01/08/2026
এই নিউজটা আজকের। নিউজটা পড়ে কি বুঝলেন? মাদ্রাসা নিয়ে ষড়যন্ত্র কেন, আর কিছু কি বুঝার বাকি আছে?
বাস্তবতা হলো, আমি ঢাকার একটি শীর্ষস্থানীয় মাদ্রাসায় প্রায় ১২–১৩ বছর লেখাপড়া করেছি। সেই মাদ্রাসায় কোনোদিনও বলাৎকারের কথা শুনিনি। শুধু আমাদের মাদ্রাসা নয়, ঢাকার বড় বড় মাদ্রাসাগুলোতেও আপনারা সাধারণত এ ধরনের নিউজ পাবেন না।
গ্রামাঞ্চলের কিছু মাদ্রাসায় বিচ্ছিন্নভাবে এ ধরনের ঘটনা শোনা যায়। বিশেষ করে গ্রামের কিছু ইমাম সাহেব, যারা বিভিন্ন বাড়িতে লজিং থাকেন, তাদের মধ্যেও কখনো কখনো অপরাধের ঘটনা ঘটে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব অপরাধের পক্ষে কোনো মাদ্রাসার ছাত্র দাঁড়ায় না, কোনো হুজুরও দাঁড়ান না। বরং অপরাধী প্রমাণিত হলে তাকে শাস্তি দেওয়া হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা কী?
সেখানে নীতি-নৈতিকতা শিক্ষার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। ধর্মীয় শিক্ষার অবস্থাও একই। এখন আবার নতুন করে নাচ-গানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষিকারা টিকটক করছে, ছেলে-মেয়েদের নৈতিক অবক্ষয় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে।
সেদিনও আমার ছোট ভাই এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়েছিল। সেই আত্মীয় তার ছেলেকে নসিহত করার জন্য আমার ছোট ভাইকে বলছিলেন, ছেলে বাবা-মায়ের কথা শোনে না, উচ্ছৃঙ্খলভাবে ঘোরাফেরা করে। অথচ দুজনের বয়সও কাছাকাছি।
আমরাও বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে গেলে অনেক সময় আমাদের আত্মীয়রা নিজ ছেলেদের নসিহত করতে বলেন। এটা একেবারে সাধারণ বাস্তবতা।
অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যারা মাদ্রাসায় পড়ে তাদের মধ্যে নীতি-নৈতিকতা, সভ্যতা ও ভদ্রতার চর্চা অনেক সময় সাধারণ কলেজপড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের তুলনায় ভালো দেখা যায়। এর প্রধান কারণ হলো, পরিবেশ।
মাদ্রাসার পরিবেশ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেখানে অপরাধ ও অশ্লীলতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না। বিপরীতে অনেক স্কুল-কলেজের পরিবেশে ছেলে-মেয়েদের অবাধ মেলামেশার কারণে এমন অনেক কিছু ঘটে, যা ক্লাসরুমে বসেই ঘটছে।
এখানে আমি স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের দোষ দিচ্ছি না। দোষটা মূলত পরিবেশের। তাদের এমন একটি পরিবেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে ভালো থাকা অনেক কঠিন।
একজন মাদ্রাসার ছাত্রকে যদি এমন পরিবেশে নিয়ে যাওয়া হয়, সেও নষ্ট হয়ে যাবে। আবার স্কুল-কলেজের কোনো ছেলে-মেয়েকে যদি ভালো পরিবেশে, নিয়ন্ত্রিত ও নৈতিক শিক্ষার মধ্যে রাখা হয়, তারাও ভালো হয়ে উঠবে।
অর্থাৎ মূল বিষয়টা হলো, পরিবেশ মানুষকে গড়ে।
এ কারণেই দেখবেন, এখন সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। আপনার এলাকার স্কুলে গিয়ে খোঁজ নিন, অনেক স্কুলে ছাত্রছাত্রী নেই বললেই চলে। অভিভাবকরা সন্তানদের হয় মাদ্রাসায় দিচ্ছেন, অথবা বেছে নিচ্ছেন কোনো প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এর পেছনে অভিভাবকদের একটি বড় চিন্তা হলো, সন্তানকে শুধু শিক্ষিত করলেই হবে না, মানুষও করতে হবে।
আর এখানেই আমাদের প্রশ্ন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কোটার মাধ্যমে এমন অনেক মানুষকে প্রাথমিকে চাকরি দেওয়া হয়েছে, যাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এখন তাদের কেউ কেউ স্কুলে গিয়ে নাচ-গান শেখাচ্ছে, আবার নাচ-গানকে শিক্ষার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে।
আর গত কয়েকদিনে দেখলাম, নাচ-গানের এই সংস্কৃতিকে মুসলিম সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার পক্ষে একটি বিশেষ মহল ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে।
কারণ তাদের কাছে নাচ-গান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের একটি অংশ। তাদের বিভিন্ন পূজা ও ধর্মীয় উৎসবেও নাচ-গানের প্রচলন রয়েছে।
কিন্তু একজন মুসলমানের কাছে প্রশ্নটা ভিন্ন। ইসলামে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও অনৈতিক সংস্কৃতির কোনো স্থান নেই।
তাই মাদ্রাসার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে এনে পুরো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আগে আমাদের একটু নিজেদের শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে তাকানো উচিত।
মাদ্রাসা ধ্বংসের আগে বরং প্রশ্ন করুন, আমরা আমাদের সন্তানদের কী ধরনের পরিবেশে বড় করছি?
-Molla khalid saifulla