LBB(Let’s Build Bangladesh)
এসো বাংলাদেশ গড়ি
প্রেক্ষাপটঃ
মানুষ তথা সমাজের উন্নয়ন কল্পে যুগে যুগে গড়ে উঠেছে অনেক রাজনৈতিক, সামজিক, অর্থনৈতিক সংগঠন। সবার মাঝেই শুধু এক কথা- এটা করো, ওটা করো। এটা দাও, ওটা দাও, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করো, সামাজিক নিরাপত্তা দাও, সমস্যার সমাধান দাও। কিন্তু কেউই বলেনা, চলুন সবাই মিলে করি। সাধারণ মানুষের মধ্যে অধিকার, দায়ীত্ব, কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে নিজে পরিবর্তন হই এব
ং অন্যকে পরিবর্তন করি বা সুযোগ দেই। যেমন একটি সমস্যার সমাধান বা কোন একটি সামাজিক পরিবর্তনের জন্য প্রশাসনের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়, তেমনি তাৎক্ষনিক ক্ষণস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে সেই সমস্যার আমূল সমাধানও সম্ভব নয়। দরকার সে সমস্যার সাথে জড়িত সবার সচেতনতা বৃদ্ধি, কর্তব্য পালন ও দায়ীত্ব জ্ঞান।এই কাজটাও সরকার, প্রশাসন, বা দায়ীত্ব প্রাপ্ত অধিদপ্তরের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়।সমাজের সমস্যা সমধানের জন্য সরকার, প্রশাসন কে সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজের আমূল পরিবর্তনের উদ্দেশেই এই সংগঠনের ধারনার উৎপত্তি।
সংগঠন তৈরীর ইতিহাসঃ সংগঠনের প্রতিষ্ঠা প্রধান অসচ্ছল পরিবারের সন্তান হয়েও এস.এস.সি তে নিজের ঐকান্তিক চেষ্টায় ভালো ফলাফলের সুবাধে রাজধানীর একটি সুনামধন্য কলেজে বৃত্তির মাধ্যমে লেখাপড়ার সুযোগ পান। সেখানে অধ্যয়নরত অবস্থায় একদিন তিনি লক্ষ্য করলেন গ্রামের শিক্ষার পরিবেশ, সুযোগ সুবিধা সবদিক থেকেই অনুন্নত ও নাজুক। তিনি এও লক্ষ করলেন গ্রাম থেকে উঠে আসা মানেই গ্রামের প্রতি তার দায়ীত্ব ও কর্তব্য
শেষ হয়ে যায়নি। গ্রামের অসচ্ছল মানুষ গুলোর সামজিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নের দায়ীত্ব তার কাধে রয়ে গেছে। এর তাগিত থেকেই এইচ.এস.সু পাশের পর ঢাকা ছেড়ে গ্রামে পাড়ি জমান ও সেখানে গ্রামের কিছু শিক্ষার্থীকে ফ্রি পড়ানোর দায়ীত্ব নেন। বর্তমানে তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন রত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরেই তিনি গ্রামের শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা পর্যবেক্ষণ করেন ও সমাধানের পথ বের করেন। ২০১০ সালে ১ম বর্ষে পড়াকালীন সময়ে তিনি গ্রামের শিক্ষা ক্ষেত্রে শহুরে ভাবধারা আনায়োনের জন্য ও তৎকালীন প্রথম চালু হওয়া সৃজিনশীল শিক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে গ্রামের অবহেলিত শিক্ষার্থীদের ভয় দূর করণ ও শিক্ষার প্রকৃত পরিবেশ ফেরানোর জন্য ‘সৃজনশীল ক্যাম্পেইন’ নামে একটি শিক্ষা মেলার আয়োজন করেন। এই প্রোগ্রামে তাকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বিনাশর্তে সাহায্য করে গ্রামের ৫০-৬০ জনের একটি দল, যারা কিনা সত্যিই বুকের মধ্যে স্বপ্ন লালন করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কর্তব্য ও দায়ীত্ব পালনের মধ্যদিয়ে একটি সুন্দর সমাজ গঠনের। তিনি আরো একটি বিষয় লক্ষ্য করলেন-‘দল-মত-ধর্ম, অর্থনৈতিক অবস্থাভেদে ধনি-গরীব নির্বিশেষে সকলের মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবার অদম্য ইচ্ছাটি আছে, সবাই চায় মানুষের সেবা করতে। ঠিক তখনি তার মনের মধ্যে একটি অদম্য ইচ্ছাও দানা বাধে যে নৈতিকতা, মুল্যবোধ ও মানবিকতার মূলনীতি দিয়ে তিনি সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনে এমন একটি সংগঠন তৈরী করবেন যার প্রতিটি সদস্যের মধ্যেই থাকবে একটা চেতনা-স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে, নিজের কাধে দায়ীত্ব তুলে নিয়ে সমাজের আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার। সেখান থেকেই ‘Let’s Build Bangladesh (LBB)’- এসো, বাংলাদেশ গড়ি।
তিনি মনে করেনঃ
১. প্রতিটা মানুষেই স্বেচ্ছাসেবক তখনই যখন তার মধ্যে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মনুষত্ব থাকবে, দেশ প্রেম থাকবে।
২. প্রতিটা মানুষেই যখন সুনাগরিক হয়ে উঠবে তখনি দেশটা হয়ে উঠবে স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।
৩. যখন প্রতিটা মানুষ তার দায়ীত্ব,কর্তব্য আর অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে তখনি সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
এই তিন নীতিতে বিশ্বাসী মানুষটি তাই সবার মধ্যে লুকায়িত বিবেক আর মনুষত্বের বিকাশ ঘটিয়ে প্রতিটা মানুষকে এ দেশের স্বেচ্ছাসেবক করে গড়ে তুলতে চান। উপহার দিতে চান এক নতুন বাংলাদেশ।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ
১.সমাজের প্রতিটা নাগরিকের মধ্যে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন জাগিয়ে তুলে সুনাগরিক করে গড়ে তোলার স্বার্থে নৈতিকতা, মুল্যবোধ ও মনুষ্যত্বের বীজ বপন করা।
২. সমাজের যে কোন অপরাধ, অসংগতি, সমস্যা সমাধান কল্পে স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে অবদান রাখা।
৩. সবার মাঝে সুনাগরিকের চেতনা ছড়িয়ে দেয়া।
৪. সর্বপরি অনাগত ভবিষ্যতের জন্য একটি সুন্দর বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়াই এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য।
১. গঠন নীতিঃ
১.১ মূলনীতিঃ
“শুধু ‘করো করো’ বলে সমাজের পরিবর্তন এর জন্য অপরের ঘারে দায়ীত্ব ঠেলে দিয়ে চুপ করে বসে থাকাই সমস্যা সমাধানের পথ নয়, বরং নিজের সামর্থের মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে মানুষের কল্যান সাধনের মধ্যেই সকল সমস্যার সমাধান নিহিত”- এই চেতনাকে ধারন করে দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমাজের প্রতিটা মানুষের পাশে একজন গর্বিত স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দাড়ানোই এই সংগঠনের মূলনীতি।
১.২ এই সংঠনের উদ্দেশ্য সমুহঃ
A. নৈতিকতা, মূল্যবোধ, মনুষত্ব –এই তিন নীতিতে সুনাগরিক সৃষ্টি।
B. স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে মানুষ, সমাজ ও দেশের স্বার্থে কাজ করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন করা।
C. মানুষের কল্যানার্থে যে কোন গঠন মূলক কাজে অংশগ্রহন করা।
১.৩ কার্যনীতিঃ কোন সমস্যা চিহ্নিত হলে, বা সেই ক্ষেত্রে সমাজের পরিবর্তন প্রয়োজন হলে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিম্নোক্ত তিন ধাপে কার্য পরিচালনা করবে-
A. জনগনের মধ্যে সেই বিষয়ে অধিকার, দায়ীত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি,
B. সমাধানের জন্য নিজেদের যথাসাধ্য চেষ্টা, প্রয়োজনে প্রশাসনকে সাহায্য করা।
C. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজন হলে স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে সমস্যাটির মূলৎপাটনে দায়ীত্ব গ্রহন করা।
২. সদস্য পদ
I. সদস্যপদ গ্রহনঃ মানুষের কল্যানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে ইচ্ছুক যে কেউ এইচ.এস.সি পাশের পর এই সংগঠনের সদস্য হতে পারবে।
II. সদস্য পদ বাতিলঃ সদস্যদের দাড়া যে কোন অপরাধ সংগঠিত হলে বা হওয়ার আশংকা থাকলে, নৈতিকতা , মূল্যবোধ, মনুষত্বে বিলুপ ঘটলে, বা সংগঠনের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করলে তার সদস্য পদ বাতিল বলে গণ্য হবে।
III. সদস্যপদ পূনঃরায় গ্রহনঃ সদস্যপদ হারানোর পর যদি কোন সদস্য পুনঃরায় সদস্য পদ গ্রহন করতে চায় তাহলে জেলাভিত্তিক অস্থায়ী কমিটির সুপারিশ সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে সদস্য পদ পুনঃরায় গ্রহন করতে পারবে।
৩.সংগঠনের অভ্যন্তরীন কার্যপরিচালনাঃ
৩.১ একটি কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটি
৩.২ প্রতিটি বিভাগে অস্থায়ী বিভাগীয় কমিটি
৩.৩ প্রতিটি জেলায় অস্থায়ী কার্যনির্বাহী কমিটি
৩.৪ সমস্যা সমাধান ভিত্তিক অস্থায়ী কমিটি
এছাড়াও সংগঠনের গতিবিধি পর্যালোচনা করার জন্য একটি প্রশাসনিক কমিটি থাকবে।
৩.ক. শর্তসমুহঃ
১. কেন্দ্রীয় কমিটি ও প্রশাসনিক কমিটি সম্পুর্ণ আলাদা।
২. প্রশাসন, জনপ্রতিনীধি, সরকার, সংসদীয় ব্যক্তিত্ব অথবা রাজনৈতিক কোন ব্যাক্তি বিশেষ - কেউই কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হতে পারবেনা।
৩. কেন্দ্রীয় কমিটির অবস্থান প্রশাসনিক কমিটির ঊর্ধ্বে, অর্থাৎ সংঠনের অভ্যন্তরীন কোন সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক কমিটির হস্তক্ষেপ করার অধিকার থাকবেনা। শুধু মাত্র সংগঠনের সদস্যদের দাড়া দেশদ্রোহ, দুর্নীতি, সামাজিক অপরাধ সহ যে কোন অপরাধ সঙ্গঠিত হলে সে ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করার অধিকার থাকবে।
৪. উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রশাসনিক কমিটির সুপারিশে আইনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির অভিশংসন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও বিলুপ্তির ক্ষমতা রাখেন।
৪. সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের মনে রাখতে হবে-
১. এটি একটি অলাভ-জনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, অর্থাৎ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিভাবে লাভবান হওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।
২. এর কার্যক্ষেত্রের কোন পরিসীমা নেই। সমাজের যে কোন উন্নয়ন মূলক কাজে এর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহন নিশ্চিত করার দায়ীত্ব এর প্রতিটা সদস্যের।
৩. উপদেশ, আন্দোলন, হতাশা নয়, এই সংগঠনের সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবর ও কর্মে বিশ্বাসী।
৪. সরকারের (সরকার যে দলই গঠন করুক না কেন)সকল উন্নয়ন মূলক কাজে সাহায্য করা, অবদান রাখার দায়ীত্ব এর প্রতিটা সদস্যের।
৫. এই গঠন্তন্ত্রের সংশোধনঃ
I. এই গঠন তন্ত্র পরিবর্তনশীল, অর্থাৎ কেন্দ্রীয় কমিটি যে কোন সময় এই গঠন্তন্ত্রের যে কোন ধারার পরিশোধন, পরিমার্জন, পরিবর্ধন করার সম্পূর্ণ ক্ষমতা রাখে।
II. কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধানের সুপারীশ ছাড়া কোন সংশোধনী গ্রহনযোগ্য হবে না।