27/06/2023
"ইনশাআল্লাহ আমরা ৩ জনই বুয়েটে চান্স পাবো"
"ইনশাআল্লাহ", "আল্লাহ ভাগ্যে যা রাখছে তাই হবে", "আল্লাহ ভরসা" বুয়েটের রেজাল্ট দেয়ার আগের কয়েকদিন এইগুলো ছাড়া অন্য কেনো কথাই মুখ দিয়ে বের হচ্ছিলো না। পরীক্ষা পরবর্তী সময় পার হয়েছে একে অপরকে সান্ত্বনা দিতে দিতে।
৬ নভেম্বর বুয়েটের পরীক্ষা দিয়ে যখন বের হলাম তখন আমি হাসিখুশী ই ছিলাম। আতিক, আসিফ কে একটু গম্ভীর দেখলাম। ওরা বেশিরভাগ সময়ই ওই রকম থাকে তাই ভাবলাম ওরা ও হয়তাে ভালো পরীক্ষায় দিয়েছে। পরে আতিক বললো ওর পরীক্ষা একটু খারাপ হয়েছে, যদিও তখন সেইটা বিশ্বাস করিনি। পরে বাসায় এসে যখন আমি নিজে নিজেই পরীক্ষা টা রিক্যাপ করছিলাম তখন দেখলাম সহজ দুইটা ভুল করেছি। তখন খেকে একটু চিন্তিত হয়ে গেলাম পরে আতিকের সাথে শেয়ার করলাম তখন ওর কথা শুনে বুঝলাম ওর পরীক্ষা একটু খারাপ ই হয়ছে। আমি আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলাম উত্তর মিলাবো না পরে সহজ ২ টা ভুল পাওয়ার পর সেই সাহস আরো হারিয়ে ফেললাম। সবাই যখন বলাবলি করতেছে এইবার প্রশ্ন সহজ হয়েছে তখন চিন্তা আরো বেড়ে গেলো। এই চিন্তা নিয়েই শেষ কয়েকটা দিন যে কিভাবে কাটাইছি বলে বুঝানাে সম্ভব না।
পরে ২৫ নভেম্বর তারিখ রাতে বুয়েট রেজাল্ট দিল। আলহামদুলিল্লাহ আমার আর আসিফের নাম প্রথম লিস্টেই ছিলো, আতিক ওয়েটিং এ ছিলো। একদিকে আমি স্বপ্নের বুয়েটে চান্স পেয়েছি খুশি কিন্তু যখনই আতিকের কথা মনে পড়ত তখনই কষ্টে ভরে যেতো মন। ভর্তি ডেট দেয়ার পর আমি আর আসিফ মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়ে যাই। আতিকও এর মধ্যে ঢাবিতে ভর্তি হয়ে গেছে আর বুয়েট ওয়েটিং এর রেজাল্ট ও দিচ্ছিলোনা। অনিশ্চিয়তার মধ্যেই দিন কাটছিলো। আমি চাচ্ছিলাম আতিক বুয়েটে আসুক ওর মন আবার ঢাবির সফটওয়্যার ইন্জিনিয়ারিং এর দিকে একটা টান ছিলো। ওকে আমি জোর করে বলতেও পারছিলাম না যে তুমি বুয়েটেই ভর্তি হও।
অবশেষে বুয়েটের ওয়েটিং রেজাল্ট দিলো। আতিক ধরে রেখেছিলো বুয়েটের MME পর্যন্ত সাব্জেক্ট পেলে ভর্তি হবে, এর নিচের সাব্জেক্ট পেলে ভর্তি হবে না। আতিকও আল্লাহর রহমতে MME পেয়ে গেলো। আলহামদুলিল্লাহ এর মাধ্যমেই ৩ জনের একসাথে বুয়েটে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হল।
এখন আসি আতিক আসিফ ও আমার সম্পর্কে কি সে বিষয়ে। আমি তারেক, আতিক আর আসিফ হচ্ছে আমার আপন চাচাতো ভাই। (আতিক আসিফ আপন দুই ভাই)। আতিক আর আমার বয়সের পার্থক্য ১৬ দিনের। আর আসিফ আমাদের দেড় বছরের ছোট।
সেই ছোটবেলা থেকেই আমরা একসাথে বিশেষ করে আমি আর আতিক। একসাথে আমরা ১৩ বছর ক্লাস করেছি দাখিল পরীক্ষা পর্যন্ত। ক্লাস নাইনে একসাথে বুয়েটের স্বপ্ন দেখা শুরু। ইন্টারে আমি ঢাকায় চলে যাই, ওরা বগুড়ায় থেকে যায়। এরপর করোনার শুরু থেকে বুয়েটের পরীক্ষার আগ পর্যন্ত সবকিছু একসাথে করা। যাই হোক আমাদের সম্পর্কে লিখে শেষ করা যাবে না। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া প্রতি নামাজ শেষে দোয়া করতাম আমরা ৩ জন যেনাে বুয়েটে ভর্তি হতে পারি। আল্লাহ সেই দোয়া কবুল করেছেন। সবাই আমাদের ৩ ভাই এর জন্য দোয়া করবেন যেনো এভাবে সারাজীবন একে অপরের পাশে থাকতে পারি।
Tareq Hasan || ME, BUET'20
Amanullah Asif || ME, BUET'20
Atik Faisal || MME, BUET'20