25/05/2026
জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলা: আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ‘লজ্জার’ ঘটনা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা
সম্প্রতি চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি ঘটনা ঘটেছে যা একসঙ্গে ক্ষোভ, বিস্ময় আর উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “এরা গু' মের ট্রেনিং পাইছে, কিন্তু নিজেদের পা* ছার কাপড় ঠিক রাখার ট্রেনিং পায় নাই। আবার নাম নিছে এলিট ফোর্স।”
গতকাল সন্ত্রাসীরা যৌথবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে সামরিক কায়দায় হামলা চালিয়েছে। তারা AK-47 সহ অটোমেটিক রাইফেল ব্যবহার করে উঁচু পাহাড়ের টিলা থেকে কভারিং ফায়ার দিয়েছে। আশপাশের বসতঘরের টিনের বেড়ায় ছিদ্র করে বন্দুকের ব্যারেল বের করে গুলি চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা এক্সকেভেটর মেশিন এনে RAB-এর নতুন ক্যাম্প প্রায় ৯০% কাজ শেষ হওয়া অবস্থায় পুরোপুরি গুড়িয়ে দিয়েছে। পাশের একটি স্কুলও তারা ধ্বংস করেছে।
যৌথবাহিনীর ক্যাম্পের সদস্যরা গোলাগুলির মধ্যে আটকে পড়লে সন্ত্রাসীরা অন্যদিকে ভাঙচুর চালিয়েছে। তারা বায়েজিদ রোডের কালভার্টগুলো ভেঙে ফেলে রি-ইনফোর্সমেন্ট আসার পথও আটকে দিয়েছিল। ফলে অতিরিক্ত সদস্যদের পায়ে হেঁটে আসতে হয়েছে।
যা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় তা হলো সন্ত্রাসীদের সংগঠন ও কৌশল। তারা শুধু হামলা করেনি, উঁচু জায়গা থেকে কভারিং ফায়ার দিয়ে বাহিনীকে ব্যস্ত রেখে একই সঙ্গে এক্সকেভেটর দিয়ে ক্যাম্প ধ্বংস করেছে। এটাকে অনেকেই “সামরিক নিখুঁত অভিযান” বলে অভিহিত করছেন।
এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, সন্ত্রাসীরা কর্তৃপক্ষের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত ও সাহসী হয়ে উঠেছে। তারা এখন শুধু গুলি চালায় না, কৌশলগতভাবে পরিকল্পনা করে হামলা চালায়। অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সতর্ক, আরও পেশাদার ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার মতো প্রস্তুত থাকতে হবে।
জঙ্গল সলিমপুরের এই ঘটনা শুধু একটা ক্যাম্প ধ্বংসের খবর নয়। এটা একটা সতর্কবার্তা। এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং এ ধরনের সংগঠিত হামলা মোকাবেলা করতে প্রশাসনকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ সাধারণ মানুষ আর শুধু “এলিট ফোর্স” নাম শুনতে চায় না, তারা সুরক্ষা দেখতে চায়।
Courtesy - Military Lovers