25/04/2025
উত্তরবঙ্গের কৃতিমুখ ও সমাজকল্যাণ উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান-কে সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা হিসেবে দেখতে চাই!
আমি একজন উত্তরবঙ্গের অংশীজন হিসেবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ভাইকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দেখতে চাই। বয়সে তরুণ হলেও মেহেদী হাসান কতটা বিশ্বমানের চিন্তাবিদ সে বিষয়ে কিছু কথা বলা যাক। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় সোশ্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটগুলো এবং বড় বড় ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশনগুলো তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোর মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কথা বলে তাদের মুখ্য সমস্যাগুলো চিহ্নিতকরণের গবেষণায় কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা জলে দেয় এবং এতে তেমন কিছুই হয় না সেখানে বাংলাদেশের তরুণ স্বেচ্ছাসেবক সমাজকর্মী মেহেদী হাসান তার মাঠকর্মের অভিজ্ঞতার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণেই চিহ্নিত করে ফেলেছেন সেসব মূখ্য সমস্যাগুলোর অন্যতম একটি সমস্যা এবং সেটির সমাধানকল্পে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগেই এ পর্যন্ত যা করেছেন তা বিশ্বের কোনো নেতৃস্থানীয় দায়িত্বশীল সংস্থার কর্মসূচির সমান বা অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি।
তিনি চিহ্নিত করেছেন যে, তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত দেশসমূহের জনসাধারণের জীবনে যেসকল দূর্ঘটনা ঘটে থাকে সেসবের একটি বৃহদাংশ ঘটে থাকে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতার অভাবের কারণে। তাই তাদেরকে জীবন-জগতের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করে তুলতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার নিজ উদ্যোগে "স্কুল অব অ্যাওয়ারনেস" নামে একটি সচেতনতা কর্মসূচি নিয়ে কাজ করে আসছেন। আর তিনি "সচেতনতা অধ্যয়ন" নামে একটি পড়াশোনার বিষয়ও প্রবর্তন করেছেন। এ লক্ষ্যেই তিনি "সচেতনতা অধ্যয়ন" নামে এক সিরিজ বই লিখেছেন এবং সেই বইগুলোর ই-বুক জনস্বার্থে বিনামূল্যে সরবরাহ করে যাচ্ছেন।
এছাড়াও তিনি "সচেতনতা অধ্যয়ন" বিষয়ে স্নাতক প্রোগ্রাম চালু করার জন্য বিশ্বের নেতৃস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে আহবান জানিয়েছেন। Amazon–এ প্রকাশিত তার "Awareness Studies as a Graduation Program" নামক বইটিতে তিনি এবিষয়টির গুরুত্ব-তাৎপর্য ও সেই স্নাতক কোর্সটি কীরূপ হবে, তাতে কী কী বিষয় থাকবে সেসব তুলে ধরেছেন। এছাড়াও তিনি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে বিশেষায়িত গণসচেতনতা কর্মসূচি চালু করার জন্য জাতিসংঘের কাছেও আবেদন জানিয়েছেন।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের "ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব" বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই প্রাক্তন শিক্ষার্থী তার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাজীবনের তরুণ বয়সের অবসর সময়কে সেই বয়সের সহজাত ও আনন্দময় কাজসমূহে ব্যয় না করে মানবকল্যাণ ও সভ্যতার জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নের চিন্তাধারা থেকে কাজ করেছেন এবং কর্মজীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সময়ও এই মানবকল্যাণের কাজেই উৎসর্গ করেছেন।
তৃতীয় বিশ্বের একটি অনুন্নত ও সমস্যাগ্রস্থ পরিবারে জন্ম হওয়ায় তিনি জীবনে বহু দুর্ঘটনা ও কষ্টদায়ক বিষয়ের সম্মুখীন হয়েছেন যেসবের অধিকাংশ ঘটেছিল পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে লোকজনের সচেতনতার অভাবের কারণে। আর একজন জনকল্যাণকামী ব্যক্তি হিসেবে তিনি শুধু সেসব সমস্যা নিজের ক্ষেত্রে সমাধান করেই বসে থাকতে চাননি, তিনি মানবজাতির জীবন থেকেই সেসব সমস্যা দূর করার বৃহৎ স্বপ্ন নিয়ে কাজ শুরু করেন।
আর, গণসচেতনতা নিয়ে কাজ করা ছাড়াও তিনি চালু করেছিলেন অনলাইন ও অ্যাপসভিত্তিক বাংলাদেশের প্রথম লোকাল ডিজিটাল কমিউনিকেশন মিডিয়া "চতরাপিডিয়া"। এছাড়াও দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে "পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা আইন" পাশ করা, "ধর্ষণের বিচারে বিশেষ দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল" চালু করা, চাকরির পরীক্ষার হলে দেয়ালঘড়ি নিশ্চিত করা ইত্যাদি উন্নয়নমূলক ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দাবি জানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংবাদপত্রের চিঠিপত্র কলামে লেখালেখি করে আসছেন তিনি।
গণসচেতনতা বিষয়ক শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান ভাইকে আমি এই সরকারের সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা হিসেবে দেখতে চাই।
আপনি?