Josef Satabdi Foundation-JSF

Josef Satabdi Foundation-JSF Stay at home Safe your family...we will always with you

বলছি একজন চিত্রনাট্যাকার, সাংবাদিক এবং একজন আদর্শবান পিতা আমার বাবা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন মুক্তা(যোসেফ শতাব্দী)সাহেবের কথা...
19/10/2024

বলছি একজন চিত্রনাট্যাকার, সাংবাদিক এবং একজন আদর্শবান পিতা আমার বাবা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন মুক্তা(যোসেফ শতাব্দী)সাহেবের কথা-----
বাবার ছেলে বেলা কেটেছে যমুনার ঐতিহাসিক কাওয়াখোলার চর এর পাশে ছোট পিয়ারীর চরে। মাছরাঙ্গা টিভির এক ইন্টারভিউ এ বাবা বলেছিলেন-চরটি ছিলো লম্বা আকৃতির, প্রকৃতির সব ধরনের সৌন্দর্য্যই গ্রামটিতে ছিলো, একেবারে ছবির মত গ্রাম। চর জীবনে অনেক অভাব অনটনের মধ্যে একটি পাঠশালায় প্রথম তাঁর পড়াশোনা শুরু হয়। পরবর্তীতে চোখের সামনে একদিন সেই ছবির মত গ্রামটি যমুনার ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে যায়। তারপর দাদা পরিবারের সকলকে নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদরে বসবাস শুরু করেন।
বাবা ছাত্র বসে থেকেই সংগঠন, অভিনয় আবার টুকিটাকি লেখা লেখি করতেন। ছাত্র হিসাবে তিনি ভালো ছিলেন, যদিও তার বই পুস্তকের বড় অভাব ছিলো। বাবা একদিন বলেছিলেন-এসএসসি পরিক্ষার আগের রাত ২টা পর্যন্ত নিজের লেখা নাটক মঞ্চস্থ করে বাসায় ফেরেন, এমন নাটক পাগল ছিলেন তিনি। 1969 সালে গণ আন্দোলনের সময় গণতান্ত্রিক স্বাধীন বাংলা কায়েমের শ্লোগান সম্বলিত নাটক পল্টনের ঐতিহাসিক ময়দানে প্রথম মুক্ত মঞ্চে মঞ্চস্থ হয় “মহাবিপ্লবের পদধ্বনি” অন্যটি ”ভোরের অভিযাত্রিরা চলছে” যার রচনা, পরিচালনা ও মুখ্য ভুমিকায় অভিনয় করেছিলেন আমার বাবা যোসেফ শতাব্দী। এছাড়াও বাবার লেখা মেঘা সিরিয়াল “ও আমার চক্ষু নাই” এটিএন বাংলায় 500 এর ও বেশি পর্ব প্রাচারিত হয়েছে, যার নির্দেশনায় ছিলেন প্রয়াত পরিচালক মোহাম্মদ হান্নান। বাবা স্বাধীনতার পর কিছুদিন দৈনিক স্বদেশ পত্রিকায় সাহিত্য সম্পাদক এবং দৈনিক স্বাস্থ্য বার্তার বার্তা সম্পাদকের কাজ করেছেন। পববর্তীতে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকার রিপোর্টার ও ডিইলি নিউজের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকতা করাকালীন 1982-83 সালে বাবা সিরাজগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাবা তার নাতি নাতিনদের উদ্দেশ্য করে অনেক ছড়াই বলতেন কিন্ত সেগুলোর বেশিরভাগই সংরক্ষিত নাই, তবে সেগুলোর মধ্যে দুইটি ছড়া আমার মনে পরছে-

“জোনাকী পোঁকা”
জোনাকী পোঁকা জোনাকী পোঁকা
তুমি দেখি বড্ড বোঁকা
রাতের বেলা জ্বলতে নেই
ধরে ফেলবে অনেকেই
যাও পোঁকা উড়ে যাও
বাড়ী গিয়ে দুধু খাও।

“চড়ুই পাখি “
একটা ছিলো চড়ুই পাখি
বসতো ঘরের চালে,
একদিন সে বসলো গিয়ে
নীম গাছের ডালে।
নীম দেখে ভাবলো চড়ুই
কি মিষ্টি ফল,
খেলেই হবে চিলের মত
দুইটি ডানায় বল।
যেমন ভাবা তেমনি খাওয়া
খেয়েই চড়ুই কয়,
আঙ্গুর ভেবে খেলাম যে ফল,
তেতো কেমনে হয়?
শেয়াল বলতো ব্যর্থ হয়ে
আঙ্গুর ফল টক্,
চড়ুই বলে নীমটি খেয়ে
শিয়াল ছিলো ঠগ্।

1976 সালে যোসেফ শতাব্দীর চলচ্চিত্রাঙ্গনে অভিষেক ঘটে “আসমী হাজির” ছবির মাধ্যমে, যার পরিচালক ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান নজরুল। এরপর ধর্ম আমার মা, আসমান জমিন, ডাকু মনসুর, সুখের সংসার, অবরোধ, কুরবানী, মাটির দূর্গ, সুজন বন্ধু, প্রেম যমুনা, অন্ধ প্রেম, বন্ধু আমার, বিক্ষোভ, মহামিলন, ভালোবাসি তোমাকে, কোটি টাকার কাবিন, চাচ্চু, দাদীমা, মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবী, সুখের সংসার, আলাল দুলাল, নয়ন ভরা জল, অগ্নী বৃষ্টি, আকাশের চাঁদ, আমার স্বপ্ন তুমি, তুমি কি সেই, এলাকার বাদশা, বিয়ান সাব, স্বপ্ন পূরণ, দেশ দেশান্তরসহ চারশত এর বেশি সিনেমার চিত্রনাট্য রচনা করেছেন তিনি।
বাবার লখা একটি অসমাপ্ত প্রজেক্ট আছে “ক্ষুব্ধ স্বদেশ ভুমি” যার গল্প ধারণাটি তিনি লিখে গেছেন। চলচ্চিত্রটি সরকারীভাবে নির্মানের কথা ছিলো কিন্ত সাম হাও তা পরবর্তীতে সম্পন্ন হয়নি। গল্পটি ছিলো 1971 সালের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহের নিশ্চিন্তপুর রেল স্টেশন এর উপর লেখা। গল্পটির শেষ অংশের কিছু কথা তুলে ধরা হলোঃ

হাপাচ্ছে বজলু। খুড়িয়ে দ্রুত হেটে এসে বজলু একটা গণ কবরের সামনে দাঁড়ালো
ওখানে ঘুমিয়ে আছে অজ্ঞাত পরিচয়ে বীরশ্রেষ্ঠরা
একটা ফলকে লেখা রয়েছে-

দাঁড়াও পথিক
গণ কবরে শোয়া ওরা
গণদেবতা
নির্যাতিত, নিষ্পেষিত, ক্ষুব্ধ স্বদেশ ভুমিকে শত্রু মুক্ত করে
বাঁচার জন্য ওরা যুদ্ধ শুরু করেছিলো
যে যু্দ্ধের শেষ নেই-

একটা সঙ্গীতের ধুন উঠলো
ফিরে হাটতে শুরু করলো বজলু
অফ ভয়েজ হচ্ছে-

খন্ড খন্ড যুদ্ধের পংতিমালায়
গাঁথা মহাকাব্যের মত যে মুক্তি যুদ্ধের
ইতিহাস, সেখানে ওদের নাম খুঁজতে
যেওনা। ওরা এখন শহিদ আল্লাহু চাচার
মতই অলৌকিক কল্পকাহিনী।

বাবার সাথে আমাদের স্মৃতি কথাঃ
বাবার সাথে আমাদের স্মৃতি অনেক, বলে শেষ করা যাবে না। প্রতিটা মুহুর্তে বাবাকে আমরা মিস করি। বাবা কাজে কর্মে অনেক ব্যস্ত সময় পার করতেন। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো সময় তার হয়ে উঠতো না। বাবার সাথে ছেলে বেলায় শিশু পার্কে ঘুরেছি। 1993 সাল একবার হঠাৎ সিদ্ধান্ত হলো আমাদের সবাইকে নিয়ে কক্সবাজার যাবে-আমি বাবার ছোট ছেলে, তখন আমি ৮ম শ্রেণীতে পড়ি। বাবা আগেই ফিল্ম প্রোডাকশন ইউনিটের সাথে কক্সবাজার অবস্থান করছিলেন। পড়ে আমাদের খবর দিলো-আমরা পরিচালক আওকাত হোসেন এর পরিবাবর এবং আরো একজন প্রযোজকের পরিবার একটি রিজার্ভ বাসে কক্সবাজার গেলাম। ট্যুরের বৈশিষ্ঠ্য ছিলো কাকতালিও ভাবে আমরা তিন ভাইবোনই একের অধিক সমবয়সী বন্ধু পেয়ে গেলাম। আলটিমেন্টলি ট্যুরটা খুব মজায় পার হয়েছিলো। সেই দিন গুলো ছিলো অনেক মজার এবং মনে রাখার মত। এছাড়া বাবা আমাদের সকলকে নিয়ে পারিবারিক আড্ডা দিতেন। যা আমাদের পরিবারের সকলকে আর্কষন করতো। বাবা শুক্রবার ব্যতিত প্রায় প্রতিদিনই ব্যস্ততার জন্য রাত করে বাসায় ফিরতেন। আমরা পড়[শোনা শেষ করে বাবার জন্য অপেক্ষায় থাকতাম রাতের খাবার এক সঙ্গে খাব আর ঘন্টাখানেক আড্ডা দেবো। পরবর্তীতে আমার কর্মস্থল খুলনায় হওয়ায় এধরনের পারিবারিক আড্ডাটা আমি অনেকদিন পর পর পেতাম। বাবা চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে, এই আড্ডাটা আর কোনদিন জমবে না। আর কোনদিন বাবার কাছে কোন পরামর্শ পাবনা। তারপরও নিজের মনকে শান্তনা দিতেই হয়। আল্লাহর বিধান একদিন আমাদের সকলকেই এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যেতে হবে।
বাবা আজ তুমি চিরনীদ্রায় সায়িত আছো-নিশ্চয়ই তুমি তোমার আদর্শ, সৎ কর্মের ফল পাবে। আল্লাহ তোমাকে জান্নাতবাসি করুন। আর তুমি যেনে রাখো তুমি আমাদের যে আদর্শে লালন করেছো তা আমরা তোমার সন্তানেরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো ইনসাহ্আল্লাহ।

দুই জন গুনী ব্যক্তিত্ব আজ আর এ দুনিয়াতে নেই কিন্ত তাদের অনুসারী ও যোগ্য শিরষরা আজও বেচেঁ আছেন। একজন গুনী শিক্ষক যেমন সমা...
16/10/2024

দুই জন গুনী ব্যক্তিত্ব আজ আর এ দুনিয়াতে নেই কিন্ত তাদের অনুসারী ও যোগ্য শিরষরা আজও বেচেঁ আছেন। একজন গুনী শিক্ষক যেমন সমাজের যোগ্য মানুষ গড়তে পারেন তেমনি একজন আদর্শবান নেতা সমাজটা আদর্শিক পথে পরিচালিত করতে পারেন। তেমনি দু’জন নেতা একটা সময় এদুনিয়ায় এসেছিলেন- তার একজন আমার বাবা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন মুক্তা(যোসেফ শতাব্দী) তিনি ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি করতেন, তার পাশাপাশি রাজনীতি। রাজনীতি তাঁর পেশা ছিলো না ছিলো নেশা। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে রাজনীতি করা ব্যক্তিত্ববান রাজনীতিবিদ ছিলেন তিঁনি। সিরাজগঞ্জ জেলার মানুষ তাঁকে ”মুক্তা ভাই” ডাকতো। তিনি ভাসানী ন্যাপ থেকে শুরু করে পরবর্তীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর হাত ধরে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তদকালীন সময়ে যারা সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি তে যোগ দিয়েছিলেন তারাই আজ অত্র জেলার শীর্ষ স্থানীয় নেতার দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অনেক অন্যায় অত্যাচার নীপিড়ণ সয্য করে দলের রাজনীতিতে স্বক্রিয় ভুমিকা পালন করছেন তা শুধুমাত্র আদর্শিক নেতার অনুসারীদের পক্ষেই সম্ভ্যব। আমার বাবার আর একটি বড় পরিচয় হলো তিঁনি একজন সফল চিত্রনাট্যকার ছিলে-তাঁর হাতে লেখা বাংলাদেশ চলচিত্রের অসংখ্য ব্যবসা সফল সিনেমা রয়েছে। আজ আর বাংলা সিনেমায় সেই জৌলুস নেই। জানিনা কেন বাবার মৃত্যুর পর থেকেই বাংলার সিনেমা জগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। বর্তমান বাংলা সিনেমার বাজার চলেগেছে কলকাতায়। বাবা বেচেঁ থাকতে দেখতাম তাঁর হাতে সবসময় ৩/৪ সিনেমা লেখার স্ক্রিপ্ট চলমান থাকতো। সেই দিনগুলি কোথায় হারিয়ে গেল? বাবার লেখা প্রায় সব সিনেমাই আমার দেখা, তার মধ্যে আমার মতে সবচেয়ে হিট সিনেমা ”বিক্ষোভ” যার প্রতিটা ডায়লগ মনে হয় তাঁর নিজ জীবন থেকে নেয়া। বিক্ষোভ সিনেমায় বাবা তাঁর জীবনের সমস্ত রাজনৈতিক কৌশল উজার করে সিনেমাটি চিত্রায়ন করেছেন। যা আজও মানুষকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করে- স্বৈরাচার পতনের আন্দলনে শক্তি যোগায়।

14/10/2024

স্বাধীনতার তোকমা লাগিয়ে
যতবার শাসক গিলেছে গণতন্ত্র
স্বৈরশাসকের পরিনতি হয়েছে
ততবার ভয়ংকর করেছে সে, যত ষড়যন্ত্র।
বাববার কেন এমন হয়
স্বৈরশাসক দেশ চালায়
দূর্নীতির জালে পথ হারায়।
কোন্ঠাসা হয় কৃষক শ্রমিক
অর্জিত হয় সংশয়।
লুন্ঠিত হয় খাজনা খাজানা
উন্নয়ণের আয়না শুধুই দেখি হায়না।

Address

Sirajganj
6700

Telephone

+8801816586760

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Josef Satabdi Foundation-JSF posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Josef Satabdi Foundation-JSF:

Share