02/04/2026
হাম (Measles) শিশুদের জন্য একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং গুরুতর ভাইরাসজনিত রোগ। এটি প্রধানত বাতাসের মাধ্যমে বা আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণত ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি ও জটিলতা বেশি দেখা যায়।
শিশুদের হামের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
হামের প্রধান লক্ষণসমূহঃ
হামের লক্ষণগুলো সাধারণত ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ৭ থেকে ১৪ দিন পর প্রকাশ পায়।
প্রথম পর্যায়:
তীব্র জ্বর (১০৩-১০৫° ফারেনহাইট), সর্দি, কাশি এবং চোখ লাল হয়ে পানি পড়া।
দ্বিতীয় পর্যায়:
জ্বরের ৩-৪ দিন পর মুখমণ্ডল ও কানের পেছন থেকে লালচে দানা বা র্যাশ বের হয়, যা ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এই র্যাশগুলো সাধারণত ৫-৭ দিন স্থায়ী হয়।
হাম হলে করণীয়ঃ
হামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই, তবে উপসর্গগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হয়।
বিশ্রাম ও তরল খাবার:
শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে দিন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার (যেমন- ডাবের পানি, সুপ) খাওয়ান।
চিকিৎসকের পরামর্শ:
র্যাশ বা তীব্র জ্বর দেখা দিলে দেরি না করে শিশুকে চিকিৎসকের কাছে বা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। চিকিৎসক জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল বা ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দিতে পারেন।
আলাদা রাখা:
হাম যেহেতু ছোঁয়াচে, তাই আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখাই ভালো।
পরিচ্ছন্নতা:
হাম হলে শিশুকে নিয়মিত কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করানো বা শরীর মুছিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
প্রতিরোধ ও টিকাঃ
হাম প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো টিকা নেওয়া।
টিকার সময়সূচী:
সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ (এমএমআর টিকা) দেওয়া হয়।
টিকা কার্ড:
আপনার শিশুর টিকার কার্ডটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হোন যে সে হামের টিকা সঠিক সময়ে পেয়েছে কি না।
মনে রাখবেন:
হাম অবহেলা করলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা মস্তিস্কের সংক্রমণের (এনসেফালাইটিস) মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সঠিক সময়ে টিকা দেওয়া এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি
জরুরি সতর্কতা:
যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট হয়, কান দিয়ে পুঁজ পড়ে বা প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে যায়, তবে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিন। আপনার শিশুর ওষুদের ধরন এবং সঠিক মাত্রা নির্ধারণে অবশ্যই একজন শিশু বিশেষজ্ঞের (Pediatrician) পরামর্শ নিন।