Heritage of Sylhet - সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য

  • Home
  • Bangladesh
  • Sylhet
  • Heritage of Sylhet - সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য

Heritage of Sylhet - সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ৩ জানুয়ারি,১৭৮২ তারিখে সিলেটের শুভ জন্মদিন। এ শুভ দিনেই “সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য” (Heritage of Sylhet) উদ্যোগের শুভযাত্রা।

চায়ের জনপদ সিলেট। আর সিলেটের চা শ্রমিকদের নিয়ে ১৯২১ সালের ২০ মে এক বেদনাদায়ক রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল যা চা-শ্রম...
20/05/2026

চায়ের জনপদ সিলেট। আর সিলেটের চা শ্রমিকদের নিয়ে ১৯২১ সালের ২০ মে এক বেদনাদায়ক রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল যা চা-শ্রমিক দিবস হিসেবে অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবছর পালিত হয়। ১৯২১ সালের ২০ মে‘মুল্লুকে চলো’র ডাক দিয়ে পথে নেমেছিলেন চা-শ্রমিকেরা যাদের অনেকেরই আর কোনভাবেই নিজ মুল্লুকে ফেরা হয়নি।

নিশ্চিত উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জন্মভিটা ছেড়ে এসেছিলেন একদল মানুষ। ভারতের খরা ও দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলের এসব মানুষকে স্বপ্নের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। সিলেট অঞ্চল ও আসামের গভীর জঙ্গলে চা-বাগান তৈরি করতে আসা এসব মানুষের অর্থ ও স্বাচ্ছন্দ্যের মোহ কাটতে বেশি দিন লাগেনি। অল্পদিনেই বুঝে গিয়েছিলেন তাঁরা ঠকেছেন, হয়েছেন প্রতারিত। তাঁদের মিথ্যা স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। স্বপ্নচ্যুত এই মানুষেরা তাঁদের জন্মভিটায় ফিরে যেতে ‘মুল্লুকে চলো’র ডাক দিয়ে একদিন পথে নেমেছিলেন। ফেরার পথে ১৯২১ সালের ২০ মে চাঁদপুরে গোর্খা সৈন্যরা সেই ঘরমুখী মানুষের ওপর হামলা করেন। এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ফলে অনেকেরই আর ঘরে ফেরা হয়নি। এ অঞ্চলের চা-চাষের বৃত্তবন্দী জীবনে তাঁরা স্থায়ী শ্রমিক হয়ে বাঁধা পড়েন। সেই রক্তাক্ত দিনটি এখন চা-শ্রমিকদের কাছে স্বপ্নভঙ্গের প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে আছে। চা-শ্রমিকেরা ২০ মে ‘চা-শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকেন।

১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনীছড়ায় চা-বাগান তৈরির মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে চা-বাগানের যাত্রা শুরু হয়। ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের টিলাভূমিতে একের পর এক চা-বাগান তৈরি করতে থাকে। তখন অনেক শ্রমিকের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু এ অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি জমিতে সাপ, জোঁক ও পোকামাকড়ের মধ্যে কাজ করার মতো শ্রমিকের অভাব ছিল। ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো তখনকার অবিভক্ত ভারতের উড়িষ্যা (ওডিশা), বিহার, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, মাদ্রাজ, পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দারিদ্র্যপীড়িত, অনুর্বর অঞ্চলে দালাল নিয়োগ করে।গরিব মানুষকে সুন্দর ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখায় দালাল চক্র। চা-বাগান তৈরির জন্য নিয়ে তাঁদের আনা হয় আসাম ও বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের গভীর জঙ্গলে। কোম্পানির মালিকেরা এই লোকগুলোকে চা-বাগান প্রস্তুত করার অমানুষিক কাজে বাধ্য করেন। চা-শ্রমিকদের নিয়মিত এক বেলা পেটপুরে খেতেও দেওয়া হতো না। অখাদ্য-কুখাদ্য খেয়ে অনেক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ছাড়া কথায় কথায় চা-শ্রমিকদের ওপর চালানো হতো শারীরিক নির্যাতন ও নিপীড়ন।

দ্রুতই চা-শ্রমিকদের সুন্দর জীবনের মোহ কেটে যায়। অসহনীয় হয়ে ওঠে নিপীড়ন-নির্যাতন। চা-শ্রমিকেরা গোপনে ‘নিজ মুল্লুকে (নিজ দেশে)’ চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু ফিরে যাওয়ার পথ কারও জানা নেই। তাঁদের শুধু জানা ছিল, চাঁদপুর থেকে স্টিমারে কলকাতা যাওয়া যায়। এই জানাটুকু সম্বল করেই ১৯২১ সালে দিনক্ষণ ঠিক করে কাছাড় ও সিলেটের প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক ‘মুল্লুকে চলো’র ডাক দিয়ে পথে নামেন। দিনের পর দিন দীর্ঘপথ পায়ে হেঁটে একসময় নদীবন্দর চাঁদপুরে গিয়ে পৌঁছান তাঁরা।পথে পথে খাদ্যের অভাব, অসুখে অনেক শিশু ও নারীর মৃত্যু ঘটে। চা-শ্রমিকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন চা-শ্রমিক নেতা গঙ্গাদয়াল দীক্ষিত, দেওশরন ত্রিপাঠি, হরি চরণ প্রমুখ। এদিকে চা-বাগান ছেড়ে আসা চা-শ্রমিকদের পথ রোধ করতে সরকারের সহযোগিতায় চাঁদপুরে মোতায়েন করা হয় আসাম রাইফেলের গোর্খা সৈন্য। স্টিমারে উঠতে চাইলে গোর্খা সৈন্যের প্রতিরোধের মুখে পড়েন চা-শ্রমিকেরা।শ্রমিকদের বিদ্রোহ ঠেকাতে ১৯২১ সালের ২০ মে সৈন্যরা নির্বিচার গুলি করেন। এতে স্টিমার ঘাট ও রেলস্টেশনে অপেক্ষমাণ বিপুল শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেন। হত্যাযজ্ঞের কারণে এই আন্দোলন তখন একটি সর্বভারতীয় শ্রমিক আন্দোলনে রূপ নেয়।

দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করতে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) ট্যাগ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।এ লক...
08/05/2026

দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করতে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) ট্যাগ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ লক্ষ্যে জিআই ট্যাগ তৈরি করা হয়েছে : এক নজরে দেখে নিন বর্তমানে বাংলাদেশের ৬২টি জিআই পণ্য ও এর উৎপত্তিস্থল।

ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) ট্যাগ অনুযায়ী সি‌লে‌টের অন্তর্ভুক্ত পণ‌্য হ‌চ্ছে আগর আতর, ম‌নিপুরী শা‌ড়ি ও শীতল পা‌টি।

হজরত শাহজালাল (রহ.) এর ৭০৭তম বার্ষিক ওরস গিলাফ চড়ানোর মধ্য দিয়ে আজ ৭‌ মে ২০২৬ তা‌রিখ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে...
07/05/2026

হজরত শাহজালাল (রহ.) এর ৭০৭তম বার্ষিক ওরস

গিলাফ চড়ানোর মধ্য দিয়ে আজ ৭‌ মে ২০২৬ তা‌রিখ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়েছে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুফি সাধক হজরত শাহজালাল (রহ.) এর ৭০৭তম বার্ষিক ওরসের আনুষ্ঠানিকতা।প্রথমে মাজার কর্তৃপক্ষ গিলাফ চড়ান, পরে দলে দলে ভক্ত-আশেকানরা মাজারে প্রবেশ করেন। এসময় পুরো মাজার এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে—“লালে লাল, বাবা শাহজালাল”
স্লোগানে।

হজরত শাহজালাল (রহ.) এর বার্ষিক ওরস উপ‌ল‌ক্ষ্যে প্রতিবছর দে‌শের নানা প্রান্ত হ‌তে তার ভক্তরা সি‌লে‌টে হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজা‌রে সম‌বেত হন ও ভ‌ক্তি প্রদর্শন ক‌রেন। সাতশত বছ‌রেরও অ‌ধিককাল ধ‌রে আজও চলমান সিলে‌টের এই ধর্মীয় ঐ‌তিহ‌্য।

প্রথম বাণিজ্যিক চা-বাগান সিলেটের মালনীছড়া : চা-বাগান মানেই তো সবুজের চাদর বিছানো উঁচু-নিচু টিলায় দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দ...
28/04/2026

প্রথম বাণিজ্যিক চা-বাগান সিলেটের মালনীছড়া : চা-বাগান মানেই তো সবুজের চাদর বিছানো উঁচু-নিচু টিলায় দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দৃশ্য। মালনীছড়া চা-বাগানও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে প্রাচীনত্বের দিক থেকে মালনীছড়ার ঐতিহ্য বেশ পুরোনো। এটি কেবল সিলেটের প্রথম চা-বাগানই নয়, বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা-বাগানও।

মতভেদ থাকলেও অনেক গবেষকের মতে, চট্টগ্রামের কোদালা চা-বাগানই দেশের প্রথম চা-বাগান। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৩ সালে। তবে ১৮৫৪ সালে দেশে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে চালু হওয়া চা-বাগান হচ্ছে মালনীছড়া। অবশ্য কোনো কোনো গবেষকের দাবি, বাগানটি ১৮৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সিলেটের এই চা-বাগানের মাধ্যমেই চা–চাষের গোড়াপত্তন। ইংরেজ ভদ্রলোক লর্ড হার্ডসন বাগানটি প্রতিষ্ঠা করেন।

মালনীছড়া চা-বাগান চালুর পর এর পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বহু ইংরেজ, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি ব্যবস্থাপক। ১৯৮৭ সাল থেকে এটি সিলেটের বিশিষ্ট চা-কর ও শিক্ষানুরাগী সৈয়দ রাগীব আলীর ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে। চা-বাগানটির মোট আয়তন ২ হাজার ৫০০ একর।

সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য উদ্যোগের পক্ষ থেকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে সিলেটের বিভিন্ন স্থাপনার মিনিয়েচার বিভিন্ন শিল্পীর মাধ্যমে তৈরী করে ক্ষুদ্র একটি সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছি। মালনীছড়া চা বাগানের মিনিয়েচার টি আমার ডিজাইন মোতাবেক সিলেটের স্বনামধন্য মিনেয়েচার শিল্পী Mustafizur Rahman Sumon তৈরী করে দিয়েছেন।

ঢাকার আগারগাঁওয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে নবনির্মিত ‘প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর’  উদ্বোধন করেছেন সংস্কৃতিবিষ...
23/04/2026

ঢাকার আগারগাঁওয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে নবনির্মিত ‘প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর’ উদ্বোধন করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী। দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে শুরু করে সুলতানি ও মোগল আমলের মূল্যবান নিদর্শন এখানে সুনিপুণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন।

বিষয় ও বিবরণ ঃ
জাদুঘরের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় বাংলাদেশের সুদীর্ঘ কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা তুলে ধরার লক্ষ্যে বিভিন্ন যুগের মূল্যবান প্রত্নবস্তু সন্নিবেশিত হয়েছে। এখানে প্রাগৈতিহাসিক সময়কালের বস্তুগত নিদর্শন, বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, ঐতিহাসিক জনপদ, তথ্য মানচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ের পাথর ও ধাতব নির্মিত সরঞ্জাম থেকে শুরু করে প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বৌদ্ধ, হিন্দু ও মুসলিম শাসনামলের ভাস্কর্য, অলংকৃত স্থাপত্য উপাদান, টেরাকোটা ফলক, নকশাঙ্কিত ইট, মৃৎপাত্র ও অলংকার প্রদর্শিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রাচীন মুদ্রা, শিলালিপি ও লিপির প্রতিরূপ, ঔপনিবেশিক সময়ের নিদর্শন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থলসমূহের তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আধুনিক আলোকসজ্জা ও ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে এসব নিদর্শন দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

নবনির্মিত এই জাদুঘর দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে দেশি-বিদেশী দর্শক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।

উক্ত জাদুঘর অনেক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই উদ্যোগ দেশের প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ ও গবেষণায় জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সেই সাথে সাথে একদিকে যেমন প্রত্ন-পর্যটনের বিকাশ লাভ করবে; অন‌্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে এবং সর্বোপরি বাঙালি জাতিকে একটি জ্ঞান সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস!

বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবস (২৩ এপ্রিল ২০২৬) উপল‌ক্ষে সি‌লে‌টের ই‌তিহাস ও ঐ‌তিহ‌্য উ‌দ্যো‌গের পক্ষ থে‌কে শু‌ভেচ্ছা এক‌ট...
23/04/2026

বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবস (২৩ এপ্রিল ২০২৬) উপল‌ক্ষে সি‌লে‌টের ই‌তিহাস ও ঐ‌তিহ‌্য উ‌দ্যো‌গের পক্ষ থে‌কে শু‌ভেচ্ছা এক‌টি জ্ঞান‌নির্ভ‌র ও ঐ‌তিহ‌্যপ্রিয় সমাজ গঠ‌নে বই ও জ্ঞা‌নের চর্চার ভুমিকা অপ‌রিসীম।

ইউনেসকোর উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। বই পড়া, বই ছাপানো, বইয়ের কপিরাইট সংরক্ষণ করা ইত্যাদি বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোই বই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। এ কারণে কপিরাইট দিবস হিসেবেও দিনটিকে পালন করা হয়।

বিশ্ব বই দিবসের মূল ধারণাটি আসে স্পেনের লেখক ভিসেন্ত ক্লাভেল আন্দ্রেসের কাছ থেকে। ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল মারা যান স্পেনের আরেক বিখ্যাত লেখক মিগেল দে থের্ভান্তেস। আন্দ্রেস ছিলেন তাঁর ভাবশিষ্য। প্রিয় লেখক ও তাঁর সৃষ্টিকে স্মরণীয় করে রাখতেই ১৯২৩ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে আন্দ্রেস নিজ দেশ স্পেনে পালন করা শুরু করেন বিশ্ব বই দিবস। অবশেষে ১৯৯৫ সালে ইউনেসকো দিনটিকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছরের ২৩ এপ্রিল বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস ২০২৬ উপল‌ক্ষ্যে "সি‌লে‌টের ই‌তিহাস ও ঐ‌তিহ‌্য উ‌দ্যো‌গের" পক্ষ হ‌তে শু‌ভেচ্ছা। সি‌লে‌টের ই‌তিহাস ও ঐ‌...
18/04/2026

বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস ২০২৬ উপল‌ক্ষ্যে "সি‌লে‌টের ই‌তিহাস ও ঐ‌তিহ‌্য উ‌দ্যো‌গের" পক্ষ হ‌তে শু‌ভেচ্ছা। সি‌লে‌টের ই‌তিহাস ও ঐ‌তিহ‌্য উ‌দ্যো‌গ স্বল্প প‌রিস‌রে সি‌লেট বিভা‌গের ই‌তিহাস ও ঐ‌তিহ‌্য নি‌য়ে কাজ কর‌ছে।

বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস ২০২৬ পালিত হচ্ছে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (শনিবার)। এটি প্রতি বছর এই তারিখেই পালন করা হয়। ২০২৬ সালের থিম হলো — “Emergency Response for Living Heritage in Contexts of Conflicts and Disasters” (বাংলায়: সংঘাত ও দুর্যোগ পরিস্থিতিতে জীবন্ত ঐতিহ্যের জরুরি সাড়া)। এটি ICOMOS কর্তৃক নির্ধারিত এবং UNESCO-র সমর্থিত একটি আন্তর্জাতিক দিবস।

বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস ২০২৬ থিম কী?সংঘাত ও দুর্যোগ পরিস্থিতিতে জীবন্ত ঐতিহ্যের জরুরি সাড়া “Emergency Response for Living Heritage in Contexts of Conflicts and Disasters”

এই থিমটি নির্ধারণ করেছে ICOMOS (International Council on Monuments and Sites)। ২০২৬ সালের থিম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান সশস্ত্র সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য জরুরি অবস্থায় অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রতিনিয়ত ধ্বংসের মুখে পড়ছে।

ICOMOS-এর Triennial Scientific Plan 2024–2027-এর আওতায় এই থিম নির্ধারিত। ২০২৫ সালে “প্রস্তুতি (Preparedness)” ছিল মূল বিষয়, আর ২০২৬-এ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে “জরুরি সাড়া (Emergency Response)”-এর উপর।

“জীবন্ত ঐতিহ্য” (Living Heritage) বলতে শুধু পুরনো দালান বা প্রত্নস্থান নয় — এর মধ্যে আছে মানুষের ঐতিহ্যবাহী লোকাচার, উৎসব, সংগীত, নৃত্য, জ্ঞান-পদ্ধতি, কারুশিল্প ও সামাজিক রীতিনীতি — যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।

বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস কী এবং কেন পালন করা হয়? বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস, যার আনুষ্ঠানিক নাম “International Day for Monuments and Sites” (IDMS), প্রতি বছর ১৮ এপ্রিল সারা বিশ্বে পালিত হয়। এই দিনটির উদ্দেশ্য হলো মানবজাতির সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের বৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সেগুলো রক্ষার জন্য বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে এক ছাদের নিচে আনা।

এই দিবসটি উদযাপনের মূল কারণগুলো: ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ, প্রাচীন শহর ও প্রাকৃতিক স্থানের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা সাংস্কৃতিক পরিচয় ও বৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করা যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের শিকড় খুঁজে পায় জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণ, সশস্ত্র সংঘাত ও অবহেলা থেকে ঐতিহ্যকে রক্ষার জন্য নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা স্থানীয় সম্প্রদায়কে ঐতিহ্য সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকায় উৎসাহিত করা দায়িত্বশীল পর্যটন ও হেরিটেজ পর্যটনকে প্রচার করা

বিশ্ব ঐতিহ্য দিবসের ইতিহাস:এই দিবসটির সূচনা হয়েছিল একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। নিচে সংক্ষিপ্তভাবে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা দেখুন:
১৯৭২:UNESCO “বিশ্ব সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা কনভেনশন” গ্রহণ করে যা থেকে UNESCO World Heritage Sites-এর ধারণার সূচনা।
১৯৮২:ICOMOS তিউনিসিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সিম্পোজিয়ামে ১৮ এপ্রিলকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে উদযাপনের প্রস্তাব করে।
১৯৮৩:UNESCO তার ২২তম সাধারণ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮ এপ্রিলকে “International Day for Monuments and Sites” হিসেবে অনুমোদন দেয়।
১৯৮৩:বাংলাদেশ ৩ আগস্ট UNESCO বিশ্ব ঐতিহ্য কনভেনশনে যোগ দেয়।
২০০১:প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু হয়। প্রথম থিম ছিল: “Save our Historic Villages”।
২০২৬:থিম: “Emergency Response for Living Heritage in Contexts of Conflicts and Disasters” — সংঘাত ও দুর্যোগে জীবন্ত ঐতিহ্যের জরুরি সাড়া।

বাংলাদেশের UNESCO বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
বাংলাদেশে বর্তমানে ৩টি UNESCO স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান রয়েছে। প্রতিটি স্থান আমাদের জাতীয় গর্বের পরিচয়বাহী। বিশ্ব ঐতিহ্য দিবসে এই স্থানগুলো নিয়ে জানা এবং সেগুলো রক্ষায় সচেতন হওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব।

১ মসজিদের শহর — বাগেরহাট: UNESCO স্বীকৃতি: ১৯৮৫ সালসাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত এই ঐতিহাসিক শহরটির পুরনো নাম ছিল খলিফাতাবাদ। ১৫ শতকে তুর্কি সামরিক নেতা উলুঘ খান জাহান আলী এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে রয়েছে ৩৬০টি মসজিদের ধ্বংসাবশেষ, যার মধ্যে ষাটগম্বুজ মসজিদ সবচেয়ে বিখ্যাত।

২ পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ:UNESCO স্বীকৃতি: ১৯৮৫ সালসাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় অবস্থিত পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, যা সোমপুর মহাবিহার নামেও পরিচিত। ৮ম থেকে ১২শ শতকের মধ্যে নির্মিত এটি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ বিহার ছিল। পাল বংশের রাজারা এটি নির্মাণ করেছিলেন।


৩ সুন্দরবন:UNESCO স্বীকৃতি: ১৯৯৭ সালপ্রাকৃতিক ঐতিহ্যৃ।বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিস্তৃত। বাংলাদেশ অংশে এর আয়তন প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার। এটি বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার-সহ অসংখ্য বিরল প্রজাতির আবাসস্থল। বঙ্গোপসাগরের উপকূলরেখাকে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করে এই বন।

বাংলাদেশের ঐতিহ্যের হুমকি: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবন সমুদ্রের জলের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির হুমকিতে রয়েছে। বাগেরহাট ও পাহাড়পুরে আর্দ্রতা, অপরিকল্পিত পর্যটন ও পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব সংরক্ষণের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশের অস্থায়ী (Tentative) তালিকাভুক্ত স্থান
UNESCO-র অস্থায়ী তালিকায় বাংলাদেশের আরও বেশ কিছু স্থান রয়েছে যেগুলো ভবিষ্যতে পূর্ণ স্বীকৃতি পেতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মহাস্থানগড় (বগুড়া), উয়ারী-বটেশ্বর (নরসিংদী), ময়নামতি-লালমাই (কুমিল্লা), সোনারগাঁও ও ষাটনল।

বাংলাদেশের অস্পৃশ্য (Intangible) সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
UNESCO শুধু স্থান নয়, জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশের যে দুটি অস্পৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য UNESCO-র তালিকায় রয়েছে:

বাউল সঙ্গীত — বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক লোকসঙ্গীতের ঐতিহ্য, যা ২০০৮ সালে UNESCO-র “Intangible Cultural Heritage” তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
জামদানি বুনন — মসলিনের উত্তরসূরি এই ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্প ২০১৩ সালে UNESCO স্বীকৃতি পায়।
এছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি — আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়াও বাংলাদেশের ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক মর্যাদার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
অনেকে মনে করেন ঐতিহ্য সংরক্ষণ শুধু সরকার বা বিশেষজ্ঞদের কাজ। কিন্তু বাস্তবে এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। কারণটা সহজ — ঐতিহ্য হলো আমাদের পরিচয়। যে জাতির ইতিহাস নেই, তার ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত।

তিন ধরনের ঐতিহ্য যা এই দিবস রক্ষা করে :
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (Cultural Heritage): মসজিদ, মন্দির, দুর্গ, পুরনো শহর, প্রত্নস্থান, ভাস্কর্য ও লোকশিল্প।
প্রাকৃতিক ঐতিহ্য (Natural Heritage): বন, পাহাড়, নদী, সামুদ্রিক অঞ্চল ও বিরল প্রজাতির আবাসস্থল।
জীবন্ত ঐতিহ্য (Living/Intangible Heritage): গান, নৃত্য, উৎসব, রন্ধনশৈলী, মৌখিক সাহিত্য ও ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান।
বর্তমানে ঐতিহ্যের প্রধান হুমকি কী কী?
জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বন্যা, ভূমিকম্প, সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি ও খরা বহু স্থানকে হুমকিতে ফেলছে।
সশস্ত্র সংঘাত: যুদ্ধ ও সহিংসতা শুধু মানুষকে নয়, শতাব্দীর পুরনো ঐতিহ্যকেও ধ্বংস করে।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ: পুরনো শহর ও স্থাপত্যকে গুঁড়িয়ে আধুনিক ভবন নির্মাণ।
পর্যাপ্ত তহবিল ও নীতির অভাব: অনেক দেশে ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিনিয়োগ অপর্যাপ্ত।
সচেতনতার অভাব: নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্যের মূল্য সঠিকভাবে পৌঁছে না দেওয়া।

বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস ২০২৬: আপনি কীভাবে অংশ নেবেন?
আপনি একজন শিক্ষার্থী, গৃহিণী, পেশাজীবী বা সাধারণ মানুষ — যেই হোন না কেন, এই দিনে আপনি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন।

কাছের ঐতিহাসিক স্থানে যান: বাগেরহাট, পাহাড়পুর, মহাস্থানগড়, লালবাগ কেল্লা বা আপনার এলাকার যেকোনো প্রাচীন স্থাপনা পরিদর্শন করুন — দায়িত্বশীলভাবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতা তৈরি করুন: হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে পোস্ট করুন।
স্কুলে বা কর্মক্ষেত্রে আলোচনা করুন: শিক্ষার্থীরা ছবি আঁকা, প্রবন্ধ লেখা বা কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন।
স্থানীয় হেরিটেজ সংগঠনে যোগ দিন: বাংলাদেশে UNESCO জাতীয় কমিশন (BNCU) ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ডিজিটাল ডকুমেন্টেশন করুন: পুরনো স্থাপনার ছবি ও ভিডিও তৈরি করে অনলাইনে শেয়ার করুন যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেখতে পায়।
অনুদান বা স্বেচ্ছাসেবায় অংশ নিন: ICOMOS বা স্থানীয় সংস্থাগুলোর সংরক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করুন।

শেষকথা:বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস ২০২৬ আমাদের মনে করিয়ে দেয় ঐতিহ্য কোনো জাদুঘরের শীতল কাচের পেছনে বন্দী কোনো বস্তু নয়। এটি আমাদের বাঁচার গল্প, আমাদের পরিচয়, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উত্তরাধিকার।

বাংলাদেশের তিনটি UNESCO স্থান বাগেরহাটের মসজিদের শহর, পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার এবং সুন্দরবন এ দেশের হাজার বছরের ইতিহাস ও বৈচিত্র্যের জীবন্ত সাক্ষী। এগুলো রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

এই দিবসে আমরা শুধু পুরনো ভবন বা বনকে সংরক্ষণ করছি না। আমরা আমাদের শিকড়কে, আমাদের অস্তিত্বকে, আমাদের আগামীকে সংরক্ষণ করছি।

এই বিশ্ব ঐতিহ্য দিবসে আপনার করণীয়: আপনার পরিবার ও বন্ধুদের সাথে বাংলাদেশের একটি হেরিটেজ স্থান পরিদর্শন করুন। ছবি তুলুন, গল্প বলুন, ইতিহাস ভাগ করুন। হ্যাশট্যাগে পোস্ট করুন। ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখুন।

সিলেটের ঐতিহ্য নিয়ে ৯ এপ্রিল,  ২০২৬ তা‌রি‌খে ‘ছিলটি লোক উৎসব-২০২৬’ সিলেট নগরীর আলী আমজাদের ঘড়ি এলাকা, কীনব্রীজ চাঁদনীঘাট...
09/04/2026

সিলেটের ঐতিহ্য নিয়ে ৯ এপ্রিল, ২০২৬ তা‌রি‌খে ‘ছিলটি লোক উৎসব-২০২৬’ সিলেট নগরীর আলী আমজাদের ঘড়ি এলাকা, কীনব্রীজ চাঁদনীঘাট ও সারদা হল প্রাঙ্গণে হাছনরাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলে লোকগান, দামাইল, কবিতা, ছড়া, পুথি পাঠ ও নাটকসহ নানা পরিবেশনা।

আয়োজকরা বলেন, সিলেটের আবহমানকালের শেকড়ের সংস্কৃতিকে উজ্জীবিত করতে এবং ‘ছিলটি নাগরী ভাষায়’ সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার মাহাত্ম্য বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই আয়োজন। সিলেটের রয়েছে হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐহিত্য। এ অঞ্চল নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। মরমি সাধক হাছনরাজা, শাহ আব্দুল করিম, রাধারমণসহ অসংখ্য সাধক সিলেটের লোক ঐহিত্য ও সংস্কৃতিকে গৌরবোজ্জ্বল করেছেন।

বর্তমানে সিলেটের আদি ভাষা ও সংস্কৃতি পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। আমরা মানবিক, ধর্মপরায়ণ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সমাজ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। এ থেকে উত্তরণের জন্য সিলেটের আবহমানকালের মরমি সুফিবাদী দর্শন দিয়ে লালিত ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সেনা দপ্তর তেলিয়াপাড়া চা বাগানের স্মৃ‌তি‌সৌধ হ‌তে  মহান স্বাধীনতা দিবসের স্মৃ‌তি বিজ‌ড়িত তে‌লিয়াপ...
03/04/2026

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সেনা দপ্তর তেলিয়াপাড়া চা বাগানের স্মৃ‌তি‌সৌধ হ‌তে মহান স্বাধীনতা দিবসের স্মৃ‌তি বিজ‌ড়িত তে‌লিয়াপাড়া দিবস (৪ এ‌প্রিল) কে শ্রদ্ধা, গ‌র্ব আর ভা‌লোবাসার সা‌থে স্মরণ কর‌ছি।

১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগান ব্যবস্থাপকের বাংলোয় দেশকে স্বাধীন করার জন্য ঐতিহাসিক এক শপথ অনুষ্ঠিত হয়। এ শপথে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৭ জন সেনা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এ বৈঠকেই সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল এবং এস, কে ও জেড ফোর্স গঠন করাসহ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অতিগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। এতে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী। বৈঠক শেষে এম.এ.জি ওসমানী নিজের পিস্তলের ফাঁকা গুলি ছুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

মুক্তিযু‌দ্ধের স্মৃ‌তি‌বিজ‌ড়িত তেলিয়াপাড়া চা বাগানের স্মৃ‌তি‌সৌধ ও বাং‌লো সংরক্ষ‌ণে সরকার উ‌দ্যোগ নি‌য়ে‌ছে।

Address

Sylhet
3100

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Heritage of Sylhet - সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share