02/08/2026
গলাচিপায় প্রায় ৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প
কাগজে আছে, বাস্তবে নেই একাধিক কাজের অস্তিত্ব!
বাদল হোসেন, পটুয়াখালী
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উন্নয়ন ও রাজস্ব খাতের মোট ৩ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৩৭২ টাকা ব্যয়ের একাধিক প্রকল্প নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরকারি নথিতে প্রকল্পগুলো শতভাগ বাস্তবায়ন ও অর্থ উত্তোলনের তথ্য থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে কয়েকটি প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, অনুমোদিত এসব প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এবং সদস্য সচিব ছিলেন এলজিইডির তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম।
নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি খাতে ১ কোটি ৭ লাখ ২৪ হাজার টাকা, রাজস্ব খাতে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৩ হাজার ৩৭২ টাকা এবং উপজেলা কমপ্লেক্সের মেরামত ও উন্নয়ন কাজে ৫০ লাখ টাকা (অন্য নথিতে ৪০ লাখ টাকা) বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। গত ৩০ জুনের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন ও অর্থ উত্তোলনের তথ্যও উল্লেখ রয়েছে।
তবে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ পুকুর থেকে পৌরসভার ড্রেন পর্যন্ত পাইপ ড্রেন নির্মাণ, কৃষি অফিস থেকে উপজেলা পরিষদের বাউন্ডারি ওয়াল পর্যন্ত ভি-ড্রেন নির্মাণ এবং উপজেলা পরিষদ ভবন থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ—এসব প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এছাড়া পুরনো গেজেটেড কোয়ার্টারের পেছন থেকে মৎস্য অফিস পর্যন্ত বাউন্ডারি ওয়াল মেরামত, কাঁটাতারের বেষ্টনী ও গেট নির্মাণে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব থাকলেও সেখানে নতুন কাজের স্পষ্ট কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারুকুজ্জামান বলেন, কমপ্লেক্সের ভেতরের ইউ-ড্রেনটি এলজিইডি করেছে, অন্য কাজ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না।
বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান জানান, তিনি সম্প্রতি যোগদান করেছেন এবং তার জানামতে গত অর্থবছরের শতভাগ কাজের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, সব কাজ শতভাগ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে।
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. এজাজুল হক বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। নথিপত্র যাচাই করে তদন্তের পরই এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে তৎকালীন ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, শহীদ মিনারের এপ্রোচ সড়ক ঠিকাদারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়েছে, বাউন্ডারি ওয়ালও যথাস্থানে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার দায়িত্বকালীন সময়ে কোনো গাফিলতি হয়নি এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী সভার রেজল্যুশনের মাধ্যমে প্রকল্প সংশোধন করা হয়েছে।
🖊️বনিক বার্তা