10/11/2025
**ঢাকার রাস্তায় টেসলা(অটো রিকশা) সমস্যা ও তার প্রতিকার।**
ভাই, প্রথমত বলি - টেসলার চালকদের প্রতি যদি আপনার কনভেনশনাল রিকশা চালকদের মতো সফট কর্নার থাকে, তাহলে এই পোস্ট পড়া এখানেই থামায়ে দেন।
ছোটোবেলায় সিনেমায় দেখতাম, বোনের চিকিৎসার টাকা যোগাড় করতে নায়ক জসিম এক সপ্তাহ ধরে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রিকশার প্যাডেল মেরে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। রিকশাচালকদের প্রতি মনের ভেতর সফট কর্নার চলে এসেছিলো সেইদিন থেকেই। কিন্তু টেসলাওয়ালাদের প্রতিও একই সফট কর্নার থাকলে হবে না। ওনারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্থ উপার্জন করতে নামেন নাই। বরং টেসলা চালাইতে তেমন কোনো কায়িক শ্রম নাই বলেই ওনারা রাস্তায় নামেন। এমনাকি গ্রামেগঞ্জের অন্যান্য কাজকাম সব ছুঁড়ে ফেলে সহজ ইনকামের আশায় সবাই ঝাঁকে ঝাঁকে ঢাকায় এসে টেসলা চালক হয়ে যাচ্ছেন।
ঢাকার রাস্তায় টেসলা নিয়ে সমস্যায় পড়ে নাই এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। গাড়ির ড্রাইভার থেকে শুরু করে পথচারী, প্রতিদিনই কেউ না কেউ টেসলার ধাক্কা-গুঁতো খাচ্ছেনই। আর প্রতিদিনই রাস্তায় বাড়ছে টেসলার সংখ্যা।
কেন?
কারণ, একেতো টেসলা যথেষ্ট এফোর্ডেবল, তাছাড়া টেসলা চালানোও সহজ। গাড়ি চালানো শেখার মতো কমপ্লিকেশনও নাই, আবার কনভেনশনাল রিকশা চালানোর মতো কায়িক শ্রমও নাই। তেমন কোনো কায়িক শ্রম না থাকায় প্রতিদিনই নতুন নতুন মানুষজন রাস্তায় নামছেন টেসলা নিয়ে।
তবে টেসলার যে শুধু অপকারীতাই আছে, তা না। কিছু ক্ষেত্রে টেসলা বেশ কাজেরও বটে। যেমন, টেসলার সীট বেশ কমফোর্টেবল। দুইজন বসতে বেশ সুবিধা। সামনের সীটেও একজন অনায়াসে বসতে পারে। তাই তিনজনে ট্রাভেল করাও ইজি। আবার গতিও কনভেনশনাল রিকশার থেকে কয়েক গুণ বেশি। তাই অপেক্ষাকৃত অল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়।
আমি পার্সোনালি চাই না শহর থেকে টেসলা উঠে যাক। মাঝে যে কোন্দল লেগে গিয়েছিলো - অটো রিকশা Vs প্যাডেল রিকশা নিয়ে, আমি সবকিছুর বিচারে অটোরিকশারই সমর্থক।
কিন্তু আমি চাই এইসব টেসলাকে এবং টেসলা চালকদেরকে একটা লাইনে নিয়ে আসা হোক।
সেটা কিভাবে? সমাধান বলছি -
১. সব টেসলা চালকের বাধ্যতামূলক লাইসেন্স করা হোক। ইলেকট্রনিক লাইসেন্স কার্ড। লাইসেন্স ছাড়া কেউ টেসলা চালালে জরিমানা, এবং মিনিমাম এক মাসের জেল খাটানো হোক। শক্ত না হলে আইনের প্রতি কেউ সম্মান দেখায় না।
২. লাইসেন্সে পয়েন্ট সিস্টেম চালু করা হোক। ধরি, ১০০ পয়েন্ট থাকবে লাইসেন্সে। মাইনর-মেজর অফেন্স অনুযায়ী পয়েন্ট কাটা হবে। যেমন ধরেন - রেড লাইট ভায়োলেট করলে ০১ পয়েন্ট কাটা। কারও গাড়িতে স্ক্র্যাচ ফেললে জরিমানাতো হবেই সাথে ১০ পয়েন্ট কাটা হবে। কারও লাইসেন্সের পয়েন্ট ৫০-এর নিচে নেমে আসলে এক থেকে তিন বছরের জন্য লাইসেন্স বাতিল।
৩. টেসলার জন্য প্রতি রাস্তায় ডেজিগনেটেড পার্কিং/পিকআপ পয়েন্ট থাকবে। যত্রতত্র পার্ক করলে বা যাত্রী উঠানো-নামানোর জন্য যেখানে-সেখানে থেমে গেলে জরিমানা এবং পয়েন্ট কাটার সিস্টেম।
৪. প্রয়োজনে শুধুমাত্র টেসলা নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা অফিস করা হোক Bangladesh Auto-Rickshaw Monitoring Agency (BARMA) নামে। পুরো বিষয়টা নিয়ে কাজ করুক এই অফিস। বিআরটিএ এমনিতেই অতিরিক্ত প্রেশারে আছে। টেসলার প্রেশার নিতে পারবে না।
---
এসবের বাইরে আর কারও কোনো সাজেশন থাকলে জানাবেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করা হবে।।