23/09/2021
নিউটন ও আপেল এর গল্প আমরা ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি। এরপর যত বয়স বেড়েছে তার সাথে,সাথে নিউটন এর আবিষ্কার,
মধ্যাকর্ষণ শক্তি,নিউটনের সূত্র, নিউটনের ভরবেগ ইত্যাদি বিষয় গুলির সাথে পরিচয় হয়েছে। সপ্তদশ শতকে আধুনিক বিজ্ঞান নিউটনের হাত ধরেই পথ চলা শুরু করেছিল বললে কিছু ভুল বলা হবেনা। স্যার আইজ্যাক নিউটন একজন মহান বিজ্ঞানী হওয়ার সাথে,সাথে তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। নিউটন গণিত শাস্ত্র,ভৌতিক শাস্ত্র,জৌতিষ শাস্ত্র এবং দর্শন শাস্ত্রে সমান পারদর্শী ছিলেন।
নিউটনের জন্ম ও পরিচয় (Newton early life):
নিউটনের জন্ম ও তারিখ নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা আছে। পুরোনো জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নিউটনের জন্ম হয় ০৪ জানুয়ারী ১৬৪৩ সালে। আবার নতুন আধুনিক খ্রিস্টাব্দ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নিউটনের জন্ম তারিখ হিসাবে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন / ক্রিসমাস ডে এর দিন ১৬৪২ সাল বলে বিবেচিত করা হয়। নিউটনের জন্ম হয় ইংল্যান্ডের লাঙ্কাশায়ার গ্রামে এক বিত্ত কৃষক পরিবারে। তিনি ছিলেন তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান।
নিউটনের শিক্ষা জীবন (Newton education life):
নিউটন বারো বছর বয়স অবধি গ্রন্থম গ্রামের কিং স্কুল থেকে পড়াশোনা করেন। নিউটন ছেলেবেলায় খুব চঞ্চল ও রাগী ছিলেন, স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী ঘেঁটে দেখলে দেখা যায়,নিউটন আর পাঁচটা ছেলের মত স্কুলের দেওয়ালে চক দিয়ে দাগ কেটে দুষ্টমি করতেন।
একবার তার এক সহপাঠী নিউটনকে বিরক্ত করলে,নিউটন তার সহপাঠীর সঙ্গে লড়াই করে বসে। নিউটনের দুষ্টমির প্রমান স্বরূপ, স্কুলের জানালায় নিউটনের হাতের লেখা নিজের নাম,লেখাটি কিং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে মহান বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের স্মৃতিতে সযত্নে সংরক্ষিত আছে। গ্রন্থমের কিং স্কুলে পড়ার সময় নিউটন ক্লার্ক নামের একজন ফার্মাসিস্টের বাড়িতে আশ্রয় নেন। আশ্রয়ের বিনিময়ে নিউটনকে ক্লার্কের ছোট্ট মেয়ের সঙ্গে খেলা এবং মনোরঞ্জন করতে হত। ফার্মাসিস্টের বাড়িতে থাকার সময় নিউটন ক্লার্কের লাইব্রেরীতে গিয়ে রসায়ন এবং গণিতের বিভিন্ন বই গুলিকে পড়ে এক্সপেরিমেন্ট করতেন। তিনি ক্লার্কের বাড়িতে থাকা কালীন ক্লার্কের, মেয়ের জন্য ফ্লোটিং লণ্ঠন,জল ঘড়ি,সূর্যের আলো দ্বারা চালিত বায়ুকল তৈরী করে ক্লার্কের মেয়েকে খেলনা হিসাবে গড়ে দিয়ে মনোরঞ্জন করে রাখতেন। ১৫৪৬ সালে নিউটনের সৎ বাবা বার্নাবাস মারা গেলে তার মা হানা এস্কফ কৃষি কাজ করার উদ্দেশ্যে নিউটনকে পড়াশোনা ছাড়িয়ে গ্রামে নিয়ে চলে আসে।
কিন্তু নিউটনের চাষ বাসের প্রতি ঝোঁক নেই দেখে তাকে পুনরায় স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়। নিউটনের কাকা উইলিয়ম ছিলেন, বার্টন কগলিসের রেক্টর। তিনি ভাইপো নিউটনের মেধা শক্তি বিচার করে নিউটনকে,কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজে ভর্তি করে দেন। স্যার আইজ্যাক নিউটন ক্রেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজ থেকে ১৬৬১ সালে ১৯ বছর বয়েসে মেট্রিকুলেশন পাস করেন। ট্রিনিটি কলেজে পড়ার সময় স্যার আইজ্যাক নিউটন, পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য কলেজের বিভিন্ন কাজে হাত লাগিয়ে পয়সা উপার্জন করতেন। ট্রিনিটি কলেজে অধ্যায়ন কালে মেধাবী ছাত্র হিসাবে নিউটনের বিশেষ কোনো ভূমিকা চোখে পড়ে না। তবে নিউটন গণিত শাস্ত্র,বল বিজ্ঞান নিয়ে গভীরভাবে পড়াশোনা করেছিলেন। এছাড়া তিনি ক্রেপলারের সূত্র গুলি নিয়ে রিসার্চ করেন। একবার নিউটন বইমেলা থেকে জ্যামিতি ও নক্ষত্র বিজ্ঞানের উপর একটি বই কিনে আনেন। কিন্তু তিনি জ্যামিতির রেখাচিত্র গুলির কোনো সমাধান খুঁজে পাচ্ছিলেন না। জ্যামিতির রেখাচিত্র গুলি সমাধান করার জন্য নিউটনকে ইউক্লিডের জ্যামিতি জানার দরকার ছিল। তখন তিনি কলেজের লাইব্রেরী থেকে, ইউক্লিডের একটি জ্যামিতির বই নিয়ে এসে পড়াশোনা শুরু করে দেন। কিন্তু তিনি ইউক্লিডের বই পড়ে কোনো কুল কিনারা করে উঠতে পারছিলেন না। তখন তিনি ইউক্লিডের বইটিকে নিত্যান্ত নগন্য পুস্তুক বলে রেখে দেন। পরে প্রফেসর আইজাক বারো নিউটনকে,ইউক্লিডের বইটিকে আরো একবার মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য বলেন। ১৬৬৪ সালে নিউটন তার মেধার পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে কলেজ থেকে স্কলারশিপ লাভ করে। এরপর থেকে নিউটনকে পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য চিন্তা করতে হয় না। স্কলারশীপের টাকায় নিউটন স্নাতক এবং এম.এ.পাস করেন। ১৬৬৫ সালে ইংল্যান্ডে প্লেগ মহামারীর প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে পুরো এলাকায় লক ডাউন ঘোষণা করা হয়। ক্রেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় অস্থায়ীভাবে তার সমস্ত কলেজ বন্ধ করে দেয়। এরপর নিউটন ইংল্যান্ড থেকে লাঙ্কাশায়ার গ্রামে,তার মায়ের কাছে চলে আসে।
নিউটন ও আপেল:
প্লেগ মহামারীর কারণে নিউটন টানা দেড় বছর গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। লাঙ্কাশায়ার গ্রামে কাটানো দেড় বছর নিউটনের জীবনের খুব গুরুকত্বপূর্ণ সময় ছিল। এই সময়কালে নিউটন তার গবেষণায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উন্মোচন করেন। আজকে নিউটনের গবেষণা আধুনিক বিজ্ঞানের পাথেয় হয়েছে। নিউটন ও আপেল এর গল্প প্রায় ৩৫০ বছরের থেকেও বেশি পুরোনো। নিউটন ও আপেল ঘটনাটি ১৬৬০ সাল এর মাঝামাঝি সময়ের ঘটনা। উইলিয়ম স্ট্যাকলি নিউটন ও আপেল এর ঘটনার উল্লেখ করে লিখেছেন। ১৭২৬ সালে ফাল্গুন মাসের এক সকালে নিউটন একটি আপেল গাছের নিচে বসে ছিলেন।সেই সময় হঠাৎ একটি আপেল গাছ থেকে খসে পড়ে। ভাবুকমনা নিউটন তখন এই বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করতে থাকেন,আপেলটা সোজাসোজি ভূপৃষ্ঠে পড়ল কেন ? আপেলটা তো উপরে উড়ে যেতে পারত ? আপেলটা তির্যক ভাবেও তো পড়তে পারত ? আপেলটা তো ছিটকে দূরে কোথাও পড়তে পারতো ? এই সব প্রশ্ন গুলো নিউটনের মনে ক্রমাগত জট পাকাতে থাকে। অবশেষে অনেক ভাবনাচিন্তা করে তার মনে হল, আসলে পৃথিবী আপেলটিকে তার নিজ আকর্ষণ বলে নিচের দিকে টেনে নিয়েছে। এইভাবে নিউটন ও আপেল প্রশ্নের উত্তরের সমাধান হল। নিউটন আবিষ্কার করে ফেললেন মহাকর্ষণ শক্তি। এরপর থেকেই এই ঘটনা লোকমুখে ধীরে ধীরে নিউটন ও আপেল এর ঘটনায় রূপান্তরিত হয়ে যায়। আবার ইংল্যান্ডের রয়েল সোসাইটির প্রধান উপাচার্য কিথ মুর এর মতানুযায়ী নিউটনের মন গড়া গল্প হল নিউটন ও আপেল এর গল্প। মহাকর্ষণ শক্তি’র তাৎপর্য লোকের কাছে তুলে ধরার জন্য নিউটন একটি আপেল পড়ার উদারহণ দিয়ে লোককে বোঝানোর চেষ্টা করে। প্লেগ মহামারীর প্রকোপ শেষ হয়ে গেলে নিউটন ক্রেমব্রিজে ফিরে আসেন। ১৬৬৬ সালে নিউটন রয়েল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হয়। নিউটনের গণিতের প্রফেসর,ট্রিনিটি কলেজে থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে যায়। এরপর ট্রিনিটি কলেজ কর্তৃপক্ষ নিউটনকে তার ২৭ তম জন্মদিনের উপহার স্বরূপ, ট্রিনিটি কলেজের গণিতের প্রফেসর পদে নিযুক্ত করে। তখনকার দিনে যারা ক্রেমব্রিজের প্রফেসর হতেন তাদের চার্চ এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু নিউটন ট্রিনিটি কলেজের অধ্যাপক হওয়ার আগে এই শর্ত থেকে অব্যাহতি চান। তৎকালীন ইংল্যান্ডের রাজা ২য় চার্লস নিউটনের শর্ত মেনে নিয়ে তাকে অধ্যাপক পদে বহাল রাখেন। ঐ বছর নিউটন মহাকর্ষন শক্তির ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে পৃথিবীকে চাঁদের প্রদিক্ষন করার কারণ হিসাবে অভিকর্ষ শক্তি খুঁজে পায়। তিনি বলেন চাঁদকে পৃথিবী নিজের কক্ষপথে ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অভিকর্ষজ বল এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠ তলে মহাকর্ষণ শক্তি দুইটি শক্তির মান এক।
নিউটনের প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা গ্রন্থ প্রকাশনিউটন:
তার গবেষণার কাজ গুলিকে একটি গ্রন্থাকারে লেখা শুরু করেন। কিন্তু গ্রন্থাকারে কোনো গ্রন্থ প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা নিউটন কোনোদিন উপলব্ধি করেন নি। সেই সময় এডমন্ড হ্যালি,প্রফেসর হুক,ক্রিস্টেফার রেন জনৈক বিজ্ঞানীরা মহাকর্ষণ শক্তি নিয়ে বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু থিওরি খুঁজে বার করেছিলেন। কিন্তু তারা তাদের থিওরিতে গ্রহ ও উপগ্রহের কক্ষপথ নিয়ে ততক্ষন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সিধান্তে আসতে পারেন নি। তখন এডমন্ড হ্যালি এই বিষয়টা নিয়ে নিউটনের সাথে দেখা করেন। নিউটন তখন তার গবেষনার খাতাটা এডমন্ড হ্যালিকে দেখিয়ে বলেন,দেখুন হয়তো এর মধ্যে আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। হ্যালি সাহেব নিউটনের খাতাটি দেখে রীতিমত অবাক হয়ে যায়। যে প্রশ্নের উত্তর তারা বছরের পর বছর ধরে খুঁজে চলছিলেন। সেই প্রশ্নের উত্তরের সমাধান নিউটন তার, ড্র্যায়েরীতে অনেক আগেই করে রেখেছিলেন। ড্র্যায়েরীতে লেখা নিউটনের গবেষণার ০৭ টি উপপাদ্য ও সমস্যার সমাধানের মধ্যে হ্যালি সাহেব তার প্রশ্নের জবার পেয়ে যায়। নিউটন ১৬৮৫ সাল থেকে ১৬৮৬ সাল পর্যন্ত তার সতেরো ও আঠারো মাসের গবেষণার তথ্য হিসাবে ফিলোসফিয়া নাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিক রচনা করেন। এই বইটি তিনটি খন্ডে লেখা হয়,নিউটন তার গ্রন্থের তৃতীয় খন্ডটিকে সংক্ষিপ্ত আকারে লিখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হ্যালি সাহবের উৎসাহে নিউটন তৃতীয় খন্ডটি বিশ্লেষণ সহ বৃহদাকারে লিখেন। ১৬৮৭ সালে হ্যালি সাহেবের উদ্যোগে ও অর্থানুকূল্যে নিউটনের প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। বইটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত ইউরোপের বৈজ্ঞানিক মহলে সাড়া পড়ে যায়। নিউটনের লেখা পড়ে অবিভুত হয়ে,তখনকার সেরা বৈজ্ঞানিক ক্রিশ্চিয়ান হাইগেনস ১৬৮৯ সালে নিউটনের সাথে ব্যক্তিগতভাবে ইংল্যান্ডে দেখা করতে আসে। ১৬২৭ সালে প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা বইটির জন্য ইংল্যান্ডের রাজা নিউটনকে নাইট উপাধি দেন। এরপর থেকে নিউটনের নামের আগে,স্যার কথাটির উল্লেখ হতে থাকে।
নিউটনের নাম হয়ে যায় স্যার আইজ্যাক নিউটন।
স্যার আইজ্যাক নিউটন তার জীবন দশায় বহু বিখ্যাত ও উল্লেখযোগ্য বই লিখেছেন। নিউটনের লেখা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বই হল-
-অপটিক্যাল লেকচার্স।
-ডে মোট্রা কর্পোরও ইন জিরোম।
-মেথড অফ ফ্লেক্সেশনস।
-এরিথমেটিকা উনিবারসেলিস।
-দ্য ক্রনোলজি অফ এনসিয়েন্ট কিংডম।
নিউটনের জীবনে মজার ঘটনা:
স্যার আইজ্যাক নিউটনের জীবনী’তে অনেক মজার ঘটনা শুনতে পাওয়া যায়। নিউটন যখন ছোট বেলায় পাঠশালা পড়তে যেতেন তখন তার স্কুল শিক্ষক প্রায় লেট করে স্কুলে আসতেন। নিউটন তখন তার স্যারকে তার নিজের দ্বারা তৈরী একটি জল ঘড়ি উপহার দেন। ঘড়িটিকে চালানোর জন্য জল ভরতে হত। আর সেই জল এক ফোটা ফোটা করে ঘড়ির কাটার উপর পড়লে ঘড়িটি নিজে থেকে চলত। নিউটন ট্রিনিটি কলেজের অধ্যাপক নিযুক্ত হওয়ার পর, একবার তার এক বন্ধু তাকে একটি অনুষ্ঠানে নেমন্তন্ন করেন। কিন্তু নিউটন গবেষণার কাজে এতোটাই ব্যস্ত ছিলেন যে, তিনি তার বন্ধুর করা নেমন্তনের কথা ভুলে গেছিলেন। পড়ে কাজ করতে করতে যখন তার নেমন্তন্নের কথা মনে পড়ল, তখন অনেক দেরী হয়ে গেছিল তবুও তিনি বন্ধুত্ব রাখার সৈজন্যতাই তাড়াহুড়ো করে অনুষ্ঠান ভবনে পৌঁছালেন। সেখানে গিয়ে দেখেন ততক্ষনে সমস্ত আয়োজন শেষ,সবাই সেখান থেকে চলে গেছে। নিউটনের জীবনে আরো একটি মজার ঘটনা হল নিউটনের বিয়ের জন্য এনগেজমেন্টের দিন ধার্য্য করা হয়। এনগেজমেন্টের দিন সবাই বাড়িতে,নিউটনের জন্য অপেক্ষা করছিল। কিন্তু নিউটন তার গবেষণায় এতটাই মশগুল ছিলেন যে,তিনি তার বিয়ের কথা অবধি ভুলে যান। এরপর নিউটন আর বিয়ে করেন নি। একবার এক জন কাঁচের জিনিস পত্রের ব্যাপারী নিউটনের কাছে আসে,কিছু কাঁচের জিনিস পত্র নিয়ে বিক্রী করার জন্য। নিউটন সেই সমস্ত জিনিস পত্রের মধ্যে একটি কাঁচের প্রিজমকে হাতে তুলে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে থাকে। এতে কাঁচের ব্যাপারী সন্দেহের বসে নিউটনকে জিগ্যেস করে, আপনি এতক্ষন ধরে ঐ জিনিসটাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কী দেখছেন ? তাহলে কী এটা কোনো দামী জিনিস ? এটার দাম কত হতে পারে ? নিউটন তখন তার প্রশ্নের উত্তরে জবাব দেয়, এই জিনিসের মূল্য নির্ধারণ করা অত সহজ কথা নয়। এই জিনিস হল অমূল্য। এরপর নিউটনের কাছ থেকে ঐ ব্যাপারী মোটা অঙ্কের দাম হাতিয়ে নেয়। পরবর্তী কালে নিউটন এই কাঁচের প্রিজমের মধ্যে দিয়ে সাদা আলোর বিকিরণের মাধ্যমে সাদা আলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা আরো তিনটি আলোর সমন্বয় আবিষ্কার করেন।
নিউটনের মৃত্যু:
মহান বিজ্ঞানী স্যার আইজাক নিউটনের মৃত্যু ১৭২৭ সালের ৩১ শে মার্চ জার্মানীর কেসিংটন মিডিলেক্সে হয়েছিল।