31/12/2023
. . : : আতশবাজি না মৃত্যুফাঁদ : : . .
একটি আতশবাজিতে ৭৫ শতাংশ পটাশিয়াম নাইট্রেট অথবা পটাশিয়াম ক্লোরেট, ১৫ শতাংশ চারকোল এবং ১০ শতাংশ পর্যন্ত সালফার থাকতে পারে। যা একই সঙ্গে স্ফুলিং সৃষ্টি সহ প্রচন্ড শব্দ উৎপন্ন করে এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ভাবে ক্ষতিকর। এতে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বৃদ্ধরা।
আতশবাজি ফোটানোর সঙ্গে যে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি হয়, তার কারণে যারা হার্টের রোগী, অসুস্থ ও অন্তঃসত্ত্বা নারী তাদের সমস্যা হতে পারে। কারণ এই আতশবাজি যদি ১১০ ডেসিবল শব্দের বেশি হয় এবং কোনো অন্তঃসত্ত্বা মহিলার আশপাশে ফোটানো হয়, তাহলে গর্ভের শিশুর শ্রবণ ক্রিয়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ওই মা তো ক্ষতিগ্রস্ত হবেই, পাশাপাশি গর্ভের যে শিশু আসবে তারও ক্ষতি হবে। ওই শিশুর ব্রেইন ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে। বাচ্চা মিস ক্যারেজ ও বিকলাঙ্গ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অন্যদিকে আতশবাজির আলো ও শব্দের কারণে, টানা এক ঘণ্টা যখন ফোটাতে থাকবে তখন যেটা হবে, পাখিরা ভয় পেয়ে যাবে। অনেক পাখি দূরে চলে যাবে। অনেক পাখি বাচ্চাকে ওই সময় খাওয়াচ্ছিল তখন তারা পালিয়ে যাবে বা পারবে না। বাচ্চা মারা যাবে। ফলে আমাদের জীববৈচিত্র্যের ওপরও একটা খারাপ প্রভাব আসবে।
ছোট ছোট মৌমাছি যারা ফুলের পরাগায়নের জন্য কাজ করে, হঠাৎ এত ধোঁয়া ও শব্দের কারণে কেউ কেউ মারা যাবে, কেউ পালিয়ে যাবে। ফলে শহরে ফুলের পরাগায়ন কম হলে সারা বছর এর প্রভাব আমরা দেখতে পাব।
এটা আসলে জটিল ও ত্রিমুখী সমস্যা সৃষ্টি করে। আর ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রে যেকোনো সময় যেকোনো স্থাপনার ওপর পড়ে আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে। অনেক সিএনজি পাম্প ও অনেক সেনসিটিভ জায়গা রয়েছে। যেখানে আগুন লাগতে পারে। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
আতশবাজির এই প্রাণ সংহারক রূপ প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমে উঠে আসে ২০২১ সালে। ইতালির রোম শহরের একটি রেল স্টেশনের বাইরে হাজার হাজার স্টারলিং পাখির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। কোনো সঠিক কারণ খুঁজে না পাওয়া গেলেও ধারণা করা হয় যে আতশবাজি ফোটানোর পরে যে প্রচণ্ড আওয়াজের সৃষ্টি হয় তার ফলস্বরূপ ব্লান্টফোর্স ট্রমার কারণে পাখিগুলোর মৃত্যু হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রটেকশন অব অ্যানিম্যাল রাইটস এই ঘটনাটিকে ‘ম্যাসাকার’ বলে ঘোষণা দিয়েছে।
মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক লাইনে ফানুস পড়ার কারণে ১ জানুয়ারি ২০২৩ দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল মেট্রোরেল। এ ছাড়া প্রতিবছর রাজধানীর নানা জায়গায় ফানুস ওড়ানো নিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০২১ সালেও রাজধানীর মহাখালী, খিলগাঁও ও মিরপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। দেশের বাইরে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের বড়সর দুর্ঘটনার নজির আছে। ২০২১ সালে জার্মানিতে ফানুস থেকে আগুন লেগে একটি চিড়িয়াখানার অনেক পশু মারা গিয়েছিল। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যের একটি প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিতে ফানুস থেকে আগুন লেগে যায়। সে আগুন নেভাতে ২০০ জন অগ্নিনির্বাপককর্মীর সময় লেগেছিল ৩ দিন।
সাবধান হোন, সতর্ক থাকুন। আনন্দ হোক খুশির কারণ। বিরত থাকুন অপচয় ও ক্ষতির কারণ থেকে। সবার মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা রইল।
https://rb.gy/8lq213