20/05/2014
---------------নিচের পোষ্টটি আমাদের কয়েকজন প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিদের অনুরোধে দেওয়া------------
আজকে আমাদের প্রিয় বিদ্যালয়ের কিছু দূর্বল দিক ও শিক্ষকদের নিরবে দূর্নীতির কথা আপনাদের কাছে তুলে ধরব। আশাকরি নিজের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হলেও শেষ পর্যন্ত পড়বেন ও শেয়ার করে অন্যদের মাঝে তুলে ধরবেন। যেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আমাদের এই সমস্যাগুলি পৌচ্ছায়।
বিষয় : সরদহ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনিয়ম প্রসঙ্গে।
মহোদয়,
যথাবিহীত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক নিবেদন এই যে, আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারী উল্লেখিত বিদ্যালয় সরদহ এলাকার অবিভাবক। দীর্ঘদিন যাবত আমরা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকান্ডে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। মহোদয়, আমরা জানি যে, সরকারের ২০২১ ভিশন বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশে প্রত্যেকটি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় দশ হাজার এর অধিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ লেপটপ প্রদান করা হয়েছে যাতে করে ছাত্র/ছাত্রীদের প্রাথমিক পর্যায় থেকে শিক্ষার গুনগতমান নিশ্চিত করে বাস্তবভিত্তিক পাঠ্যক্রমে মনোনিবেশ ঘটানো। আপনার নির্বাচন এলাকা, চারঘাট উপজেলার সরদহ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনার সকল উপকরণ ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন ক্লাস চালু হয়নি। ফলে আমাদের ছেলেমেয়েরা আধুনিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ এই বিদ্যালয়ের জনাব শামীম আলম চৌধুরী, শারিরীক শিক্ষার সহকারী শিক্ষক হয়ে নিয়মিত মাসিক অত্যাধিক কোর্স ফি এর বিনিময়ে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক দিক থেকে সামর্থবান ছাত্র/ছাত্রীদের নিয়ে গোপনে স্কুলের ব্যবহৃত কম্পিউটার নিজ বাসায় নিয়ে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন, বিষয়টি অতি লজ্জাজনক ও দুঃখের। এতে শুধু মাত্র অর্থনৈতিকভাবে সামর্থবান ছাত্র/ছাত্রীরা কম্পিউটার শিক্ষা গ্রহন করতে পারছে অথচ গরীব কিন' মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে এবং জনাব শামীম আলম চৌধুরী এই ভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলে অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে (স্কুলের কম্পিউটার ব্যবহার করে) টাকা আয় করছেন। তাছাড়াও তিনি শারিরিক শিক্ষার শিক্ষক হয়েও নিজ স্কুলের ছাত্র/ছাত্রী ও অন্যান্য স্কুলের ছাত্র/ছাত্রী নিয়ে নিয়ম বর্হিভূত ভাবে প্রাইভেট ও কোচিং ব্যবসা চালাচ্ছেন।
উক্ত সরদহ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় একটি স্বনাধন্য ও ঐতিহ্যবাহী স্কুল। যা আমাদের চারঘাট-বাঘা উপজেলার একমাত্র সরকারি ও প্রাচীন বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে সিংগভাগ শিক্ষক কম বয়সী ও শিক্ষা ব্যবসামনা। যার ফলে ছাত্র/ছাত্রী ও শিক্ষকদের মধ্যে সম্মান ও ভয়ভীতির বিষয়টি হারিয়ে গিয়েছে। যার প্রমান বিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় মাঝে মধ্যে ছাত্র/ছাত্রীরা নানা অঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে, যা গোপন তদন্তে জানতে পারবেন। বিশেষ করে স্কুলের ইংরেজী, গণিত শিক্ষকদের শিক্ষা ব্যবসার কাছে ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাবকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। উক্ত শিক্ষকরা স্কুল শুরুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত ও স্কুল ছুটি শেষ হওয়া মাত্রই তারা তাদের শিক্ষা বানিজ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যত বেশি ব্যাচ তত বেশি ইনকাম এই পদ্ধতিটা মাথায় রেখে নিজ স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীসহ অন্যান্য স্কুলের ছাত্র/ছাত্রী নিয়ে শিক্ষা বানিজ্য পরিচালনা করছেন (উল্লেখ্য যে, উক্ত শিক্ষকগন ইতিপূর্বে তাদের এই শিক্ষা বানিজেজর কারণে তাদেরকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছিল)। শিক্ষকদের কাছে আলাদা প্রাইভেট বা কোচিং না করলে স্কুল পরীক্ষার রেজাল্ট ভাল হবেনা এই ভয় ভীতি দেখিয়ে থাকে। এরফলে গরীব কিন' মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীরা সব দিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্কুলে তো ভাল পড়ার মান নেই তার সাথে আবার কোচিং কিংবা প্রাইভেট পড়ার সুযোগ হচ্ছেনা। সর্বপরি স্কুল হতে আর আগের মত ভাল ছাত্র/ছাত্রী তৈরী হয়না।
এছাড়া সার্বিক মূল্যায়ন করলেও বিদ্যালয়টি অনেক পিছিয়ে। মহোদয় আপনি অবগত আছেন, এই বিদ্যালয়টি অনেক পূর্ব থেকেই তার নিজস্ব ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা টিকিয়ে রাখলেও বর্তমান সহকারী প্রধান শিক্ষক তার নিজস্ব গুনাবলী ও ক্ষমতার দাপটে বিদ্যালয়ে প্রতিবছর যে বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হত তা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে বিদ্যালয়ের কচি শিশুরা তাদের মনের একটি বিশেষ মুহুর্ত বা দিন থেকে বঞ্চিত হয়ে গেছে পুরোপুরি ভাবে। এর সঠিক কারণ শুধুমাত্র সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আপনারা বের করতে পারবেন। তাছাড়াও আরো অনেক বিষয় আছে যা সরজমিনে তদন্ত না করলে বের করা সম্ভব না। সচেতন অভিবাবক সমাজ থাকতে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এভাবে একটি বিদ্যালয় চলতে পারেনা।
অতএব, মহোদয় বিষয়টি সুবিবেচনা করতঃ বিদ্যালয়ে গোপন পরিদর্শন করে যথাযথ তদন্তপূর্বক জরুরীভাবে কার্যকর ব্যবস'া গ্রহনে আপনার সদয় মর্জি হয়।
তারিখঃ ২০/০৫/২০১৪ইং। অভিবাবকদের পক্ষে,
০১। সালাহউদ্দিন আহমেদ (প্রাক্তন ছাত্র ও অভিভাবক)
০২। আলী হোসেন (অভিভাবক)
০৩। জিয়াবার আলী (অভিভাবক)
০৪। মোছাঃ নার্গিস বেগম (অভিভাক)
০৫। মোঃ লুকমান আলী (অভিভাক ও স'ানীয় সমাজ প্রতিনিধী)