাঁকে, কিন্তু কোনো কারাগারের শিকল তাঁর চেতনাকে বেঁধে রাখতে পারেনি, কোনো শাসক তাঁর আদর্শের শিখা নেভাতে পারেনি। তাঁর রচিত বিষের বাঁশী, চক্রবাক, বুলবুল কিংবা অগ্নিবীণা, সবখানেই ছড়িয়ে আছে প্রেম, মানবতা আর সাম্যের সুর। এক অপরূপ আধ্যাত্মিকতায় তিনি প্রেম, বিচ্ছেদ ও বিরহকে বর্ণনা করেছেন তাঁর লেখনীতে।
শিশুসাহিত্যেও কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ও জাদুকরী নাম। কবি স্বয়ং মননে, মানসে, হৃদয়ে ছিলেন এক চিরশিশু এবং চিরকিশোর, যা তাঁর শিশুতোষ গান, গল্প ও কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে সাবলীলভাবে। শুষ্ক নীতিবাক্য বা উপদেশের চেয়ে আনন্দ আর অজানাকে জানার কৌতূহলের উপস্থিতিই সেখানে বেশি, যা শিশুদের মনস্তত্ত্বকে খুব সহজে ছুঁয়ে যায়।
ঝিঙে ফুল, ভোর হলো দোর খোলো, লিচু চোরের মিষ্টি ছন্দ কিংবা সাত ভাই চম্পা, মোমের পুতুল, শুকনো পাতার নূপুরের সুরে আমাদের শৈশব রাঙানো সেই কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর অমর শিশুতোষ গান 'প্রজাপতি প্রজাপতি' নিয়ে আজ হাজির হয়েছে আমাদের KIN School-এর শিক্ষার্থীরা। কবির সৃষ্টিতে প্রজাপতির ডানায় ভর করে আনন্দের যে মেলবন্ধন ঘটেছিল, তা আজ KIN School-এর এই খুদে শিল্পীদের মিষ্টি কণ্ঠে যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এভাবেই পৌঁছে যাক আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর বাণী। আজকের নজরুল জন্মজয়ন্তীতে এটাই KIN-এর প্রত্যাশা।