04/06/2026
সাতপুরুষের দেশ এর মাটি ময়মনসিংহ
ইংল্যান্ড থেকে প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্য্য
ময়মনসিংহ শহরের পাশ্ববর্তী ছোট্ট শহর মুক্তাগাছায় যার লক্ষ্মীখোলায় আমাদের বাসস্থান ছিলো।বাবা বলতেন আমাদের বাড়ির পাশেই একটি বড় পুকুর ছিলো যা আমাদের পরিবার জনৈক নগর দত্তের কাছ থেকে ক্রয় করেছিল তাই পুকুরের নাম ছিলো নগর দত্তের পুষ্কুন্নি।সেখানে মাছ চাষ হতো এবং বাড়িতে উৎসবের দিনে যেমন জৈষ্ঠ্য মাসে রক্ষাকালী পূজা, শরতে দূর্গা পূজা, শ্যামাকালী ও পৌষালী কালী পূজাতে মাছ তুলে পাড়ার সবাইকে দেওয়া হতো। আসেপাশে কোন কৃষ্ণ মন্দির ছিলো যেখানে শীতকালের রাতে কীর্তনের ধ্বনি ভেসে আসতো :
‘ভজ গৌরাঙ্গ, জপ গৌরাঙ্গ
লহ গৌরাঙ্গের নাম রে।
যে জন গৌরাঙ্গ ভজে
সে হয় আমার প্রাণ রে।’
বাড়ির পেছনে বাবা যেখানে শিশু অবস্থায় খেলতো সেখানে সারি সারি লাঠি, বল্লম ও সুপারি গাছের কান্ডে তৈরী বর্শা রাখা থাকতো।বাবা সেখানে কুড়িয়ে পাওয়া coin নিয়ে গুটি খেলতো।পরে বাবার হাত থেকে পেয়ে দাদু বুঝতে পারেন যে coin গুলো আসলে নবাবী আমলের মোহর। তা দেখে ঘরের পিছনে খুঁড়ে আরও কিছু মোহর পাওয়া যায়। এগুলো হয়তো আমাদের পূর্বপুরুষদের নবাবেরা উপহার দিয়ে ছিলেন বহু আগে তাও প্রায় ২০০ বছর হবে।
আমাদের আরও একটি বাসস্থান ছিলো ময়মনসিংহ শহরের পুরোহিতপাড়া রোডে। এবং আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী ছিলেন বাংলার বিখ্যাত গণিতবিদ wrangler কিরণ দে।
আমার দাদু (বাবার বাবা) ঢাকায় অধ্যাপনার পাশাপাশি ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের কাছে একটি মনোহারি ও stationary দোকান বানিয়েছিলেন যেখানে বিলেতি ঘড়ি, কলম, বই, কালি, দোয়াত ও খাতা পাওয়া যেত, এই দোকানের আরেক অংশীদার ছিলেন টাঙ্গাইলের বিখ্যাত দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা। দেশভাগের পর দাঙ্গায় দোকানটি লুঠ হয়ে যায়। বাবা মাঝে মাঝে সেই দোকানে যেত দাদুর সাথে।
ঢাকায় কখনো উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান হলে দাদু পরিবারের অনেককে তখন নিয়ে যেতেন ময়মনসিংহ থেকে। ময়মনসিংহ থেকে মিটারগেজের ট্রেনে উঠলে ছেলে ছোকরারা বলতো :
‘চলছে গাড়ি বেগুন বাড়ি
টিকিট কাটো তাড়াতাড়ি।
ছবিতে আমার বাবা প্রশান্ত কুমার ভট্টাচার্যের সাথে আমি।
লেখাঃ
প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্য্য
ইংল্যান্ড।
ফেসবুক লিংক
https://www.facebook.com/prasenjit.bhattacharjee
লেখা ও ছবি সংগ্রহহঃ বঙ্গ ভূমি পেজ থেকে।