27/05/2026
পবিত্র ঈদুল আযহা সমাগত। আমিত্ব ও অহংকার বিসর্জন কুরবানির মূল শিক্ষা হলো নিজের ভেতরের পশুত্ব, অহংকার, লোভ ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করা। হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু (সন্তান) কুরবানি করতে প্রস্তুত ছিলেন। এই আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে জাগতিক মোহ ও আত্মস্বার্থ বিসর্জন দিলে তবেই প্রকৃত মানবিক জীবন গড়ে ওঠে। কুরবানির উদ্দেশ্য কেবল রক্তপাত বা মাংস বিতরণ নয়, এর আসল লক্ষ্য হলো আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আত্মসমর্পণ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে পশুর মাংস বা রক্ত কিছুই পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় বান্দার মনের তাকওয়া বা খোদাভীতি। পরোপকার ও ভ্রাতৃত্ববোধ কুরবানির পশুর মাংস আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়। এটি সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করে। ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য ও দূরত্ব ঘুচিয়ে পারস্পরিক ভালোবাসার সেতুবন্ধন তৈরি করার মাধ্যম হলো কুরবানি।ত্যাগ ও ধৈর্যের অনুশীলনপার্থিব জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ধৈর্য ও তিতিক্ষার প্রয়োজন হয়। কুরবানির শিক্ষা আমাদের শেখায় কীভাবে জীবনের কঠিন মুহূর্তেও সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে নিজের স্বার্থ ত্যাগ করতে হয়।কুরবানির এই ত্যাগের চেতনা যখন ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হয়, তখনই হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত একটি শান্তিময় ও মানবিক সমাজ গঠন সম্ভব হয়। সচ্ছলতা এসোসিয়েশন এর পক্ষ হতে সকলকে জানাই পবিত্র ইদ উল আজহার শুভেচ্ছা।