05/06/2026
সাতক্ষীরাতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদ্যাপিত-প্রকৃতিকে সুরক্ষার দাবী
World Environment Day প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দূষণ কমাতে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে উন্নয়ন সংগঠন ¯^‡`k evcv mvZÿxiv, BwcGd, bvix I cÖvb ˆewPÎ †bUIqvK©, DwewbM, m„Rbx gwnjv †jvK †K›`ª, Avkv †jvK †K›`ª. Pzcwoqv gwnjv Dbœqb ms¯’v, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, সাতক্ষীরা, †Rjv bvMwiK KwgwU যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা সাতক্ষীরাতে দিবস পালনে র্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।এ উপলক্ষ্যে কাটিয়া সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠ থেকে সকাল ১০টায় একটি র্যালী বের হয় এবং স্বদেশ সভাঘরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাপা জেলা আহবায়ক এড. আবুল কালাম আজাদ, নারী নেত্রী মরিয়ম মান্নান, মহিলা পরিষদের সাধারন সম্পাদক জ্যোৎস্না দত্ত,রুপা বসু, ভুমিহিন নেতা আঃ সামাদ, মফিজুর রহমান, সমাজ কর্মি সাকিবুর রহমান বাবলা, যুব প্রতিনিধি.জারিন তাসমিন, ঝিলিক, তানজিম হোসেন, সুরাইয়া, মেহেদি হাসান প্রমুখ।দিবসের আলোচনা পত্র পাঠ করেন ইপিএফ সদস্য ও মডারেটর মাধব চন্দ্র দত্ত। আলোচনা শেষে কুইজ প্রশ্নের বিজয়ী ৩ জনকে পুরুস্কৃত করা হয়।২০২৬ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য হলো: “Inspired by Nature. For Climate. For Our Future.” “ প্রকৃতি রক্ষাই-জলবা্য়ুর সুরক্ষা” আসুন, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সচেতন হই। বেশি বেশি গাছ লাগাই, প্লাস্টিক ব্যবহার কমাই এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলি।
অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ, বনভূমি ধ্বংস, নদী ও জলাশয় দূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাব হিসেবে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, খরা, বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় দিন দিন বাড়ছে। তাই প্রকৃতি সংরক্ষণই জলবায়ু সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ এর আবেদন
পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ, প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি ,সবুজ পৃথিবী গড়ি ,জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সচেতন হই বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
প্রকৃতি রক্ষাই-জলবায়ু সুরক্ষা।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা
বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দূষণ, বন উজাড় এবং প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশ্ব পরিবেশ দিবস আমাদের সেই দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
স্লোগান
“পরিবেশ বাঁচলে, ভবিষ্যৎ বাঁচবে”
“সবুজ পৃথিবী, নিরাপদ জীবন”
“গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান”
“দূষণমুক্ত পৃথিবী গড়ি”
জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান চিত্র
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, শিল্প বিপ্লবের পর থেকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.১° সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ১ কোটি হেক্টর বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিবছর প্রায় ৮০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে গিয়ে জমা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদী ভাঙন এবং ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব ক্রমাগত বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের প্রায় ১৭% ভূমি পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে এবং কোটি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রকৃতি ধ্বংসের প্রভাব
১. বনভূমি উজাড়
গাছপালা কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু বন ধ্বংসের ফলে বাতাসে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ দেশের আয়তনের প্রায় ১৪-১৫% হলেও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য কমপক্ষে ২৫% বনভূমি প্রয়োজন।
২. নদী ও জলাভূমি দূষণ
শিল্পকারখানার বর্জ্য ও প্লাস্টিক নদীতে ফেলার কারণে পানি দূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির সংকট তৈরি হচ্ছে।
৩. জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি
বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০ লাখ প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। বনভূমি ধ্বংস ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল কমে যাচ্ছে।
প্রকৃতি রক্ষায় করণীয়
বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি
একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ বছরে প্রায় ২২ কেজি কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে পারে। তাই ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো
একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার
সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও বায়োগ্যাসের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমবে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন
পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করা এবং সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি
বিদ্যালয়, কলেজ, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে হবে।
আলোচনাতে যে তথ্য উঠে আসে-
পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি: প্রায় ১.১° সেলসিয়াস,বছরে বনভূমি ধ্বংস: প্রায় ১ কোটি হেক্টর,সমুদ্রে প্লাস্টিক বর্জ্য: প্রায় ৮০ লাখ টন/বছর, একটি গাছের কার্বন শোষণ ক্ষমতা: প্রায় ২২ কেজি/বছর, বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় বনভূমি: কমপক্ষে ২৫%
বক্তারা বলেন,
প্রকৃতি রক্ষা ছাড়া জলবায়ু সুরক্ষা সম্ভব নয়। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বন, নদী, জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব। তাই আসুন, প্রকৃতি রক্ষায় সবাই সচেতন হই এবং জলবায়ু সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করি।