04/03/2026
আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য (λ) এবং বিচ্যুতি (δ)–এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে, যা মূলত ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ, আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম হবে, তার বিচ্যুতির পরিমাণ তত বেশি হবে; আর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি হবে, বিচ্যুতি তত কম হবে।
ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্ক
গাণিতিকভাবে ধারণাটি প্রকাশ করা যায় এভাবে—
δ ∝ 1/λ
অর্থাৎ,
তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম ⇒ বিচ্যুতি বেশি
তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি ⇒ বিচ্যুতি কম
প্রিজমে আলোর বিচ্ছুরণ
যখন সাদা আলো একটি প্রিজমের ভেতর দিয়ে যায়, তখন তা বিভিন্ন বর্ণে বিভক্ত হয়। এই ঘটনাকে বিচ্ছুরণ (Dispersion) বলে। এখানে দেখা যায়—
বেগুনি আলো:
তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম (প্রায় 400 nm), তাই এর বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি।
লাল আলো:
তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি (প্রায় 700 nm), তাই এর বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।
এই কারণে প্রিজমের পর্দায় লাল রং উপরের দিকে এবং বেগুনি রং নিচের দিকে দেখা যায়।
কারণ ব্যাখ্যা
কোনো স্বচ্ছ মাধ্যম (যেমন কাঁচ) দিয়ে আলো গেলে তার গতি পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন নির্ভর করে প্রতিসরাঙ্ক (Refractive Index)–এর উপর। প্রতিসরাঙ্ক আবার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর নির্ভরশীল।
কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর জন্য প্রতিসরাঙ্ক বেশি।
বেশি প্রতিসরাঙ্ক মানে আলো বেশি বেঁকে যায়।
তাই কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো (বেগুনি) বেশি বিচ্যুত হয়।
উপসংহার
আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য এবং বিচ্যুতির সম্পর্ক ব্যস্তানুপাতিক। এই নীতির কারণেই প্রিজমের মাধ্যমে সাদা আলো সাতটি বর্ণে বিভক্ত হয় এবং প্রতিটি বর্ণের বিচ্যুতি ভিন্ন হয়।
সংক্ষেপে বলা যায়:
“তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, বিচ্যুতি তত বেশি।”