05/06/2023
রাজশাহীতে পরিবেশ দিবস ২০২৩ উদযাপিত
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে আশ্রয়ের বাস্তবায়নাধীন সাস্টেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্টের (এসইপি) পরিবেশ ক্লাবের আয়োজনে রাজশাহীর পবা উপজেলায় আশ্রয়ের ফাউন্ডিং অফিসে নানান কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে আজ (০৫-০৬-২০২৩) বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৩ পালিত হয়।
এবারে প্রতিপাদ্য, সবাই মিলে করি পণ, বন্ধ হবে প্লাস্টিক দূষণ।
দিবসটি প্রথমে সেমিনারের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়। পরে পরিবেশ ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে র্যালির আয়োজন করা হয়, যা আশ্রয়ের ফাউন্ডিং অফিস চত্বর প্রদক্ষিণ করে। এরপর বৃক্ষরোপণের মধ্যে দিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৩ এর কার্যক্রম শেষ হয়।
এইসময় উপস্থিত ছিলেন পরিচালক মাইক্রোফিন্যান্স মো কামরুজ্জামান, এসইপি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন, পরিবেশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরাফাত ইসলাম, ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তা সৈয়দ তানভীর ইসলাম, টেকনিক্যাল কর্মকর্তা সাদ আহমদ, ফিন্যান্স এন্ড প্রকিউরমেন্ট কর্মকর্তা কাইসার আহমেদ সহ সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট এর ক্লাবের সদস্যবৃন্দ।
এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আশ্রয়ের উপ-পরিচালক মো: জসিম উদ্দিন, উপ-পরিচালক মো: মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র কর্মকর্তা মো: হেলাল, হিসাব কর্মকর্তা মীর শাহাবাজ আলী, মনিটরিং কর্মকর্তা মো: আজিজুল আলম সহ প্রমুখ।
খরাপ্রবণ বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে টেকসই মাছ চাষ সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য এসইপি প্রকল্প থেকে প্রায় ৩০০০ এর মত মাছচাষী আর্থিক সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির উপর প্রদর্শনী গ্রহন সহ নানান সহযোগিতা গ্রহন করেছে। এছাড়াও, প্রযুক্তি-সক্ষম ভ্যলু চেইন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এ পর্যন্ত ৫০ এর অধিক মাছচাষী ক্রেতা পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নিয়েছে। চাষীর সাথে চাষীদের যোগাযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে একে অপরের কাছ থেকে সদ্য উৎপাদিত পণ্য সংগ্রহ করতে পারে। প্রকল্প থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা, প্রস্তুতকারক এবং রপ্তানিকারক কৃষকের সাথে কাজ করা হচ্ছে যাতে একাধিক মধ্যস্থতাকারীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রতিযোগিতামূলক মার্কেটে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়।
ইতিমধ্যে, মাছের বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর খড়খড়ি মাছের আড়তের পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছে। ফলস্রুতিতে আড়তটিতে প্রতিদিন ৩০-৪০ টন মাছ উঠানামা করছে। বেচাকেনার সুষ্ঠু পরিবেশ ও তাজামাছ সরবরাহ করায় চাষীগণ ন্যায্য দাম পাচ্ছে। দেশের প্রথম ওয়েব ইন্টারফেজ প্লাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ মৎস্য পণ্যকে ক্রেতা পর্যায়ে পৌছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। যাতে করে মধ্যস্থাভোগীর দৌরাত্ন থেকে মুক্তি পাবে, পাশাপাশি লাভের পুরো অংশ ভোগ করবে। প্রকল্প চলাকালীন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য খাতকে টেকসই রুপদানের লক্ষ্যে আধুনিক ও জলবায়ু সহনীয় প্রযুক্তি যেমন নদীর পেনে মাছ চাষ, বটমক্লিন পদ্ধতিতে মাছ চাষ, খাচায় মাছ চাষ, নদীর কোলে মাছ চাষ এবং পুকুর পাড়ে জলবায়ু সহনীয় শাক সবজি চাষে পুকুরের ইকোসিস্টেমকে পুনরুদ্ধারের ফলে চাষী পর্যায়ে সফলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।
এসইপি প্রকল্পটি মাছ চাষের টেকসই প্রযুক্তির প্রসারের অংশ হিসেবে অ্যাকুয়াকালচারের বিভিন্ন প্রযুক্তির উপর প্রদর্শনী যেমন সামুদ্রিক শৈবাল স্পিরুলিনা চাষ, কার্প জাতীয় মাছের সাথে ঝিনুক (মুক্তা) চাষ, বটম ক্লিন পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রদর্শনী প্রদানের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে।