26/04/2026
মাঝে মাঝে ব্যাক্তিগত পোস্টে কথা হবে, আপাতত যায়েদ কল্যাণ ট্রাস্ট নিয়ে এটায় আমার শেষ লেখা ও পোস্ট, যদি প্রতিষ্ঠিত হতে পারি তবেই আপনাদের মাঝে ফিরবো ইনশাআল্লাহ্। সে পর্যন্ত বিদায়!
কোভিড-১৯ এর আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত না হলে আজ হয়তো এভাবে লিখতে হত না। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ভাল জানেন এর ভবিষ্যৎ কীভাবে লেখা আছে? আমরা শুধু চেষ্টা করে যেতে পারি এবং দোয়া করতে পারি। মঞ্জুর করা এবং না করার ইচ্ছা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের।
আর পারছি না, আর মনে হয় পারবো না! সবকিছু যেন আজ সাধ্য ও সামর্থ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই নিজেকে আজ যায়েদ কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে অবসর নেবার সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছি। অনেকেই বলে আমি স্থির না, আমি নাকি পাকিস্থান ক্রিকেট টিমের মত আনপ্রেডিক্টটেবল। আমিও মানি আমি আনপ্রেডিক্টটেবল কিন্তু সেটা অন্যান্য ক্ষেত্রে হলেও যায়েদ কল্যাণ ট্রাস্টের ক্ষেত্রে স্টাবল কিন্তু আফসোস সেটা কেউ বলে না। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে আমি সবাইকে সাথে লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছি, আর এই লড়াইয়ে যাতে করে প্রতিষ্ঠানটি নিজের পায়ে দাড়িয়ে যায় তার জন্য আমি কার কাছে যাই নাই সরকারী দল, বিরোধী দল, রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, সরকারী আমলা, ব্যবসায়ী, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, বড় ভাই, ছোট ভাই এবং শুভাকাংখী কিন্তু কেউ আমাকে যথাযথভাবে সাহায্য করেনি অথবা আমি সাহায্য নিতে পারি নাই । তবে কিছু মানুষকে ভুলতে পারবো না যাদের সহযোগীতায় যায়েদ কল্যান ট্রাস্ট আজ এতদুর এসেছে।
আমিও রক্তে মাংসে গড়া একজন মানুষ। আমারও একটা ব্রাইট ফিউচার ছিল শুধু একটু মনোযোগ, সাথে লেগে থাকা এবং একটি প্রফেসনাল কোর্স করতে পারলেই ক্যারিয়ারটা প্রতিষ্ঠিত হত। মেধা, যোগ্যতা ও সম্ভাবনা ছিল, সুযোগও পেয়েছিলাম কিন্তু পারিনি কারন সেটা অনেকের কাছে জানা এবং অনেকের কাছে অজানা অধ্যায়। ২০১২ সালের পর থেকেই যে নিরবে চোখের পানি এবং অন্তরের ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছি, হাসির আড়ালেও লুকিয়ে আছে ২ ঘন্টা ২০ মিনিট নিজের কোলে সন্তানের বেঁচে থাকার আকুতি, মৃত্যু যন্ত্রনার কষ্ট এবং দুজনের চোখাচোখির স্মৃতিটা, কী যেন আমাকে বলতে চেয়েছিল আমি বুঝতে পারিনি যা আমাকে এখনও কুড়ে কুড়ে খায় এবং নির্ঘুম রাত কেটে যায় চোখের পানিতে! তা কাকে বোঝাবো ! আর কী করেই বা বোঝাবো!
এসব ভুলে থাকতেই নিজের কর্মের পাশাপাশি মানবতা ও সমাজের মানুষগুলোর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছিলাম। বাকি জীবন বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসাবে সমাজের অবহেলিত সন্তানদের ধর্মীয় ও মানবিক মুল্যবোধের আলোকে গড়ে তুলতে ও প্রতিষ্ঠিত করতে একটি প্লাটফর্ম গড়ে তোলার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চেয়েছিলাম সবাইকে সাথে নিয়ে।
কিন্তু দীর্ঘ এক যুগের বেশী সময় লড়াই্ করে আজ আমি ক্লান্ত ও রিক্ত। আমার পরিশ্রমের অর্থ, সময় ও শ্রম এবং মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন বর্তমানে এসে কিছুতেই হিসাব মেলাতে পারছি না। সম্পদের মোহ আমাকে আকৃষ্ট করতে পারে নাই এবং পারবেও না ইনশাআল্লাহ্। জিবনে একটা ডিপিএস করি নাই, সম্পদ বলতে পাঁচ শতকের পৈতৃক ভিটেটুকু। এবার ঈদে প্রায় এক হাজার জন মানুষের (প্রিয় ও আপন) নিকট সাহায্যের আবেদন করে মাত্র বাইশ জনের নিকট অনুদান পেয়েছি। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। প্রতিষ্ঠানের সিংহভাগ ব্যয় আমাকেই মেটাতে হয়। বর্তমানে আমার স্বল্প আয়ের মধ্য থেকে পরিবার ও আমার জীবন-জীবিকার ব্যয় নির্বাহের পর আমার একার পক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলো্র ব্যায়ভার নির্বাহ করা সম্ভবপর হয়ে উঠছে না। আমার যত প্রিয় ও আপন প্রিয় ও আপন মানুষ আছে তারা যদি প্রতি মাসে/প্রতি বছরে একবার অর্থিক অনুদান দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পাশে দাঁড়ায় এবং সাথে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যাক্তিগত অনুদান যোগ হয় তাহলে প্রতিষ্ঠানটি সুন্দরভাবে চালানো সম্ভব হবে, আর তা না হলে যায়েদ কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে আমাকে অবসর নেবার মত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
দয়া করে আমাকে ভূল বুঝবেন না
ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেবেন,
প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ।
"দোয়ার দরখাস্ত"