শিশুরা বিশ্বের আশা। কিশোররা জাতির আগামী দিনের কর্ণধার। বাংলাদেশের শিশুকিশোরদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজন তাদের শরীর ও মনের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন। খেলাঘর সেই বিকাশের জন্য কাজ করে।
শিশুদের দৈহিক পরিপুষ্টির জন্য যেমন দরকার সুষম খাদ্য ও মুক্ত আলো-বাতাস, তেমনি মানসিক পরিপুষ্টির জন্য দরকার সংস্কারমুক্ত উদার পরিবেশ। অন্ধবিশ্বাস, সংকীর্ণতা ও সাম্প্রদায়িকতা বর্জন এবং বৈজ্ঞানিক ধ্যান-ধারণা প্রসারের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠতে পারে সেই বাঞ্ছিত পরিবেশ। খেলাঘর তাই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ও বিজ্ঞানচর্চায় বিশ্বাসী। প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও পরিবেশের ভারসাম্য রায় খেলাঘর কাজ করে । তথ্য প্রযু্িক্তর কল্যাণকর ব্যবহারে খেলাঘর নিয়োজিত আছে।
খেলাঘর শিশুকিশোরদের শরীর গঠনের জন্য খেলাধুলার পপাতি। তাদের সুকুমার বৃত্তিসমূহের বিকাশের জন্য সব রকম সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহী।
খেলাঘর শিশুকিশোরদের সাংস্কৃতিক ও নৈতিক মান উন্নয়ন করে, বয়স্কদের শ্রদ্ধা করতে শেখায় এবং সকল প্রকার অন্যায় ও অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতি জাগায় ঘৃণা। মানুষে-মানুষে ভ্রাতৃত্ব ও সমতাবোধের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে খেলাঘর বদ্ধপরিকর।
দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবাসতে শেখায় খেলাঘর। ভালবাসতে শেখায় দেশের ঐতিহ্যকে। মাতৃভাষাকে সে প্রাণের চেয়ে প্রিয় মনে করে। সেই সঙ্গে ভালবাসতে শেখায় পৃথিবীর সকল মানুষকে। খেলাঘর আগামীদিনের সুন্দর সমাজের স্বপ্ন দেখে।
বিশ্বের সকল শিশুকিশোর ভাইবোনদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও প্রীতির সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় খেলাঘর সচেষ্ট। শিশুকিশোরদের সচেতন, সুশৃঙ্খল ও সুন্দর জীবন গঠনে যা কিছু অন্তরায়, তার অপসারণের জন্য খেলাঘর ব্যাপক ও গঠনমূলক আন্দোলন করে যাচ্ছে। খেলাঘর শিশুর হাসিতে উজ্জ্বল জীবন গঠনের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।