বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি নোয়াখালী জেলা উত্তর

  • Home
  • বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি নোয়াখালী জেলা উত্তর

বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি নোয়াখালী জেলা উত্তর Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি নোয়াখালী জেলা উত্তর, Community Organization, .

28/03/2026
দোয়া কবুলের কবুলের সবচেয়ে পরীক্ষিত আমল – ৫০০ বার এই যিকির পড়ুন, আল্লাহ দোয়া কবুল করবেন!ভাই-বোনেরা, চোখ বন্ধ করে ভাবুন...
27/02/2026

দোয়া কবুলের কবুলের সবচেয়ে পরীক্ষিত আমল – ৫০০ বার এই যিকির পড়ুন, আল্লাহ দোয়া কবুল করবেন!

ভাই-বোনেরা, চোখ বন্ধ করে ভাবুন – আপনার মনে একটি বড় হাজত, দোয়া করছেন বারবার কিন্তু কবুল হচ্ছে না? চোখ ভিজে যায় রাতের নির্জনতায়? তাহলে এই পরীক্ষিত আমলটি করুন। হাদীসে বর্ণিত "লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ" জান্নাতের ধন, বিপদ দূর করে এবং দোয়া কবুলের দরজা খুলে দেয়। এই আমল করে শত শত মানুষের অলৌকিকভাবে অসম্ভব দোয়া কবুল হয়েছে!

এই আমলটি কীভাবে করবেন (সঠিক নিয়মে):

১. ইশার নামাজের পর বা তাহাজ্জুদের সময় উত্তমরূপে ওযু করে দু রাকাত নফল নামাজ আদায় করুন।
২. নামাজ শেষে ১০০ বার যেকোনো দরূদ শরীফ পড়ুন।
৩. তারপর ৪৯৯ বার পড়ুন:
"লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ"
৪. ৫০০তম বার পড়ুন:
"লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজীম"
৫. তারপর আবার ১০০ বার দরূদ শরীফ পড়ুন।
৬. শেষে হাত তুলে কাঁদতে কাঁদতে আপনার হাজতের দোয়া করুন – পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে।

হাদীসে রাসূল (সা.) বলেছেন: "লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ" জান্নাতের গুপ্তধন। (বুখারী, মুসলিম) এই যিকির পড়লে বিপদ দূর হয়, দোয়া কবুল হয় এবং আল্লাহর রহমত নাজিল হয়।

ইনশাআল্লাহ এই আমল পূর্ণ বিশ্বাস ও একাগ্রতায় করুন আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করবেন, অন্তরে অফুরন্ত শান্তি নামবে। চোখ ভিজে যাবে কৃতজ্ঞতায়!

যারা এই পোস্ট দেখছেন, সকল মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করুন, আমার জন্যও দোয়া করুন। আল্লাহ আমাদের সবার দোয়া কবুল করুন। আমীন 🤲

আপনি কি আজ থেকে এই আমল শুরু করবেন!

সদকায়ে জারিয়া হিসেবে পোস্টটি আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করে রাখুন।
আমরা আপনাদের জন্য কুরআন ও হাদীস থেকে গুরুত্বপূর্ণ আমল ও দোয়া শেয়ার করি!

05/10/2025
দারসুল হাদীস বিষয়: ঈমান عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَب...
03/03/2025

দারসুল হাদীস
বিষয়: ঈমান

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ " .

সরল অনুবাদ:
আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ঈমানের শাখা সত্তরটিরও বেশী, অথবা ষাটটিরও বেশী, এর সর্বোচ্চ শাখা হচ্ছে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" আর সর্বনিম্ন শাখা হচ্ছে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আর লজ্জা ঈমানের বিশিষ্ট একটি শাখা।

গ্রন্থ : المسند الصحيح المختصر من السنن بنقل العدل عن رسول الله ﷺ (আল মুসনাদুস সহীহুল মুখতাসার মিনাস সুনানী বিনাকলিল আদলী আ'ন রাসূলিল্লাহি আলাইহি ওয়াসাল্লাম”।)

অধ্যায়: باب بَيَانِ عَدَدِ شُعَبِ الْإِيمَانِ وَأَفْضَلِهَا وَأَدْنَاهَا وَفَضِيلَةِ الْحَيَاءِ وَكَوْنِهِ مِنْ الْإِيمَانِ (ঈমানের শাখা–প্রশাখার সংখ্যা, তার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন শাখার বর্ণনা, লজ্জাশীলতার ফযীলাত এবং তা ঈমানের অঙ্গ হওয়ার বর্ণনা।)

হাদিস নাম্বার: ৬০

রাবী পরিচিতি:
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. ইসলাম গ্রহণের আগে তাঁর নাম ছিল 'আব্দ শামছ'। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা পরিবর্তন করে নাম রাখেন নাম আবদুর রহমান ইবনে সাখর অথবা উমায়র ইবনে আমির। অন্য আরেক বর্ণনায় আছে 'আব্দুল্লাহ'। তিনি ৬০৩ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।

তিনি নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর একজন সাহাবা ও সেবক ছিলেন। তিনি আহলে সুফফার একজন সদস্য ছিলেন এবং একনিষ্ঠ জ্ঞান পিপাসু ছিলেন। তিনি তিন বছর নবী মুহাম্মদের সান্নিধ্যে ছিলেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে তিনি সর্বক্ষণই নবী কারীম (ﷺ) এর সঙ্গে সঙ্গে থাকতেন। ৫,৩৭৪ টি হাদিস তার কাছ থেকে লিপিবদ্ধ হয়েছে। বলা হত যে, উর্বর মস্তিষ্ক ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন তিনি। তার কাছ থেকে আটশত তাবেঈ হাদিস শিক্ষা লাভ করেন।

নাম পরিবর্তন: 'আবূ হুরায়রা' উপনামেই পরিচিত, আবূ হুরায়রা অর্থ বিড়ালওয়ালা এ উপনামের কারণ সম্পর্কে তিনি বর্ণনা করেন, একদা আমার জামার আস্তিনের ভেতর একটি বিড়াল রেখেছিলাম, নবী (ﷺ) দেখে জিজ্ঞেস করলেন, ওটা কি? বললাম, হিররা। তখন তিনি বললেন, তুমি আবু হুরায়রা। 'হুরায়রা' শব্দটি 'হিররা' এর কোমল রূপ।
হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) নিতান্তই গরীব ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি সর্বক্ষণ নবী কারীম (ﷺ) এর সান্নিধ্যে কাটাতে থাকেন। কোনওমতে খেয়ে না খেয়ে মসজিদে নববী-সংলগ্ন সুফ্ফায় (চবুতরা, রোয়াক) অবস্থান করতেন। অনেক সময় ক্ষুধার যন্ত্রণায় পেটে পাথর বেঁধে রাখতেন। কখনও মাটিতে পেট চেপে পড়ে থাকতেন, এমনও হত যে, অসহ্য ক্ষুধায় বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেছেন আর লোকে মনে করেছে তিনি মৃগীরোগে আক্রান্ত, তিনি ইশারায় পেট দেখিয়ে দিতেন এবং বোঝাতেন যে, কোনও রোগ নয়; বরং আমার এ অবস্থা ক্ষুধার কারণে। এ সম্পর্কিত অনেক ঘটনা হাদীছ গ্রন্থসমূহে বর্ণিত আছে।
মৃত্যু: ৬৭৮ খ্রিস্টাব্দ। তার মাকবারাহ জান্নাতুল বাকিতে।

হাদিসের মান: সহীহ

হাদীসের ব্যাখ্যা:
ঈমানের শাখা ষাটটি অথবা সত্তরটিরও বেশী। কিন্তু নির্দিষ্টভাবে তিনটি বিষয় হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে

فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ
তন্মধ্য থেকে সব থেকে বড় কালেমা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" মুখে স্বীকার করা অন্তর দ্বারা বিশ্বাস করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা।

وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ
এবং সব থেকে ছোট রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু (ইট,পাথর,কাঁটা,গাছের ডাল,নাপাকি ইত্যাদি) সরিয়ে দেওয়া।
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বর্ণনা করেছেন, মুসলিমগণ সকলে মিলে এক ব্যক্তির মত, যার চোখ অসুস্থ হলে সারা শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মাথা অসুস্থ হলে সারা শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। (সহীহ মুসলিম)
এর দ্বারা বোঝা গেল অন্যের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করা প্রকৃত মু'মিন মুসলিমের পরিচায় সুতরাং প্রকৃত মুমিন রাস্তায় কষ্টদায়ক বস্তু দেখলে অবশ্যই তা সরিয়ে দিবে যাতে অন্য মুসলিম কষ্ট না পায়।

وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ
এবং লজ্জা ঈমানের বিশিষ্ট একটি শাখা।
হাদীছে ঈমানের সর্বোত্তম ও সর্বনিম্ন শাখা উল্লেখের পর মধ্যবর্তী শাখাসমূহের মধ্য থেকে কেবল লজ্জার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, লজ্জার এমন কী বিশেষত্ব, যে কারণে অন্যসব শাখা থেকে বাছাই করে কেবল এর কথাই উল্লেখ করা হল? এর উত্তর মেলে অন্য এক হাদীছে, তাতে নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেন, মানুষ পূর্ববর্তী নবুওয়াতের যে বাণী লাভ করেছে (অর্থাৎ পূর্ববর্তী নবীদের যে শিক্ষা এ পর্যন্ত পৌঁছেছে) তা হচ্ছে তুমি যদি লজ্জাই না কর তবে যা চাও করতে পার।
(সহীহ বুখারী)

অর্থাৎ যে ব্যক্তির লজ্জা নেই সে কোনো কাজ নেই যা করতে পারে না, যে-কোনও অন্যায়-অপরাধ লজ্জাহীন মানুষ অবলীলায় করতে পারে, কিন্তু যে ব্যক্তির লজ্জা আছে সে সহজে অন্যায়-অপরাধে লিপ্ত হতে পারে না, লজ্জা তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, যখনই কোনও মন্দ কাজ করার ইচ্ছা জাগে, তখন লোকে দেখলে কী বলবে এই অনুভূতি তাকে সে কাজ করতে দেয় না, সে মনের ইচ্ছা মনেই দমন করে ফেলে। মানুষকে লজ্জা করার কারণেই যখন মানুষ এভাবে পাপ কাজ থেকে দূরে থাকে, তখন যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলাকে লজ্জা করবে সে তো কোনওক্রমেই পাপ কাজের ধারেকাছে যাবে না। মূলত আল্লাহ তা'আলাকে লজ্জা করাই প্রকৃত লজ্জা।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

১. ইমানের ব্যাপকতা: ইমান শুধুমাত্র আকিদা বা বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আচরণ ও কাজের সাথেও জড়িত।

২. তাওহীদের গুরুত্ব: সর্বোত্তম কাজ হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা, অর্থাৎ আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস স্থাপন করা এবং শিরক (অংশীদার স্থাপন) থেকে বেঁচে থাকা।

৩. সামান্য কাজেও সাওয়াব: সামান্য একটি ভালো কাজ, যেমন পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো, এটি ইমানের অংশ এবং এর মাধ্যমে সাওয়াব অর্জিত হয়।

৪. সমাজের কল্যাণ করা: রাস্তা পরিষ্কার রাখা ও জনসাধারণের কষ্ট দূর করা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

৫. লজ্জাশীলতার মর্যাদা: হায়া বা লজ্জাশীলতা ইমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মানুষকে পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং উত্তম চরিত্র গঠনে সহায়ক।

৬. ছোট-বড় সব কাজের গুরুত্ব: ইসলামে ছোট-বড় প্রতিটি ভালো কাজেরই মূল্য আছে, আর প্রতিটি সৎ কাজ ইমানের শাখার অন্তর্ভুক্ত।

সারমর্ম:
এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, ইমান শুধু বিশ্বাস নয় বরং এটি আমাদের প্রতিদিনের ছোট-বড় সকল কাজের মধ্যেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত। বিশ্বাস, আচরণ এবং লজ্জাশীলতা — এই তিনটি গুণ একত্রে একজন প্রকৃত মুমিনের চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখে।

Official YouTube Channel of Islami Chhatra Andolan Bangladesh

দারসুল কুরআনবিষয়: সিয়ামমহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَیْكُمُ الصِّیَامُ کَمَا ...
03/03/2025

দারসুল কুরআন
বিষয়: সিয়াম

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَیْكُمُ الصِّیَامُ کَمَا كُتِبَ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ
سورة البقرة-١٨٣
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমনি ভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর ফরজ করা হয়েছিল। যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। (সূরা বাকারা : ১৮৩)

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির তৃতীয় হলো রোজা/সিয়াম। ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য রমযান মাসের প্রতি দিন রোজা রাখা ফরজ, (فرض) যার অর্থ অবশ্যক পালনীয়। যুগে যুগে বিভিন্ন নবি-রাসূলদের জামানায় এ রোজা ফরজ ছিল।

শাব্দিক অর্থ: صيام(সিয়াম)-এর অর্থ হল, বিরত থাকা, আত্মসংযম, পরিশুদ্ধি।

পারিভাষিক অর্থ: সুবহে সাদিক বা ভোরের সূক্ষ্ম আলো থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, পাপাচার, কামাচার, ইন্দ্রিয় তৃপ্তি এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকা। এককথায় রোজা হলো নিয়তের সঙ্গে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা। তাফসীরে ইবনে কাসীর ও রুহুল মা'আনী’র ব্যাখ্যা মতে সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত পানাহার, কামভাব ও স্ত্রী সম্ভোগ করা থেকে বিরত থাকা।

শরীয়তের পরিভাষায় ‘সওম’ বা ‘সিয়াম’-এর অর্থ হল, ফজর উদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী-সঙ্গম ইত্যাদি যাবতীয় রোযা নষ্টকারী কর্ম হতে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা।

ইতিহাস
ইসলাম ধর্মের প্রচারের আগে থেকেই রোজা রাখার রীতি ছিল। তবে বর্তমানে যেভাবে রোজা রাখা হয়, একেবারে শুরুর দিকে সেভাবে রাখা হতো না। নবী কারীম সা. নিজে মাঝে মাঝে রোজা রাখলেও শুরুর দিকে উম্মত বা সাহাবীদের জন্য রোজা রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক ছিল না। ইসলামে রোজা বা রমজান ফরজ হিসাবে বাধ্যতামূলক করা হয় হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে। এরপর থেকেই অপরিবর্তিত রূপে সারা পৃথিবীতে রোজা পালন করা হচ্ছে।
রমজানের মতো না হলেও ইহুদি এবং অন্যান্য আরও অনেক জাতিগোষ্ঠীর মধ্যেও রোজার মতো সারাদিন পানাহার না করার ধর্মীয় রীতি দেখা যায়। সূর্যাস্তের সময় মুসলমানগণ ইফতারির মাধ্যমের রোজা ভঙ্গ করেন।

কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে (হিজরি দ্বিতীয় সনে)
পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন রোজা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সূরা আল বাকারা, আয়াত : ১৮৩)।

প্রত্যেক নবি-রাসূলের ওপর রোজা ফরজ থাকলেও এর সময়সীমা, মাস ও সংখ্যা নিয়ে কিছুটা তারতম্য ছিল। প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা ফরজ ছিল হজরত আদম (আ.)-এর ওপর।

হজরত নুহ (আ.)-এর সময়ও রোজার প্রচলন ছিল। তিনি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন ছাড়া সারা বছর রোজা রাখতেন। হজরত নুহ (আ.)-এর যুগ থেকে শেষ নবি হজরত মুহাম্মাদ (সা.) পর্যন্ত; প্রতি মাসে তিনটি রোজার প্রচলন ছিল। হজরত নুহ (আ.)-এর পরের সময় নবি ছিলেন হজরত ইবরাহিম (আ.)। তার সময়ও এ একই রোজার বিধান চালু ছিল। অবশেষে আল্লাহতায়ালা রমজান মাসের রোজা দিয়ে এ রোজাকে রহিত করে দিলেন।

আশুরার দিন আল্লাহতায়ালা বনি ইসরাইলকে দুশমন থেকে রক্ষা করলেন। তাই হজরত মুসা (আ.) এ দিনে রোজা রেখেছেন। মহানবি (সা.) নিজেও এ দিনে রোজা রাখতেন এবং তার উম্মতদের এ দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই ৯ ও ১০ মহররম বা ১০ ও ১১ মহররম এ দুই দিন রোজা রাখা। তবে মহররমের ৯ ও ১০ তারিখ রোজা রাখাই উত্তম।

হজরত দাউদ (আ.) ছিলেন আল্লাহর নবি ও রাসূল। তার সময়ও রোজার প্রচলন ছিল। এ সময়কার রোজাই ছিল শ্রেষ্ঠ রোজা। হজরত রাসূল (সা.) হজরত আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা.)-কে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তুমি শ্রেষ্ঠ রোজা রাখবে। আর তা হলো দাউদ (আ.)-এর রোজা। একদিন রোজা রাখবে। আর একদিন রোজা রাখবে না।’ (মিশকাত)

হজরত ঈসা (আ.)-এর সময়ও রোজার প্রচলন ছিল। যার প্রমাণ করছে পবিত্র আল-কুরআন, ‘তুমি খাও ও পান করো এবং চোখ জুড়াও; যখন তুমি মানুষদের কাওকে দেখতে পাবে তখন বলবে, আমি রহমান আল্লাহর নামে রোজার মানত করেছি। আমি আজ কোনো মানুষের সঙ্গে কথা বলব না।’ (সূরা মারইয়াম, আয়াত : ২৬)।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর রোজা ফরজ হয় দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে। যা ছিল মহানবি (সা.)-এর কিবলা পরিবর্তনের সময় ও হিজরতের অষ্টাদশ মাস। মহানবি (সা.)-এর ওপর রোজা ফরজ হওয়ার পর, পরে নবি ও রাসূলদের জামানার রোজার যে বিধান ছিল তার ফরজিয়াত রহিত হয়েছে। তবে আগে এ রোজাগুলো সুন্নতি আমল হিসাবে এখনো কার্যকর রয়েছে।

প্রকারভেদ:
রোজা পাঁচ প্রকার।
১) ফরজ রোজা: যা আবার চার প্রকার-
১- রমজান মাসের রোজা।
২- কোন কারণ বশত রমজানের রোজা ভঙ্গ হয়ে গেলে তার কাযা আদায়ে রোজা।
৩- শরীয়তে স্বীকৃত কারণ ব্যতীত রমজানের রোজা ছেড়ে দিলে কাফ্ফারা হিসেবে ৬০টি রোজা রাখা।
৪- রোজার মান্নত করলে তা আদায় করা।

২) ওয়াজিব রোজা: নফল রোজা রেখে ভঙ্গ করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা ওয়াজিব।
৩) সুন্নত রোজা: মহরম মাসের নয় এবং দশ তারিখে রোজা রাখা।
৪) মুস্তাহাব রোজা: প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪, এবং ১৫ তারিখে, প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবারে, কোন কোন ইমামের মতে শাওয়াল মাসে পৃথক পৃথক প্রতি সপ্তাহে দুটো করে ছয়টি রোজা রাখা মোস্তাহাব। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে এক সাথে হোক কিংবা পৃথক পৃথক হোক শাওয়ালের ছয়টি রোজা মুস্তাহাব।
৫) নফল রোজা: মোস্তাহাব আর নফল খুব কাছাকাছির ইবাদত। সহজ অর্থে নফল হলো যা ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত নয় এমন ইবাদত পূণ্যের নিয়তে করা। রোজার ক্ষেত্রেও তাই।

রোজার ৩ ফরজ :
১- নিয়ত করা
২- সব ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকা
৩- যৌন আচরণ থেকে বিরত থাকা।

রোজা রাখার ৪ শর্ত :
১- মুসলিম হওয়া
২- বালেগ হওয়া
৩- অক্ষম না হওয়া
৪- ঋতুস্রাব থেকে বিরত থাকা নারী।

রোজা ভঙ্গের কারণ:
১. ইচ্ছা করে বমি করা।
২. বমির বেশির ভাগ মুখে আসার পর তা গিলে ফেলা।
৩. মেয়েদের মাসিক ও সন্তান প্রসবের পর ঋতুস্রাব।
৪. ইসলাম ত্যাগ করলে।
৫. গ্লুকোজ বা শক্তিবর্ধক ইনজেকশন বা সেলাইন দিলে।
৬. প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে ওষুধ বা অন্য কিছু শরীরে প্রবেশ করালে।
৭. রোজাদারকে জোর করে কেউ কিছু খাওয়ালে।
৮. ইফতারের সময় হয়েছে ভেবে সূর্যাস্তের আগে ইফতার করলে।
৯. মুখ ভরে বমি করলে।
১০. ভুলবশত কোনো কিছু খেয়ে, রোজা ভেঙে গেছে ভেবে ইচ্ছা করে আরও কিছু খেলে।
১১. বৃষ্টির পানি মুখে পড়ার পর তা খেয়ে ফেললে।
১২. কান বা নাক দিয়ে ওষুধ প্রবেশ করালে।
১৩. জিহ্বা দিয়ে দাঁতের ফাঁক থেকে ছোলা পরিমাণ কোনো কিছু বের করে খেয়ে ফেললে।
১৪. অল্প বমি মুখে আসার পর ইচ্ছাকৃতভাবে তা গিলে ফেললে।
১৫. রোজা স্মরণ থাকা অবস্থায় অজুতে কুলি বা নাকে পানি দেয়ার সময়। ভেতরে পানি চলে গেলে। (ফাতাওয়ায়ে শামি ও ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি)।

যেসব কারণে রোজা মাকরুহ হয়:
১- বিনা ওজরে কোনো জিনিস মুখে দিয়ে চিবানো।
২- গরমের কারণে বারবার কুলি করা।
৩- টুথ পাউডার, পেস্ট, কয়লা বা অন্য কোনো মাজন দ্বারা রোজার দিনে দাঁত পরিষ্কার করা।
৪- বিনা ওজরে জিহ্বা দ্বারা কোনো বস্তুর স্বাদ গ্রহণ করা। তবে বদমেজাজি স্বামীর জন্য স্ত্রীর তরকারির স্বাদ গ্রহণ করার অনুমতি আছে।
৫- রোজাদার অবস্থায় কারও গিবত (পরচর্চা, পরনিন্দা) করা।
৬- মিথ্যা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া।
৭- অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করা কিংবা পাঠ করা।
৮- ঝগড়া-বিবাদ করা।

রোজা ভঙ্গ হলে করনীয়:
বিনা কারণে রোজা ভঙ্গ করলে তাকে অবশ্যই কাজা-কাফফারা উভয়ই আদায় করা ওয়াজিব। যতটি রোজা ভঙ্গ হবে, ততটি রোজা আদায় করতে হবে। কাজা রোজা একটির পরিবর্তে একটি অর্থাৎ রোজার কাজা হিসেবে শুধু একটি রোজাই যথেষ্ট। কাফফারা আদায় করার তিনটি বিধান রয়েছে।
- একটি রোজা ভঙ্গের জন্য একাধারে ৬০টি রোজা রাখতে হবে। কাফফারা ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজার মাঝে কোনো একটি ভঙ্গ হলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।
- যদি কারও জন্য ৬০টি রোজা পালন সম্ভব না হয় তবে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা খাওয়াতে হবে। কেউ অসুস্থ জনিত কারণে রোজা রাখার ক্ষমতা না থাকলে ৬০ জন ফকির, মিসকিন, গরিব বা অসহায়কে প্রতিদিন দুই বেলা করে পেটভরে খাওয়াতে হবে।
- গোলাম বা দাসী আজাদ করে দিতে হবে।

যেসব কারণে রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ করা যাবে কিন্তু পরে কাজা করতে হয় তা হচ্ছে:
১- মুসাফির অবস্থায়
২- রোগ-ব্যাধি বৃদ্ধির বেশি আশঙ্কা থাকলে
৩- মাতৃগর্ভে সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে
৪- এমন ক্ষুধা বা তৃষ্ণা হয়, যাতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকতে পারে
৫- শক্তিহীন বৃদ্ধ হলে
৬- কোনো রোজাদারকে সাপে দংশন করলে।
৭- মহিলাদের মাসিক হায়েজ-নেফাসকালীন রোজা ভঙ্গ করা যায়

যেসব কারণে শুধু কাজা আদায় করতে হয়:
১- স্ত্রীকে চুম্বন বা স্পর্শ করার কারণে যদি বীর্যপাত হয়।
২- ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে।
৩- পাথরের কণা, লোহার টুকরা, ফলের বিচি গিলে ফেললে।
৪- ডুশ গ্রহণ করলে।
৫- বিন্দু পরিমাণ কোন খাবার খেলে তবে অনিচ্ছাকৃত ভাবে বা মনের ভুলে খেলেও রোজা ভাংবে না তবে মনে আসা মাত্রই খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে।
৬- নাকে বা কানে ওষুধ দিলে (যদি তা পেটে পৌঁছে)।
৭- মাথার ক্ষতস্থানে ওষুধ দেওয়ার পর তা যদি মস্তিষ্কে বা পেটে পৌঁছে।
৮- যোনিপথ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে সহবাস করার ফলে বীর্য নির্গত হলে।

সুরা : সূরা বাকারা (কুরআনুল কারীমের দ্বিতীয় সূরা)
আয়াত নম্বর : ১৮৩
প্রেক্ষাপট:
আলোচ্য আয়াতটি দ্বিতীয় হিজরীর শাবান মাসে অবতীর্ণ হয় এবং এ আয়াতের মাধ্যমে রমজান মাসের রোজা ফরজ হয় (মিরকাত- শরহে মিশকাত)। পূর্ববর্তী উম্মতের উপর রোজা ফরজ ছিল তবে কোন রোজা ফরজ ছিল সে সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামগনের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে। রমজান মাসের নির্দিষ্ট রোজা ফরজ হওয়ার পরে পূর্ববর্তী সকল রোজা রহিত হয়ে যায় এবং এ মাসের নির্দিষ্ট রোজাই ফরজ হিসেবে রয়ে যায়।
সে সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেন- فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ
অর্থ: সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোযা রাখে।- (সূরা বাকারা : ১৮৫)
আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা মুমিনদেরকে সম্বোধন করেছেন। কুরআনুল কারীমের মধ্যে যদি মুমিনদেরকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় তাহলে বুঝতে হবে যে এখানে কোন হুকুম বর্ণনা করা হচ্ছে। আর যদি সকল মানুষকে সম্বোধন করা হয় তাহলে আলোচ্য বিষয়ের উপর ঈমান আনয়ন করতে বলা হচ্ছে।
আল্লাহ তাআলা আয়াতে রোজার ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন- لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ
অর্থ: যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।

তাকওয়ার সংজ্ঞা:
তাকওয়া'র শাব্দিক অর্থ: তাকওয়া (আরবি: تقوى) শব্দের অর্থ বিরত থাকা, বেঁচে থাকা, নিষ্কৃতি লাভ করা, ভয় করা, নিজেকে রক্ষা করা।
ব্যবহারিক অর্থে: দ্বীনদারি, ধার্মিকতা, পরহেজগারি, আল্লাহভীতি, খোদাভীতি, আত্মশুদ্ধি , আল্লাহ ও সত্যের প্রতি সচেতন এবং পরিজ্ঞাত হওয়া, ধর্মপরায়ণতা, আল্লাহর ভয় ইত্যাদি বোঝায়।
পারিভাষিক অর্থ: শরীয়ত নির্দেশিত কাজগুলো পালন করা আর শরীয়ত নিষেধকৃত বিষয়সমুহ থেকে বিরত থাকা। (তাফসীরে বায়যাবী)
তাকওয়া হল সর্বদা সকল প্রকার পাপ পঙ্কিলতা, কাম বাসনা থেকে নিজেকে বিরত রাখা ও উত্তম গুণাবলীর মাধ্যমে নিজ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা।
(তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে রুহুল মাআনী, তাফসীরে ইবনে কাসীর)

রোজার হুকুম:
হযরত আবু হুরায়রা রাদি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
إذا رأيتم الهلال فصوموا وإذا رأيتموه فافطروا، فإن غم عليكم فصوموا ثلاثين.
যখন তোমরা (রমযানের) চাঁদ দেখবে, তখন থেকে রোযা রাখবে আর যখন (শাওয়ালের) চাঁদ দেখবে, তখন থেকে রোযা বন্ধ করবে। আকাশ যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে ত্রিশ দিন রোযা রাখবে।(সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৯০৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১০৮০)
উল্লেখিত আয়াত ও হাদীস এবং এ বিষয়ক অন্যান্য দলীলের আলোকে প্রমাণিত যে, রমযান মাসের রোযা রাখা ফরয, ইসলামের আবশ্যক বিধানরূপে রোযা পালন করা ও বিশ্বাস করাও ফরয।
তাছাড়া কোনো শরয়ী ওযর ছাড়া কোন মুসলমান যদি রমযান মাসের একটি রোযাও ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করে তাহলে সে বড় পাপী ও জঘন্য অপরাধীরূপে গণ্য হবে। দ্বীনের মৌলিক বিধান লঙ্ঘনকারী ও ঈমান-ইসলামের ভিত্তি বিনষ্টকারী হিসেবে পরিগণিত হবে। হাদীস শরীফে ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা ত্যাগকারী ও ভঙ্গকারীর জন্য কঠিন শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে।

রোজার ফযিলত:
হাদীস শরীফে বর্ণিত রোযার কিছু ফযীলত ও বৈশিষ্ট্য এখানে উল্লেখ করা হলো :
১. রোযার প্রতিদান আল্লাহ রাববুল আলামীন নিজেই দিবেন এবং বিনা হিসাবে দিবেন
অন্য বর্ণনায় আছে-
عن أبى هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : قال الله : يترك طعامه وشرابه وشهوته من أجلى، الصيام لى وانا اجزى به، والحسنة بعشر امثالها.
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেন, বান্দা একমাত্র আমার জন্য তার পানাহার ও কামাচার বর্জন করে, রোযা আমার জন্যই, আমি নিজেই তার পুরস্কার দিব আর (অন্যান্য) নেক আমলের বিনিময় হচ্ছে তার দশগুণ।
(সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৮৯৪; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৯৯৯৯; মুয়াত্তা মালেক ১/৩১০)
হযরত আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
كل عمل ابن آدم يضاعف الحسنة بعشر أمثالها إلى سبعمائة ضعف، قال الله تعالى : الا الصوم فإنه لى وانا أجزى به يدع شهوته وطعامه من أجلى.
মানুষের প্রত্যেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়। একটি নেকীর সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতাশ গুণ পর্যন্ত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, কিন্তু রোযা আলাদা। কেননা তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় প্রদান করব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে।
(সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৫১ (১৬৪); মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৯৭১৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৮৯৮৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৬৩৮)

২. আল্লাহ তাআলা রোযাদারকে কেয়ামতের দিন পানি পান করাবেন
হযরত আবু মুসা রা. হতে বর্ণিত,
ان الله تبارك وتعالى قضى على نفسه أنه من اعطش نفسه له في صائف سقاه يوم العطش،
আল্লাহ রাববুল আলামীন নিজের উপর অবধারিত করে নিয়েছেন, যে ব্যক্তি তার সন্তুষ্টির জণ্য গ্রীষ্মকালে (রোযার কারণে) পিপাসার্ত থেকেছে, তিনি তাকে তৃষ্ণার দিন (কিয়ামতের দিন) পানি পান করাবেন। (মুসনাদে বাযযার, হাদীস : ১০৩৯; মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস : ৫০৯৫)

৩. রোযা হল জান্নাত লাভের পথ
عن أبي أمامة قال : أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقلت : مرني بعمل يدخلني الجنة، قال : عليك بالصوم، فانه لا عدل له، ثم أتيته الثانية، فقال لي : عليك بالصيام.
হযরত আবু উমামা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে আগমন করে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন, যার দ্বারা আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। তিনি বলেন, তুমি রোযা রাখ, কেননা এর সমতুল্য কিছু নেই। আমি পুনরায় তার নিকট এসে একই কথা বললাম। তিনি বললেন, তুমি রোযা রাখ। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২২১৪৯; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস : ১৮৯৩; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৩৪২৬; সুনানে নাসায়ী, হাদীস : ২৫৩০)

৪. রোযাদারগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে ‘রাইয়ান’ নামক বিশেষ দরজা দিয়ে
হযরত সাহল ইবনে সা’দ রা. হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
إن فى الجنة بابا يقال له الريَّان يدخل منه الصائمون يوم القيامة، لا يدخل منه أحد غيرهم، يقال : اين الصائمون فيقومون، لا يدخل منه أحد غيرهم، فاذا دخلوا اغلق، فلم يدخل منه احد.
জান্নাতে একটি দরজা আছে, যার নাম রাইয়ান। কিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে কেবল রোযাদার ব্যক্তিরাই প্রবেশ করবে। অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা করা হবে- কোথায় সেই সৌভাগ্যবান রোযাদারগণ? তখন তারা উঠে দাড়াবে। তারা ব্যতীত কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। অতঃপর রোযাদারগণ যখন প্রবেশ করবে, তখন তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে কেউ ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৮৯৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৫২; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২২৮১৮)

৫. রোযা জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী ঢাল ও দুর্গ
হযরত জাবির রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
قال ربنا عز وجل : الصيام جنة يستجن بها العبد من النار وهو لى وانا أجزى به.
আমাদের মহান রব ইরশাদ করেছেন- রোযা হল ঢাল। বান্দা এর দ্বারা নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবে। রোযা আমার জন্য আর আমিই এর পুরস্কার দিব। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৪৬৬৯; শুয়াবুল ঈমান বাইহাকী, হাদীস : ৩৫৭০)

৬. রোযা কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
الصيام والقرآن يشفعان للعبد يوم القيامة، يقول الصيام : اى رب منعته الطعام والشهوة فشفعنى فيه، ويقول القرآن : منعته النوم بالليل، فشفعنى فيه، قال : فيشفعان له.
রোযা ও কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, হে রব! আমি তাকে খাদ্য ও যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত রেখেছি। অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি, (অর্থাৎ না ঘুমিয়ে সে তেলাওয়াত করেছে) অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর তাদের উভয়ের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৬৬২৬; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস : ২০৮০; বাইহাকী শুয়াবুল ঈমান, হাদীস : ১৯৯৪)

৭. রোযাদারের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায়
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- من صام رمضان ايمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযান মাসের রোযা রাখবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
(সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩৮, ২০১৪; সহীহ মুসলিম ৭৬০(১৬৫); মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৭১৭০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৮৯৬৮)

৮. রোযা গুনাহের কাফফারা
রোযা গুনাহের কাফফারা হওয়া কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন প্রকার গুনাহের কাফফারা স্বরূপ রোযার বিধান নাযিল করেছেন। যেমন ইহরাম অবস্থায় (অসুস্থতা বা মাথার কষ্টের কারণে) মাথা মুন্ডানোর কাফফারা স্বরূপ কোন যিম্মী বা চুক্তিবদ্ধ কাফেরকে ভুলক্রমে হত্যার কাফফারা স্বরূপ, কসমের কাফফারা স্বরূপ এবং যিহারের কাফফারা স্বরূপ। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিভিন্ন মেয়াদে রোযার হুকুম দেওয়া হয়েছে। তাই সহজেই বোধগম্য যে, রোযা বান্দার পাপসমূহকে ধুয়ে-মুছে রোযাদারকে পরিশুদ্ধ করে।
হযরত হুযায়ফা রাদি. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
فتنة الرجل فى اهله وماله ونفسه وولده وجاره تكفرها الصلاة والصيام والصدقة والأمر بالمعروف والنهى عن المنكر.
মানুষের জন্য তার পরিবার, ধন-সম্পদ, তার আত্মা, সন্তান-সন্ততি ও প্রতিবেশী ফিতনা স্বরূপ। তার কাফফারা হল নামায, রোযা, দান-সদকাহ, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ। (সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫২৫, ১৮৬৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৮৯২-২৬, মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৩২৮০, সুনানে তিরমিযী, হা. ২২৫৮)

৯. রোযাদারের মুখের গন্ধ মিশকের চেয়েও সুগন্ধিযুক্ত
হযরত আবু হুরায়রা রাদি. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
والذى نفس محمد بيده لخلوف فم الصائم اطيب عند الله من ريح المسك،
সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন, রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়।
(সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৯০৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৫১ (১৬৩); মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৭১৭৪; সুনানে নাসায়ী, হাদীস : ২৫২৩; সুনানে ইবনে মাজাহ- ১৬৩৮)

১০. রোযাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
للصائم فرحتان يفرحهما اذا افطر فرح، واذا لقى ربه فرح بصومه، وفى رواية : اذا لقى الله فجزاه فرح،
রোযাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে, যখন সে আনন্দিত হবে। এক. যখন সে ইফতার করে তখন ইফতারের কারণে আনন্দ পায়।
দুই. যখন সে তার রবের সাথে মিলিত হবে তখন তার রোযার কারণে আনন্দিত হবে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, যখন সে আল্লাহর সাথে মিলিত হবে, আর তিনি তাকে পুরস্কার দিবেন, তখন সে আনন্দিত হবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৯০৪, ১৮৯৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৫১ (১৬৩, ১৬৪, ১৬৫); মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৯৪২৯, ৭১৭৪; সুনানে তিরমিযী, হাদীস : ৭৬৬)

১১. রোযাদার পরকালে সিদ্দীকীন ও শহীদগণের দলভুক্ত থাকবে
হযরত আমর ইবনে মুররা আলজুহানী রা. হতে বর্ণিত,
جاء رجل الى النبى صلى الله عليه وسلم فقال : يا رسول الله! أرايت ان شهدت ان لا اله الا الله وانك رسول الله، وصليت الصلوات الخمس واديت الزكاة وصمت رمضان وقمته فممن أنا؟ قال : من الصديقين والشهداء،
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি একথার সাক্ষ্য দিই যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই এবং অবশ্যই আপনি আল্লাহর রাসূল, আর আমি যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করি, যাকাত প্রদান করি, রমযান মাসের সিয়াম ও কিয়াম (তারাবীহসহ অন্যান্য নফল) আদায় করি তাহলে আমি কাদের দলভুক্ত হব? তিনি বললেন, সিদ্দীকীন ও শহীদগণের দলভুক্ত হবে। (মুসনাদে বাযযার, হাদীস : ২৫, সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস : ২২১২, সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৩৪২৯)

১২. রোযাদারের দুআ কবুল হয়
হযরত আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
ثلاثة لا ترد دعوتهم الامام العادل، والصائم حتى يفطر، ودعوة المظلوم، تحمل على الغمام، وتفتح لها ابواب السماوات، ويقول الرب عز وجل : وعزتى لانصرنك ولو بعد حين.
তিন ব্যক্তির দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না (অর্থাৎ তাদের দুআ কবুল করা হয়) ন্যায়পরায়ন শাসকের দুআ; রোযাদার ব্যক্তির দুআ ইফতারের সময় পর্যন্ত ও মজলুমের দুআ। তাদের দুআ মেঘমালার উপরে উঠিয়ে নেওয়া হয় এবং এর জন্য সব আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। তখন আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, আমার ইয্যতের কসম! বিলম্বে হলেও অবশ্যই আমি তোমাকে সাহায্য করব।
(মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৮০৪৩; সুনানে তিরমিযী, হাদীস : ৩৫৯৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৭৫২; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৩৪২৮)

১৩. রোযা হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেয়
صوم شهر الصبر وثلاثة أيام من كل شهر يذهبن وحر الصدر،
হযরত ইবনে আববাস রাদি. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, সবরের মাসের (রমযান মাস) রোযা এবং প্রতি মাসের তিন দিনের (আইয়্যামে বীয) রোযা অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেয়। (মুসনাদে বাযযার, হাদীস : ১০৫৭; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৩০৭০; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৬৫২৩)

১৪. আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম
عن أبى أمامة الباهلى قال : قلت يا رسول الله مرنى بأمر ينفعنى الله به، قال : عليك بالصوم فانه لا مثل له.
হযরত আবু উমামা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে এমন কোনো আমলের আদেশ করুন, যার দ্বারা আল্লাহ তাআলা আমাকে উপকৃত করবেন। তিনি বললেন, তুমি রোযা রাখ, কেননা তার তুলনা হয় না।
(সুনানে নাসায়ী, হাদীস : ২৫৩১; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২২১৪১; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ৩৮৯৩ তাবারানী, হাদীস : ৭৪৬৩)

রমযান হল খালেস ইবাদতের মৌসুম। তাই এ মাসের সময়গুলো যতটা শুধু আল্লাহর সাথে কাটানো যায় ততটা ভালো। আত্মশুদ্ধির মাস রমজানুল মোবারক। রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের পয়গাম নিয়ে প্রতিবছর আমাদের সামনে উপস্থিত হয়। আমাদের উচিত এই মহিমান্বিত মাসকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো।

Address


Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি নোয়াখালী জেলা উত্তর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

  • Want your organization to be the top-listed Non Profit Organization?

Share