সালেহা আনছার ফাউন্ডেশন

সালেহা আনছার ফাউন্ডেশন We are also on the side of helpless and poor people.
(1)

সবাই কেমন আছেন
14/09/2025

সবাই কেমন আছেন

ধানশাইলে এই প্রথম মানবতার দেয়াল।❤️আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যান,অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যান।❤️
17/04/2025

ধানশাইলে এই প্রথম মানবতার দেয়াল।❤️
আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যান,
অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যান।❤️

প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ। জীবন বাংলাদেশ আমার, মরণ বাংলাদেশ…।” সকলকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।❤️🇧🇩
16/12/2024

প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ। জীবন বাংলাদেশ আমার, মরণ বাংলাদেশ…।” সকলকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।❤️🇧🇩

03/10/2024

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আল্লাহ মাতৃগর্ভে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে রেখেছেন। (সন্তান জন্মের সূচনায়) সে ফেরেশতা বলেন, হে রব! এ তো বীর্য। হে রব! এ তো আলাকা। হে রব! এ তো গোশ্‌তের খন্ড। অতঃপর আল্লাহ যদি তাকে সৃষ্টি করতে চান তাহলে ফেরেশতা বলেন, হে রব! সন্তানটি ছেলে হবে, না মেয়ে হবে? হে রব! সে কি পাপিষ্ঠ হবে, না নেককার হবে? তার রিয্‌ক কী পরিমাণ হবে, তার আয়ুষ্কাল কত হবে? এভাবে তার মাতৃগর্ভে সব কিছুই লিখে দেয়া হয়। (৩১৮) (আ.প্র. ৩০৮৭, ই.ফা. ৩০৯৫)
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৩৩৩
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

 #পর্ব_২ ও ৩ এবং ৪অনেক বিরক্তি ভাব নিয়ে বিছানা থেকে উঠে দরজার কাছে গেলাম,তারপর দরজা খুলতেই তো আমার চোখ কপালে উঠে গেলো......
31/07/2024

#পর্ব_২ ও ৩ এবং ৪
অনেক বিরক্তি ভাব নিয়ে বিছানা থেকে উঠে দরজার কাছে গেলাম,তারপর দরজা খুলতেই তো আমার চোখ কপালে উঠে গেলো....!
বাইরে তাকিয়ে দেখি রাস্তায় যে মেয়েটার সাথে ঝগড়া করে আসছি সে দাড়িয়ে আছে,মেয়েটতো আমাকে দেখে বহুগুনে অবাক হইছে,
আমিও তো কিছুই বুঝতে পারছি না, আমিও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি মেয়েটির দিকে😯
মেয়েটা, ওই ছেলে তুই এখানে আমার বাড়িতে কি করছিস..?
মাহফুজ, তোর বাড়ি মানে টা কি..! এইটা আমার নিজের মামার বাড়ি,কই থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসছে এখানে..!🧐
মেয়েটি, আমি উড়ে এসে জুড়ে বসছি..?আম্মু এই আম্মু..! এই ছেলেটা এইখানে কি করছে..?
মামি, এই জারা কি শুরু করলি তুই বলতো,এতো চিল্লাচ্ছিস কেন..?
জারা, আম্মু এই বাজে ছেলেটা এখানে আমার রুমে কি করছে..? আর ও এই বাড়িতে কেন😡
মামি,খারাপ ছেলে মানে..? ওতো তোর জাহিদ ফুপার ছেলে মাহফুজ,আজ এতো দিন পরে আমাদের বাড়িতে এসেছে আর তুই কি শুরু করলি..?
জারা,ওওও তাহলে এই সেই জাহিদ ফুপার বান্দর পোলা..? জানো আম্মু আজকে রাস্তায় ও আমাকে চড় মারছে আর পেতনি বলছে😠
মাহফুজ, মামি তাহলে এইটায় আমার মামার পেতনি মেয়ে..? হি হি হি তবে পেতনি হলেও চেহারাটা ভালো হয়েছে😊
মামি,অনেক ঝগড়া হইছে তোদের😪 এখন খেতে আয় দুজনেই, আমি খাবার দিচ্ছি তোদের,আর মাহফুজ তো তোকে চিনতো না বলেই হয়তো ওইরকম করছে..? এখন দুজনেই খেতে আয়..! আর মাহফুজ পাশের রুমে তোর বিছানা তৈরি করা আছে,তুই ওইখানে থাকবি,
তারপর আমি জারার দিকে তাকালাম,আমাকে মুখ ভেংচি কেটে রুমে চলে গেলো😅 তারপর আমিও খাবার খেতে টেবিলে চলে গেলাম,
টেবিলের কাছে গিয়েই তো অবাক হয়ে গেলাম,পুরো টেবিল জুড়ে সব আমার পছন্দের খাবারগুলো সাজিয়ে রাখা,তবে সবথেকে বেশি পছন্দ করি মুরগির মাংস আর পোলাও,
আমার তো এসব খাবার দেখে প্রচন্ড ক্ষুদা লেগে যায়,তখনই মামি আসলো,
মাহফুজ,মামি এতো কিছু কার জন্য রান্না করছো তুমি..?
মামি,কেন রে সব তো তোর জন্যই রান্না করছি,তোর পছন্দ হয়নি..?
মাহফুজ,কিযে বলো মামি সবগুলোই আমার প্রিয় খাবার,অনেক পছন্দ হইছে আমার😋
মামি,হুমম এখন খেতে বস,
তারপর খেতে বসলাম আর তখনই জারা আসলো,সাথে মামাও আসলো, সবাই মিলে খেতে লাগলাম,ওহহ খাবার টাও অনেক ভালো রান্না হইছে,মুখে লেগে থাকার মতো😋
সবাই মিলে খেতে খেতে অনেক গল্প করলাম,মামা আমার পড়াশোনার বিষয় সহ আরো অনেক কিছু জানলো,তারপর খাবার খাওয়া শেষ করে নিজের রুমে চলে গেলাম,
তারপর বিছানায় শরীরটা এলিয়ে দিলাম,ক্লান্ত থাকার কারনে চোখের উপর ঘুম এসে নাড়া দিলো,তারপর ঘুমিয়ে গেলাম,
ঘুম ভাংলো বিকাল বেলায়,বিছানা থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নিলাম,তারপর রুম থেকে বাইরে বের হলাম,দেখি মামা মামি সোফায় বসে গল্প করতেছে,
মাহফুজ, মামি জারা কোথায় গো..?
মামি,জারা ওর নিজের রুমেই আছে,যা গিয়ে কথা বল,
তারপর আমি জারার রুমের সামনে গেলাম,গিয়ে দেখি জারা বই পরতেছে,আমি দরজায় নক করলাম,
মাহফুজ,আসতে পারি জারা ম্যাম..?
জারা, বাব্বাহ..! তুই আবার আমার রুমে আসার জন্য অনুমতি নিচ্ছিস..? আগেতো হুটহাট করে ঢুকে পরতি,
মাহফুজ,ধুররর পাগলি তখন তো ছোট ছিলাম তাই বুঝতাম না,এখন তো তুই বড় হয়ে গেছিস,
জারা,হা হইছে এখন রুমে আসেন😊
তারপর আমি জারার রুমে ঢুকলাম,গিয়ে জারার পাশে বসলাম,
মাহফুজ, ওই জারা আমার সাথে এখন ঘুরতে চলতো,তোদের শহরটা ঘুরে দেখে আসি একটু,
জারা, ওকে চল,
তারপর জারার সাথে ঘুরতে বের হলাম,একটা রিকসা নিয়ে দুজনে একটা পার্কে গেলাম,ওখানে অনেক সময় কাটালাম,
তারপর জারা ফুসকা খেতে চাইলো,তখন ওকে ফুসকার দোকানে নিয়ে ফুসকা খাওয়ালাম,
জারার ফুসকা খাওয়া দেখে তো আমি অনেক বেশিই অবাক হয়ে গেলাম,যেখানে আমি ৩ টা ফুসকা শেষ করতে পারলাম না,সেখানে ও পুরো একবাটি ফুসকা শেষ করে ফেললো,
মাহফুজ,জারা আইসক্রিম খাবি..?
জারা,হুমম চকলেট আইসক্রিম আমার অনেক পছন্দ😋
তারপর জারার জন্য চকলেট আইসক্রিম কিনলাম,জারা আইসক্রিম পেয়ে অনেক খুশি হলো,এভাবে দুইজন অনেক মজা করলাম সারা বিকাল জুড়ে,
তারপর একটা রেষ্টুরেন্টে নিয়ে গেলাম জারাকে,তারপর ওর পছন্দ মতো সব খাবার অর্ডার করতে বললাম,
জারা, কিরে আজ এতো খাওয়াচ্ছিস ব্যাপারটা কি..?
মাহফুজ, আরে কিছু না এমনি,আজ এতো দিন পর আসলাম তো তাই ট্রিট দিলাম আরকি😇
তারপর দুজনে খাওয়া শেষ করে রেষ্টুরেন্টে থেকে বের হলাম,তারপর একটা রিকসা ডাক দিলাম,
রিকসা, মামা কই যাবেন..?
মাহফুজ,আমি মামার বাসার ঠিকানা দিলাম,তারপর দুজনে রিকসায় উঠে বসলাম,রিকসা তার আপন গতীতে চলতে শুরু করলো,
কিছুক্ষন পর বাসায় সামনে এসে রিকসা দাড়ালো,আমি নেমে রিকসাওয়ালা কে ১০০০ টাকার একটা নোট দিলাম,তারপর জারাও নেমে গেলো,
রিকসাওয়ালা,মামা ভাড়া তো এতো টাকা হয় নাই,
মাহফুজ,আরে মামা রেখে দেন তো,
তারপর বাসার ভিতরে চলে গেলাম,দরজার সামনে গিয়ে কলিংবেল দিলাম,মামি এসে দরজা খুলে দিলো,
তারপর সোজা আমার রুমে চলে গেলাম,বিছানায় বসে ফেসবুকিং করতে লাগলাম,এভাবে অনেকটা সময় পার হয়ে গেলো,
মামি এসে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য ডেকে গেলো,তারপর আমি রুম থেকে বেড়িয়ে খাবার খেতে গেলাম,গিয়ে দেখি সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে,তারপর সবাই মিলে খাওয়া শুরু করলাম,
মামি,কিরে তোদের ঝগড়া মিটমাট হইছে..?
মাহফুজ,হা মামি হইছে😁
মামা,ওদের তো সারাক্ষন ঝগড়া লেগেই থাকে সেই ছোটবেলা থেকে😐
খাওয়ার পর্ব শেষ করে রুমে চলে গেলাম,তারপর বিছানায় বসে মোবাইল টিপতেছি,এমন সময় জারা পেতনির আগমন😂
মাহফুজ,কিরে পেতনি কিছু বলবি..?
জারা,হা বলতেই তো আসছি😒 তোর ফোন নাম্বার আর ফেসবুক আইডি দে..!
তারপর জারার কাছে ফোন নাম্বার আর ফেসবুক আইডি দুইটায় দিলাম,তখনই আমার ফোন বেজে উঠলো,তাকিয়ে দেখি আননোন নাম্নার,
জারা,ওইটা আমার নাম্বার সেইভ করে রাখ,
মাহফুজ,ওকে
তারপর জারা রুম থেকে চলে গেলো,আমিও ফ্রেন্ডের সাথে চ্যাট করতে লাগলাম,একটু পর মিষ্টি মেয়ে নামে একটা আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট আসলো,
আমি একসেপ্ট করার সাথে সাথে মেসেজ আসলো,ওই আমি জারা..!
মাহফুজ,ওহহ পেতনি তাহলে এইটা তোর আইডি🤗
জারা,ওই হারামি তুই আমাকে কি বললি😡
মাহফুজ, কই কিছু বলি নাই তো,আমি এখন ঘুমিয়ে গেলাম হা😅
জারা,ওকে গুড নাইট
মাহফুজ,হুমম গুড নাইট🙃
তারপর ফোনটা রেখে ঘুমিয়ে পরলাম,হঠাৎ দেখি একটা মেয়ে আমার সামনে হাটু গেড়ে ফুল নিয়ে আমাকে প্রপোজ করছে😍 মেয়েটাকে দেখতে অসাধারন,
আমিও মেয়েটার প্রেমে পরে গেছি,
তারপর আমি মেয়েটাকে জরিয়ে ধরলাম,মেয়েটাও আমাকে জরিয়ে ধরলো,আহহ তখন কিযে একটা অনুভূতি হচ্ছিলো😍
তখনই আমার পুরো শরীর পানিতে ভিজে গেলো,
আরে এখানে আবার পানি আসলো কই থেকে🤔 তখনই আমার ঘুম ভেঙে গেলো,চোখ খুলে দেখি জারা বালতি হাতে নিয়ে পাশে দাড়িয়ে আছে,
তার মানে এতোক্ষন সবকিছু সপ্ন ছিলো😭 কতো সুন্দর একটা সপ্ন দেখতেছিলাম ওই পেতনি এসে সবকিছু শেষ করে দিলো😢
মাহফুজ,ওই পেতনি তুই আমার গায়ে পানি দিলি কেন..? কতো সুন্দর একটা মেয়েকে জড়িয়ে ধরেছিলাম,তুই এসে সব ভেস্তে দিলি😠
জারা, তোকে কতোক্ষন ধরে ডাকতেছি উঠোস না কেন,তাই তো পানি মারলাম,আম্মু খেতে ডাকতেছে খেতে আয় বলে জারা চলে গেলো..!
মাহফুজ,সারা শরীর পানিতে ভিজে গেছে,তাই উঠে ওয়াসরুমে গেলাম ফ্রেস হতে,তারপর ফ্রেস হয়ে খেতে চলে গেলাম,সবাই আমার জন্য টেবিলে বসে ওয়েট করতেছে,
তারপর সবার সাথে খেতে বসলাম,আজকেও মামি আমার সব পছন্দের খাবার রান্না করছে,অনেক মজা করে খেলাম,
খাওয়ার পর সবাই মিলে আড্ডা দিতে বসলাম,গতকাল আসার পর থেকে সবার সাথে বসা হয়নি,সবাই আড্ডা দিতে লাগলাম,
জারার খারাপ লাগছে বললো,তাই ও নিজের রুমে চলে গেলো,
তখন আমি মামা আর মামি কথা বলতে লাগলাম,আমার মামা বড়ই মিশুক মানুষ, সবার সাথেই অতি সহজে মিশে যেতে পারে,আমাকে দুইজনেই অনেক ভালোবাসে, তাই তাদের কথায় যেন শেষ হতে চাইছে না,
মামা,মাহফুজ জারার ব্যবহারে কিছু মনে করিস না,মেয়েটা একটু রাগি হলেও মনটা অনেক ভালো,
মাহফুজ,হা মনটা তো অনেক ভালোই,আর চেহারাটাও তো মাশাল্লাহ..! একদম মামির মতোই সুন্দরী হইছে😋
মামা,তাহলে জারাকে তোর পছন্দ হইছে..?
মাহফুজ,মানে কি বলতে চাইছো তুমি..?
তারপর মামা যা বললো তা শুনে তো আমার মনের ভিতর লাড্ডু ফুটতে লাগলো😍
চলবে.....
ভুলত্রুটি গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
#মামাতো_বোন
#লেখকঃ অভি আহমেদ রাজ
#পর্ব-৩+৪
মাহফুজ,হা মনটা তো অনেক ভালোই,আর চেহারাটাও তো মাশাল্লাহ..! একদম মামির মতোই সুন্দরী হইছে😋
মামা,তাহলে জারাকে তোর পছন্দ হইছে..?
মাহফুজ,মানে কি বলতে চাইছো তুমি..?
মামা, হা ঠিক এই বলছি,আমি আর তোর বাবা মিলে তোদের বিয়ে ঠিক করে রেখেছি, সেই তোদের ছোট বেলা থেকে,
তুই যদি জারাকে পছন্দ করিস তাহলে তোদের বিয়ে দিয়ে দিবো,
মাহফুজ,মামার কথা শুনে তো মনে মনে প্রচন্ড খুশি হলাম,কারন ছোট বেলা থেকেই জারাকে আমার ভালো লাগতো,আর এখন তো দেখি মেঘ না চাইতেই জল😍
হা মামা আমি জারাকে পছন্দ করি,তবে ও কি আমাকে মেনে নিবে..?
মামা,সেটার দায়িত্ব তোর,তুই জারা কে বোঝাবি🙂
মামার কথা শুনে তো উড়াধুড়া নাচতে ইচ্ছা করতেছে,না থাক আপনাদের সামনে আর নাচবো না,
খুশি খুশি মন নিয়ে নিজের রুমে চলে গেলাম,বিছানায় বসে জারার কথা ভাবতে লাগলাম,আহহহ পেতনিটা রাজি থাকলে ওকে নিয়েই সারাজীবন কাটিয়ে দিবো😋
কিন্তু ওকে এখনই বিয়ের কথা বলা যাবে না,যখন ওর মন ভালো থাকবে তখনই বলতে হবে,
ওর কথা ভাবতে ভাবতেই দুপুর হয়ে গেলো,তারপর উঠে ফ্রেস হয়ে নিলাম,গোসলের পর পেটে প্রচন্ড ক্ষুদা লাগছে,তাই মামির কাছে গেলাম,
মাহফুজ,মামি আমার ক্ষুদা লাগছে খাবার দাও,
মামি,যা গিয়ে টেবিলে বস আমি আমি খাবার দিচ্ছি,
মাহফুজ,মামা আর জারা কোথায়..?
মামি,তোর মামা অফিসে গেছে আর জারা ওর রুমেই আছে,
যাক ভালোই হইছে,যায় পেতনিটারে একটু জ্বালিয়ে আসি😁যেই ভাবা সেই কাজ,রুমের সামনে গিয়ে দেখি দরজা খোলায় আছে কিন্তু রুমে কেউ নাই,কোথায় আছে দেখার জন্য রুমে ঢুকে গেলাম,
কিন্তু রুমে ঢুকে দেখি কোথায়ও কেউ নাই,এটা কি হলো..! পেতনিটা আবার গেলো কই,তখনই পানি পরার শব্দ শুনতে পেলাম,তার মানে পেতনিটা হয়তো গোসল করতেছে,
জারার টেবিলের দিকে খেয়াল করে দেখি গল্পের বই রাখা,আমি গল্পের বই পড়ি না,তাও কৌতুহল বশতো বইটা পরতে লাগলাম,গল্পের শুরুটা পড়ে বেশ ভালোই লাগলো,তাই বাকিটা পরতে শুরু করলাম😊
জারা, ওই হারামি তুই এখানে কি করিস..?
মাহফুজ,হঠাৎ জারার কথায় চমকে উঠলাম,কখন যে ও এখানে আসছে বুঝতে পারি নাই,এবার জারার দিকে তাকিয়েই তো পুরো তাসকি খেয়ে গেলাম,জারা একটা তোয়ালে দিয়ে শরীর ঢেকে রাখছে,আর চুল বেয়ে ফোটা ফোটা পানি পরছে,তখন ওকে একটা পরীর মতো লাগছিলো,ওর দিকে এক নাগারে তাকিয়েই আছি,
জারা,ওই ওভাবে কি দেখিস তুই..? জীবনে কোনো মেয়ে দেখিস নাই..?
মাহফুজ,জারার কথায় ধ্যান ভাংলো,না মানে মেয়ে মানুষ তো দেখছি কিন্তু তোর মতো সুন্দরীকে তো এই প্রথম দেখলাম,তোকে দেখে মনে হচ্ছে যেন আকাশ থেকে একটা পরী নেমে আসছে,
আমার কথাতে মনে হয় জারা লজ্জা পেয়েছে,তাই চোখ নামিয়ে ফেললো,
জারা,হইছে আর পাম দেওয়া লাগবে না,এখন যা এখান থেকে আমি কাপড় চেঞ্জ করবো,
মাহফুজ,আমি থাকলে কি সমস্যা😎
জারা, তোকে যেতে বলছি কিন্তু😠
মাহফুজ,ওকে যাচ্ছি যাচ্ছি😂
তারপর জারার রুম থেকে চলে আসলাম,আমার রুমে চলে গেলাম,বিছানায় বসে ফোন টিপতে লাগলাম,আমার কয়টা ফ্রেন্ড দেখি লাইনে আছে,তখন ওদের সাথে চ্যাট করতে লাগলাম,
একটু পর মামি এসে খাবার জন্য ডেকে গেলো,তারপর আমিও খেতে চলে গেলাম,টেবিলে গিয়ে দেখি মামাও অফিস থেকে চলে আসছে,সাথে মামি আর জারা বসে আছে,
তারপর আমিও খেতে বসলাম,আজকের খাবার গুলোও অনেক মজা হইছে,খেতে খেতে সবাই মিলে অনেক কথা বললাম,
তারপর খাওয়া শেষ করে রুমে চলে গেলাম,তারপর শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দিলাম,কখন যে ঘুমিয়ে গেছি বলতে পারলাম না,ঘুম ভালো একেবারে বিকালে,
তারপর উঠে ফ্রেস হয়ে নিলাম,বাইরে গেলাম একটু ঘুরতে,আজকে বাইরের পরিবেশটা অনেক ভালো লাগছে,আমি গিয়ে একটা পার্কে বসলাম,
সামনে দেখি বাদামওয়ালা যাচ্ছে,তাই বাদাম কিনে খেতে লাগলাম,পার্কের পরিবেশটা অলেক ভালো লাগতেছিলো,তাই কখন যে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসছে খেয়াল এই করি নাই,
তারপর পার্কের বাইরে এসে জারার জন্য একটা চকলেট আইসক্রিম নিলাম,কারন চকলেট আইসক্রিম জারা অনেক পছন্দ করে,তারপর একটা রিকসা নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম,মনে মনে ভাবলাম যে আজকেই জারাকে বিয়ের কথা বলবো😊
একটু পর রিকসা বাসার সামনে চলে আসলো,রিকসা থেকে নেমে ভাড়া দিলাম,তারপর বাসায় গিয়ে কলিংবেল দিলাম,জারা এসে দরজা খুলে দিলো,
জারা,কিরে কই গিয়েছিলি..?
মাহফুজ,বাসায় থেকে থেকে বোর হয়ে গিয়েছিলাম,তাই বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসলাম,
জারা,ওহহহ
তারপর আমার রুমে চলে গেলাম,রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে নিলাম,তারপর বিছানায় বসে মোবাইলে গেম খেলতে লাগলাম,
কিছুক্ষন পর মোবাইল রেখে রুম থেকে বের হলাম,দেখি মামা চলে আসছে,তারপর মামার সাথে কথা বলতে লাগলাম,একটু পর মামি এসে খেতে যাওয়ার জন্য বলে গেলো,
তারপর সবাই মিলে খাবার খেয়ে নিলাম,সবার সাথে গল্প করে রুমে চলে আসলাম,ফেসবুকিং করতেছিলাম রুমে বসে,হঠাৎ মনে পরলো যে জারা কে তো বিয়ের কথা বলতে চেয়েছিলাম,তাই আর দেরি না করে জারার রুমের দিকে গেলাম,
কিন্তু রুমে কেউ নাই,দরজাও খোলা রাখা,মামির কাছে শুনলাম জারা কই,মামি বললো হয়তো ছাদে গেছে,তাই আমিও ছাদে চলে গেলাম,যাওয়ার সময় জারার আইসক্রিম টা নিয়ে গেলাম ওকে দেওয়ার জন্য,
ছাদে গিয়ে দেখি পেতনিটা ছাদের রেলিং ধরে দাড়িয়ে আছে,তারপর আমিও ওর কাছে গেলাম,আমি যে ওর পিছনে দাড়িয়ে আছি পেতনিটা এখোনো ঠিক পাই নাই😁
তারপর হাত দিয়ে ওর চোখ দুটো ধরলাম,হঠাৎ করে ধরার কারনে জারা ভয় পেয়ে গেলো,
যখনি চিল্লাতে যাবে ওর মুখটা হাত দিয়ে চেপে ধরলাম,
মাহফুজ,আরে আমি মাহফুজ,এতো ভয় পাওয়ার কি আছে..?
জারা,উমমমম
মাহফুজ,উমমম কি বলতেছো..? ওহহ মনেই তো নাই আমিতো ওর মুখ ধরে রাখছি😄 তারপর মুখ ছেড়ে দিতেই জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিতে লাগলো,
জারা,ওই হারামি এইভাবে কেউ মুখ চেপে ধরে..? আর একটু হলেই তো যেতাম😐
মাহফুজ,সরি পেতনি ম্যাডাম,তারপর প্যান্টের পিছন থেকে আইসক্রিম টা বের করে ওকে দিলাম,এই নিন আইটা আপনার জন্য..?
জারা,আইসক্রিম পেয়ে জারা অনেক খুশি হলো,ধন্যবাদ আমার পছন্দের আইসক্রিম দেওয়ার জন্য☺
তারপর জারা আইসক্রিম খেতে লাগলো,ওর খাওয়া দেখে তো আমারও অনেক লোভ হতে লাগলো,তারপর মনে পরলো বিয়ের কথা,হা এখনই সঠিক সময় কথাটা বলার,
মাহফুজ,জারা তুই কি আমাকে বিয়ে করবি..?
আমার কথা শুনে জারা আমার দিকে অবাক হয়ে তাকালো,
জারা,মানে বুঝলাম না,হঠাৎ এই কথা..?
মাহফুজ,মানে শোন জারা,আমার আর তোর আব্বু সেই ছোটবেলা থেকে আমাদের বিয়ে ঠিক করে রাখছে,গতকাল মামাও আমাকে বললো সেই কথা,আর আমিও তোকে ভালোবাসি,বিয়ে করতে চায়,তুই কি আমাকে ভালোবাসিস..? বিয়ে করবি আমাকে..?
জারা,কিছুক্ষন চুপ করে থেকে কি যেন ভাবলো,তারপর বললো আমিও তোকে ভালোবাসি আর বিয়েও করবো,কিন্তু আমার পড়ালেখা এখোনো শেষ হয়নি,আমি আমার স্টাডি শেষ করে বিয়ে করতে চাচ্ছি,কিন্তু বিয়ে হয়ে গেলে কি স্টাডি করতে পারবো..?
মাহফুজ,তখন আমার মনের ভিতর এতো খুশি লাগতেছিলো, যে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়,আচ্ছা জারা তোর পড়ালেখা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না,দুজন বিয়ের পর দুজন একসাথে স্টাডি করবো বলেই ছাদ থেকে চলে আসলাম,
তারপর সোজা মামা মামির রুমে চলে গেলাম,দেখি দুজন গল্প করতেছে,
মাহফুজ, মামা আসতে পারি..?
মামা,হা চলে আয়,
মাহফুজ,মামা জারা রাজি আছে বিয়ে করতে,
মামা,তাহলে তো খুবই ভালো কথা,আগামি সপ্তাহেই তোদের বিয়ে দিবো,তোর বাবার সাথে আমি কথা বলে নিবো,
মাহফুজ,তাহলে মামা আমি কালই বাসায় চলে যাবো,কারন সবকিছু আয়োজন করতে হবে বিয়ের জন্য,আমি এখন রুমে গেলাম বলেই মামার রুম থেকে আমার রুমে চলে আসলাম,
মনের ভিতর অনেক ভালো লাগতেছে,কারন জারা কিছুদিন পর আমার বউ হবে,এসব ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পরলাম,
পরদিন সকালে উঠে ফ্রেস হয়ে নিলাম,তারপর সকালের নাস্তা করে সবার থেকে বিদায় নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলাম,
কিছুক্ষন পর বাসায় পৌছে গেলাম,তারপর বাসায় চলে গেলাম,দরজার সামনে গিয়ে কলিংবেল বাজালাম,কলিং বেল বাজানোর একটু পরেই.......
#পর্ব_৪
কিছুক্ষন পর বাসায় পৌছে গেলাম,তারপর বাসায় চলে গেলাম,দরজার সামনে গিয়ে কলিংবেল বাজালাম,কলিং বেল বাজানোর একটু পরেই আম্মু এসে দরজা খুলে দিলো,
আমাকে দেখেই তো আম্মু অবাক হয়ে গেলো,
আম্মু,কিরে দুই দিন আগে গেলি আর আজই চলে আসলি..? আসার আগে একবারও জানাতে পারলি না..?
মাহফুজ,হা হঠাৎ করেই চলে আসলাম কারন বিয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে না..?😎
আম্মু,বিয়ের প্রস্তুতি মানে..?
মাহফুজ,আরে আম্মু জারা আমার সাথে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেছে,তাইতো চলে আসলাম আজকে,সবকিছুর আয়োজন করতে হবে না..?☺
আম্মু, হুমম তাতো করতেই হবে,আমার একমাত্র ছেলের বিয়ে বলে কথা😋
মাহফুজ,হুমম আজ থেকেই শুরু করে দিবো বলে আমার রুমে চলে আসলাম,তারপর ফ্রেস হয়ে খেয়ে নিলাম,
বিছানায় বসে গেম খেলতে ছিলাম,ক্লান্ত হয়ে গেছি মামার বাসা থেকে এসে,তাই শুয়ে পরলাম বিশ্রাম নেওয়ার জন্য,কখন যে চোখ দুটো লেগে গেছে বুঝতে পারি নি,
দুপুরে আম্মুর ডাকে ঘুম ভাংলো,তারপর উঠে গোসলটা সেরে নিলাম,এখন মনের ভিতর ফুরফুরা লাগছে,কিন্তু গোসলের পর তো প্রচন্ড ক্ষুদা লাগছে,তাই খেতে চলে গেলাম,
আম্মু আগে থেকেই টেবিলে খাবার গুলো সাজিয়ে রাখছে,তাই দেরি না করে খেতে বসে গেলাম,তখনই কলিং বেলটা বেজে উঠলো,
আম্মু গিয়ে দরজাটা খুলে দিলো,
দেখি আব্বু অফিস থেকে চলে আসছে,তারপর আব্বুও ফ্রেস হয়ে খেতে আসলো,সবাই একসাথে বসে খাবার খেয়ে নিলাম,
খাওয়া শেষ করে সবাই গল্প করতে বসলাম,
আব্বু,কিরে মাহফুজ মামার বাসায় গিয়ে তো আমাদেরকে ভুলেই গিয়েছিলি,একটা ফোনও তো করলি না,
মাহফুজ, আসলে আব্বু মামার বাসায় আদর যত্নে কম ছিলো না তো তাই আরকি😁
আব্বু,তো কেমন কাটলো মামার বাসায়..?
মাহফুজ,হা আব্বু অনেক ভালো লেগেছে মামার বাসায় থেকে,আর হা একটা কথা বলা হয়নি,জারা তো আমার সাথে বিয়ে করতে রাযি হয়ে গেছে😍
আব্বু, সেটা তোর মামা আমাকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে,প্রস্তুতি নিয়ে নে কারন আগামি সপ্তাহে তোদের বিয়ে,
মাহফুজ,হা আব্বু আজ থেকেই শুরু করে দিবো, আমার বিয়ে বলে কথা😇
তারপর আব্বু আম্মুর সাথে আরো সময় কথা বলে রুমে চলে আসলাম,বিছানায় বসে ফেসবুকিং করতে লাগলাম,দেখি জারা লাইনে আছে,তাই ওকে মেসেজ দিলাম,
মাহফুজ,কিরে পেতনি কি করিস😁
জারা, ওই হারামি একদম খেয়ে ফেলবো যদি আর একবার পেতনি বলিস😠
মাহফুজ,পেতনিকে পেতনি ছাড়া কি বলবো😏
জারা, হারামজাদা তোকে তো আমি....
মাহফুজ,থাক হইছে হইছে,ভয় লাগতেছে আমার, আর রাগ করিস না,তো কেমন আছিস তুই..?
জারা, হা ভালো আছি তোর কি খবর..?
মাহফুজ, হা আমিও অনেক ভালো আছি,
তারপর জারার সাথে আর কিছুক্ষন কথা বলে ফোন রেখে দিলাম,এভাবেই দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে গেলো,
আমি আবার প্রতিদিন বিকালে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেই,না হলে শরীরটা কেমন যেন করে,তাই তাহসিনকে ফোন দিলাম,
মাহফুজ,তাহসিন তুই কইরে..?
তাহসিন,এইতো আমাদের আড্ডা দেওয়ার জায়গায় বসে আছি,
মাহফুজ,আচ্ছা থাক আমি আসতেছি,
তারপর বাসা থেকে বের হয়ে ওদের কাছে চলে গেলাম,আড্ডায় গিয়ে দেখি তাহসিন,রাজ,তুহিন আরো অনেকগুলা হারামি বসে আছে,
তারপর ওদের কাছে গিয়ে বসলাম,
রাজ,এইযে আসছে আমাদের বস,এবার সবাই তাজে উইস করো🧐
মাহফুজ,যাক আমারে সবাই বস মানে এইটায় অনেক,আর কিছুর দরকার নাই😁
রাজ,তো দোস্ত কি খবর তোর,ওই যে মামার বাসায় গেলি তারপর আর খোজ নিলি না,
মাহফুজ,তোদের জন্য গুড নিউজ আছে,আগামি সপ্তাহে আমার বিয়ে,মামার মেয়ের সাথে,তোরা সবাই থাকবি কিন্তু,
তাহসিন,ওরে শালা আগে বলবি তো যে ভাবি আইতাছে..!
মাহফুজ,ওই জন্যই তো এখানে আসা,তোরা কিন্তু অবশ্যই আসবি,
সবাই,সেটা আর বলতে..?😍
মাহফুজ,আচ্ছা তোরা থাক, আমার এখন বাসায় যেতে হবে,কারন বিয়ের কার্ডের অর্ডার দিতে হবে বলে ওদের থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় চলে আসলাম,
বাসায় এসে কলিংবেল চাপতেই আম্মু এসে দরজা খুলে দিলো,তারপর নিজের রুমে চলে গেলাম,রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে নিলাম,তারপর বিছানায় বসে কলেজের পড়াগুলো দেখতে লাগলাম,পড়া শেষ করে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম,
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তাটা করে নিলাম,তারপর কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলাম,কলেজ মাঠে তাহসিনরা বসে আছে তাই আমিও গিয়ে ওদের সাথে বসলাম,আড্ডা দিয়ে সবাই ক্লাসে চলে গেলাম,
তারপর দুইটা ক্লাস করে প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে গেলাম,
মাহফুজ,স্যার আসতে পারি..?
প্রিন্সিপাল,হা মাহফুজ যে..! ভিতরে এসো,
মাহফুজ,স্যার আমার দুই সপ্তাহের ছুটি লাগবে,কারন আগামি সপ্তাহে আমার বিয়ে😇
প্রিন্সিপাল,কংগ্রাচুলেশন..! দোয়া করি তোমরা সুখে থাকো,আচ্ছা ছুটি দিয়ে দিলাম,
মাহফুজ,ধন্যবাদ স্যার,আপনি কিন্তু অবশ্যই আপনার পরিবার নিয়ে আমার বিয়েতে আসবেন😊
প্রিন্সিপাল,হা ঠিক আছে আসবো,
তারপর স্যারের থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় চলে আসলাম,বাসায় এসে খেয়ে নিলাম,তারপর রুমে গিয়ে বিছানায় শুয়ে একটু রেষ্ট নিলাম,কারন বিকালে বিয়ের কার্ডের অর্ডার দিয়ে আসতে হবে,সাথে আরো অনেক কাজ আছে,
বিকাল বেলায় উঠে ফ্রেস হয়ে নিচে গেলাম,তারপর আব্বু থেকে টাকা নিয়ে তাহসিনকে ফোন দিলাম,
মাহফুজ,তাহসিন তুই কোথায় আছিস..?
তাহসিন,বাসায় আছি এখন,কোনো দরকার..?
মাহফুজ,বাসা থেকে বের হয়ে মেইন রোডে এসে দাড়া,মার্কেটে যেতে হবে,
তাহসিন,ওকে
তারপর বাসা থেকে বের হয়ে একটা রিকসা নিলাম,তারপর মেইন রোড থেকে তাহসিনকে রিকসায় উঠিয়ে নিলাম,এখন কার্ড ছাপানোর দোকানে যাওয়ার পালা,রিকসাকে বললাম মামা নিউ মার্কেট চলেন,
রিকসা,আচ্ছা ঠিক আছে,
কিছুক্ষন পর আমরা নিউ মার্কেট এসে পৌছালাম,রিকসা থেকে নেমে ভাড়া দিলাম,তারপর কার্ড ছাপানোর দোকানে গেলাম,
দোকানে গিয়ে ২ হাজার কার্ডের অর্ডার দিয়ে আসলাম সব আমার পছন্দের ডিজাইনে,
তারপর বিয়ের আরো অনেক কেনাকাটা করে বাসায় চলে আসলাম,বাসায় এসে শপিংগুলো রেখে রুমে চলে গেলাম,প্রচুর ঘাম বের হচ্ছে শরীর থেকে,তাই গোসলটা সেরে নিলাম,
রাতের খাবার সবাই একসাথে খেয়ে নিলাম,তারপর আব্বু আম্মুর সাথে কথা বলে বিয়ের আয়োজন আমাদের বাসায় করবো,তাই সিদ্ধান্ত নিলাম, মামাকেও জানানো হলো,
তারপর মামাও আমাদের সাথে একমত হলো,
শুরু হয়ে গেলো আমার অপেক্ষার প্রহর,বিয়ের আর মাত্র ৩ দিন আছে,এদিকে সব কাজ কম্পিলিট করে ফেলছি,সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিয়ের কার্ড নিজ হাতে দিয়ে আসছি,
মনের মধ্যে যেন তোলপার শুরু হয়ে গেছে বিয়ের জন্য😁 যাই হোক এতো তোলপার হলে হার্ট বেরিয়ে আসবে,শেষে দেখা গেলো আপনাদের কে গল্প শোনাতে পারলাম না,
দেখতে দেখতে আরো দুইদিন কেটে গেলো,আগামিকাল শুক্রবার নামাজের পর আমার বিয়ে,পুরো বাড়ি সাজানো হচ্ছে,আমার যে কি আনন্দ হচ্ছে আর কি বলবো,
আজকের দিনটাও ফুরফুরা আমেজে কেটে গেলো,রাতে খেয়ে দেয়ে সকাল সকাল শুয়ে পরলাম,কারন আগামিকাল অনেক ধকল যাবে,
পরদিন সকাল থেকে আমােদর বাড়ি ভর্তি লোকজন এসে ভরে গেছে,আমার সব হারামি দোস্তগুলোও চলে এসেছে,তাহসিন রাজ তুহিন আর বাকি সব মিলে আমাকে সাজিয়ে দিলো,সকাল থেকে এসব করতে করতে নামাজের সময় হয়ে গেছে,
তারপর সবাই মসজিদে নামাজ পরতে চলে গেলাম,নমাজ শেষ করে বাসায় চলে আসলাম,ইতিমধ্যেই জারা মামা আর মামি চলে এসেছে,
আমার আর জারাকে পাশাপাশি বসানো হলো,তারপর কাজি সাহেব আমাদের বিয়ে পরালেন,
জাকজোমক ভাবে আমাদের বিয়েটা হয়ে গেলো,তারপর সব অতিথিদের সাথে কথা বলতে থাকলাম,এভাবে রাত ১০ টা বেজে গেলো,তারপর সবাই মিলে আমাকে বাসর ঘরে পাঠিয়ে দিলো,
বাসর ঘরের সামনে এসে দাড়ালাম,কিন্তু একি বাসর ঘরে ঢুকতেই তো লজ্জা করতেছে,এমনিতে তো জারার সাথে ঝগড়া করি,তখন তো লজ্জা করে না🤔
তারপর ১ কেজি সাহস নিয়ে বাসর ঘরে ঢুকলাম,রুমের দরজা আটকে দিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখি জারা বিছানায় বসে আছে, মাথায় ১ হাত লম্বা একটা ঘোমটা দেওয়া,
তারপর আস্তে আস্তে বিছানার পাশে যেতেই, জারা খাট থেকে নেমে এসে পায়ে সালাম করলো,আমিও জারার মাথায় হাত দিয়ে বললাম, বেচে থাকো মা,স্বামী সংসার নিয়ে সুখে থাকো😁
একথা বলতেই জারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিলো,তারপর আমার বুকের উপর উঠে গেলো,রাগি চোখে আমার দিকে তাকালো,আমি তো হঠাৎ এই দেখে ভয় পেয়ে গেলাম,তারপর আমার পাঞ্জাবির কলার ধরে,
জারা,ওই তোকে বলছিলাম না যে আমি আগে লেখাপড়া শেষ করবো,তারপর বিয়ে করবো,কিন্তু তুই আমাকে পড়ালেখা করতে দিলি না কেন..?
মাহফুজ, আরে আগে তো কলার ছাড়,তারপর বলছি,
তারপর জারা আমার কলার ছেড়ে দিলো,
মাহফুজ,দেখ জারা আমি তোকে বিয়ে করছি,কিন্তু এখনি লেখাপড়া বন্ধ করবো না,দুজনে একসাথে লেখাপড়া করবো,তারপর আমি চাকরি পেলে তারপর আমাকে আপন করে নিবি তুই,তার আগে আমি তোকে টাচ করবো না,
জারা,টাচ করবি না মানে..? আমাকে প্রতিদিন আদর করতে হবে,ঘুরতে নিয়ে যেতে হবে,শাড়ি পরাতে হবে,পছন্দের সবকিছু কিনে দিতে হবে,নাহলে তোকে খেয়ে ফেলবো,
মাহফুজ,সবকিছুই করতে রাজি আমি,
জারা,তাহলে এখন আমাকে ছাদে নিয়ে চল,আমি তোর কোলে বসে রাতের চাদ দেখবো,
মাহফুজ,ওকে চল যাই,তারপর আমি ছাদে যেতে লাগলাম,কিন্তু একি জারা দাড়িয়েই আছে,কি হলো তুমি যাবে না..?
জারা,কেউ যদি আমাকে কোলে নিয়ে যায়,তাহলে যেতে পারি,
তারপর আর কি..! জারাকে কোলে তুলে নিলাম,জারা আমার কোলে উঠে আমার বুকে মাথা রাখলো,তারপর ছাদে চলে গেলাম,ছাদে একটা সোফা রাখা,দুইজন গিয়ে সেটাতে বসলাম,তারপর জারা.......
চলবে.......
ভুলত্রুটি গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

চাকুরি জীবী মায়েদের বলছি..…......আমার একমাত্র মেয়ে আনুর বয়স এখন ১৪ মাস। হাটি  হাটি পা পা করে নানা আবোল-তাবোল বোল বুলিয...
02/07/2024

চাকুরি জীবী মায়েদের বলছি..…......
আমার একমাত্র মেয়ে আনুর বয়স এখন ১৪ মাস। হাটি হাটি পা পা করে নানা আবোল-তাবোল বোল বুলিয়ে ঘর ভরে রাখবে- এটাই তো হওয়ার কথা। আমাদেরও তাই প্রত্যাশা। কিন্তু ও ক্রমশ শুকিয়ে হাত-পা পাট কাঠি আর গায়ের রং তেল চিটচিটে হয়ে গেছে। মুখে কোন শব্দটি নেই। চলায় চাঞ্চল্য নেই। যখন অফিস থেকে ফিরি-দেখি ক্লান্তিতে ও ঘুমিয়ে পড়েছে। ওকে বড়জোর নয় মাসের শিশুদের মত দেখায়। খুব অপুষ্ট পরিশ্রান্ত আর রোগাক্রান্ত। বুয়াকে প্রশ্ন করলে সোজা বলে "দুধ,ডিম, কলা, খিচুড়ি, বিস্কুট সবই তো খেয়েছে। দুপুরে ঘুমিয়েছিল। বিকেলে বসুন্ধরার মাঠে খেলতে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমিও ওর সাথে খেলেছি। ভীষণ আনন্দিত ছিল ও। আমি ভাবলাম শারিরীক কসরতের কারণে ক্লান্ত হয়ে গেছে বুঝি তাই অসময় ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু ক্রমাগত ওর অবস্থা খারাপ হতে লাগল। ওকে দেখে কাঁচের টুকরোর মতো ভেঙে যায় আমার মন। কোনো অজানা রোগের আশংকা করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম। দুর্বলতা ছাড়া ডাক্তার ওর মাঝে কোন রোগ পেলেন না। অগত্যা তিনি আমাকে মৃদু অপমান করে বললেন, "একে সুস্থ করা পরিবারের দায়িত্ব, ডাক্তারের নয়। সে অপুষ্টি ও সেবা হীনতায় ভুগছে। একটা বাচ্চার ঠিক যত্ন হলে তার শারীরিক অবস্থা এমন হওয়ার কথা নয়। "
তারপর পালাক্রমে ওর বাবা এবং আমি ছুটি নিলাম। আধমরা গাছ পানি ও সার পেলে যেমন জেগে ওঠে তেমনি অল্পদিনেই মেয়েটি আমার তরতাজা হয়ে উঠল। ছুটি শেষ হলে ওকে ছেড়ে আর অফিসে যেতে ভালো লাগল না। আমি উচ্চ শিক্ষিতা, চাকুরীজীবি মহিলা, আমি গর্বিত। কিন্তু এই কাঙাল সন্তানের দিকে তাকালে মনে হয় আমার মত দরিদ্র আর নেই। সমস্ত গর্ব ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। আবার চাকুরি ছাড়ার কথা ও ভাবতে পারছি না। কেননা একজনের আয়ে ঢাকা শহরে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করা একেবারেই দুঃসাধ্য। তাছাড়া সন্তানের টেকসই ভবিষ্যতের কথাও তো ভাবতে হয়। আবার মনে হয় ওকে এমন ঝুঁকির মধ্যে রেখে আমি কার ভবিষ্যতের কথা ভাবছি। তারপর যেন আর কিছুই ভাবতে পারছি না। শেষ পর্যন্ত বুয়ার কাছেই ওকে রেখে আবার অফিসে যোগদান করলাম। এবার বুয়াকে আনুর ঘুম,খাওয়ার জন্য একটা পরিকল্পিত রুটিনও ধরিয়ে দিলাম। কিন্তু মাস দেড়েকের মধ্যে অবস্থা আবার আগের মত। আমরা দুজনেই চিন্তিত হয়ে পড়ি। কি করা যায়।
সেদিন সন্ধ্যায় বাড়িওয়ালা আমাদের বাসায় আসলো এবং বিনয়ের সাথেই বলল " মাগো, বিদ্যুৎের একটু কাজ করানোর দরকার ছিল। মিস্ত্রি নিয়ে এসেছি ; যদিও তোমরা অফিস থেকে এসেছো, তোমাদের বিরক্ত লাগবে। দুপুরেও একবার এসেছিলাম ঘরে তালা ছিল।" আমি তাদের কাজ করার অনুমতি দিয়ে তড়িঘড়ি করে ছুটে গেলাম ওর বাবার কাছে। ওর কাছে কথাটি পাড়লাম। সে ও অবাক না হয়ে পারল না। তাহলে বুয়া বাবুকে নিয়ে কোথায় গিয়েছিল। আমার স্বামী আমায় সান্ত্বনা দিয়ে বলল " তুমি অধৈর্য হয়ো না, ব্যাপার টা আমি দেখছি; আসলে আমরাই ভাগ্যহত; আমাদের মা শাশুড়ী কেউ নেই। "
পরদিন অফিসে যাওয়ার সময় বাড়িওয়ালা খালাম্মা, খালুকে বিস্তারিত বলে আমার বাসার দিকে বিশেষ নজর রাখতে বলি। সন্ধ্যায় সেই দূঃসংবাদই শুনতে হল। আজও সারাদিন ঘর তালাবদ্ধ ছিল। তারা আসার ঘন্টা খানিক আগে বুয়া বাবুকে নিয়ে এসেছে। বুয়ার কাছে কোন কৈফিয়ত চাইনি, প্রশ্নও করিনি কোন। সে রাতে দাঁতে দাঁত চেপে রইলাম। সকাল বেলায় নিয়মমত আমরা দুজনেই অফিসে রওয়ানা হলাম,কিন্তু অফিসে গেলাম না। বাড়ির মূল ফটকের বাইরে আড়ি পেতে রইলাম। আধাঘণ্টা পরে আমার স্বামী চিৎকার করে বলল " ওই যে আমাদের আনুকে নিয়ে যাচ্ছে বুয়া।" আমি অবাক হয়ে দেখলাম আনুকে চেনাই যাচ্ছে না।যেন ছাই মাটি মাখা ওর সারা শরীরে ও চুলে। বুয়াও খুব পুরোনো আধময়লা একটা ছেড়া কাপড় পরা। আমরা তাকে অনুসরণ করতে লাগলাম। অনেকটা পথ চলে সে একটা বাজারে ঢুকল। যেখানে আমাদের সচরাচর যাওয়া হয় না। আনু তখন কাঁদতেছিল। একটা দোকানে গিয়ে হাত পেতে বলল " স্যার,এতিম মাইয়াডা আমার, খিদেয় কানতাছে। দুই দিন ধইরা কিছুই খায় না ই। দয়া কইরা কিছু দিবেন।" তখন বিস্ময়ে আমার চোখ কোটর থেকে বের হয়ে আসছিল। মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল। আমি আর দাঁড়াতে পারলামনা। ওর বাবার কোলে ঢলে পড়লাম।।।
[সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা]
#কপিরাইটস
ফলোদিতে ভুলবেন না প্লিজ

রাত প্রায় ১ টা আমি ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ একটা অদ্ভুত রকমের নাম্বার থেকে কল আসলো। নাম্বারটা ছিলো +০৭৫১৮। ভাবল...
24/06/2024

রাত প্রায় ১ টা আমি ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ একটা অদ্ভুত রকমের নাম্বার থেকে কল আসলো। নাম্বারটা ছিলো +০৭৫১৮। ভাবলাম হয়তো সিম কোম্পানী থেকে কলটা এসেছে। ফ্রিতে কোন গান শোনায় কিনা। কলটা ধরতেই বেশ অবাক হয়ে যাই। ঐ পাশ থেকে একটা মেয়ের কাঁদো কাঁদো কন্ঠ। মেয়েটা আমাকে বললো:
-হ্যালো! আপনি কী শেখ মোহাম্মদ মনির?
-হ্যাঁ বলুন। আপনি কে?
-আপনি আমায় চিনবেন না। আমার একটা সাহায্য চাই আপনার কাছ থেকে।
-এতো রাতে!! কি সাহায্য?
-সাহায্যটা কাল সকালে করলেও চলবে।
-আচ্ছা আগেতো বলুন কি সাহায্য।
-বলছি। হয়তো আপনি আমার কথা বিশ্বাস করবেন না বা ভাববেন মজা করছি।
আমার নাম জান্নাতুন অরিন । আমি সুলতান নগরে থাকি। রোজ সকালে পাশের এলাকায় একটা টিউশনি পড়াতে যাই। রোজকার মতো আজকে সকালেও টিউশনি শেষ করে বাড়িতে ফিরছিলাম। রাস্তাটা বেশ ফাকা ছিলো। হঠাৎ কিছু অপরিচিত ছেলেদের দেখলাম রাস্তায় মাতলামো করছিলো। আমি তাদের দেখে ভয় পেয়ে যাই । আমি ভয়ে ভয়ে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তাদের মধ্য থেকে একটা ছেলে আমার সামনে এসে দাড়ায়। আমি কিছু বলার আগেই ছেলেটা আমার মুখ চেপে ধরে। বাকি ছেলেগুলো আমাকে জোর করে ধরে একটা গাড়িতে তোলে। তারা আমার মুখ আমার ওরনা দিয়ে বেঁধে
দেয়। আমি চাইলেও চিৎকার করতে পারছিলাম না। আমি নিজেও জানতাম না তারা আমাকে কোথায় আর কেনো নিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষন পর তারা আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে জোর করে একটা পুরাতন জমিদার বাড়িতে নিয়ে যায়। জমিদার বাড়িটা আমি আগে থেকেই চিন্তাম তবে এর আগে কখনো এখানে আসা হয়নি। ওরা ৫ জন ছিলো।
এতক্ষনে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে তারা আমাকে কেনো ধরে এনেছে। তারা আমাকে একটা ঘরের ভেতর নিয়ে যায় এবং নরপশুর মতো আমার উপর ঝাপিয়ে পরে এবং জোর করে একের পর এক আমাকে রেপ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি যখন একজনকে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি তখন তাদের মধ্যে একজন একটা ছুরি এনে আমার গলায় চালিয়ে দেয়। আমি সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পরে যাই এবং কিছুক্ষন পরে মারা যাই। এরপর তারা আমার লাশটাকে জমিদার বাড়ির পাশেই একটা ঝোপে ফেলে চলে যায়।
-কী বললেন? আপনি মারা গেছেন!! আর আপনার লাশ ঝোপে ফেলে গেছে তারা? এতো রাতে আপনি কল দিয়ে আমার সাথে মজা করছেন? আপনি যদি মারা গিয়ে থাকেন তাহলে আমার সাথে কথা বলছেন কিভাবে!!?
-সেটা আমি আপনাকে পরে বলবো। প্লিজ আপনি আমাকে সাহায্য করুন। আমার লাশটা ঝোপে পরে রয়েছে। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমার বাবা আমাকে অনেক খুচ্ছে। সে থানায়ো জিডি করেছে। তারা পুরো এলাকা আমায় খুজে পাগল হয়ে যাচ্ছে। আপনি প্লিজ একবার আমার বাবার কাছে গিয়ে বলুন যে আমার লাশটা জমিদার বাড়ির ঝোপে পরে রয়েছে। তারা যাতে দ্রুত আমার লাশটাকে সেখান থেকে নিয়ে যায়। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।
-আপনি আসলেই একজন সাইকো। এতোরাত্রে আমার সাথে মজা নিচ্ছেন? ফোন রাখুন!
এই বলেই রেগে কলটা কেটে দিলাম। ভাবলাম এতোরাতে এই ধরনের মজার কোন মানেই হয় না?! মেয়েটা কী উল্টাপাল্টা কথা বলছিলো। মেয়েটা মারা গেলে আবার আমার সাথে কথা বলছে কিভাবে!
কিন্তু মেয়েটা কে ছিলো!? আর আমার নামই বা জানলো কিভাবে?!! তা আমি কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু এতো সিরিয়াস একটা বিষয় নিয়ে কোন মেয়ে কেনো আমার সাথে মজা করবে এটাও বুঝলাম না। এরপর ভেবেই নিলাম হয়তো পরিচিত কোন বন্ধু মজা করেছে। তাই এটা নিয়ে আর কিছু না ভেবে ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরের দিনটা পুরোটাই স্বাভাবিক ভাবে কাটিয়ে দিলাম। দিনে একবারো কলটার কথা মনেও পড়েনি। আবার রাতে ঘুমাতে ঘুমাতে প্রায় ১ টা বেজে গেলো। হঠাৎ আবার সেই +০৭৫১৮ নাম্বার থেকে কল আসলো। প্রথম বারে ধরলাম না। পরে আবার আরেকটা কল আসলো একই নাম্বার থেকে। এইবার অনেকটা রেগেই কলটা ধরলাম। আর বললাম:
-কী সমস্যা আপনার? আজকে আবার কল দিয়েছেন কেনো?!
-আপনাকে না বললাম আমাকে একটু সাহায্য করতে। আপনি আজকে দিনে আমার বাবার কাছে কেনো জাননি?? আর আমার কথা কেনো বলেননি? জানেন আজ আমি মারা গেছি দুইদিন হয়ে গেলো। দুই দিন ঝোপটাতে কতো কষ্টে পরে রয়েছি। আমার বাবাও আমায় খুজতে খুজতে অনেক অসুস্হ্য হয়ে পড়েছেন। প্লিজ একবার অন্তত আমার বাবার কাছে গিয়ে সব কথা তাকে খুলে বলুন।
-আপনি এতো মানুষ থাকতে আমার সাথে কেনো মজা নিচ্ছেন? প্লিজ এসব বন্ধ করুন।
-দেখুন আমি মজা করছি না। আপনি অন্তত একবার আমার বাড়িতেতো গিয়ে দেখুন। সব বুঝতে পারবেন। আমার বাড়ি আপনার বাড়ি থেকে খুব একটা দুরে না। সুলতান নগর বাজারের নিকটে ১০৭ নাম্বার বাড়িটাই আমার প্লিজ একটু সাহায্য করুন।
এরপর আমি কলটা কেটে দিলাম। মেয়েটার কথাগুলো বিশ্বাস করার মতো না। কিন্তু মেয়েটা এমনভাবে আমার সাথে কথাগুলো বলেছিলো যে আমার মনে হলো মেয়েটা মিথ্যা কথা বলছে না। আর মেয়েটা আমার নামও জানে। অর্থাৎ আমাকে চিনে।
আমি বুঝতে পারছিলাম না যে আমার কী করা উচিত। মেয়েটা এমন সব কথা বলেছিলো যে এটা কারো সাথে শেয়ার করলে, সেও আমায় পাগল ভাববে।
তবে আমি এতোটা বুঝতে পারছিলাম যে একটা মেয়ে এইসব ব্যাপার নিয়ে অন্তত আমার সাথে মজা করবে না।
সবার প্রথমে তাহলে কাল আমাকে সুলতান নগরের ১০৭ নাম্বার বাড়িটাতে যেতে হবে। তারপরেই সব কিছু বুঝতে পারবো। আর যদি কেউ মজা করে থাকে তাহলেও হয়তো তার বাড়ি ঐখানেই রয়েছে।
সুলতান নগর আমাদের এলাকা থেকে খুব একটা দুরে না। তাই পরের দিন সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠেই সুলতান নগরের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়লাম। সুলতান নগরে পৌছানোর পর সেখানকার মানুষদের কাছে ঠিকানা জেনে ঠিক ১০৭ নাম্বার বাড়িটার সামনে গেলাম।
বাড়িতে পৌছে দেখলাম বাড়িটাতে বেশ ভীর। এরপর একজন লোকের কাছে ভীরের কারন জানতে চাইলাম। লোকটা আমাকে যাহ বললো আমি পুরো অবাক হয়ে গেলাম। লোকটা বললো:
-গত দুই দিন ধরে এই বাড়ির মেয়েটাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। মেয়েটা দুইদিন আগে পাশের এলাকায় টিউশনি করাতে গিয়েছিলো এরপর থেকে আর বাড়ি ফিরেনি। পুলিশ সহ এলাকাবাসী ২দিন ধরে পুরো কয়েকটা এলাকা খুজেও মেয়েটাকে পায়নি। সেই টেনশনে মেয়েটার বাবা অনেক অসুস্হ্য হয়ে পড়েছে ।
মেয়েটা আমাকে ফোনে যা যা বলেছিলো তা যে এইভাবে সত্যি হবে ভাবতে পারিনি।
এরপর আমি লোকটার কাছে মেয়েটার নাম জানতে চাই। লোকটা বললো:
-জান্নাতুন অরিন।
এরপর আর আমার কিছুই বলার ছিলো না। আমি অবাক হয়ে বাড়িটার সামনে দাড়িয়ে ছিলাম। তার মানে মেয়েটা কল করে যাহ বলেছিলো সব সত্যি। কিন্তু একজন মেয়ে মারা জাওয়ার পর কিভাবে ফোনে কথা বলতে পারে তা আমার মাথায় আসছিলো না।
মেয়েটার বাকি কথাগুলোও যদি সত্যি হয় তাহলে মেয়েটার লাশ এখন জমিদার বাড়ির ঝোপে পরে রয়েছে। আর এই কথাটা শুধু আমি জানি। আমি ভাবছিলাম মেয়েটার বাবাকে বা পুলিশকে কিভাবে বলবো যে মেয়েটার লাশ জমিদার বাড়ির ঝোপে পরে রয়েছে।
কারন তাদের যদি বলি যে মেয়েটার লাশ ঐ ঝোপে পরে রয়েছে তাহলে তারা আমার কাছ থেকে জানতে চাইবেন যে এটা আমি কী করে জানলাম। আর আমি যদি বলি যে মেয়েটা মারা জাওয়ার পর আমাকে কল দিয়ে এইকথা গুলো বলেছে তাহলে তারা আমার কথা বিশ্বাসতো করবেই না উল্টা আমাকে আরো সন্দেহ করবে। তাই ভাবলাম তাদের কিছু বলার আগে প্রথমে সেই জমিদার বাড়ির ঝোপে গিয়ে দেখি কোন লাশ পাই কিনা।
তবে আমার কেনো জানি মনে হচ্ছিল যে আমি ঝোপে লাশটা পাবো না।
এরপর আমি একজন লোকের কাছ থেকে জমিদার বাড়িটার ঠিকানা জেনে জমিদার বাড়ির উদ্দ্যেশ্যে রওনা দিলাম। বেশ কিছুক্ষণ পর সেই পুরোনো জমিদার বাড়িতে পৌছালাম। দেখলাম আসলেই বাড়িটা বেশ নির্জন একটা জায়গায়। এখানে মানুষ খুব একটা আসা-জাওয়া করে না। মেয়েটার কথা মতো আমি বাড়িটার আশেপাশে ঝোপ খুজে বেড়াচ্ছিলাম। প্রথমে কোন ঝোপ না দেখলেও কিছুক্ষণ পর বেশ কিছুটা দুরে একটা ঝোপ দেখতে পেলাম। ঝোপটা দেখেই ভয়ে ভয়ে ধীরে ধীরে ঝোপটার দিকে এগোতে লাগলাম। এরপর ঝোপটাতে তাকিয়ে যাহ দেখলাম আমি পুরো ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলাম। মেয়েটা যাহ বলেছিলো তাই ঠিক হলো। ঝোপে একটা মেয়ের অর্ধনগ্ন অবস্থায় লাশ পরেছিলো। লাশটা থেকে বেশ দূরগন্ধও বের হচ্ছিলো।
আমি অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তাই ভয়ে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে জমিদার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসলাম। এরপর আশেপাশের লোকদের চিৎকার করে ডাকলাম। তারা আসলে তাদেরকে বলি যে ঐ বাড়ির ঝোপটায় একটা মেয়ের লাশ পরে রয়েছে। তারাও অবাক হয়ে দৌড়ে যায় ঝোপটার কাছে এবং লাশটা দেখে বেশ ভয় পেয়ে যায়।
আমি বুঝতে পারছিলাম না আমার সাথে কি হচ্ছে। মেয়েটা যাহ বলেছিলো ঠিক তাই হলো। তার মানে মেয়েটা মিথ্যা বলেনি। সে আসলেই মারা জাওয়ার পর আমাকে কল দিয়েছিলো। আমি ভয়ে চুপচাপ মাটিতে বসে পড়লাম। একটু পর এলাকার লোকেরা পুলিশকে কল করলো এবং পুলিশ আসলো।
পুলিশ এসেই লাশটাকে দেখে চিনতে পারলো যে এই মেয়েটাই ২ দিন আগে সুলতান নগর থেকে নিখোজ হয়েছিলো। এরপর তারা মেয়েটার বাবাকে কল করে এখানে আসতে বলে। পুলিশ সবার কাছ থেকে জানতে পারে যে সবার আগে লাশটা আমিই দেখেছিলাম। তাই তারা আমাকে প্রশ্ন করে যে আমি কিভাবে এখানে আসলাম আর লাশটাকে দেখলাম! আমি আসল কারণটা তাদের বলতে পারছিলাম না। কারন তারা আমার কথা বিশ্বাস করবে না। তাই তাদের বললাম যে আমি এখানে এমনি হাটাহাটি করতে করতে চলে এসেছিলাম আর লাশটাকে দেখতে পাই। তারা আমার কথা বিশ্বাসো করে নেয়। এরপর একজন মহিলা কন্সটেবল এসে পুলিশ অফিসারকে বলে:
-স্যার লাশটাকে দেখে মনে হচ্ছে গনধর্ষণ করা হয়েছিলো এবং পরে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। আনুমানিক মেয়েটা দুই দিন আগে মারা গেছে।
এরমানে এখন আমি নিশ্চিত যে মোবাইলে কল করে কেউ আমার সাথে মজা করেনি। মেয়েটা যা যা বলেছিলো তার পুরোটাই সত্যি।
এরপর আমি পুলিশ অফিসারের কাছে অনুমতি নিয়ে বাড়িতে চলে আসি। বাড়িতে ফিরতে ফিরতে প্রায় অনেক রাত হয়ে যায়।
আমি নিজের ঘরেই চুপচাপ বসে ভাবছিলাম যে একটা মৃত মেয়ে কিভাবে কল দিয়ে তার মৃত্যুর কথা বলতে পারে। আর পৃথিবীতে এতো মানুষ থাকতে মেয়েটা আমাকেই বা কেনো কল দিলো। মেয়েটাতো তার বাবাকেও সরাসরি কল দিয়ে সব বলতে পারতো।
এগুলো ভাবতে ভাবতে আবার মোবাইলের স্ক্রীনে সেই অদ্ভুদ নাম্বারটা ভেসে উঠলো, "+০৭৫১৮"। ভয়ে পেয়ে গেলাম মেয়েটা আজ আবার আমাকে কেনো কল দিয়েছে।
চলবে........
#গল্পঃনিশিরাতের_কল
#কপিরাইটস
পর্ব ০১

Address

Sherpur
2120

Telephone

+8801874882476

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সালেহা আনছার ফাউন্ডেশন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to সালেহা আনছার ফাউন্ডেশন:

Share