30/09/2026
আলোকচ্ছটার চলমান স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আপডেট:
স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প-১৮
একজন বিধবা মহিলা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)
ঠিকানা: গণেশপুর, রংপুর সিটি কর্পোরেশন।
এক সন্তান তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। কিছুদিন আগে তার সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি তথা মহিলার স্বামী রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়। হঠাৎ স্বামী মারা যাওয়ার পর মা ছেলের সাংসারিক ও পড়ালেখার খরচ চালানো খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় মহিলার সাথে পরামর্শ করে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে তাকে মহিলাদের কিছু কাপড় (৪০,০০০ টাকা মূল্যের) কিনে দেওয়া হয়।
আলহামদুলিল্লাহ, প্রথম সপ্তাহেই তিনি বেশ কিছু কাপড় বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেছেন। তার এই আনন্দানুভূতি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন।
স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প-১৯
মো: জহুরুল ইসলাম
গ্রাম: হরিশ্চন্দ্র পাঠ, দ্বীপ পাড়া
থানা: জলঢাকা
জেলা: নীলফামারী
পারিবারিক সদস্য সংখ্যা: ৪ জন
অর্থনৈতিক ও পেশাগত অবস্থা: দিনমজুর হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
বাসস্থান ও জমি: নিজের কোনো আবাদি জমিজমা নেই।
বর্তমান সংকট: ছোট মেয়েটি অত্যন্ত গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। দিনমজুরির আয় দিয়ে সংসার চালানোর পর মেয়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তিনি আলোকচ্ছটার কাছে আবেদন জানান যে, স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় তাকে একটা ছাগল কিনে দিলে তিনি উপকৃত হবেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে একটা ছাগল কিনে দেওয়া হয়।
স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প-২০
নাম: আবুল হোসেন
গ্রাম: হরিশ্চন্দ্র পাঠ, দ্বীপ পাড়া
থানা: জলঢাকা
জেলা: নীলফামারী
পারিবারিক সদস্য সংখ্যা: ৪ জন
অর্থনৈতিক ও পারিবারিক অবস্থা:
বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা: বয়স ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে হওয়ায় কাজ করার কোনো সক্ষমতা নেই।
বর্তমান সংকট: ধার-দেনা করে এক মেয়ের বিয়ে দেওয়ায় ঋণগ্রস্ত; বর্তমানে তার স্ত্রী ও ছোট ছেলে অতি কষ্টে সংসারের হাল ধরে দিন পাড় করতেছেন ।
তিনি আলোকচ্ছটার কাছে আবেদন জানান যে, স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় তাকে একটা ছাগল কিনে দিলে তিনি উপকৃত হবেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে একটা ছাগল কিনে দেওয়া হয়।
স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প-২১
নাম: লিপি বানু; গ্রাম: উত্তর রমজানপুর
ইউনিয়ন: রমজানপুর; থানা: কালকিনি
জেলা: মাদারীপুর
বলছি কিডনির সমস্যা এবং ডায়বেটিসে ভোগা এক অসহায় মায়ের গল্প।
দুই সন্তানের জননী ছিলেন। কন্যাকে বিয়ে দিয়ে দিছেন ছোট বেলাতেই, পল্লী গ্রামে যা হয়ে থাকে আরকি। স্বামী অসুস্থ থাকে বেশি সময় ধরে। হঠাৎই ব্রেইন স্ট্রোক করে মারা গেছে। ছেলে বড় হয়ে বিয়ে করলো। কিছুদিন পর সেও হার্ট এটাকে মারা গেলো। সম্বল বলতে স্বামীর ভিটে টুকু। তাতেও অন্যের নজর। সবলের থেকে দুর্বলের ওপর জুলুম বেশি হয়।
স্বাবলম্বী হবার ইচ্ছে তার অনেক দিন থেকেই। ওভাবে কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছিলো না। তবুও কথায় আছে না এক দরজা বন্ধ হলে দুই দরজা খুলে যায়।
এর মাঝে এগিয়ে আসলো সাহায্যের হাত। কে জানত, উত্তরবঙ্গের বাইরে আলোকচ্ছটার প্রথম স্বাবলম্বীকরণ প্রজেক্টের আওতায় এই মা-ই আসবে।
স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প-২২
নাম: মিনা বেগম; স্বামী: মো: মোকলেছুর রহমান; গ্রাম: সরকার পাড়া, ইউনিয়ন: খুটামারা, উপজেলা: জলঢাকা, জেলা: নীলফামারী।
দুই সন্তানকে নিয়ে তাদের ছোট্ট পরিবার। স্বামীর স্বল্প আয়ের কারণে সংসারে টানাপোড়েন। পরিবারের কোনো আবাদি জমিও নেই। তবুও ছেলেকে একজন সুশিক্ষিত ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তার আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ছেলেটি কুষ্টিয়া ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যাথে অনার্স অধ্যয়নরত।
সংসারের খরচ ও ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে তিনি ছোটখাটো বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছেন। তার এই সংগ্রামী জীবনে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে একটি ছাগল উপহার দেওয়া হয়েছে। আশা রাখি এতে তার আয়ের উৎস প্রসারিত হবে।
আলোকচ্ছটার এই স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প চলতেই থাকবে ইনশাআল্লাহ। আপনারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে আমাদের কাজটা আরও সহজ হবে।
বেঁচে থাক স্বপ্ন, জিতে যাক তারুণ্য
আলোকচ্ছটা-ALOKCCHOTA