Shoccholota Association

Shoccholota Association সচ্ছলতা এসোসিয়েশন একটি সমাজসেবা মূলক সংগঠন। Our contact number

01713-320378
01758-807077

11/05/2026

"আপনাদের স্মৃতি আর ভালোবাসার বার্তায় আলোকিত হক আগ্রযাত্রার অর্ধযুগ"
অগ্রযাত্রার শুভেচ্ছা বার্তা

পর্ব: ১৩

বার্তায় :
অনন্যা রায়
মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক
সচ্ছলতা এসোসিয়েশন।

পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায়:
সালমান ফার্সী
নাজমুস সাকিব

সার্বিক সহযোগিতায়:
মোঃ মহতাছিম বিল্লাহ রবি

💌📌শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর নির্দেশনাবলী:
📷🎥১। শুভেচ্ছা বার্তাটি অবশ্যই ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে পাঠাতে হবে (বার্তা প্রেরকের ভিডিও ফুটেজ কেবলমাত্র বার্তা হিসেবে গ্রহনযোগ্য)।
➡️বি:দ্র: তবে কোন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিলযোগ্য সেক্ষেত্রে ই-পোস্টার গ্রহনযোগ্য হবে।
📲📧২। পোস্টারে প্রদত্ত ই-মেইল অথবা সচ্ছলতা এসোসিয়েশন এর অফিশিয়াল পেইজের ম্যাসেজ ঠিকানায় শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতে হবে।
⏰৩। শুভেচ্ছা বার্তার ভিডিওটি ১-৩ মিনিটের মধ্যে হতে হবে।
📷৪। ক্যামেরার ল্যান্ডস্কেপে শুভেচ্ছা বার্তার ভিডিও ফুটেজ নিতে হবে।
শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর ঠিকানা (গুগল ফর্ম লিংক): https://forms.gle/rRjLURVGUMQmB4em7

03/05/2026

"আপনাদের স্মৃতি আর ভালোবাসার বার্তায় আলোকিত হক আগ্রযাত্রার অর্ধযুগ"
অগ্রযাত্রার শুভেচ্ছা বার্তা

পর্ব: ১২

বার্তায় :
ড.ফারুকুর রহমান ফয়সল
জেলা কালচারাল অফিসার, রাজশাহী।

পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায়:
সালমান ফার্সী
নাজমুস সাকিব

সার্বিক সহযোগিতায়:
মোঃ মহতাছিম বিল্লাহ রবি
💌📌শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর নির্দেশনাবলী:
📷🎥১। শুভেচ্ছা বার্তাটি অবশ্যই ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে পাঠাতে হবে (বার্তা প্রেরকের ভিডিও ফুটেজ কেবলমাত্র বার্তা হিসেবে গ্রহনযোগ্য)।
➡️বি:দ্র: তবে কোন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিলযোগ্য সেক্ষেত্রে ই-পোস্টার গ্রহনযোগ্য হবে।
📲📧২। পোস্টারে প্রদত্ত ই-মেইল অথবা সচ্ছলতা এসোসিয়েশন এর অফিশিয়াল পেইজের ম্যাসেজ ঠিকানায় শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতে হবে।
⏰৩। শুভেচ্ছা বার্তার ভিডিওটি ১-৩ মিনিটের মধ্যে হতে হবে।
📷৪। ক্যামেরার ল্যান্ডস্কেপে শুভেচ্ছা বার্তার ভিডিও ফুটেজ নিতে হবে।
শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর ঠিকানা (গুগল ফর্ম লিংক): https://forms.gle/rRjLURVGUMQmB4em7

আজ মহান মে দিবস। এই দিনটিকে বলা হয় মেহনতি মানুষের বিজয়ের দিন, আনন্দ ও সংহতি প্রকাশের দিন এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দো...
01/05/2026

আজ মহান মে দিবস। এই দিনটিকে বলা হয় মেহনতি মানুষের বিজয়ের দিন, আনন্দ ও সংহতি প্রকাশের দিন এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অনুপ্রেরণার দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনে শিকাগোর হে মার্কেট দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মসময় ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত শ্রমিকদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রতিবছর দিবসটিকে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সচ্ছলতা এসোসিয়েশন এর পক্ষ হতে পৃথিবীর প্রতিটি মেহনতি ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও অকৃত্রিম ভালোবাসা

26/04/2026

"আপনাদের স্মৃতি আর ভালোবাসার বার্তায় আলোকিত হক আগ্রযাত্রার অর্ধযুগ"
অগ্রযাত্রার শুভেচ্ছা বার্তা

পর্ব: ১১

বার্তায় :
শাইখ তাসনীম জামাল
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
সূর্যকিরণ সমাজকল্যাণ সংস্থা

পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায়:
সালমান ফার্সী
নাজমুস সাকিব

সার্বিক সহযোগিতায়:
মোঃ মহতাছিম বিল্লাহ রবি
💌📌শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর নির্দেশনাবলী:
📷🎥১। শুভেচ্ছা বার্তাটি অবশ্যই ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে পাঠাতে হবে (বার্তা প্রেরকের ভিডিও ফুটেজ কেবলমাত্র বার্তা হিসেবে গ্রহনযোগ্য)।
➡️বি:দ্র: তবে কোন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিলযোগ্য সেক্ষেত্রে ই-পোস্টার গ্রহনযোগ্য হবে।
📲📧২। পোস্টারে প্রদত্ত ই-মেইল অথবা সচ্ছলতা এসোসিয়েশন এর অফিশিয়াল পেইজের ম্যাসেজ ঠিকানায় শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতে হবে।
⏰৩। শুভেচ্ছা বার্তার ভিডিওটি ১-৩ মিনিটের মধ্যে হতে হবে।
📷৪। ক্যামেরার ল্যান্ডস্কেপে শুভেচ্ছা বার্তার ভিডিও ফুটেজ নিতে হবে।
শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর ঠিকানা (গুগল ফর্ম লিংক): https://forms.gle/rRjLURVGUMQmB4em7

বিশ্ব ধরিত্রী দিবস আজ: ইতিহাস ও তাৎপর্যপৃথিবী একটি চমৎকার স্থান, মানবজাতির টিকে থাকার জন্য এর সাহায্যের প্রয়োজন। এ কারণ...
22/04/2026

বিশ্ব ধরিত্রী দিবস আজ: ইতিহাস ও তাৎপর্য

পৃথিবী একটি চমৎকার স্থান, মানবজাতির টিকে থাকার জন্য এর সাহায্যের প্রয়োজন। এ কারণে প্রতি বছর ২২ এপ্রিল ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ ধরিত্রী দিবস পালন করেন।

দূষণ ও বন উজাড়ের মতো ক্ষতিকর বিষয়গুলো থেকে গ্রহটিকে রক্ষা করাই এই দিবসের মূল লক্ষ্য।
ধরিত্রী দিবস প্রথম পালিত হয়েছিল ১৯৭০ সালে।

সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের একজন সিনেটর পরিবেশগত সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে একটি জাতীয় সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন। পুরো দেশজুড়ে এই সমাবেশ ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই বছরের শেষের দিকেই মার্কিন সরকার এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা) গঠন করে।

১৯৯০ সালের মধ্যে ধরিত্রী দিবস বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে উদযাপিত একটি বড় আয়োজনে পরিণত হয়।
প্রতি বছর ২২ এপ্রিল পালিত হওয়া ধরিত্রী দিবস এখন বিশ্বের বৃহত্তম পরিবেশ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যা ১৯৩টি দেশের ১০০ কোটিরও বেশি মানুষকে একত্রিত করে।

এটি কেবল উদযাপনের দিন নয়, বরং সচেতনতা, সক্রিয়তা এবং শিক্ষারও একটি দিন, যা গ্রহের প্রতি নীতি পরিবর্তন এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ব– উভয়কেই উৎসাহিত করে। ১৯৭০ সালে একটি ছোট তৃণমূল উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া ধরিত্রী দিবস এখন একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক আহ্বানে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রতি বছর এটি মানুষকে এই গ্রহের সৌন্দর্য ও নাজুক অবস্থার কথা মনে করিয়ে দেয়; একইসঙ্গে গ্রহটিকে রক্ষার জন্য ছোট বা বড় অর্থবহ পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করে।
ধরিত্রী দিবসের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। আর এই প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও বন উজাড় থেকে শুরু করে দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি পর্যন্ত– পৃথিবী আজ নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে। তবুও এই দিনটি আশার আলো বহন করে। এটি সম্মিলিত পদক্ষেপের একটি মুহূর্ত হিসেবে কাজ করে এবং ব্যক্তি, সম্প্রদায় ও সরকারকে একত্রিত হয়ে প্রাকৃতিক বিশ্বকে রক্ষার অঙ্গীকার করার সুযোগ করে দেয়।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের শক্তি, আমাদের গ্রহ’।

ধরিত্রী দিবস পালনের শুরুটা হয়েছিল ১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে। সেটি এমন একটি সময় ছিল যখন পরিবেশগত উদ্বেগগুলো জনমনে জায়গা করে নিতে শুরু করলেও কোনো ঐক্যবদ্ধ জাতীয় প্ল্যাটফর্ম ছিল না। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গেলর্ড নেলসন। ১৯৬৯ সালের সান্তা বারবারা তেল নিঃসরণের ভয়াবহ প্রভাব দেখে তিনি একটি বড় জনবিক্ষোভ বা সমাবেশ সৃষ্টির অনুপ্রেরণা পান।

১৯৭০ সালের ২২ এপ্রিল প্রায় দুই কোটি আমেরিকান–যাদের মধ্যে শিক্ষার্থী, কর্মী ও সাধারণ নাগরিকরা ছিলেন–পরিবেশের প্রতি অবহেলা প্রতিবাদে এবং গ্রহের জন্য শক্তিশালী সুরক্ষার দাবিতে রাস্তা, পার্ক ও শিক্ষাঙ্গনগুলোতে নেমে আসেন। এটি একটি গণপরিবেশ আন্দোলন হিসেবে ধরিত্রী দিবসের জন্ম দেয়। সেই প্রথম আয়োজনের গতিবেগ যুক্তরাষ্ট্রে একটি মাইলফলক হিসেবে পরিবেশগত আইন প্রণয়নে সাহায্য করেছিল। এর মধ্যে রয়েছে– মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইউনাইটেড স্টেটস এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি) গঠন এবং ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট ও ক্লিন ওয়াটার অ্যাক্টের মতো আইন।

১৯৯০ সালের মধ্যে ধরিত্রী দিবস যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা ছাড়িয়ে একটি বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়, যা ১৪০টিরও বেশি দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষকে সক্রিয় করে তোলে। বর্তমানে এটি আর্থডে.ওআরজি (EARTHDAY.ORG) দ্বারা পরিচালিত হয় এবং ১৯০টিরও বেশি দেশে পালিত হয়, যা একে বিশ্বের বৃহত্তম নাগরিক অনুষ্ঠানে পরিণত করেছে।

20/04/2026

"আপনাদের স্মৃতি আর ভালোবাসার বার্তায় আলোকিত হক আগ্রযাত্রার অর্ধযুগ"
অগ্রযাত্রার শুভেচ্ছা বার্তা

পর্ব: ১০

বার্তায় :
অনুজ রায়
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক
সচ্ছলতা এসোসিয়েশন

পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায়:
সালমান ফার্সী
নাজমুস সাকিব

সার্বিক সহযোগিতায়:
মোঃ মহতাছিম বিল্লাহ রবি
💌📌শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর নির্দেশনাবলী:
📷🎥১। শুভেচ্ছা বার্তাটি অবশ্যই ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে পাঠাতে হবে (বার্তা প্রেরকের ভিডিও ফুটেজ কেবলমাত্র বার্তা হিসেবে গ্রহনযোগ্য)।
➡️বি:দ্র: তবে কোন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিলযোগ্য সেক্ষেত্রে ই-পোস্টার গ্রহনযোগ্য হবে।
📲📧২। পোস্টারে প্রদত্ত ই-মেইল অথবা সচ্ছলতা এসোসিয়েশন এর অফিশিয়াল পেইজের ম্যাসেজ ঠিকানায় শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতে হবে।
⏰৩। শুভেচ্ছা বার্তার ভিডিওটি ১-৩ মিনিটের মধ্যে হতে হবে।
📷৪। ক্যামেরার ল্যান্ডস্কেপে শুভেচ্ছা বার্তার ভিডিও ফুটেজ নিতে হবে।
শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর ঠিকানা (গুগল ফর্ম লিংক): https://forms.gle/rRjLURVGUMQmB4em7

বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ বাঙালি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দিনটি শুধু নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের শুরু। এর মধ্...
13/04/2026

বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ বাঙালি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দিনটি শুধু নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের শুরু। এর মধ্য দিয়েই আসে নতুন সকাল, নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা; গড়ে ওঠে প্রকৃতি-মানুষের মেলবন্ধন।

বৈশাখের উল্লেখ পাওয়া যায় প্রাচীন যুগে বিদুষী নারী ও জ্যোতির্বিদ খনার বচনেও। তার রচিত কৃষি, জ্যোতির্বিদ্যা ও আবহাওয়াভিত্তিক লোকছড়া অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে রচিত বলে ধারণা করা হয়।

‘মাঘে মুখী, ফালগুনে চুখি, চৈতে লতা, বৈশাখে পাতা’।

‘বৈশাখের প্রথম জলে, আশুধান দ্বিগুণ ফলে’।

এই অঞ্চলের কৃষকের জন্য বাংলা দিনপঞ্জির প্রথম মাস বৈশাখ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার প্রমাণ পাওয়া যায় খনার বচন থেকেই। এখনো দেশের অনেক কৃষক বাংলা তারিখ অনুযায়ী বীজ বোনেন, ফসল কাটেন এবং জীবনঘনিষ্ঠ হিসাব-নিকাশ নির্ধারণ করেন।

বাংলা সনের প্রবর্তনে দুই মুসলিম শাসকের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—সুলতান হোসেন শাহ ও মোগল সম্রাট আকবর। তবে অধিকাংশ গবেষকের মতে, আকবরই বাংলা সনের প্রধান প্রবর্তক।

কৃষির সুবিধার্থে আকবরের নির্দেশনায় পণ্ডিত ফতেহ উল্লাহ সিরাজী সৌর সন ও আরবি হিজরি সালের সমন্বয়ে বাংলা সন প্রণয়ন করেন। প্রথমে এর নাম ছিল ‘ফসলি সন’; পরে তা ‘বঙ্গাব্দ’ বা বাংলা সন নামে পরিচিতি পায়।

কেউ কেউ মনে করেন, গৌড়েশ্বর রাজা শশাঙ্কের আমলেই বাংলা পঞ্জিকার সূচনা। তখন খাজনা আদায় হতো চন্দ্রবর্ষ অনুযায়ী, অথচ কৃষিকাজ নির্ভর করত সৌরবর্ষের ওপর।

ফলে চৈত্রের শেষ দিনে খাজনা পরিশোধের পর পহেলা বৈশাখে জমিদারেরা মিষ্টান্ন দিয়ে প্রজাদের আপ্যায়ন করতেন। সেখান থেকেই শুরু হয় নববর্ষ উদযাপনের প্রথা, যা ক্রমে সামাজিক উৎসবে রূপ নেয়।

আকবরের চালু করা ফসলি সনের এই রেওয়াজ ‘হালখাতা’ হিসেবেও পরিচিত। ফারসি শব্দযুগল ‘হালখাতা’ বলতে নতুন খাতা বোঝায়। এর মাধ্যমে সাধারণত পুরোনো খাতার পুরোনো হিসাব পরিশোধ করে নতুন খাতায় নতুন হিসাব তোলা হয়।

বলা যায়, বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাংলা নববর্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সমতলে যেমন নববর্ষ উদযাপিত হয়, তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রামে ছোট ছোট জাতিগোষ্ঠীও এই দিনে ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে।

ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুব বা বাইসু, মারমাদের কাছে সাংগ্রাই ও চাকমা-তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে বিজু নামে পরিচিত। এটিও তাদের বর্ষবরণ। এসব শব্দের আদ্যাক্ষর নিয়ে সংক্ষেপে এ একত্রে ‘বৈসাবি’ উৎসব বলা হয়।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের সমাপ্তি হলে এই অঞ্চলে সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের শাসনের অধীনে গেলে প্রথম আঘাত আসে ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর।

ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হলেও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের কারণে পূর্ব বাংলার বাঙালির নিজস্ব ঐতিহ্যচেতনা প্রবল হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলা নববর্ষ হয়ে ওঠে সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের এক শক্তিশালী প্রতীক।

১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করলে বাংলা নববর্ষকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপনের উদ্যোগের পাশাপাশি দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। যদিও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক শাসনের কারণে এই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়। তবুও বাঙালির জাতীয় চেতনা দমে যায়নি।

১৯৫৪ সালের পহেলা বৈশাখের দিনে তৎকালীন পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হক যে বাণী দিয়েছিলেন তাতে তিনি বলেন: ‘আজ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। এই উপলক্ষে আমি আমার একান্ত প্রিয় পূর্ব্ববঙ্গবাসীদিগকে জানাইতেছি আন্তরিক অভিনন্দন। আর তাহাদের পক্ষ হইতে পশ্চিম পাকিস্তানের ভ্রাতৃবৃন্দকে জানাইতেছি প্রীতি ও ভালোবাসা এবং বহির্ব্বিশ্বের জনসাধারণকে শুভেচ্ছা। নূতন পরিবেশে আমাদের যাত্রা হইল শুরু। পুরাতনকে পশ্চাতে ফেলিয়া নবযুগ প্রবর্ত্তনের সঙ্কল্প লইয়া আমরা নববর্ষে পদার্পণ করিলাম।’

সেই বছর ১৪ এপ্রিল দৈনিক আজাদে এই বাণী প্রকাশিত হয়।

ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ববঙ্গে যে জাগরণ তৈরি হয়, তা ঢাকাকেন্দ্রিক বাঙালিত্বের ধারণাকে শক্তিশালী করে এবং এটি ক্রমে একটি উদার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের রূপ নেয়। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অন্তর্ভুক্ত। এই উদারতা নববর্ষ উদযাপনেও প্রতিফলিত হয়। বাংলা পঞ্জিকা সংস্কারের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটে।

অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক এক প্রবন্ধে জানান—ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি বাংলা মাসের দিনসংখ্যা নির্ধারণসহ একটি সুসংহত কাঠামো তৈরি করে। পরে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে ১৯৯৫ সালে সংস্কার কার্যকর হলে বঙ্গাব্দ ও খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে স্থায়ী সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ, রবীন্দ্রজয়ন্তী ও নজরুলজয়ন্তী প্রতিবছর একই খ্রিষ্টীয় তারিখে উদযাপিত হচ্ছে।

১৯৫২ সালের ১৪ এপ্রিল দৈনিক আজাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়: ‘বাংলা তারিখ গণনাকে আমরা অনেকেই প্রায় ভুলে যেতে বসেছিলাম। ইংরাজের অধীনে থেকে থেকে ইংরেজি আদব কায়দা রফত করার সাথে সাথে আরও অনেক কারণে বাধ্য হয়েই ইংরেজি সনকে আমরা দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হয়েছিলাম।’

‘বাংলা সন মাস কালের অনুসন্ধান গ্রাম্য পণ্ডিতদের পাঁজি পুঁথির ভেতরেই প্রায় সীমাবদ্ধ হতে চলেছিল। কিন্তু এর পিছনে আমাদের যে অন্তরের যোগ, তা কিছুতেই মুছে যাবার নয়। মনের মাঝে উঁকি দেয় বাংলা মাসগুলোর আগমনবার্তা। কিন্তু নতুন বছর কেবল এই দিক দিয়েই নতুন নয়।’

এতে আরও বলা হয়: ‘বাংলা ইংরেজি যে কোনো মাসই হোক না কেন, তার প্রথম দিনটিতে আমাদের মনপ্রাণ ভরে দেয় নতুন উৎসাহ, নতুন উদ্দীপনা।’

পহেলা বৈশাখ বাঙালির জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। পৃথিবীর যেখানেই বাঙালির বসবাস, সেখানেই নববর্ষ উদযাপিত হয়। ভোরের প্রথম প্রহরে উচ্চারিত হয়—‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’।

ঐতিহ্যবাহী পোশাক—পাঞ্জাবি, শাড়ি, গামছা, ফতুয়া—এই উৎসবকে দেয় স্বাতন্ত্র্য। নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা, কুস্তি, হাডুডু—এসব খেলাধুলায় বাঙালির সংস্কৃতির পরিচয় স্পষ্ট।

কৃষিনির্ভর সমাজে ধাঁধা, প্রবাদ, লোকগান ও পালাগান বাঙালির জীবনবোধকে সমৃদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দীনেশচন্দ্র সেন, জসীমউদ্দীনসহ অনেকেই এই লোকসংস্কৃতির ধারাকে লালন করেছেন। ঢাকার রমনার বটমূলে নববর্ষ উদযাপন এখন এক প্রধান সাংস্কৃতিক আয়োজন।

১৯৮৯ সাল থেকে চারুকলার শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শুরু হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা (বর্তমানে বৈশাখী শোভাযাত্রা) এই উৎসবকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। একসময় গ্রামবাংলায় বৈশাখী মেলা ছিল অন্যতম আকর্ষণ। পুতুলনাচ, সার্কাস, বায়োস্কোপ, পালাগান, কীর্তন, নৌকাবাইচ—সব মিলিয়ে ছিল উৎসবের আমেজ। মেলায় পাওয়া যেত পিঠা, বাতাসা, কদমা, মুড়কি-মোয়া ও নানা কারুপণ্য।

আজও অনেক জায়গায় এই ঐতিহ্য টিকে আছে।

কবিতায় বৈশাখ নানা রূপে ধরা দিয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন সৃষ্টির যে ধারণা উঠে এসেছে, তা বৈশাখের রুদ্র রূপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কবির ভাষায়, ‘ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!...’

এ ছাড়াও, জাতীয় কবির ‘কালবৈশাখী’ কবিতায় এর ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ রূপ, ফররুখ আহমদের ‘বৈশাখের কালো ঘোড়া’-য় শক্তির প্রতীক, আর জীবনানন্দ দাশের কবিতায় বৈশাখ প্রকৃতির নির্মলতার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।

রাষ্ট্রচিন্তক আবুল মনসুর আহমদ বলেন, ‘বহুদর্শনের ফলে শহরবাসীর এই যে মনের বিকাশ ও দৃষ্টির প্রসারতা, এটা তারা লাগাইতে চায় নিজের সমাজের ও দেশের কাজে। অপরের দেখাদেখি নিজের লোককে ভাল করিয়া তুলিবার প্রবল ইচ্ছা জাগে তাদের অন্তরে। তারা হইয়া উঠে রিফর্মিস্ট। তারা নিজেদের চাল-চলনে, আচার-ব্যাবহারে, ঈদে-পার্বণে, এমনকি ধর্ম বিশ্বাসে, এক কথায় নিজেদের কালচারে, সংস্কার প্রবর্তন করিয়া সেটাকে করিতে চায় অধিকতর ভব্য, শালীন সুন্দর। (বাংলাদেশের কালচার)’

নববর্ষে গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে সংস্কৃতির নিবিড় সংযোগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নতুন পোশাক, বাড়ি পরিষ্কার, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা—সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে মিলনমেলা।

নানা জাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থানে গড়ে ওঠা এই সংস্কৃতি বাঙালিদের একসূত্রে বেঁধে রাখে। তবে উৎসব আনন্দের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্বও ভুলে গেলে চলবে না। গ্রামে এখনো অনেক মানুষ দারিদ্র্যপীড়িত। তাই নববর্ষের এই আনন্দে সচ্ছলদের উচিত অসচ্ছলদের পাশে দাঁড়ানো—এটাই হোক বাঙালির বৈশাখের সত্যিকারের চেতনা।

আজ সেই ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস। সভ্যতার ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে স্বাধীনতাকামী বাংল...
24/03/2026

আজ সেই ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস। সভ্যতার ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত ও নৃশংসতম গণহত্যার দিন। এ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট' করে, অসীম সাহসী করে তোলে, সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ও প্রাণ উৎসর্গ করতে উজ্জীবিত করে। শুরু হয়ে যায় সশস্ত্র প্রতিরোধ ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস পর লাখ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় গৌরবময় বিজয়। তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর বর্বরতা, অন্যদিকে জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবগাথা ও বীরত্ব সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে হবে। হতে হবে অনুপ্রাণিত। সচ্ছলতা এসোসিয়েশন এর পক্ষ হতে ভয়াল কালো রাত্রিতে আত্মদান কারী সকলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

" নতুন জামা আর ভালো খাবারের আনন্দ কেবল নিজের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে, চলুন ছড়িয়ে দেই তাদের মাঝে—যাদের কাছে ঈদ মানেই দীর্...
21/03/2026

" নতুন জামা আর ভালো খাবারের আনন্দ কেবল নিজের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে, চলুন ছড়িয়ে দেই তাদের মাঝে—যাদের কাছে ঈদ মানেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা। সেবাই হোক এবারের ঈদের প্রতিজ্ঞা। "

মোঃ রাকিবুল ইসলাম,
দপ্তর সম্পাদক, সচ্ছলতা এসোসিয়েশন।

" পবিত্র ঈদুল ফিতরের এই দিনে প্রার্থনা করি, পৃথিবীর প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদ ও হাসি-খুশি থাকে। আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ...
21/03/2026

" পবিত্র ঈদুল ফিতরের এই দিনে প্রার্থনা করি, পৃথিবীর প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদ ও হাসি-খুশি থাকে। আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা যেন কেবল উৎসবেই সীমাবদ্ধ না থাকে।"

আবদুল্লাহ আল খাবির
সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, সচ্ছলতা এসোসিয়েশন

Address

Rajshahi

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shoccholota Association posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Shoccholota Association:

Share