02/05/2026
সিরাজগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি তাঁতশিল্পের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত এবং উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে গণ্য করা হয়।📍 ভৌগোলিক পরিচয় ও প্রশাসনিক কাঠামোযমুনা নদীর তীরে অবস্থিত এই জেলাটি ১৯৮৪ সালে গঠিত হয় (পূর্বে এটি পাবনা জেলার একটি মহকুমা ছিল)।আয়তন: প্রায় ২,৪৯৭.৯২ বর্গ কিলোমিটার।উপজেলা: ৯টি (সিরাজগঞ্জ সদর, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, বেলকুচি, কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, চৌহালী এবং কাজিপুর)।সীমানা: উত্তরে বগুড়া, দক্ষিণে পাবনা, পূর্বে টাঙ্গাইল ও জামালপুর এবং পশ্চিমে নাটোর ও বগুড়া জেলা।🏛️ দর্শনীয় স্থানসিরাজগঞ্জে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও বিনোদনমূলক স্থান রয়েছে যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে।যমুনা সেতু: বঙ্গবন্ধু সেতু নামে পরিচিত এটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম স্থাপনা।রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শাহজাদপুরের এই স্থানটি এখন একটি জাদুঘর।সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ: একে 'চায়না বাঁধ' বলা হয়, যা বিকেলে সময় কাটানোর জন্য জনপ্রিয়।নবরত্ন মন্দির: হাটিকুমরুল এলাকায় অবস্থিত প্রাচীন স্থাপত্য।আল আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ: বেলকুচি উপজেলায় অবস্থিত এর অপূর্ব স্থাপত্য শৈলী দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।🧥 অর্থনীতি ও ঐতিহ্যসিরাজগঞ্জের প্রধান বিশেষত্ব এর তাঁতশিল্প।তাঁত কাপড়: এ জেলার লুঙ্গি, শাড়ি এবং গামছা দেশ ও বিদেশে জনপ্রিয়।জিআই পণ্য: সিরাজগঞ্জের তাঁত পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।দুগ্ধ শিল্প: শাহজাদপুর এলাকা দেশের অন্যতম বড় দুগ্ধ উৎপাদনকারী অঞ্চল।🚌 যাতায়াত ব্যবস্থাঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে সিরাজগঞ্জে সরাসরি যাওয়া যায়।বাস: ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের নন-এসি বাস ভাড়া প্রায় ৫০০-৭০০ টাকা।ট্রেন: ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস, বনলতা এক্সপ্রেস এবং পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো নিয়মিত চলাচল করে।🌟 বিখ্যাত ব্যক্তিত্বএ জেলায় অনেক প্রথিতযশা ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করেছেন:মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী: মজলুম জননেতা (জন্মসূত্রে এই জেলার)।সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী: প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও রাজনীতিক।ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী: বাংলাদেশের জাতীয় চার নেতার একজন।আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ: ভাষা আন্দোলনের অন্যতম নেতা।
সিরাজগঞ্জ জেলা-Sirjganj Zila
সিরাজগঞ্জ_জেলা