10/04/2026
নওগাঁ জেলার পত্নীতলা থানা বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রাচীনতম থানার মধ্যে অন্যতম। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার যাত্রার শুরুর দিকে পত্নীতলা থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ আপনাদের কাছে পত্নীতলা থানার পরিচয় তুলে ধরব।
ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের প্রথম দিকে বাংলাদেশে থানা বা পুলিশি প্রশাসনিক ইউনিট ১৭৯২ সালের ৭ নভেম্বর বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি সরকারের অধীনে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই সময় প্রতিষ্ঠিত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের নিজ নিজ এলাকাকে পুলিশি এখতিয়ারভুক্ত থানায় বিভক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয় যা কাল ক্রমে প্রশাসনিক ইউনিটে রূপ নেয়। ব্রিটিশ শাসনের প্রশাসন আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে নওগাঁ জেলার পত্নীতলা থানা ১৮০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় । তখন পত্নীতলা থানা অবিভক্ত ভারতের পশ্চিম দিনাজপুর জেলার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে ১৯১১-১২ সালের দিকে এই থানার উত্তর-পূর্বাংশ নিয়ে ধামইরহাট থানা গঠিত হয়।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর র্যাডক্লিফ রোয়েদাদ অনুযায়ী পত্নীতলা থানা বগুড়া জেলার অন্তর্গত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে এটি নওগাঁ মহকুমার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮৩ সালে পুলিশি থানার উপর ভিত্তি করে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট পত্নীতলা উপজেলা গঠিত হয়। পুলিশি থানাকে কেন্দ্র করেই সময়ের পরিবর্তনে আজকের দিনের পত্নীতলা নজিপুর শহর গড়ে উঠেছে। বর্তমানে পত্নীতলা উপজেলা ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।
পত্নীতলা থানা এলাকায় ঐতিহাসিক দিবর দিঘী ও দিব্যক জয়স্তম্ভ অবস্থিত। পত্নীতলা থানা এলাকা কৈবর্ত বিদ্রোহের বিজয়স্তম্ভের জন্য জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। একাদশ শতাব্দীতে পাল বংশের শাসনামলে বরেন্দ্র অঞ্চলে যে গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল, তাকেই কৈবর্ত বিদ্রোহ বলা হয়। পত্নীতলার ঐতিহাসিক দিবর দিঘী এবং এর মাঝখানে অবস্থিত দিব্যক জয়স্তম্ভ এই বিজয়েরই অমর সাক্ষী । ঐতিহাসিকরা বলেন কৈবর্ত বিদ্রোহের নায়ক দিব্যকের অনুসারীরা এই বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে বিশাল এই দিঘী খনন এবং গ্রানাইট পাথরের স্তম্ভটি নির্মাণ করেছিলেন।
সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী প্রায় পৌনে তিন লাখ যার অর্ধেক নারী। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৮.৮৪% মুসলিম, ১৭.৮২% হিন্দু, ২.০৯% খ্রিস্টান এবং অবশিষ্টরা অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। পত্নীতলা থানা এলাকায় ১৭/১৮ হাজার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন, যার মধ্যে ওরাওঁ, সাঁওতাল এবং মুন্ডা সম্প্রদায় প্রধান।
পত্নীতলা উপজেলার উত্তর সীমান্তে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা অবস্থিত। পত্নীতলার নিরমইল এবং শিহাড়া ইউনিয়ন দুটি সরাসরি ভারতীয় সীমান্তের সাথে যুক্ত। তাই পত্নীতলা থানার সার্বিক অপরাধ চিত্রের মধ্যে চোরাচালান, উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও এই থানায় এলাকায় ভূমি সংক্রান্ত কনফ্লিট, মারামারি, মাদক, চুরি, ছিনতাই সংক্রান্ত অপরাধ রয়েছে। চোরাচালান এবং মাদক প্রতিরোধে সীমান্তে বিজিবি, থানা এলাকায় পুলিশ পূর্বের তুলনায় তাদের তৎপরতা অনেক জোরদার করেছে
।এছাড়াও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে নওগাঁ জেলা পুলিশ তথা পত্নীতলা থানা পূর্বের যে কোন সময় তুলনায় সক্রিয় রয়েছে।
মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, নওগাঁ।
POLICE Naogaon