10/08/2025
⚠️Digital Resurrection and Ethical Dilemma⚠️
আজ একটা টার্ম ওয়ার্ড নিয়ে কথা বলা যাক। এটা হচ্ছে -Digital Resurrection। দেখেন, এই যে আপনি চ্যাটজিপিটি, গ্রক,জেমিনির নিত্যনতুন ভার্সন এর ছোয়া পেয়ে যতটা আনন্দিত হচ্ছেন বাস্তবে এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর পাওয়ার অনেকটা ডার্ক ওয়েবের আনসিন ডেপথ এর মতো। অর্থাৎ আপনার আমার ধারণাই নাই এই ইন্টেলিজেন্স কতদূর যাইতে পারে। দ্যা গার্ডিয়ান এর রিসেন্ট একটা নিউজ এ ৭০ দশকের নামকরা গায়ক, প্রিন্স অব ডার্কনেস- অজি অসবর্ণ এর ডিজিটাল রিসারেকশন নিয়ে রিপোর্ট করা হয়। এখন প্রশ্ন হইতেসে রিসারেকশন অর্থাৎ পুনরুত্থান আবার ডিজিটাল কেমনে হয়?!
সহজ করে বুঝাই।ধরেন আপনার কোনো বিশেষ প্রাণী পছন্দ। এখন বিড়াল,কবুতর,টিয়ে, খরগোশ এর মত নিরীহ প্রাণী আপনি চাইলে পেট হিসাবে পালতেই পারেন কিন্তু যার বাঘ, সিংহ, ভাল্লুকের প্রতি আকর্ষণ তার এই ভয়ংকর শখ সে মিটাবে কিভাবে? অনেককেই দেখা যায় তাদের প্রিয় পোষ্য এর মূর্তি রাখে বা ধরেন পাপেট /টেডি। এখন এয়াই বট আমাদের কাছে এমন একটা ভরসাযোগ্য টুল হয়ে গেসে যে এখন মানুষজনের এয়াই এর সাথে কনভার্সেশন এর সাথে সাথে ইমোশনাল এটাচমেন্ট ও চলে আসতেসে।তাইলে এই সমস্যা কিভাবে ট্যাকল দেওয়া যায়? তৈরি হইতেসে এয়াই অবজেক্টস যা আপনি টাচ করতে পারবেন।মানে ইমোশনাল ডেপথ এর জন্য এক্সট্রা সেন্সর এড হইল। এখন টেকনোলজি যত উন্নত হইতেসে,মানুষ এর মাথায় সবরকম কল্পনাকে বাস্তবিক রূপ দেওয়ার একটা নেশা ও কাজ করতেসে। এই ইনকুইজিটিভ মাইন্ড ই তৈরি করছে ডিজিটাল রিসারেকশন। বাঘ,কবুতর এর পাপেট এর যে উদাহরণ টা দিলাম এইটা ও অনেকটা সেরকম। ধরেন আপনার প্রিয় কোনো মানুষকে আপনি হারাইলেন আজীবনের মতো,এখন তাকে জীবিত করা তোহ বাস্তবে সম্ভব না, সেক্ষেত্রে এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে মোস্ট কনভিন্সিং ডিজিটাল পাপেট বানাইতে পারবেন অই মানুষের। আপনার কেনা টেডি যেমন ইনপুট দেয়া ভয়েসে কথা বলে ব্যাটারি দিলেই,এই ডিজিটাল রিসারেকশন এর পাপেট ও অই মৃত ব্যক্তির বা আপনি যার অব্জেক্ট ই তৈরি করতে চান - তার রেকডকৃত পুরোনে ভয়েস,হাসি,কান্না,ইমেজ, ভিডিও সবকিছু মিলায়ে যতটা রিয়ালিস্টিক সম্ভব ততটা দেখানোর ক্ষমতা রাখে এয়াই।
এখন কথা হচ্ছে,আমরা নিত্যনতুন টেকনোলজির ইনোভেশন দেখে তব্দা খেয়ে যাই তাই এই আবিষ্কারে ও আপনি আমি শান্ত থাকব-হতে পারে আবার কারো ক্ষেত্রে না ও হতে পারে এটা। এই টপিক টা এড্রেস কেনো করলাম সেটা এবারে বলি।হলিউডের Transcendence মুভিটা যদি দেখে থাকেন তাহলে আমার কথা রিলেট করতে পারবেন। না দেখলেও ক্ষতি নাই,বলতেসি, শুনেন।
মুভিতে প্রোটাগনিস্ট উইল এর কনশাসনেস আপ্লোড দেয়া হইছিল কোয়ান্টাম কম্পিউটার এ। এরপর তার ফিয়ন্সিকে দেখা যায় বাস্তবিক উইলের মতোই এই ডিজিটালি রিসারেক্টেড উইলের সাথে ইমোশনাল এটাচমেন্ট যেমন রাখতে পারে তেমনি সবথেকে আশ্চর্যজনক বিষয় যেটা হয় তা হইল এই ডিজিটাল উইল যার মধ্যে বাস্তবিক উইলের মাইন্ড ইন্সার্ট করা হইছে সেও আগের উইলের মতো ডিসিশন নেওয়ার ক্ষমতা রাখে, ফিল করার ক্ষমতা রাখে তার পুরানো কনশাসনেস এর সাহায্যে।অর্থাৎ অমরত্ব আরকি এবং এই নতুন উইল আপগ্রেড হবে প্রতিনিয়ত। একপর্যায়ে সফটওয়্যার ডেভিলপার এর ইন্টারভেনশন লাগবে না আর।তখন এই গল্প আরো অনেক দূর যাইতে পারে যা আপাতত চিন্তার বাইরে।
এইখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বোঝবার আছে। What is Consciousness and What is Intelligence? Same or different? -- আলাদা,ইন্টারচেঞ্জ করবেন না। ইন্টেলিজেন্স আপনার থিংকিং প্রোসেস,প্রব্লেম সলভিং এবিলিটি আর কনশাসনেস আপনার দেখা বা ফিল করা কোনো অব্জেক্টের প্রতি সাব্জেক্টিভ এওয়ারনেস। মুভিতে যেটা করছে এত অবধি আমাদের এয়াই যায় নাই।চ্যাটজিপিটি যা করে এইটা ইন্টেলিজেন্স। আর এই ডিজিটাল রিসারেকশন যেটা করল সেটাও ইন্টেলিজেন্স। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে এখানেও কনশাসনেস এর ব্যাপার আছে। সেটা মেশিনে নাই,অইটা আমার আপনার সাথে রিলেটেড। অর্থাৎ প্রিয় মানুষের রিসারেকশন আপনার মাঝে ইমোশনাল টারময়েল নিয়ে কি রেস্পন্স দিচ্ছে, এয়াই এথিক্স এর প্রশ্ন এখানেই। মৃত ব্যক্তির রিসারেকশন দেখে অনেকে আবেগে আপ্লুত হচ্ছে আবার অনেকের কাছে এটা Disrespectful and too much.আর উইলের কনশাসনেস নিয়ে যে কথাটা বললাম এইটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার নেশা ও কিন্তু আমাদের ব্রিলিয়ান্ট মাইন্ডসদের রাতের ঘুম নষ্ট করে বারবার থিসিস,এন্টিথিসিস,সিন্থেসিস এর দিকে নিয়ে যাচ্ছে।ফিউচার টা এবারে চিন্তা করেন তাইলে
আপনার কি মনে হয়? অনুভূতি আর চিন্তা দুইটাই মন্তব্য করতে পারেন।