07/05/2026
একটি ছোট রক্ত পরীক্ষাই পারে আগামী প্রজন্মকে থ্যালাসেমিয়া মুক্ত রাখতে।
থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত বা জিনগত রক্তস্বল্পতা জনিত রোগ। এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়, বরং বাবা-মায়ের শরীর থেকে জিনের মাধ্যমে সন্তানের মধ্যে ছড়ায়।
থ্যালাসেমিয়া কেন হয়?
আমাদের শরীরের লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক একটি প্রোটিন থাকে যা অক্সিজেন বহন করে। হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য দুটি চেইনের প্রয়োজন হয়—আলফা এবং বিটা। যখন কোনো ব্যক্তির জিনে ত্রুটি থাকে এবং শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে এই প্রোটিন তৈরি করতে পারে না, তখনই থ্যালাসেমিয়া দেখা দেয়।
• বংশগতি: যদি বাবা এবং মা উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, তবে সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২৫%।
• লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়া: স্বাভাবিক রক্তকণিকা ১২০ দিন বাঁচলেও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর রক্তকণিকা খুব দ্রুত ভেঙে যায়, ফলে শরীরে তীব্র রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়।
প্রতিকার ও করণীয়ঃ
থ্যালাসেমিয়া একবার হয়ে গেলে তা পুরোপুরি নিরাময় করা বেশ কঠিন এবং ব্যয়বহুল (যেমন বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট)। তাই এর প্রতিরোধই হচ্ছে প্রধান উপায়।
১. বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো সচেতনতা। বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী উভয়ের রক্ত পরীক্ষা করে দেখা উচিত তারা থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না।
• দুইজন বাহক যদি একে অপরকে বিয়ে না করেন, তবে এই রোগ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়ানো বন্ধ করা সম্ভব।
২. নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন (Blood Transfusion)
আক্রান্ত রোগীর শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর (সাধারণত ২-৪ সপ্তাহ পর পর) রক্ত দিতে হয়। আপনাদের সংগঠনের মতো ব্লাড ডোনার গ্রুপগুলো এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
৩. আয়রন চিলেশন থেরাপি
বারবার রক্ত নেওয়ার ফলে রোগীর শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমে যায়, যা লিভার বা হার্টের ক্ষতি করতে পারে। এই বাড়তি আয়রন বের করার জন্য বিশেষ ওষুধের (Chelation Therapy) প্রয়োজন হয়।
৪. সঠিক খাদ্যতালিকা
• আয়রনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা: যেহেতু রোগীর শরীরে আয়রন বেড়ে যায়, তাই কলিজা, কচুশাক বা অতিরিক্ত আয়রন সমৃদ্ধ খাবার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দেওয়া উচিত নয়।
• ফলিক অ্যাসিড: চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খেতে হয় যা নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।
৫. স্ক্রিনিং ও কাউন্সিলিং
পরিবারে কারও থ্যালাসেমিয়া থাকলে অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদেরও পরীক্ষা করানো উচিত। গর্ভবতী মা যদি বাহক হন, তবে গর্ভস্থ শিশুটি আক্রান্ত কি না তা পরীক্ষার (Prenatal diagnosis) ব্যবস্থা করা যেতে পারে।