07/01/2022
আমরা কিছু হলেই অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাতে চাই।
আমি মনেই করিনা যে সমাজের অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর জন্য এভাবে মিন মিন পিন পিন করে হাতজোড় করে সমাজের কাছে আবেদন করতে হবে।
আরে ভাই, দুনিয়ার দিকে তাকান। দুনিয়ার সবথেকে আদি ও জঘন্য পাপ গুলো কি কি বলেনতো? শুধুমাত্র ২ টার নাম বলুন।
আমার মতে - (১) মানুষ হত্যা বা খুন (২) ধর্ষন।
এই কুকাজ গুলো সমাজের মানুষ নামের জানোয়ারগুলোই তো করে, তাইনা? আইন, মোটিভেশন কোন কিছু দিয়ে কি এগুলো বন্ধ হয়েছে? না হয়নি এবং হবেও না।
কেন?
কারন মানুষের পাশাপাশি জানোয়ার বসবাস করবেই। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।
তো আপনি / আমি কেন অযথা এই জানোয়ারদের কাছ থেকে সমমর্মিতামূলক আচরনের প্রত্যাশায় মিনমিন করতে থাকবো? এদেরকে বদলানো যাবেনা।
নিজেকে বদলান!
আরে ভাই কেনো সহজ কথাটা বুঝতে পারেন না যে, আপনার মধ্যে প্রতিবন্ধী বাচ্চা বা স্পেশ্যাল বাচ্চা লালন পালনের সক্ষমতা না দিয়ে স্রষ্টা আপনাকে এমন বাচ্চা দেননি।
🌹কারনঃ আল্লাহ নিজেই কোরআনে বলেছেন - আমি কারো সাধ্যের বাইরে কোন বোঝা তার উপর চাপিয়ে দিই না।
তাই, প্রতিবন্ধী বাচ্চা আপনার জন্য শাস্তি না, পরীক্ষা!
শুধু একটা নরমাল সুস্থ বাচ্চা দিলে আপনার যেটুকু দায়িত্ব থাকতো, এক্ষেত্রেও সেটুকুই "দায়"! এর বেশি কিছুনা!
হ্যা, স্পেশাল বাচ্চার জন্য স্পেশাল কাজ ও পরিশ্রম করা লাগে, কয়েক হাজার গুন বেশি ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়। এটা ঠিক!
তা ভাই, দায়িত্ব / কাজ স্পেশাল হলে কি তার পুরস্কার স্পেশাল হবেনা? নাকি আল্লাহর সেই ওয়াদার উপর ভরসা নেই?
🌹আল্লাহ কোরআনে আরো বলেছেন - প্রতিটি মানুষের প্রত্যেকটি কাজ ও কথার পূংখানুপুংখ বিচার হবে এবং যে যার ফল ইনসাফ মতো পাবে। কারো ভেতর বিন্দু মাত্র আফসোস থাকবেনা।
শুধু আল্লাহর এই দুটো ওয়াদার কথা মাথায় রাখলে আমার মনে হয়, অন্যদের চোখের চাহনি, মুখের কথা দিয়ে অহেতুক নিজেরা কষ্ট পাবোনা।
বরং ওদেরকে মনে মনে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিরবে কাজ করে যেতে পারবো।
আমার এই এগ্রেসিভ মনোভাব অনেকের কাছেই পছন্দ হয়না, এটা আমি বুঝি।
এতে আমি কিছু মনেও করিনা। আমার মতের সাথে দ্বিমত আপনি করতেই পারেন। এটা আপনার স্বাধীনতা!
কিন্তু এটা আমার স্বধীনতা যে, (১)আমি মিনমিন করে নিজেকে দূর্বলের কাতারে ফেলবো, নাকি (২) অন্যের কথা/কাজের তোয়াক্কা না করে তাদেরকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিজের কাজটুকু করে যাবো?
আমি দ্বিতীয় দলে থাকতে চাই। আপনার দল আপনি বেছে নিন।
সমাজের অন্যদের কথা বাদই দিলাম, প্রতিবন্ধী বাচ্চার বাবা/মা ই কেউ কেউ আমাকে একটু খোঁচা মেরে বলেই ফেলেন - ভাই, সবাইকি আপনার মতো ইয়োগা করেন বা করান নাকি যে অন্যের কথার প্রভাব থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারবে বা স্ট্রেস / ফ্রাস্ট্রেশন এসব এতো সহজে ম্যানেজ করতে পারবে?!
অথচ এই অভিভাবকদের যদি বলি, ঠিক আছে, তাহলে আসেন ইয়োগা করেন, মেডিটেশন করেন, শরীর ও মনকে বিষমুক্ত করেন। স্ট্রেস, ফ্রাসট্রেশন দূরকরে সুস্থ চিন্তা লালন করে দায়িত্ব পালন করে যান এবং আপনার মনের উপর আপনার নিজের নিয়ন্ত্রন আনেন, তখন লেজ গুটিয়ে উলটো দিকে দৌড় দেয়।😂 অথবা ঊটপাখির মতো মাথা নিচু করে থাকে এবং যথারীতি প্রস্থান করে।
আরে ভাই, ইয়োগা/মেডিটেশন এসবতো কারো পৈত্রিক সম্পত্তি না! করেন না কেন? কে আটকাচ্ছে?
আপনি আপনার বাচ্চার সমস্যার সমাধান করতে পারছেন না এটা না হয় মানলাম। এটা আপনার হাতে না, পরীক্ষা দিচ্ছেন।
কারন ইচ্ছে না হলেও সেটা দিতে হবে। কিন্তু আপনি জানেন যে, আপনার সমস্যার একটা সমাধান আপনার হাতের কাছেই আছে!!
তাহলে সেটা না করে যদি সমস্যাকে নিজের ভেতর লালন করতে থাকেন, তাহলে আপনি কি ভুক্তভোগী নাকি জ্ঞানপাপী?
খুব কড়া কথা বলেছি কি? মাঝে মাঝে কড়া কথার দরকার আছে। আর সেটা আপনজনদের সাথেই বলা যায়। কথার অর্থ বুঝলে মাইন্ড করবেন না। Step নিবেন, কাজ করবেন।
ভালো থাকুন সবাই।
সোহেল রানা
কর্মী
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু উন্নয়ন সংস্থা