24/05/2026
🌺শ্রী কাল ভৈরব স্তোত্রম্-এর সম্পূর্ণ সংশোধিত ও সঠিক সংস্করণ🌺
অথ সংকল্পঃ
ওং ঐং শিব শক্তি সায়ি সিদ্ধগুরু শ্রী রমণানন্দ মহর্ষি গুরুভ্যো নমঃ ।
ওং শ্রী দশ মহাবিদ্যা দেবতাভ্যো নমঃ ।
ওং শ্রী দশ ভৈরব দেবতাভ্যো নমঃ ।
**অথ চতুর্বেদ জ্ঞান ব্রহ্ম সিদ্ধগুরু শ্রী রমণানন্দ মহর্ষি বিরচিত**
**চতুর্বিংশতি শ্লোকাত্মক শ্রী কাল ভৈরব স্তোত্রম্**
শিবায় পরমাত্মনে মহতে পাপনাশিনে ।
নীললোহিতদেহায় ভৈরবায় নমো নমঃ ॥
ব্রহ্মশিরোবিখণ্ডিনে ব্রহ্মগর্বনিপাতিনে ।
কালকালায় রুদ্রায় নমো ভৈরব শূলিনে ॥
বিষ্ণুমোহবিনাশিনে বিষ্ণুসেবিতশম্ভবে ।
বিষ্ণুকীর্তিতসোমায় কালভৈরব তে নমঃ ॥
সর্বভূষিতসর্বেশং চতুর্ভুজং সুতেজসে ।
শিবতেজোদ্ভবং হরং শ্রীভৈরবীপতিং ভজে ॥
সদ্রূপং সকলেশ্বরং চিদ্রূপং চিন্ময়েশ্বরম্ ।
তপোবন্তং মহানন্দং মহাভৈরব তে নমঃ ॥
নীলায় নীলকণ্ঠায় অনন্তায় পরাত্মনে ।
ভীমায় দুষ্টমর্দিনে কালভৈরব তে নমঃ ॥
নমস্তে সর্ববীজায় নমস্তে সুখদায়িনে ।
নমস্তে দুঃখনাশিনে ভৈরবায় নমো নমঃ ॥
সুন্দরং করুণানিধিং পাবনং করুণাময়ম্ ।
অঘোরং করুণাসিন্ধুং শ্রীভৈরবং নমাম্যহম্ ॥
জটাধরং ত্রিলোচনং জগত্পতিং বৃষধ্বজম্ ।
জগন্মূর্তিং কপালিনং শ্রীভৈরবং নমাম্যহম্ ॥
অসিতাঙ্গঃ কপালশ্চ উন্মত্তঃ ভীষণো রুরুঃ ।
ক্রোধঃ সংহারচণ্ডশ্চ অষ্টভৈরব তে নমঃ ॥
কৌমারী বৈষ্ণবী চণ্ডী ইন্দ্রাণী ব্রাহ্মণী সুধা ।
অষ্টমাতৃকা চামুণ্ডা শ্রীবারাহী মহেশ্বরী ॥
কাশীক্ষেত্রসদা স্থিতং কাশীক্ষেত্রসুপালকম্ ।
কাশীজনসমারাধ্যং নমামি কালভৈরবম্ ॥
অষ্টভৈরবস্রষ্টারং অষ্টমাতৃসুপূজিতম্ ।
সর্বভৈরবনাথং চ শ্রীকালভৈরবং ভজে ॥
বিষ্ণুকীর্তিতবেদেশং সর্বঋষিনমস্কৃতম্ ।
পঞ্চপাতকনাশকং শ্রীকালভৈরবং ভজে ॥
সম্মোহনমহারূপং চতুর্বেদপ্রকীর্তিতম্ ।
বিরাট্পুরুষমহেশং শ্রীকালভৈরবং ভজে ॥
অসিতাঙ্গঃ চতুর্ভুজঃ ব্রাহ্মণীমাতৃকাপতিঃ ।
শ্বেতবর্ণো হংসারূঢ়ঃ প্রাক্ দিশা রক্ষকঃ শিবঃ ॥
শ্রীরুরুং বৃষভারূঢ়ং আগ্নেয়দিক্ সুপালকম্ ।
নীলবর্ণং মহাশূরং মহেশ্বরীপতিং ভজে ॥
ময়ূরবাহনঃ চণ্ডঃ কৌমারীমাতৃকাপ্রিয়ঃ ।
রক্তবর্ণো মহাকালঃ দক্ষিণদিক্ সুরক্ষকঃ ॥
গরুড়বাহনঃ ক্রোধঃ বৈষ্ণবীমাতৃকাপ্রভুঃ ।
ঈশানো নীলবর্ণশ্চ নৈঋতিদিক্ সুরক্ষকঃ ॥
উন্মত্তঃ খড্গধারী চ অশ্বারূঢ়ো মহোদরঃ ।
শ্রীবারাহীমনোহরঃ পশ্চিমদিক্ সুরক্ষকঃ ॥
কপালো হস্তিবাহনঃ ইন্দ্রাণীমাতৃকাপতিঃ ।
স্বর্ণবর্ণো মহাতেজাঃ বায়ব্যদিক্ সুরক্ষকঃ ॥
ভীষণঃ প্রেতবাহনঃ চামুণ্ডামাতৃকাবিভুঃ ।
উত্তরদিক্ সুপালকঃ রক্তবর্ণো ভয়ঙ্করঃ ॥
সংহারঃ সিংহবাহনঃ শ্রীচণ্ডীমাতৃকাপতিঃ ।
অষ্টভুজঃ প্রাক্রমী ঈশান্যদিক্ সুপালকঃ ॥
তন্ত্রযোগীশ্বরেশ্বরং তন্ত্রবিদ্যাপ্রদায়কম্ ।
জ্ঞানদং সিদ্ধিদং শিবং মোক্ষদং ভৈরবং ভজে ॥
**ইতি চতুর্বেদ জ্ঞান ব্রহ্ম সিদ্ধগুরু শ্রী রমণানন্দ মহর্ষি বিরচিত**
**চতুর্বিংশতি শ্লোকাত্মক শ্রী কাল ভৈরব স্তোত্রম্ ॥**
---
**✅ শ্রী কাল ভৈরব স্তোত্রম্-এর সম্পূর্ণ বাংলা অনুবাদ✅**
অথ সংকল্পঃ
ওং ঐং শিব শক্তি সায়ি সিদ্ধগুরু শ্রী রমণানন্দ মহর্ষি গুরুদেরকে নমস্কার।
ওং শ্রী দশ মহাবিদ্যা দেবতাদেরকে নমস্কার।
ওং শ্রী দশ ভৈরব দেবতাদেরকে নমস্কার।
**চতুর্বেদ জ্ঞান ব্রহ্ম সিদ্ধগুরু শ্রী রমণানন্দ মহর্ষি বিরচিত**
**চতুর্বিংশতি শ্লোকাত্মক শ্রী কাল ভৈরব স্তোত্রম্**
শিবস্বরূপ পরমাত্মা মহান পাপনাশকারী, নীললোহিত দেহধারী ভৈরবকে বারবার নমস্কার ॥
ব্রহ্মার মস্তক ছেদনকারী, ব্রহ্মার অহংকার ধ্বংসকারী, কালেরও কাল স্বরূপ রুদ্র ভৈরব শূলপাণিকে নমস্কার ॥
বিষ্ণুর মোহ নাশকারী, বিষ্ণুসেবিত শম্ভু, বিষ্ণুকীর্তিত সোমরূপী কালভৈরবকে নমস্কার ॥
সর্বালংকারে ভূষিত, সর্বেশ্বর, চতুর্ভুজ, অত্যন্ত তেজস্বী, শিবতেজোদ্ভব হর শ্রীভৈরবীপতিকে ভজনা করি ॥
সৎস্বরূপ, সকলেশ্বর, চিদানন্দময়, চিন্ময়েশ্বর, তপস্বী, মহানন্দময় মহাভৈরবকে নমস্কার ॥
নীলবর্ণ, নীলকণ্ঠ, অনন্ত, পরমাত্মা, ভীম, দুষ্টদমনকারী কালভৈরবকে নমস্কার ॥
সর্ববীজস্বরূপ তোমাকে নমস্কার, সুখদায়ক তোমাকে নমস্কার, দুঃখনাশক ভৈরবকে বারবার নমস্কার ॥
সুন্দর, করুণার নিধি, পবিত্র, করুণাময়, অঘোর, করুণাসাগর শ্রীভৈরবকে আমি নমস্কার করি ॥
জটাধারী, ত্রিনয়ন, জগতের পতি, বৃষধ্বজ, জগন্মূর্তি, কপালধারী শ্রীভৈরবকে নমস্কার করি ॥
অসিতাঙ্গ, কপালী, উন্মত্ত, ভীষণ, রুরু, ক্রোধ, সংহারচণ্ড — এই অষ্টভৈরবকে নমস্কার ॥
কৌমারী, বৈষ্ণবী, চণ্ডী, ইন্দ্রাণী, ব্রাহ্মী, চামুণ্ডা, বারাহী, মহেশ্বরী — এই অষ্টমাতৃকা ॥
কাশীক্ষেত্রে সদা অবস্থিত, কাশীক্ষেত্রের সুপালক, কাশীবাসীদের আরাধ্য কালভৈরবকে নমস্কার করি ॥
অষ্টভৈরবের স্রষ্টা, অষ্টমাতৃকা দ্বারা সুপূজিত, সর্বভৈরবের নাথ শ্রীকালভৈরবকে ভজনা করি ॥
বিষ্ণুকীর্তিত বেদেশ্বর, সর্বঋষিগণ কর্তৃক নমস্কৃত, পঞ্চপাতক নাশক শ্রীকালভৈরবকে ভজনা করি ॥
সম্মোহন মহারূপ, চতুর্বেদে প্রকীর্তিত, বিরাট পুরুষ মহেশ্বর শ্রীকালভৈরবকে ভজনা করি ॥
অসিতাঙ্গ চতুর্ভুজ, ব্রাহ্মী মাতৃকার পতি, শ্বেতবর্ণ, হংসবাহন, পূর্বদিকের রক্ষক শিব ॥
শ্রীরুরু বৃষভবাহন, আগ্নেয় দিকের সুপালক, নীলবর্ণ মহাশূর, মহেশ্বরীর পতিকে ভজনা করি ॥
ময়ূরবাহন চণ্ড, কৌমারী মাতৃকার প্রিয়, রক্তবর্ণ মহাকাল, দক্ষিণ দিকের সুরক্ষক ॥
গরুড়বাহন ক্রোধ, বৈষ্ণবী মাতৃকার প্রভু, নীলবর্ণ ঈশান, নৈঋতি দিকের সুরক্ষক ॥
উন্মত্ত খড্গধারী, অশ্বারূঢ় মহোদর, শ্রীবারাহীর মনোহর, পশ্চিম দিকের সুরক্ষক ॥
কপালী হস্তিবাহন, ইন্দ্রাণী মাতৃকার পতি, স্বর্ণবর্ণ মহাতেজস্বী, বায়ব্য দিকের সুরক্ষক ॥
ভীষণ প্রেতবাহন, চামুণ্ডা মাতৃকার বিভু, উত্তর দিকের সুপালক, রক্তবর্ণ ভয়ঙ্কর ॥
সংহার সিংহবাহন, শ্রীচণ্ডী মাতৃকার পতি, অষ্টভুজ প্রাক্রমী, ঈশান্য দিকের সুপালক ॥
তন্ত্রের যোগীশ্বরেশ্বর, তন্ত্রবিদ্যা প্রদায়ক, জ্ঞানদাতা, সিদ্ধিদাতা, মোক্ষদাতা শিব ভৈরবকে ভজনা করি ॥
**ইতি চতুর্বেদ জ্ঞান ব্রহ্ম সিদ্ধগুরু শ্রী রমণানন্দ মহর্ষি বিরচিত**
**চতুর্বিংশতি শ্লোকাত্মক শ্রী কাল ভৈরব স্তোত্রম্ সমাপ্তম্ ॥**
---
**জয় কাল ভৈরব!** 🙏
প্রতিদিন শ্রদ্ধার সাথে পাঠ করলে ভয়, শত্রু, পাপ ও বাধা থেকে রক্ষা পাবে।
------
**✅ শ্রী কাল ভৈরব স্তোত্রম্-এর মাহাত্ম্য ও পাঠের নিয়ম✅**
# # # 🌟 **মাহাত্ম্য (উপকারিতা ও গুরুত্ব)**
শ্রী কাল ভৈরব স্তোত্র অত্যন্ত শক্তিশালী তন্ত্র-মন্ত্রময় স্তোত্র। এটি পাঠ করলে:
- **ভয় ও শত্রু নাশ** — সকল প্রকার ভয় (মৃত্যুভয়, অপঘাত, শত্রু, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ভূত-প্রেত) দূর হয়।
- **পাপমুক্তি** — পঞ্চপাতক, ব্রহ্মহত্যা, গুরুতর পাপ থেকে মুক্তি লাভ হয়।
- **রক্ষা ও সুরক্ষা** — আট দিকের রক্ষা (দশদিকপালের মাধ্যমে), শরীর, মন ও আত্মার সুরক্ষা।
- **জ্ঞান, সিদ্ধি ও মোক্ষ** — তন্ত্রবিদ্যা, জ্ঞান, সিদ্ধি, আধ্যাত্মিক উন্নতি এবং মোক্ষ লাভের পথ প্রশস্ত হয়।
- **কাশীবাসীদের বিশেষ আরাধ্য** — কালভৈরব কাশীধামের রক্ষক, তাই এই স্তোত্র পাঠে কাশী যাত্রার ফল লাভ হয়।
- **অষ্টভৈরব ও অষ্টমাতৃকার কৃপা** — সকল ভৈরব ও মাতৃকাশক্তির আশীর্বাদ লাভ।
- **দুঃখ-দারিদ্র্য নাশ** — করুণাসিন্ধু ভৈরবের কৃপায় সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি আসে।
নিয়মিত পাঠে ভক্তের জীবন থেকে নেগেটিভ শক্তি দূর হয় এবং ইষ্টদেবের সরাসরি রক্ষা লাভ হয়।
# # # 📜 **পাঠের নিয়ম (বিধি)**
1. **শুদ্ধাচার** — স্নান করে পরিষ্কার কাপড় পরে পূজাস্থানে বসুন। পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে বসা শ্রেয়।
2. **পূজা** — শ্রী কালভৈরবের ছবি/মূর্তির সামনে ধূপ, দীপ, ফুল, সিন্দুর, মদ্য-মাংস (তান্ত্রিক পদ্ধতিতে), কালো তিল, ধূপকাঠি অর্পণ করুন। তুলসী এড়িয়ে চলুন।
3. **সংকল্প** — শুরুতে দেওয়া সংকল্প অংশটি পড়ুন।
4. **পাঠ** —
- প্রতিদিন **১ বার** করে পাঠ করুন (সন্ধ্যা বা রাত্রি কালে বিশেষ উপকারী)।
- বিশেষ প্রয়োজনে **৩, ৭, ১১ বা ২১ বার** জপ করুন।
- ভৈরব অষ্টমী, কালরাত্রি, মঙ্গলবার, শনিবার ও অমাবস্যায় বিশেষ ফলদায়ী।
5. **জপ** — পাঠের আগে-পরে **“ওং কালভৈরবায় নমঃ”** বা **“ওং ভৈরবায় নমঃ”** মন্ত্র ১০৮ বার জপ করতে পারেন।
6. **নিয়মিততা** — অন্তত ২১ বা ৪০ দিন নিয়মিত পাঠ করলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।
7. **সতর্কতা** — পাঠের সময় পূর্ণ শ্রদ্ধা ও একাগ্রতা রাখুন। তান্ত্রিক স্তোত্র হওয়ায় মন অশুদ্ধ থাকলে ফল কম হয়। মাংস-মদ্য নৈবেদ্য দিতে না পারলে ফল-মিষ্টি দিয়েও পূজা করা যায়।
**ধারণ** — স্তোত্র লিখে তাবিজ করে গলায় বা হাতে ধারণ করা যায় (বিশেষ করে কালো সুতোয়)।
**জয় কাল ভৈরব!** 🙏
নিয়মিত পাঠ করলে জীবনের সকল বাধা ও ভয় দূর হয়ে যাবে।
#আত্ম_জাগরণ