31/07/2024
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল-
ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না।
-ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব,
কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক,
আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ।
চেয়ারম্যান, হাদীছ ফাউণ্ডেশন শিক্ষাবোর্ড।
.যুগে যুগে ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতার প্রয়োগকেই সমস্যার সমাধান মনে করেছেন। ফলে তাদের ক্ষমতা কিছুকাল টিকে গেলে একসময় তারা কালের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। জগতের মানুষ তাদেরকে মানবতার দুষমন হিসাবে দেখেছেন। ইতিহাসের পর ইতিহাস রচিত হয়, কিন্তু শিক্ষা নেয় না কেউই। গত দুসপ্তাহে দেশে যা ঘটে গেল তাতে এটাই মনে হল সরকার ও প্রশাসন নিজেদের ক্ষমতার উপর এতই আত্মবিশ্বাসী যে, আলোচনার টেবিলে বসাকে তারা রীতিমত অপমানজনক ভাবেন। এজন্য প্রশাসনের নির্বিচার গুলিতে যে শত শত কোমলমতি মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রাণ নির্মমভাবে অকাতরে ঝরে গেল, স্বাধীনতার পর দেশের ইতিহাসের এক ভয়াবহতম রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হল; তাতে সরকারের বিশেষ কোন অনুশোচনা পরিলক্ষিত হল না। দেশের অর্থনৈতিক সংকট, সরকারী অবকাঠামো ধ্বংস নিয়ে ভীষণ উৎকণ্ঠা দৃশ্যমান হলেও মাঠপর্যায়ে মানুষের সীমাহীন ক্ষোভ, বেদনা ও দুর্ভোগ নিয়ে তেমন কোন উচ্চবাচ্য নেই। এমনকি যখন কর্তব্য ছিল স্বজনহারা শোকাতুর দেশবাসীকে আস্থা ও ন্যায়বিচারের বাণী শোনানো এবং জনগণকে নিয়ে পুনরায় নতুন দিন শুরু করার প্রতিজ্ঞা, সেটা না করে উল্টো আবার শুরু হল গণগ্রেফতার। ঘরে ঘরে সৃষ্টি করা হল চাপা ভয়, আতংক আর গুজব। শিক্ষার্থীরা পক্ষে রায় পেয়েও দিশেহারা। তারা জানে না কবে আবার তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে পারবে।
দুর্যোগ মুহূর্তে নেতৃত্বের দায়িত্বশীলতা ও অভিভাবকত্ব প্রকাশ পায়। কিন্তু আজকের পরিস্থিতিতে তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। বিক্ষুব্ধ জনতার এক সমুদ্র উত্তাল ক্ষোভ সাথী করে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের পথে বাংলাদেশ। এ যেন কোন যুদ্ধরত দেশ। বিগত দিনগুলোতে গাযার পরিস্থিতির দিকে চোখ থাকত প্রতিদিন। এখন গাযা নয়, বরং দেশের খবরের দিকে সবার উৎকণ্ঠিত দৃষ্টি।
পরিস্থিতি যা-ই হোক, আমরা কখনও চাই না এদেশ সিরিয়া কিংবা লিবিয়ার মত অরাজক দেশে পরিণত হোক। এদেশ আমাদের সবার। এদেশের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেকের। এজন্য সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকার ও প্রশাসনকে অত্যন্ত সহনশীল ও দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। ইতিমধ্যে যা ভুল হয়ে গেছে তা থেকে বেরিয়ে এসে ধৈর্য ও দরদের সাথে সবাইকে সাথে নিয়ে এই পরিস্থিতিতে মুকাবিলা করতে হবে। অন্যায় ও ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিয়ে নিহতদের হত্যার আশু বিচার করতে হবে। আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। আর তা না করে প্রশাসনকে জনগণের প্রতিপক্ষ বানিয়ে, গ্রেফতার আতংক ছড়িয়ে, মামলা-হামলা করে, দমন-নিপীড়ন অব্যাহত রেখে কখনই জনমন থেকে "রক্তাক্ত জুলাই"-এর এই দুঃসহ গভীর ক্ষত দূর করা সম্ভব হবে না, কাংখিত শান্তিও ফেরানো যাবে না।
আল্লাহ আমাদের শাসকদের সুমতি দিন। দেশকে এই বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমীন!!