08/09/2025
দৌলতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এবং শ্রীফলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের প্রফেসর ড.মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া স্যারের টাইমলাইন থেকে নেওয়া...
গতকাল ৭ সেপ্টেম্বর ছিল সার্টিফিকেটে প্রদত্ত তারিখ অনুযায়ী আমার জন্মদিন। এই উপলক্ষে আমার অনেক ছাত্র ছাত্রী, বন্ধু বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ী আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আমি সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
আমার জন্ম কুমিল্লার নাঙ্গলকোট তৎকালীন লাকসামের এক অজ গাঁয়ে। আর্থ সামাজিক প্রেক্ষিত বিচারে আমার এলাকাটি ছিল খুবই অনুন্নত। মা- বাবার নয় সন্তানের মধ্যে আমার অবস্থান পঞ্চম। এতগুলো ভাই বোনের মধ্যে কার জন্ম কোন দিন হয়েছে তার হিসেব সংরক্ষণ করা ছিল সত্যিই একটা কঠিন কাজ। বাড়ির পাশে তখন প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। হাঁটার তিন মিনিটের পথ। বড়রা স্কুলে যখন যেত তখন হাফপ্যান্ট পরা অবস্থায় দৌঁড় মারতাম ওনাদের পিছুপিছু। সে কি আনন্দ। তখন একটা শ্রেণী ছিল শিশু শ্রেণী। বর্তমানে যাকে প্লে গ্রুপ বলা হয়। লাইন ধরে দাঁড়িয়ে যেতাম। অ আ ক খ কিংবা শতকিয়া পড়ানো হত। এক দেড় ঘণ্টা পরেই ছুট্টি। দৌঁড়ে চলে আসতাম ঘরে। পরের বছর ওয়ানে নাম উঠে। সবুজ সাথী নামে একটি বাংলা বই ছিল। আর ছিল ধারাপাত। কারোকারো হাতে খড়ি হয় রাম সুন্দর বসাকের বাল্যশিক্ষা। আমাদের অক্ষর জ্ঞান শুরু হয় ঐ বাল্যশিক্ষা থেকেই। বাড়ির কাছের প্রাইমারি থেকেই পঞ্চম শ্রেণী পাশ করি। আমার সব ভাই প্রাইমারি শেষ করেই মাদ্রাসায় ভর্তি হত। আব্বা তখন একটা আলিয়া মাদ্রাসার হেড মোহাদ্দিছ পরে ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে ছিলেন। পরবর্তীতে উনি মৌকরা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে অবসর নেন। কেবল আমাকেই আব্বা এক কিলোমিটার দূরের শ্রিফলীয়া হাইস্কুলে পাঠায়। ছোট হওয়ায় দূরের বড় স্কুলে পাঠাননি। ঐ স্কুলে কেবল অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ছিল। ওখান থেকে অষ্টম শ্রেণী পাশ করার পর দূরের কাকৈরতলা হাইস্কুলে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হই। পরে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আগের স্কুল থেকে টিসি আনতে যাই। আব্বা আম্মাকে কখনো জিজ্ঞেস করিনি আমার জন্ম তারিখ সম্পর্কে। ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন আমার এক জ্যাঠাতো বোনের হাজবেন্ড। টিসির জন্য গেলে দুলাভাই কাম প্রধান শিক্ষক কি কি যেন হিসাব করলেন। চাকরি পাওয়ার জন্য ন্যুনতম কত বয়স হওয়া দরকার। উনিই হিসাব করে টিসিতে জন্ম তারিখ দেন ০৭-০৯-১৯৬৫। এখন এটাই আমার জন্ম তারিখ। আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে ০৬-০৯-২০৩০ পর্যন্ত চাকরি করতে পারব ইন শা আল্লাহ। আগের দিনে প্রতিষ্ঠান প্রধানই জন্ম তারিখ ঠিক করে দিতেন। আমার ইমেডিয়েট বড় ভাই মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ায় জন্ম তারিখ নির্ধারণ করে আমারও পরে ১৯৬৮তে।
প্রকৃত অর্থে আমার ভূমিষ্ঠ হওয়ার তথা প্রকৃত জন্ম দিন এর চাইতে আলাদা। ইসলামে যেহেতু ঘটা করে জন্মদিন পালনের কোন সুস্পষ্ট নির্দেশনা নাই , তাই আমার সত্যিকার জন্মদিন অনুসন্ধানের তাগিদও কখনো অনুভব করি নি। বরং প্রধান শিক্ষক প্রদত্ত সার্টিফিকেটে উল্লেখিত জন্ম তারিখটি যথার্থ হিসেবে ধরে নিয়ে সেই অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুণ। আমীন
হাই স্কুলে পড়ার সময় বিএসসি স্যারদের দেখে খুব অনুপ্রাণিত হয়ে তখন ঠিক করলাম বিএসসি পাশ করবো আর হাই স্কুলে মাস্টারি করবো। কিন্তু নওয়াব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর বাবা তখন কার প্রকাশিত দৈনিক বাংলা পত্রিকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও কিছু টাকা দিয়ে বলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গিয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা হতো। আমি ফিজিক্স,কেমিস্ট্রি, ম্যাথ আর ইকোনমিক্স থেকে ফরম নিয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিই এবং চার বিভাগেই ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করি। পরে এলাকার রসায়নের এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হয়ে যাই। শহরের কদমতলীর পাশে সুপারি ওয়ালা পাড়ায় এক স্কুল বন্ধুর রুমে উঠে ছয় মাস ক্লাস করি। তখন এক বাসায় ছোট দুটি বাচ্চা পড়াতাম, বিনিময়ে শুধু ভাত খাওয়াতো। থাকার ব্যবস্থা নিজের। পরে শাহজালাল হলের এক্সটেনশন ভবনে সীট ব্যবস্থা করে উঠে পড়ি। বিভিন্ন কক্ষ ৪/৩, ৫/৮, ১/৬, ১২৪ ও ৩০২ এ ছিলাম । মাস্টার্সে উঠে একক রুম ৪০৭ এ ছিলাম।