09/10/2024
শুরু করতেছি মহান করুণাময় আল্লাহর নামে এবং তিনি সর্বাপেক্ষা সর্বশক্তিমান। আমরা এমন একটি শহরের রেল স্টেশন প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছি গত ৫৩ বছর ধরে বৈষম্যের শিকার। রংপুর রেলওয়ে স্টেশন ২ জুলাই ১৮৭৮ সালে চালু হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা ৫৩ বছর অতিক্রান্ত হলে রংপুর বাসী ৫৩ বছর ধরে তাদের মনের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতি ক্ষোভ পোষণ করে আসছে। রংপুর বর্তমানে বিভাগীয় শহর। সারা দেশব্যাপী রেলের এত উন্নয়ন হয়েছে যে একটি ইউনিয়ন পর্যায় স্টেশন বর্তমানে রংপুর স্টেশনের থেকে উন্নত হয়ে গেছে। বাংলাদেশে অনেক স্টেশন আছে এক টাকা আয় নাই অথচ সেখানে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে আইকোনিক স্টেশন করা হয়েছে। তবে কি রংপুর স্টেশন কে বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকিস্তানের অংশ মনে করে?
রংপুরবাসী উত্তর জানতে চায়।
সময়ের সাথে রংপুরবাসীর চাওয়ার পরিমাণ ও ধরন পরিবর্তন হয়েছে। রংপুরের ভৌগলিক অবস্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রংপুরবাসীর কিছু দাবি তুলে ধরা হলো :
(*) দিয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং অতি দ্রুত বাস্তবায়ন ইঙ্গিত করা হলো।
১. * ৮ ঘন্টা রানিং টাইম নির্ধারণ করে, উৎস-গন্তব্য রংপুর অক্ষুণ্ণ রেখে ননস্টপ/সেমিননস্টপ (সর্বোচ্চ ৫-৬ টি স্টপেজ) করে রংপুর এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তন আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়ন করতেই হবে। রংপুরবাসী দীর্ঘ ৭ বছর আন্দোলন করে ট্রেনটি আদায় করেছিল। বাংলাদেশ রেলওয়ে ঘুরা পথে চালিয়ে রংপুরবাসীর কাছে অতিরিক্ত ভাড়া বাবদ কোটি কোটি টাকা নিয়েছে এবং সহস্র মূল্যবান সময় অপচয় করাতে বাধ্য করেছে। নতুন রুটের জন্য ৮ ঘন্টা রেস্ট টাইম পাবে। প্রয়োজন হবে না রেক শেয়ার। কাজেই রেক কম্পোজিশনে ৩ টি স্নিগ্ধা কোচ, ২ টি কেবিন কোচ সহ ১৪/২৮ লোডের রংপুর এক্সপ্রেস কে রংপুরবাসী রুট পরিবর্তনের মাধ্যমে ন্যায্য অধিকার ফেরত চায়।
২.*** আগামী ৬ মাসের মধ্যে রংপুর স্টেশনে একটি ওয়াসপিট(এমজি) করতে হবে নিজস্ব অর্থায়নে। রংপুর, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের বেজ সহ কিছু লোকাল ট্রেনের বেজ আসন্ন ৫৪ টাইম টেবিলে যুক্ত করতে হবে । ওয়াসপিট ডুয়েলগেজ প্রকল্পের সাথে হবে এমন লিখিত আশ্বাস গ্রহণযোগ্য হবে না।
৩. ***বাংলাদেশ রেলওয়ে কিভাবে আমাদের সাথে বৈষম্য করে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস জ্বলন্ত উদাহরণ। ২০১৬ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী রংপুরের সাবেক মরহুম মেয়র কে নিজে ফোন করে দিবাকালীন স্বতন্ত্র ট্রেনের ঘোষনা দেন, ২০১৯ সালেও একই ঘোষণা রংপুরে এসে দেন অথচ সেকশন জটের অজুহাতে দেয়া হল ভায়া রুটের ট্রেন । অবাক করা বিষয় আমরা দেখলাম একে একে ৫ টা ঢাকাগামী ট্রেন চালু হয়েছে। আমাদের কাশবন এক্সপ্রেস কোথায় গেল? একটা বিভাগীয় শহর কিভাবে ৪ কেবিন, ৩০ টা স্নিগ্ধা,১১৫ টা শোভন চেয়ার বরাদ্দ দিয়ে রাখে? আমরা বাধ্য হচ্ছি যিনি এধরনের আসন বরাদ্দ দিয়েছেন তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে। অবিলম্বে ১৫০ শোভন চেয়ার, ৫৫ স্নিগ্ধা, ১২ কেবিন বরাদ্দ দিতে হবে।
৪.*** যমুনা রেল সেতু উদ্বোধনের দিন থেকেই উৎস গন্তব্য রংপুর অক্ষুন্ন রেখে রংপুরবাসীর কাঙ্খিত ৭:৩০ ঘন্টা রানিং টাইমের সেমিননস্টপ কাশবন এক্সপ্রেস চালু করতে হবে।
৫.*** রংপুর বিভাগ,রাজশাহী বিভাগের কিছু অংশ, চট্টগ্রাম বিভাগ, সিলেট বিভাগ থেকে ঢাকা পর্যন্ত সড়ক ও রেলপথে দূরত্বের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। দূরত্বের পার্থক্য যতদিন ন্যূনতম পর্যায় না আসছে ততদিন রেয়াতি ভাড়া চালু রাখা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি।
৬. আইকোনিক টার্মিনাল রেলওয়ে স্টেশন কমপক্ষে ৮ টি ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের প্লাটফর্ম বাস্তবায়ন।
(রংপুরবাসী টার্মিনাল রেলওয়ে স্টেশন ব্যতীত অন্য কোন ধরনের স্টেশনের পক্ষে সমর্থন কখনই দেবেনা। রংপুরকে বিভাগীয় শহরের হিসেবে বিবেচনা না করেন তারপরও আমরা বলবো ব্রিটিশ কাল থেকেই পুরো রংপুর বিভাগ এবং রংপুর বিভাগের উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের ভারতের জেলা সমূহ রংপুর কেন্দ্রিক ছিল। রংপুরের প্রতিবেশী জেলা সমূহ থেকে ঢাকায় গড়ে ১০ জন গেলে রংপুর শহরে তার বিপরীতে ৯০ জন আসে। কাজেই রংপুর বিভাগের মানুষের স্বার্থের কথা ভেবে হলেও ট্রেনের উৎস গন্তব্য রংপুর বিদ্যমান রাখা এবং টার্মিনাল স্টেশন বাস্তবায়ন করা খুবই জরুরী। এতে এক রেক দিয়ে রংপুর থেকে চিলমারী/বোনারপাড়া/বিরল/হিলি/চিলাহাটি/বুড়িমারী তিন বেলা আপ-ডাউন করা সম্ভব হবে যা পার্বতীপুর/লালমনিরহাট থেকে সম্ভব নয়।)
৭. মিটারগেজ এবং ব্রডগেজ পৃথক ওয়াসপিট বাস্তবায়ন(দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ১০০০ মি.) ।
৮. রংপুর থেকে পার্বতীপুর বিদ্যমান মিটারগেজ লাইনের সমান্তরালে নতুন ডুয়েলগেজ লাইন দ্রুত বাস্তবায়ন। সিবিআই সিগন্যাল সিস্টেম প্রবর্তন ।
৯. টার্মিনাল স্টেশনে টিএক্সআর ফ্যাসিলিটিজ সহ টেকনিক্যাল সকল ধরনের ডিপার্টমেন্ট স্থাপন করা, ইয়ার্ড লাইন,সিক লাইন বাস্তবায়ন। প্রয়োজন অনুসারে রেলের গুরুত্বপূর্ণ অফিস স্থাপন।
১০. রংপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া কোন ট্রেন অপারেশনাল কারণে (ক্রু/গার্ড/টিটিই পরিবর্তন, পাওয়ার কার ফুয়েলিং ইত্যাদি) অন্য কোন স্টেশনে দাড়াতে না হয় তার ব্যবস্থা রংপুরে বিদ্যমান রাখতে হবে।
১১.*** কাউনিয়া বাইপাস এবং পার্বতীপুর বাইপাস।
(এমন ভাবে নির্মাণ করতে হবে যেন রংপুর পার্বতীপুর সান্তাহার এবং রংপুর গাইবান্ধা সান্তাহার একই দূরত্ব হয় (৫৩ সময়সূচি অনুযায়ী ৩৫ কি.মি. পার্থক্য)। অতিরিক্ত ৩৫ কিঃমিঃ দূরত্ব , কাউনিয়ায় বিরক্তিকর লোকো রিভার্স, দুই রুটে সময়ের পার্থক্য ১:৩০ ঘন্টা এবং ঘনঘন স্টপেজ এর জন্য রংপুরবাসী পার্বতীপুর হয়ে যেতে চায়। কাজেই রংপুর গাইবান্ধা সান্তাহার এবং পার্বতীপুর সান্তাহার রুটে ট্রেন সংখ্যা ব্যালেন্স করতে ৩৫ কি.মি. পার্থক্য ০ তে নামিয়ে আনা বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রংপুর থেকে দিনাজপুর ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় এবং সৈয়দপুর নীলফামারী চিলাহাটি সড়ক পথ ও রেলপথ দূরত্বের সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকায় পার্বতীপুর স্টেশন এর সন্নিকটে একটি বাইপাস করা প্রয়োজন।
১২. উপযুক্ত জায়গায় রংপুর টার্মিনাল স্টেশন নির্মাণ করা। এক্ষেত্রে বিনোদপুর রেলগেট (জাতীয় মহাসড়ক N5) এর নিকট উপযুক্ত হতে পারে। সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশন, বিজিবি উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার রিজিয়ন সদর দপ্তর, রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, র্যাব ১৩ হেড কোয়ার্টার, রংপুর মেট্রো পুলিশ হেড কোয়ার্টার, বাংলাদেশ নারী পুলিশ ট্রেনিং একাডেমী এছাড়া রংপুর মেডিকেল কলেজ, রংপুর আর্মি মেডিকেল কলেজ, CMH, প্রাইম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, আর্মি নার্সিং ইনস্টিটিউট, রংপুর নার্সিং ইনস্টিটিউট, রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সাথে রংপুর শহরের ট্রাফিক জ্যাম উপেক্ষা করে সহজ যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এক্ষেত্রে রেলওয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে বিবেচনা করবে রংপুরবাসী।
১৩.*** দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রংপুরে ডাবল নাইন সেকশনের একটি উঠানো হয়। উক্ত ফাঁকা জায়গায় বিভিন্ন সময় হতে আজ অব্ধি বস্তি গড়ে উঠছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে শক্ত হাতে উচ্ছেদ করতে না পারায় বস্তিগুলোতে মাদক বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা করে উঠেছে এবং নেশাগ্রস্তরা চুরি ছিনতাইসহ রংপুর শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে । বস্তির সংখ্যা বাড়তে বাড়তে পূর্বে ৫ কি.মি. এবং পশ্চিমে ৪ কি.মি. পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং রংপুর জেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে বস্তি উচ্ছেদ এবং তাদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
১৪.***রংপুর স্টেশনের সামনে তিন রাস্তার মাঝে কিছু দোকানের কারণে রাস্তার প্রস্থ কম হওয়ায় এবং স্টেশন সম্মুখে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং জেলা প্রশাসন রংপুর সমন্বয়ে উক্ত দোকানগুলো উচ্ছেদ করে উক্ত স্থানে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের প্রথম জেলা শহরের স্টেশনের স্বীকৃতি স্বরূপ একটি পুরাতন স্টিম লোকোমোটিভ রেখে স্টেশন এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে হবে।
১৫. রংপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িকে থানায় রূপান্তর করতে হবে।
১৬.*** বর্তমান রংপুর স্টেশনে পার্কিংয়ের বড় সমস্যা রয়েছে। পার্কিং এরিয়ার পশ্চিম দিকে ময়লা আবর্জনার স্তুপ করে রাখা হয়। দ্রুত সমাধান করতে হবে।
মন্তব্য : আমাদের দাবিগুলো বেশিরভাগই পার্বতীপুর কাউনিয়া ডুয়েলগেজ প্রকল্পের সাথে সম্পর্কিত। বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের কাঙ্খিত প্রকল্প ভারতীয় LOC-2 এর অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ রেলওয়ে তথ্য অনুযায়ী উক্ত প্রকল্প ২০১৮ সালে শুরু হয়ে ২০২২ সালে সমাপ্ত হবার কথা। তবে বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় ভারতীয় এসব প্রকল্প অর্থছাড়ে জটিলতা, প্রকল্প শুরু হতে দীর্ঘসূত্রিতা করা এবং প্রকল্পের মেয়াদ দফায় দফায় বাড়ানোর অসংখ্য নজির রয়েছে। আমরা রংপুরবাসী জোর দাবি জানাই উক্ত প্রকল্প এডিবি, জাইকা বা অন্যান্য বিশ্বস্ত উৎস হতে ফান্ডিং এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা। ইতোমধ্যে আমাদের সাথে ৫৩ বছরের বৈষম্য চলমান। আমরা রংপুরবাসী মনে প্রাণে চাই বৈষম্যের দ্রুত অবসান ঘটুক।