09/09/2025
শিশু শ্রম
শিশু হলো জাতির ভবিষ্যৎ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের সমাজে বহু শিশু তাদের শৈশব আনন্দে কাটাতে না পেরে শ্রমে নিযুক্ত হতে বাধ্য হয়। একেই বলা হয় শিশু শ্রম।
দারিদ্র্য শিশু শ্রমের প্রধান কারণ। দরিদ্র পরিবারগুলো জীবিকা নির্বাহের জন্য সন্তানদের কাজ করতে পাঠায়। পাশাপাশি শিক্ষার সুযোগের অভাব, সস্তা শ্রমশক্তির চাহিদা এবং সামাজিক বৈষম্যও শিশু শ্রমের প্রসারে ভূমিকা রাখে। শিশু শ্রমিকদের সাধারণত ইটভাটা, কারখানা, দোকান, রিকশা-ভ্যান চালানো কিংবা গৃহকর্মীর মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন কাজে নিয়োগ করা হয়। এতে তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাংলাদেশে শিশু শ্রম নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে। ১৪ বছরের নিচে শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ দেওয়া নিষিদ্ধ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) শিশুশ্রম নিরসনে বহু কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে শুধু আইন করলেই হবে না; বাস্তবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শিশু শ্রম বন্ধ করতে হলে প্রথমে দরিদ্র পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সকল শিশুর জন্য বিনামূল্যে ও সহজলভ্য শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবক ও সমাজকে সচেতন করা জরুরি।
শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক। তাদের হাতে কলম, বই ও খাতা তুলে দিতে হবে, কোদাল বা হাতুড়ি নয়। শিশু শ্রম বন্ধ করতে পারলে একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।