Varendra Youth Forum

Varendra Youth Forum শিক্ষা-সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য সুরক্ষায় আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
- বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম
(1)

Urgent Action Needed to Protect Rajshahi’s Rivers and Communities from PollutionRajshahi, Bangladesh | 8 September 2026K...
08/09/2026

Urgent Action Needed to Protect Rajshahi’s Rivers and Communities from Pollution

Rajshahi, Bangladesh | 8 September 2026

KEY MESSAGE
Civil society organizations, river-dependent communities, fishers, researchers and environmental activists in Rajshahi are calling for urgent, coordinated and accountable action to stop pollution and encroachment of the Swarmangala, Barahi, Nabaganga and Barnai rivers.

The rivers and their connected wetlands are facing growing pressure from untreated liquid and solid waste, including municipal, medical and industrial waste, reportedly discharged through urban drainage systems. This pollution is affecting aquatic biodiversity, fisheries, agriculture and the livelihoods of communities dependent on rivers and wetlands.

Downstream wetlands including Sapmara, Bokmari, Bhugaroil, Paiker and Barabaria Beels are reported to be experiencing polluted water accumulation and prolonged waterlogging. The use of contaminated water in agriculture raises concerns about soil degradation and the potential accumulation of harmful substances in crops, creating risks for safe food production and food security.

Riverside communities have also reported health concerns associated with contact with polluted water and foul odors. Fishers and low-income households are particularly exposed to the livelihood impacts, making river pollution a matter of environmental justice, public health and human rights, not only an ecological concern.

The human chain was organized at Nawhata Bridge on 8 September by the Varendra Youth Forum, Green Coalition, Nawhata Fishermen’s Cooperative Society and Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge (BARCIK).

CALLS TO ACTION
The organizers call on national and local authorities to:

1. Immediately stop the discharge of untreated municipal, medical, industrial and other waste into rivers and wetlands.

2. Establish and operationalize modern Sewage Treatment Plants (STPs) and Effluent Treatment Plants (ETPs) and ensure mandatory ETPs for relevant industries, hospitals, clinics and commercial establishments.

3. Establish independent and community-based pollution monitoring, with public disclosure of monitoring results and effective penalties for polluters.

4. Protect and restore river and wetland ecosystems by preventing encroachment, illegal filling and direct drainage connections.

5. Conduct independent water and soil quality assessments in affected rivers and wetlands and make the findings publicly available.

6. Develop a participatory River and Wetland Restoration Master Plan involving affected communities, fishers, farmers, youth, environmental organizations and technical experts.

A memorandum was subsequently submitted through the Rajshahi District Administration to the Prime Minister and relevant authorities.

The organizers urge immediate action to restore the ecological integrity of Rajshahi’s rivers and wetlands and safeguard public health, livelihoods, food security and the rights of present and future generations.

More Details link in Comments:

জনস্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ ন্যায়বিচার নিশ্চিতে রাজশাহীর বারাহী, নবগঙ্গা ও বারনই নদীর দূষণ বন্ধের দাবিরা...
08/09/2026

জনস্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ ন্যায়বিচার নিশ্চিতে রাজশাহীর বারাহী, নবগঙ্গা ও বারনই নদীর দূষণ বন্ধের দাবি

রাজশাহী, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি.

রাজশাহীর পদ্মা থেকে উৎসারিত নবগঙ্গা, বারাহী, স্বরমঙ্গলা নদী ও বারনই নদী দখল দূষন বন্ধসহ কতিপয় দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নওহাটা ব্রীজ এলাকায় বারনই নদীপাড়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন নবগঙ্গা, বারাহী ও বারনই নদীপাড়ের মানুষ, জেলে, মৎস্যজীবী, নদী গবেষক, সামাজিক আন্দোলনকর্মী, পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বরেন্দ্র অঞ্চলের যুব, পরিবেশবাদী, সেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহের বৃহৎ ঐক্য বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম, গ্রিন কোয়ালিশন, নওহাটা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ও উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) যৌথভাবে এই কর্মসূচীর আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজশাহী নগরের বিভিন্ন ড্রেন ও নালা দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত তরল ও কঠিন বর্জ্য (মেডিকেল বর্জ্যসহ) স্বরমঙ্গলা নদী, বারাহী নদী, নবগঙ্গা নদীর মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে বারনই নদীতে গিয়ে পড়ছে। নগরের বিষাক্ত তরল ও কঠিন বর্জ্য নিম্নাঞ্চলে জমা হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করছে সাপমারার বিল, বকমারি বিল, ভূগরোইল বিল, পাইকরের বিল, বড়বাড়িয়া বিল ও কর্ণহার বিল। হাজার হাজার হেক্টর এসব বিল দীর্ঘদিন ধরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও প্রাকৃতিক বাস্তুন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, দূষিত পানি জমে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, জলজ উদ্ভিদ ও মাছের উৎপাদন কমে গেছে এবং বিলের পানি কৃষিজমিতে প্রবেশ করছে। এই দূষিত পানি দিয়ে চাষাবাদ চলতে থাকায় মাটির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে এবং ফসলে ভারীধাতুসহ ক্ষতিকর উপাদান জমার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে চর্মরোগ, পানিবাহিত রোগ ও দুর্গন্ধজনিত শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে মৎস্যজীবী ও কৃষকসহ নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী দূষণের সরাসরি প্রভাব বহন করছে, যা পরিবেশগত ন্যায়বিচারের প্রশ্নও উত্থাপন করছে। এই পরিস্থিতি কেবল একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবনের প্রশ্ন। দূষিত পানির নিম্নপ্রবাহ আত্রাই নদী হয়ে নাটোর জেলার চলন বিল পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য মারাত্বক হুমকি।

নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, গঙ্গা/পদ্মা থেকে উৎসারিত এই নদীগুলো একসময় ছিল স্বাভাবিক প্রবাহ ও প্রাণবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। বর্তমানে এসব নদীর পানি কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে, তলদেশে পলি ও প্লাস্টিক জমে প্রাকৃতিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে এবং মাছসহ জলজ প্রাণের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। স্থানীয় জেলেরা আয় হারাচ্ছেন এবং নদীর স্বাভাবিক পরিবেশগত চরিত্র নষ্ট হচ্ছে। রাজশাহীতে অবিলম্বেই কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

নদীপাড়ের বাসিন্দা শ্রীমতি সুভদ্রা রানী হালদার বলেন- “এই নদীর পানি গায়ে ঠেকলেই সেখানে নানা রকম চর্মরোগ হয়। তিনি তার হাতের ঘা দেখিয়ে বলেন, “এই পানিতে নামার ফলে হাতে ঘা হয়ে গেছে অনেকদিন হচ্ছে কিন্তু সেরে যাচ্ছে না। এখন ঔষধ দিলে একটু আরাম পাওয়া যায় তাছাড়া জ্বালা করে।”

নওহাটা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৎস্যজীবী আবু সামা বলেন, “দীর্ঘদীন ধরেই আমরা শহরের এই দূষিত পানির কথা বলে আসতেছি কিন্তু এখনো কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নি। আমরা নদীপাড়ের মানুষ আমরা এই সমস্যার সমাধান চাই।”

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো, আতিকুর রহমান বলেন, “কোন রকম বর্জ্য পরিশোধন ছাড়াই নগরীর তরল দূষিত বর্জ্য, মেডিকেল বর্জ্য, কলকারখানার বর্জ্য বিভিন্ন ড্রেনের মাধ্যমে বারাহী ও নবগঙ্গা নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বারনই নদীতে পড়ছে। ফলে এই নদীগুলোতে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এখানকার মাছ ও জলজবাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এই দূষিত পানি বিভিন্ন বিলের কৃষিজমিতে প্রবেশ করছে ফলে কৃষি উৎপাদন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন মারাত্বক হুমকির মুখে পড়ছে। অবিলম্বেই রাজশাহীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

পবা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাজমুল ইসলাম বলেন, “নওহাটা পৌরসভার বর্জ্য সরাসরি এই নদীতে ফেলা হচ্ছে। এভাবে রাজশাহীর বিভিন্ন পৌরসভার বর্জ্যও সরাসরি নদীতে ফেলা হয়। এগুলো বন্ধ করতে হবে। মনিটরিং ব্যবস্থা আরো উন্নত করতে হবে এবং কমিউনিটি ভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”

নওহাটার দেবেন হালদার বলেন, “আমরা আমাদের জীবীকা ফেরত চাই। মাছ ধরেই আমাদের জীবন চলে কিন্তু এই দূষণের ফলে আজ নদীতে মাছ নেই।”

গ্রিন কোয়ালিশন পবা উপজেলার সভাপতি রহিমা খাতুন মানববন্ধন থেকে ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো- পদ্মা থেকে উৎসারিত স্বরমঙ্গলা নদী, বারাহী নদী, নবগঙ্গা এবং বারনই নদীগুলোর সিমানা চিহ্নিত করে অবিলম্বে দখল-দূষণমুক্ত করতে হবে; রাজশাহী নগরের তরল ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে আধুনিক “সিউয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ঝঞচ)”, “ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ঊঞচ)” স্থাপন ও কার্যকর করতে হবে; সকল শিল্পকারখানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ঊঞচ) নিশ্চিত ও কমিউনিটি ভিত্তিক কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। দূষণকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; বারনই, বারাহী ও নবগঙ্গা নদীসহ পদ্মা থেকে উৎসারিত অন্যান্য নদী ও সংযোগ বিলসমূহে সরাসরি অপরিশোধিত বর্জ্যবাহী ড্রেন সংযোগ, দখল-দূষণ বন্ধ করতে হবে। দখল-দূষণের উৎস শনাক্তে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে। পোল্ট্রি খামারগুলোকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে; সাপমারার বিল, বকমারি বিল, ভূগরোইল বিল, পাইকরের বিল, বড়বাড়িয়া বিলসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিল ও নদীর পানি ও মাটির গুণগত মান পরীক্ষা করে ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; নদ-নদী-বিল, পুকুর-জলাশয়-জলাধার দখল ও ভরাট বন্ধ করতে হবে এবং সমন্বিত পুনরুদ্ধার মাস্টারপ্ল্যান স্থানীয় জনগোষ্ঠী, তরুন-যুব, পরিবেশবাদী সংগঠন ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

মানববন্ধনের পরে দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি মাননীয় প্রদানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী এবং বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) ড. চিত্রলেখা নাজনীন। স্মারকলিপির অনুলিপি পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব বরাবর এবং রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এর প্রশাসক, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রেরণ করা হয়েছে।

মানব বন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, সামাজিক আন্দোলনকর্মী মাহমুদ জামাল কাদেরী, সামাজিক কল্যাণ সংস্থার রির্বাহী পরিচালক সম্রাট রায়হান, দুয়ারি হলদার পাড়ার জেলে মহির উদ্দিন, বাগধানী হলদার পাড়ার জেলে ইনতাজ আলী, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক পলি রানীসহ প্রমূখ।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা, চরমভাবাপন্ন রাজশাহীর পরিবেশ, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, ও প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষায় অবিলম্বে উত্থাপিত জনদাবীসমূহ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জোর দাবি জানান।

কৃষি ব্যবস্থা ও কৃষকের সংস্কার ছাড়া নিরাপদ খাদ্য সম্ভব নয়।নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে যেমন নিরাপদ খাদ্য বান্...
07/09/2026

কৃষি ব্যবস্থা ও কৃষকের সংস্কার ছাড়া নিরাপদ খাদ্য সম্ভব নয়।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে যেমন নিরাপদ খাদ্য বান্ধব হতে হবে। (বিদ্যমান আইন নীতিমালাগুলোর সংস্কার, কীটনাশক ও রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, অতি ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক মুক্ত বাজার, এগ্রোইকোলজি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে।)

সেইসাথে কৃষকদেরকেও বুঝতে হবে এবং বুঝাতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এগ্রোইকোলজি ও পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা ছাড়া নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে না।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার দেশের প্রথম 'জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য' ঘোষিত বিলকুমারি ও বিলজোয়ানার পাড়ে।সরকার ২০২৫ সালে...
01/09/2026

রাজশাহীর তানোর উপজেলার দেশের প্রথম 'জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য' ঘোষিত বিলকুমারি ও বিলজোয়ানার পাড়ে।

সরকার ২০২৫ সালের ৭ মে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী বিলকুমারি-বিলজোয়ানাকে জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণা করে। এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিঠাপানির জলাভূমি, যা দেশীয় মাছ, পাখি ও জলজ প্রাণীর আবাসস্থল।

বিলকুমারি-বিলজোয়ানার প্রাণবৈচিত্র্যের সুরক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এখানে চায়না দুয়ারি জাল ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশকের অস্বাভাবিক ব্যবহার হচ্ছে কিন্তু যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

ছবিতে স্বশিক্ষিত কৃষিবিজ্ঞানী, জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক, নূর ধানের আবিষ্কারক নূর মোহাম্মদ ভাই; নৃবিজ্ঞানী ও পরিবেশ আইন গবেষক এম শহিদুল ইসলাম ভাই ; Varendra Youth Forum এর সাধারণ সম্পাদক Poli Rani Pramanik সহ আমি।

Demands Action on Lead PollutionFive key Demands from Varendra Youth Forum and Green Coalition Rajshahi.                ...
31/08/2026

Demands Action on Lead Pollution
Five key Demands from Varendra Youth Forum and Green Coalition Rajshahi.

সিসা দূষণ বন্ধের দাবিতে রাজশাহীতে স্মারকলিপি প্রদানরাজশাহী, ৩০ আগস্ট ২০২৬, রবিবাররাজশাহীর প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ও জনস্বা...
30/08/2026

সিসা দূষণ বন্ধের দাবিতে রাজশাহীতে স্মারকলিপি প্রদান

রাজশাহী, ৩০ আগস্ট ২০২৬, রবিবার

রাজশাহীর প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবৈধভাবে পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি ও রিসাইক্লিন বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) বরেন্দ্র অঞ্চলের যুব, পরিবেশবাদী, সেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহের বৃহৎ ঐক্য বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও গ্রিন কোয়ালিশন এর পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল দুপুর ২টায় রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম এর কাছে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে অবৈধভাবে সিসা (Lead) তৈরি ও রিসাইক্লিং করা হয়, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। ব্যাটারি পোড়ানোর সময় তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া উৎপন্ন হয়। ফলে পরিবেশ দূষণ ও মারাত্বক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। বাতাসে সিসার ক্ষুদ্রকণা মিশে যাওয়ায় মানুষের শরীরে সিসার মাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এতে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, কিডনি জটিলতা, রক্তশূন্যতা এবং ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়াও মাটি, পানি ও বাতাস দূষিত হয়। নষ্ট হয় ফসলি জমি এবং মারা যায় গবাদি পশু ও প্রাণবৈচিত্র্য।

ইউনিসেফ ‘দ্য টক্সিক ট্রুথ: চিলড্রেনস এক্সপোজার পলিউশন আন্ডারমিন্স এ জেনারেশন অব পোটেনশিয়াল’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে প্রতি তিন শিশুর একজন বা প্রায় ৮০ কোটি শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম বা তারও বেশি। এ শিশুদের প্রায় অর্ধেকের বসবাস দক্ষিণ এশিয়ায়। বাংলাদেশে আনুমানিক ৩ কোটি ৫৫ লাখ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা ৫ মাইক্রোগ্রাম/ডেসিলিটার। এতে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। সিসার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত বিশ্বের তিন ভাগের এক ভাগ শিশু। ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকা দেশগুলোর ভেতর বাংলাদেশ চতুর্থ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, রাজশাহীর পবা উপজেলার বিমানবন্দর সড়কে ফায়ার সার্ভিসের পাশের রাস্তার একটু সামনে “এইট স্টার মেটাল” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বাউন্ডারির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধ ব্যাটারি পোড়ানোর কারবার। এখানে রাতের আধারে পুরনো ব্যাটারি পোড়ানো হয় এবং সিসা সংগ্রহ করা হয়। অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা পোড়ানোর ফলে রাজশাহীর পরিবেশ, প্রাণ-প্রকৃতি, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্য মারাত্বক হুমকির মুখে পড়ছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান পরিবেশ আইন ও নীতিমালাগুলো অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে এ ধরনের কারখানা পরিচালিত হচ্ছে, যার বিরুদ্ধে প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করে বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়।

স্মারকলিপিতে রাজশাহীসহ সারাদেশে অবৈধভাবে পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি ও রিসাইক্লিন বন্ধে ৫ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিসমূহ হলো- পবাসহ রাজশাহীর সব এলাকায় রাতের আধারে চলা অবৈধভাবে ব্যাটারি পোড়ানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে; লোকালয় এবং ফসলি জমির পাশে গড়ে ওঠা সব অবৈধ কারখানা স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে হবে; পরিবেশ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়া সিসা পোড়ানোর অপরাধে জড়িত মালিকদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; রাজশাহীর প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নজরদারি বাড়াতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে হবে। বিশেষত সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত এরকম এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়াতে হবে; সিসা দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এলাকায় এলাকায় মাইকিং ও সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করতে হবে। এ কাজে স্থানীয় তরুণ, যুব ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনসমূহকে যুক্ত করতে হবে।

এছাড়াও পৃথক স্মারকলিপি রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপ-পরিচালক মোছা: তাছমিনা খাতুন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার পবা মো. ইবনুল আবেদীন বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক পলি রানী, আমার বাংলা তরুন সংঘের সভাপতি তাহমিদ জাকি, স্বচ্ছলতা এসোসিয়েশন এর সভাপতি ইহতেশামুল আলম জোহা, গ্রিন কোয়ালিশন রাজশাহীর সদস্য মিরাতুজ জাহান মিলি, রাকিব হাসান বাপ্পি, সুমাইয়া খাতুনসহ প্রমূখ।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাৎকালে রাজশাহীর প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিসা দূষণ বন্ধে উল্লিখিত ৫ দফা দাবিসহ রাজশাহীর পুকুর-দিঘি, জলাশয়-জলাধারগুলো সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

A climate-resilient tree planting and seed-sowing campaign was held in the drought-prone Barind region as part of effort...
25/08/2026

A climate-resilient tree planting and seed-sowing campaign was held in the drought-prone Barind region as part of efforts to promote local biodiversity, food security and environmental sustainability.

Development research organisation BARCIK, Green Coalition, agricultural researchers, and teachers and students of Talanda Ananda Mohan High School jointly organised the programme on Tuesday.

The initiative was undertaken in solidarity with the government's programme to plant 250 million trees across the country. The organisers aim to sow seeds of 1 million native fruit, forest and medicinal tree species across the Barind region, including Rajshahi and Chapainawabganj districts.

As part of the campaign, seeds were sown along both sides of a two-kilometre road in Talanda village of Tanore upazila in Rajshahi after school hours.

Teachers and students, local farmers and members of the Green Coalition jointly sowed around 2,000 palmyra palm seeds, 1,000 native jujube seeds, 500 neem seeds, 100 tamarind seeds, 200 native date palm seeds, 150 jackfruit seeds and around 400 black plum seeds along the road.

National Agriculture Award-winning self-taught agricultural researcher and Green Coalition Tanore upazila convener farmer Nur Mohammad, BARCIK regional coordinator Shahidul Islam, Barind Youth Forum President Atikur Rahman, assistant teachers Mrinal Kumar Pal and Monira Khatun, Jayanti Rani and other teachers of Talanda school attended the programme along with around 200 students.

কৃষক নেতৃত্বে দেশি কলার জাতবৈচিত্র্য বিনিময়ে সমৃদ্ধ হচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্যখরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের ১৪...
20/08/2026

কৃষক নেতৃত্বে দেশি কলার জাতবৈচিত্র্য বিনিময়ে সমৃদ্ধ হচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য

খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের ১৪টি গ্রামের ৯০১ পরিবারের তথ্য ও অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে ১৭ জাতের দেশি কলার চাষ ও কৃষক নেতৃত্বে সম্প্রসারণ; কৃষক-কৃষাণীর পারস্পরিক জাতবিনিময়ে বাড়ছে ফসল ও খাদ্যবৈচিত্র্য, শক্তিশালী হচ্ছে স্থানীয় কৃষিজ্ঞান ও এগ্রোইকোলজিক্যাল কৃষি।- বারসিকের গবেষণা

রাজশাহী বাংলাদেশ, ২০ আগস্ট ২০২৬

খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষক-কৃষাণীর নিজস্ব জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক জাতবিনিময়ের মাধ্যমে দেশি কলার জাতবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র উঠে এসেছে। বারসিক’র গত তিন বছরের মাঠপর্যায়ের তথ্যসংগ্রহ ও কৃষকনেতৃত্বে জাত সংরক্ষণ গবেষণায় পবা, তানোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৭টি দেশি ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত কলার জাত/স্থানীয় নাম নথিভুক্ত হয়েছে। এসব জাতের ক্ষেত্রে মোট ৯০১টি পরিবার-জাত বিনিময় ও সম্প্রসারণের নথিভুক্ত ঘটনা পাওয়া গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার ( ২০ আগষ্ট ২০২৬) রাজশাহীর পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের নদীকান্দা গ্রামে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও গ্রিনকোয়ালিশনের উদ্যোগে আয়োজিত কৃষক নেতৃত্বে দেশি কলার জাতবৈচিত্র্য গবেষণা বিষয়ক ফলাফল ও অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানে গবেষণার এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি দেশি কলার জাতবৈচিত্র্যকে বৃহত্তর কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য ও এগ্রোইকোলজিক্যাল কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। তিনটি উপজেলার ১৪টি গ্রামের বিগত সময়ের মাঠতথ্যের সমন্বিত গবেষণা প্রতিবেদন উপস্তাপন করেন বারসিকের নৃবিজ্ঞানী ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম।

গবেষণায় নথিভুক্ত স্থানীয় কলার জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে- চিনি বা চিনি চম্পা, বিচি, মানিক, জীন, সবরি বা শবরি, সবুজ আনাচি, সাদা আনাচি, জেড, কাঠালী, আনাজি কলা, মনোহর, সাগর, আচিন, লাল কলা বা অগ্নিশ্বর, অনুপম কলা, এঁটে ও মদনা কলা। মাঠতথ্যে দেখা যায়, কোনো কোনো জাত আগে থেকেই কয়েকটি পরিবারের মধ্যে সীমিত ছিল; আবার কিছু জাত কোনো কোনো এলাকায় আগে না থাকলেও কৃষক-কৃষাণীর পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন এলাকায় সম্প্রসারিত হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী,আনাজি, আনাচি, বিচি, মানিক, সবরি বা শবরি ও চিনি চম্পা কলার বিস্তার তুলনামূলকভাবে বেশি। অন্যদিকে জীন, সাদা আনাচি, জেড, সাগর, আচিন ও লাল কলা/অগ্নিশ্বরসহ অন্যান্য জাতও কৃষক পরিবারের মধ্যে স্থানান্তর ও সম্প্রসারণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব কলার কোনোটি পাকা ফল হিসেবে, কোনোটি কাঁচা অবস্থায় সবজি হিসেবে এবং কোনোটি স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতি ও লোকজ জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গ্রামীণ জীবনে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গবেষণায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার (এএলসি) ও মডেল শতবাড়ির ভূমিকা। এএলসি-তে বিভিন্ন গ্রামের কৃষক-কৃষাণীরা একত্রিত হয়ে নিজেদের কাছে থাকা ফসলের জাত, চাষপদ্ধতি, ব্যবহার ও স্থানীয় কৃষিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেছেন। কার কাছে কোন জাত রয়েছে এবং কোন কৃষকের কী জাতের প্রয়োজন, এ ধরনের তথ্য বিনিময়ের মধ্য দিয়ে জাতবিনিময়ের পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মডেল শতবাড়ি পরিবারভিত্তিক নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও কৃষিবৈচিত্র্য সংরক্ষণের বাস্তব ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করেছে।

বারসিক এই প্রক্রিয়ায় মূলত সহায়ক ও সংযোগকারী ভূমিকা পালন করেছে। একটি গ্রামের কৃষকের কাছে থাকা দেশি কলার জাত অন্য গ্রামের আগ্রহী কৃষকের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে চারা বা রোপণ উপকরণ বিনিময়ে সহায়তা করা হয়েছে। ফলে জাত সংরক্ষণ কোনো কেন্দ্রীয় বা একক স্থানে সীমাবদ্ধ না থেকে কৃষকের জমি ও বসতভিটায় জীবন্তভাবে সংরক্ষিত ও সম্প্রসারিত হয়েছে।

আলোচনায় পবা উপজেলার বিলনেপাল পাড়া এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার পরিচালানাকারী কৃষাণী সুলতানা খাতুন বলেন- “২০২৪ সালে বিভিন্ন গ্রাম থেকে ১০টি দেশি কলার জাত সংগ্রহ করে আমরা নদীকান্দা গ্রামে মোসাঃ মোসলেমা খাতুনের পরিচালনায় একটি স্থানে পরীক্ষামূলক চাষ করি। এর পর এখানে থেকে জাতগুলো বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে এবং অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও বিনিময় করা হযেছে।” চাঁপাইনবাগঞ্জ নাচোল উপজেলার বারসিকের কৃষক গবেষক রায়হান কবির রঞ্জু বলেন- “আমি গাইবান্ধা থেকে অগ্নিস্বর, কাঠালি, চিনি কলার তিনটি জাত এখানে এনেছি। এখন প্রায় ৯০টির বেশি পরিবারে এগুলো সম্প্রসারিত হয়েছে চারা বিনিময়ের মাধ্যমে।” তিনি আরো বলেন- দিনে দিনে চারা বিনিময়ের মাধ্যমে আরো বাড়ছে।

তানোর উপজেলার গোকুল-মথুরা এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার পরিচালানাকারি কৃষক জিতেন্দ্রনাথ বলেন- “প্রায় সকল গ্রামেই আগে নানা জাতে দেশি কলার জাত ছিলো। আধুনিক কৃষি ও অধিক ফলনের লোভে পড়ে আমরা এগুলো হারিয়ে ফেলছি। কিন্তু হারানোর পর বুঝতেছি আমরা কি রত্ন হারিযেছি ” তিনি আরো বলেন- জাতগুলো বিভিন্নভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে, এগুলো চিহ্নিত এবং বিনিময়ের ব্যবস্থা করলে গ্রামে কলার বৈচিত্র্য ফিরে আসবে।

তানোর হরিদেবপুর এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার এর পরিচালানকারি নারী কৃষাণী মোসাঃ কবুলজান বলেন- দেশি কলার সাথে আমাদের নিজের ঐতিহ্য লুকিয়ে আছে, হিন্দুদেও কিছু পুজা আছে যেমন জিন কলা দিয়ে করা হয়। তিনি আরো বলেন- যদি জিন কলা না থাকে তাহলে পুজা করবে কি করে। তাই আমাদের স্বাথেই দেশি কলাজাত রক্ষা করা দরকার।

পবা উপজেলার বিল ধর্মপুর গ্রামের মডেল শতবাড়ির প্রবীণ নারী কৃষাণী মোসাঃ মাহমুদা বেগম বলেন- পাতলা পায়খানা, পেট খারাপ আমাশয় হলে আনজি কাচা কলা খেলে উপকার পাওয়া যায়, গর্ভবতী মাকে নিয়মিত অনুপম কলা খাওয়ালে বাচ্চার এবং মায়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।” তিনি আরো বলেন- দেশি প্রতিটি কলার আলাদা স্বাদ-ঘ্রাণ , গুনাগুণ বৈশিষ্ট্য আছে, কলা শুধু ফল হিসেবে নয়, সবজি হিসেবেও আমাদের কাজে লাগে। বিঁচি কলা খেলে পুরুষদের মেহ জাতীয় রোগ ভালো হয় এরকম কলাগুলো আমাদের উপকারে লাগে। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীগণ বিভিন্ন কলার গুণাগণ ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশি কলার জাতবৈচিত্র্য শুধু ফলের বৈচিত্র্য নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের স্থানীয় জ্ঞান, খাদ্যসংস্কৃতি, পারিবারিক খাদ্যনিরাপত্তা, বসতভিটাভিত্তিক উৎপাদন, সামাজিক সহযোগিতা এবং কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য। একটি জাত যখন কৃষক থেকে কৃষকের কাছে পৌঁছায়, তখন শুধু একটি চারা স্থানান্তরিত হয় না, এর সঙ্গে স্থানান্তরিত হয় জাত চেনার জ্ঞান, চাষের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় ব্যবহারবিধি।

গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে বক্তারা দেশি ও স্থানীয় জাত সংরক্ষণে কৃষক-কৃষাণীর নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি পরিকল্পনায় স্থানীয় কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য ও এগ্রোইকোলজিকে অন্তর্ভুক্ত করা, কৃষকভিত্তিক জাতবিনিময় ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় জাতের কমিউনিটি রেজিস্টার তৈরির আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, খরা ও কৃষিতে একমুখী উৎপাদন ব্যবস্থার সময়ে কৃষকের হাতে থাকা স্থানীয় জাতগুলো ভবিষ্যৎ কৃষির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই দেশি জাত সংরক্ষণকে শুধু অতীতের ঐতিহ্য রক্ষার কাজ হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যতের নিরাপদ, বৈচিত্র্যময় ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি গড়ে তোলার কৌশল হিসেবে দেখতে হবে।

৯০১টি পরিবার-জাত বিনিময়ের নথি এবং ১৭টি স্থানীয় কলার জাতের এই গবেষণা দেখিয়ে দেয়, কৃষকের হাতে থাকা বৈচিত্র্যই কৃষির ভবিষ্যতের অন্যতম ভিত্তি।

উক্ত আলোচনা ও বিগত সময়ে দেশি কলা জাতের মাঠ ভিত্তিক ফলাফল উপস্থানে উপস্থিত ছিলেন- বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার অমৃত কুমার সরকার, মো. তৌহিদুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিকসহ তিনটি উপজেলার ১০টির গ্রামের ৬৫ জন দেশি কলা জাত সম্প্রসারণে ভূমিকা পালনকারী কৃষক-কৃষাণী।

দেশি বীজবৈচিত্র্য রক্ষায় জাতীয় বীজনীতি সংস্কারের দাবিছয় কমিউনিটির মাঠতথ্যে উঠে এসেছে হারিয়ে যাওয়া স্থানীয় বীজ ও অচাষকৃত ...
17/08/2026

দেশি বীজবৈচিত্র্য রক্ষায় জাতীয় বীজনীতি সংস্কারের দাবি
ছয় কমিউনিটির মাঠতথ্যে উঠে এসেছে হারিয়ে যাওয়া স্থানীয় বীজ ও অচাষকৃত খাদ্য-ঔষধি উদ্ভিদের সংকট।

রাজশাহী, ১৭ আগস্ট ২০২৬:

বরেন্দ্র অঞ্চলের বর্ষাকালীন দেশি বীজবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কৃষকের বীজ অধিকার এবং নারী কৃষকের লোকায়ত জ্ঞান রক্ষায় জাতীয় বীজনীতি পর্যালোচনা ও সংস্কার, কৃষক-পরিচালিত কমিউনিটি বীজব্যাংক প্রতিষ্ঠা, কৃষক-কৃষক বীজ বিনিময়ের স্বীকৃতি এবং কৃষকের অধিকার বাস্ততবায়নের দাবি জানিয়েছেন কৃষক, কৃষাণী, গবেষক, পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

আজ রবিবার ( ১৭ আগষ্ট ২০২৬) রাজশাহীর তানোর উপজেলার সিন্দুকাই গ্রামে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও গ্রিন কোয়ালিশনের আয়োজনে ‘বর্ষাকালিন দেশি বীজবৈচিত্র্য ও বীজ সার্বভৌমত্ব বিষয়ক কমিউনিটি ভিত্তিক নীতি সংলাপে এ দাবি জানানো হয়। কমিউনিটি ভিত্তিক নীতি সংলাপে উপস্থাপিত একটি অংশগ্রহণমূলক মাঠ গবেষণায় রাজশাহীর পবা ও তানোর উপজেলার ছয়টি কমিউনিটির বর্ষাকালীন বীজ বিনিময় উৎসবের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব উৎসবে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীরা নিজেদের বাড়িতে সংরক্ষিত বীজ নিয়ে অংশগ্রহণ করেন, পরস্পরের সঙ্গে বীজ বিনিময় করেন এবং আলোচনা করে বর্তমানে থাকা ও হারিয়ে যাওয়া বা দুর্লভ হয়ে পড়া স্থানীয় বীজ ও উদ্ভিদের নাম চিহ্নিত করেন।

মাঠতথ্যে দেখা যায়, একটি জাতের নাম হলেও সেই একই ফসলের মধ্যেও রয়েছে বহু স্থানীয় জাত এবং বৈশিষ্ট্য। বরেন্দ্র অঞ্চলে এখনও উল্লেখযোগ্য স্থানীয় বীজবৈচিত্র্য টিকে আছে। বিশেষ করে তানোরের সিন্দুকাই কমিউনিটিতে বর্ষাকালিন সবজির লাউয়ের ৪টি, মিষ্টি কুমড়ার ৪টি এবং শিমের ৪টি স্থানীয় জাতের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া মরিচের ৩টি, ঝিঙা ও পাটশাকের ২টি এবং কচুর ২টি জাতের তথ্যও পাওয়া যায়।

থানতলা কমিউনিটিতে কুমড়া, লালশাক, খাটোশিম, লম্বাশিম, কাঠরাশিম, লাউ, বরবটি, চিচিঙ্গা, তেলাকুচা, করলা, গড়আলু, জিরাধান ও বিআর-২৬ ধানসহ বিভিন্ন স্থানীয় বীজের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে গোকুল মথুরা কমিউনিটিতে স্থানীয় খাদ্য, ঔষধি ও অচাষকৃত উদ্ভিদের ২৯টি এবং মোহর হিন্দুপাড়ায় ২৭টি স্থানীয়ভাবে হারিয়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া উদ্ভিদের নাম কৃষকদের স্মৃতি ও আলোচনায় উঠে এসেছে।

তবে এই অংশগ্রহণমূলক গবেষাণায় অংশগ্রহণকারী কৃষক, গবেষকরা সতর্ক করে বলেন, এসব সংখ্যা জাতীয় পর্যায়ের বিলুপ্তির পরিসংখ্যান নয়। এগুলো সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির মানুষের স্থানীয় জ্ঞান ও স্মৃতিতে বর্তমানে অনুপস্থিত বা দুর্লভ হয়ে যাওয়া উদ্ভিদ ও বীজের তথ্য।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারী হরিদেবপুর এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার পরিচালনাকারী কৃষাণী মোসা: কবুলজান বলেন- তাদের এএলসিতে বিভন্ন শস্য ফসলের ১৬০ জাতের জীবন্ত বীজ আছে। এগুলো বিভিন্ন গ্রাম থেকে সংগ্রহ করে রাখা হয় এবং মৌসুম ভিত্তিক বীজগুলো বিনিময় করা হয়।
ছয়টি গ্রামের বীজ মেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের মাধ্যমে জানা যায় নারীরাই স্থানীয় বীজব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ রক্ষক।

কমিউনিটি ভিত্তিক এই নীতি সংলাপে উপস্থাপিত গবেষণায় নারী কৃষকের ভূমিকা বিশেষভাবে উঠে আসে। মাধবপুরে ৪০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৩৮ জন, দুবইলে ৫৫ জনের মধ্যে ৪০ জন এবং সিন্দুকাইয়ে ৬০ জনের মধ্যে ৫০ জন ছিলেন নারী। বক্তারা বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম নারীরা শুধু বীজ সংরক্ষণই করেননি; কোন গাছ থেকে বীজ নিতে হবে, কখন সংগ্রহ করতে হবে, কীভাবে শুকাতে ও সংরক্ষণ করতে হবে এবং কোন বীজ পরবর্তী মৌসুমে ব্যবহারযোগ্য এসব লোকায়ত জ্ঞানও ধারণ করে আসছেন। তাই নারী কৃষককে শুধু কৃষি কর্মসূচির “উপকারভোগী” হিসেবে না দেখে স্থানীয় বীজের জ্ঞান ও সংরক্ষণের রক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। দুটি উপজেলার ছয়টির গ্রামের অংশগ্রহণকারীরা বলেন- বীজ হারানো মানে শুধু একটি জাত হারানো নয়।

তারা আরো বলেন-স্থানীয় বীজের সংকটকে শুধু কৃষি উৎপাদনের সমস্যা হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত গুরুত্ব বোঝা যাবে না। কারন বীজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কৃষকের উৎপাদন-স্বাধীনতা; খাদ্য নির্বাচনের অধিকার; স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতি; কৃষিজীববৈচিত্র্য; নারী কৃষকের লোকায়ত জ্ঞান; স্থানীয় পরিবেশগত জ্ঞান।

অংশগ্রহণকারী গোকুল মথুরা গ্রামের কৃষক জিতেন্দ্র নাথ বলেন- আমাদের বরেন্দ্র অঞ্চল খরাপ্রবণ এই জাতগুলো এই অঞ্চলের সাথে খাপ খেয়ে নিতে পারে, তাই এই জাতগুলো সুরক্ষা করা জাতীয়ভাবে করা উচিত।
কৃষকদের আলোচনায় স্থানীয় বীজ কমে যাওয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক ও হাইব্রিড বীজের বিস্তার, বাজার নির্ভরতা, একমুখী চাষ, রাসায়নিক কৃষি ও হার্বিসাইড এর ব্যবহার, কৃষি-ইনপুট কোম্পানির প্রচারণা এবং স্থানীয় বীজ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ইত্যাদি বিষয় উঠে এসেছে।

নীতি সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বীজ ব্যবস্থায় বীজের মান, উৎপাদন, বিপণন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনগত কাঠামো রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বর্তমান কাঠামোর মধ্যে বীজ আইন, ২০১৮ এবং বীজ বিধিমালা, ২০২০ রয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় এখন প্রয়োজন কমিউনিটি বা অঞ্চল ভিত্তিক বীজ রেজুলেশন থেকে বীজ ব্যবস্থাপনা কমিউনিটি ভিত্তিক করা। অর্থাৎ শুধু কোন বীজ বাজারে বিক্রি হবে তা নয়; বরং কে বীজ সংরক্ষণ করবে, কে বিনিময় করবে, কার জ্ঞান স্বীকৃতি পাবে এবং স্থানীয় বীজবৈচিত্র্য কীভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত হবে, এসব প্রশ্নকেও জাতীয় বীজনীতির অংশ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বারসিকের নৃবিজ্ঞানী ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বলেন- বীজ নীতিমালা এবং এ সম্পর্কিত আইনগুলোতে কমিউনিটি ভিত্তিক কৃষক-কৃষাণীর বীজ সংরক্ষণ ও জ্ঞানকে স্বীকৃতি দিতে হবে। তিনি আরো বলেন- হাজার বছরের বীজ বৈচিত্র্য সুরক্ষায় এই কৃষকরাই অবদান রেখেছে। কমিউনটি ভিত্তিক বা অঞ্চল ভিত্তিক দেশি বীজবৈচিত্র্যগুলো সরকার থেকে তালিকা করতে হবে এবং সেগুলো এলাকা ভিত্তিক উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং স্থানীয় কৃষি গবেষকদের স্বীকৃতি দিতে হবে।

কমিউনটি ভিত্তিক উক্ত নীতি সংলাপে দুটি উপজেলার ছয়টি কমিউনিটির বর্ষাকালীন বীজ বিনিময় উৎসবের তথ্য বিশ্লেষণ করের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বারসিক’র নৃবিজ্ঞানী ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম।

কমিউনটি ভিত্তিক উক্ত নীতি সংলাপে স্থানীয় কৃষক-কৃষণীরা ৮ দফা নীতিগত দাবি তুলে ধরেন-
নীতি সংলাপ থেকে নিম্নোক্ত দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়-
১. জাতীয় বীজ নীতির অংশগ্রহণমূলক রিভিউ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য, এগ্রোইকোলজি, কৃষকের অধিকার এবং কমিউনিটি বীজ ব্যবস্থাপনা এর বাস্তবতা বিবেচনায় জাতীয় বীজনীতির পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।

২. কৃষক নেতৃত্বে পরিচালিত কমিউনিটি বীজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জাতীয় নীতিমালা তৈরী করতে হবে। গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় কৃষক, বিশেষত নারী কৃষকের নেতৃত্বে বীজব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করতে হবে।

৩. কৃষক-কৃষক বীজ বিনিময় এর স্পষ্ট নীতিগত স্বীকৃতি দিতে হবে। অ-বাণিজ্যিক কৃষক-কৃষক বীজ বিনিময়ের জন্য সহজ ও কৃষক-বান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

৪. কমিউনিটি বা কৃষকের জাত সুরক্ষায় রেজিষ্টার চালু করতে হবে। স্থানীয় কৃষকের সংরক্ষিত জাতগুলোর তালিকা ও কনজারভেশন স্টাটাস নথিভুক্ত করতে হবে।

৫. নারী ও পুরষ কৃষকদের দ্বারা দেশি বীজ সুরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। স্থানীয় বীজ সংরক্ষণকারী নারী কৃষকদের স্বীকৃতি, কৃষক-কৃষক প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার আওতায় আনতে হবে।

৬. হারিয়ে যাওয়া বীজ কিভাবে ফিরে আনা বা পূণরুদ্ধার কর্মসূচী চালু করতে হবে। স্থানীয়ভাবে হারিয়ে যাওয়া বা দুর্লভ হয়ে যাওয়া বীজ ও উদ্ভিদ অন্য এলাকায় অনুসন্ধান, সংগ্রহ, পুনরুৎপাদন এবং সংশ্লিষ্ট কমিউনিটিতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

৭. অচাষকৃত খাদ্য ও ঔষধি উদ্ভিদের কমিউনিটি প্রাণবৈচিত্র্য রেজিষ্টার তৈরি করতে হবে। হেলেঞ্চা, গীমা, বনপুঁই, বনপাট, নিশিন্দা, কুঠিরাজসহ স্থানীয় খাদ্য ও ঔষধি উদ্ভিদকে কৃষিখাদ্য ও ঔষধী প্রাণবৈচিত্র্য-এর অংশ হিসেবে নথিভুক্ত করতে হবে।

৮. বীজবৈচিত্র্যকে জলবায়ু অভিযোজনের সূচক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্থানীয় জাত সংরক্ষণ, বীজবিনিময়, কমিউনিটি বীজ ব্যাংক, নারী বীজ সংরক্ষণকারী, হারোনো বীজ পুণরুদ্ধারকে জলবায়ু অভিযোজন এবং এগ্রোইকোলজি কর্মসূচির পরিমাপযোগ্য সূচক করতে হবে।

নীতি সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ট্রিটি অন প্ল্যান্ট জেনেটিক রিসোর্সেস ফর ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার (আইটিপিজিআরএফএ)-এর স্বাক্ষর করা দেশ। ট্রিটি-এর আর্টিকেল ৯-এ কৃষকের অধিকার, লোকায়ত জ্ঞান এবং উদ্ভিদ জেনেটিক সম্পদ (Plant Genetic Resources) সংরক্ষণে কৃষকের অবদানের বিষয়টি স্বীকৃত। তাই বাংলাদেশের জাতীয় বীজব্যবস্থায় কৃষকের নিজস্ব বীজ সংরক্ষণ, স্থানীয় জাত রক্ষা, বীজ বিনিময় এবং বীজ-সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে কৃষকের অংশগ্রহণকে আরও কার্যকরভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

নীতি সংলাপের বক্তারা বলেন- বীজকে শুধু কৃষি উপকরণ হিসেবে দেখা যাবে না। বীজ কৃষকের অধিকার, প্রাণবৈচিত্র্য, খাদ্য সার্বভৌমত্ব এবং জলবায়ু অভিযোজনের সম্পদ। যে কৃষক বীজ বাঁচান, তিনি শুধু একটি জাত বাঁচান না; তিনি একটি খাদ্যব্যবস্থা, একটি জ্ঞানব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার বাঁচান।

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন- আমাদের বীজ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আছে; এখন প্রয়োজন কৃষকের বীজ সার্বভৌমত্বের শাসনব্যবস্থা। সংলাপে আরো উপস্থিত ছিলেন- সিন্দুকাই নারী সংগঠনের সভাপতি পরি টুডু,আদিবাসী নেতা গনেস সরেন, বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার অমৃত কুমার সরকারসহ প্রমূখ।

Address

Rajshahi

Telephone

+8801716497227

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Varendra Youth Forum posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Varendra Youth Forum:

Shortcuts

Share