04/08/2026
❤️ একটা হার না মানা সংগ্রামের গল্প...
চলতি বছরের এপ্রিলে ঢাকা থেকে ট্রেনে ফেরার পথে পীরগঞ্জের দুই তরুণ নাহিদ ও সাকিব মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন। নাহিদ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আর সাকিবকে দুর্ঘটনার পর সাত দিন মির্জাপুরে অজ্ঞাত পরিচয়ে উদ্ধার করে স্থানীয় মানুষ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। দীর্ঘ চিকিৎসার পর দিনাজপুর মেডিকেল হয়ে অবশেষে সে ফিরে আসে নিজের ঘরে।
একসময় যে ছেলেটি দীর্ঘদিন কোমায় ছিল, পরিবারের কাউকে চিনতে পারত না, নিজের শরীরের কোনো অংশ নড়াতে পারত না আজ সেই সাকিব ধীরে ধীরে জীবনে ফিরছে। চিকিৎসক, মা-বাবার অক্লান্ত সেবা এবং সবার দোয়া-ভালোবাসায় সে এখন সাড়া দেয়, কথা বলার চেষ্টা করে। বাম হাত-পা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে, ডান পাশও ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। যদিও হাতে ভাঙা এবং মূত্রথলির জটিলতাসহ আরও কিছু চিকিৎসা এখনো চলছে।
প্রথম দিন থেকেই আমরা আইপজিটিভ পরিবার সাকিবের চিকিৎসায় সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।
কয়েকদিন আগে সাকিবের বাবা ইউসুফ ভাই আবেগভরা কণ্ঠে বলেছিলেন "পরাগ ভাই, মোর ছুয়াটার জন্য একটা হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করেন। সারাদিন বিছানাত শুতে থাকে। একটা হুইলচেয়ার হলে গ্রামডাত একটু ঘুরাই লে বেড়াবা পারএই একটি বাক্য আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
আলহামদুলিল্লাহ, গতকাল আইপজিটিভ পরিবারের উদ্যোগে সাকিবের জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শুভাকাঙ্ক্ষী এটি উপহার দিয়েছেন।
মহান আল্লাহ তাঁর এই দান কবুল করুন, সাকিবকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করুন এবং নাহিদকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমীন। মানবিকতার সবচেয়ে সুন্দর পরিচয়—মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ❤️