07/06/2026
“ভোজনান্তে শ্মশানান্তে মৈথুনান্তে চ যা মতিঃ।
সা মতিঃ যদি সর্বত্র কো ন মুচ্যেৎ বন্ধনাৎ।।"
অর্থাৎ —
ভোজনের পর, শ্মশানে মৃতদেহ দাহের সময় এবং মৈথুনের শেষে মানুষের মনে ক্ষণিকের জন্য যে বৈরাগ্য ও অনাসক্তি জাগে, সেই ভাব যদি সর্বদা স্থায়ী হতো, তবে মানুষ সহজেই ভববন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যেত।
মানুষের মন বড়ই বিচিত্র।
ক্ষুধা মিটে গেলে ভোগের আকাঙ্ক্ষা স্তিমিত হয়,
শ্মশানে দাঁড়িয়ে জীবনের অনিত্যতা অনুভব হয়,
আর কামনা পূরণের পর এক মুহূর্তের জন্য মন শূন্য ও নিস্তরঙ্গ হয়ে পড়ে।
সেই ক্ষণিক বৈরাগ্যের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে গভীর সত্য —
এই সংসারে কিছুই চিরস্থায়ী নয়।
যা আজ আছে, কাল তা থাকবে না।
যে দেহ নিয়ে এত অহংকার, একদিন সেই দেহই পঞ্চভূতে বিলীন হবে।
কিন্তু সমস্যা হল, মানুষের সেই উপলব্ধি স্থায়ী হয় না।
মায়া আবার মনকে আচ্ছন্ন করে, কামনা আবার জন্ম নেয়, আসক্তি আবার বেঁধে ফেলে।
যদি সেই বৈরাগ্য, সেই অনিত্যতার বোধ সর্বদা হৃদয়ে স্থির থাকত,
তবে মানুষ মোহ, মায়া ও জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন অতিক্রম করে মুক্তির পথ খুঁজে পেত।
— এটাই শাস্ত্রের গভীর শিক্ষা।
#বৈরাগ্য
#সনাতনধর্ম
#আধ্যাত্মিকতা
#জীবনদর্শন
#মোহমায়া
#শ্মশান_বৈরাগ্য