22/01/2025
একটি নির্লজ্জ অসামাজিক কর্মকান্ডের সাক্ষী হয়ে থাকলো সিলেট। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নিয়ম অবজ্ঞা করে রাজনৈতিক চাঁদাবাজরা ও অশিক্ষিত জনগণ যেই কর্মকান্ড করেছে তার চরম নিন্দা জানাই। সবচেয়ে আশ্চর্যের ছিল জোরপূর্বক ছেলে মেয়েদের বিয়ে দেয়ার ব্যাপারটা। প্রথমত বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ছেলে মেয়ে ফ্রি মিক্সিং করতে পারে। হোটেল কর্তৃপক্ষ ও সরকার কর্তৃপক্ষ এদের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির নিয়ম রেখেছে। যেমন, আইডি দিয়ে রুমে একটি ফরম পূরণ করার পরেই ঢুকতে পারবে যেকোনো যোগল। দ্বিতীয়ত সাক্ষরপত্রে লিখা থাকবে তাদের এই কার্যক্রম যদি কখনও অসামাজিক বলে আইন অনুযায়ী বিবেচিত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে চার্জ করা হবে।
তবে পারতে ছেলেমেয়েদেরও দরকার ছিলনা এরকম রিসোর্টে যাওয়ার। আরো অনেক উপায় ছিল দেখা করার, কথা বলার। অস্বাভাবিক কিছু একটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা এখানে থেকে যায়। এ সমস্ত জিনিস থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
আমি আমার ব্যক্তিগত জীবনে মেয়েদের সঙ্গে এভাবে মেলামেশার বিরুদ্ধে। তবে অন্যরা প্রাসঙ্গিকভাবে এটা করলে আমি সেটাকে অগ্রহণযোগ্য ভাবিনা। আর যারা বিয়ে দিয়েছে এবং ক্যামেরার সঙ্গে সঙ্গে ছিল, তারা সবাই সন্ন্যাসী নয়। তারা সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে অশিক্ষিত মহলের কাছে সম্মানিত করলো আর কি। অসামাজিক কার্যক্রম যেটা হয়েছে সেটা, ছেলে মেয়েরা যেটা করেছে আইনত সেটা নয়।
আমি কারোর ব্যক্তিগত জীবনে আঘাতের বিপক্ষে। বাংলাদেশে ছেলে মেয়েরা রেস্টুরেন্টে বসলেও এদের নেগেটিভ ভাবে ভিডিও করে ভাইরাল করে দেয়ার ঘটনা অতীতে অহরহ ঘটছে! ছেলেমেয়ের অবৈধ মেলামেশায় আমি সমর্থন করিনা। আবারো বলছি অবৈধ। এখন ছেলে মেয়ে হোটেলে সাক্ষাৎ করার জন্য একান্তে মিট করাকে কখনোই অবৈধ কার্যকলাপ বলা যাবেনা। কারণ গণতান্ত্রিকভাবে এটা স্বীকৃত। দ্বিতীয়ত ধর্মীয় ইঙ্গিত যদি করেন, তবে এখানে ব্যক্তিমতের ব্যাপার চলে আসবে। আমি মনে করি ধর্ম বিয়ের পূর্বে ছেলে মেয়েদের যাচাই করার সুযোগ দিয়েছে। আর সেই সুযোগটা পজিটিভ ভাবে পরিবারেরই ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা। তবে বর্তমানে ছেলে মেয়েরা প্রেম করলে পরিবারকে সেটা প্রাথমিকভাবে বলতে পারেনা। কারণ বর্তমান বাংলাদেশ মৌলবাদী মহল দ্বারা ব্যাহত। এই মৌলবাদ কর্মীরা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে অনেক কিছুই হারাম হিসেবে বুঝিয়েছে। অথচ তাদের নিজেদেরই তাদের কথার বিরুদ্ধে কাজ করতে প্রতিনিয়ত পাওয়া যায়! তাই স্বাভাবিকভাবেই ছেলে মেয়েদের নিজ দায়িত্বে এক বা একাধিক আলাপের ব্যবস্থা করে নিতে হয়। যদি অবৈধ শারীরিক কার্যকলাপ ধরা না পড়ে তবে কে কোথায় গিয়ে কি করলো, এইটা জানার অধিকার কোনো সমাজকর্মীর নেই। একজন বিছানার উপর যাই করুক আমি বিছানার নিচে ঢুকে তাদের ব্যক্তিগত কার্যকলাপ লক্ষ্য করার রাইট রাখিনা। আর সব ছেলেমেয়েরা উম্মুক্ত প্রেমে বিশ্বাসী নয়। পার্কে, রাস্তাঘাটে প্রেম করে বেড়ানো সবার ব্যক্তিত্বের সাথে যায়না। তাই রিসোর্টের পথ বেছে নেয় তারা। এখন আমি যদি জোরপূর্বক এদের বিয়ে করাই, এদের জীবনের ঝুঁকির দায়ভার আমার উপরও বর্তাবে! হতে পারে তারা প্রেমের এক পর্যায়ে বুঝেছে তাদের আর একসাথে থাকা যাবে না। কোন অবৈধ শারীরিক কার্যকলাপ তারা কখনোই করেনি।
এই দেশ রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুফিয়া কামাল, শেখ মুজিবের দেশ। এখানে কোনো মৌলবাদতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে দেয়া যাবেনা। যদি রাজনৈতিকভাবে ধর্মীয় নীতি আনতে চান, তবে আগে রাজনৈতিক ধর্মাবলম্বীদের তাদের ধর্ম সম্পর্কে সুশিক্ষিত করুন। তাদের আচার ব্যবহার ধর্মের আলোকে তৈরি করুন।
ধর্মকে পুঁজি করে প্রতিনিয়ত অহেতুক কার্যক্রম পরিচালিত হতে দেখা যাচ্ছে। আইনকে এ বিষয়ে কড়া নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছি আর পরামর্শ দিচ্ছি নিজেদের শোধরানোর।
_মুহি খাঁন (পরিচালক LGC)
#মুহি #মুহিখাঁন