31/01/2026
টাইটাস হিল্লোল রেমা
বাংলাদেশে গারোদের মধ্যে প্রথম সহকারী এটর্নী জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের প্রথম গারো আইনজীবী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রথম গারো ছাত্র টাইটাস হিল্লোল রেমা। তিনি সুপ্রীম কোর্টে আইনী পেশাজীবীদের মধ্যে সুপরিচিত নাম ছিলেন।
প্রাথমিক জীবন:
টাইটাস হিল্লোল রেমা ১৯৭৩ সালের ৩০ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর গ্রাম ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার জয়রামকুড়া। তাঁর বাবার নাম লিভিংস্টোন রেমা ও মা নির্মলা বৈদ্য। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড় সন্তান।
শিক্ষাজীবন:
প্রথমে তিনি জয়রামকুড়া প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। এই স্কুলে তিনি তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি গাজীপুরের গোয়ালবাথানে বাংলাদেশ এডভেন্টিস্ট সেমিনারি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি হন। এই প্রতিষ্ঠানে তিনি সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। এরপর তিনি হালুয়াঘাটের সেন্ট এন্ড্রুজ হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে এসএসসি সম্পন্ন করেন।
এসএসসি'র পর তিনি ঢাকার নটরডেম কলেজে বাণিজ্য শাখায় ভর্তি হন। এখান থেকে তিনি এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে আইন পড়া শুরু করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রথম গারো ছাত্র। এই প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করেন।
কর্মজীবন:
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি খাসিয়াদের নিয়ে কাজ করেন। এরপর আইনী পেশায় মনোযোগ দেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের প্রথম গারো আইনজীবী। ২০০৯ সালে তিনি সহকারী এটর্নী জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি গারোদের মধ্যে প্রথম সহকারী এটর্নী জেনারেল। তিনি ১০ বছর এই পদে থেকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছেন।
সংগঠন:
তিনি বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও পেশাজীবী সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি বাংলাদেশ গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (গাসু) এর সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গারো ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশন (জিবিসি) এর সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সহসভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি ধর্মীয়ভাবে পাস্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বেশ কিছু পেশাজীবী সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ খ্রিষ্টান লইয়ার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ইন্ডিজেনাস লইয়ার্স এসোসিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি। এই সংগঠন প্রতিষ্ঠায় তাঁর অনন্য ভূমিকা ছিল।
তিনি সুপ্রীম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ল' ক্রনিক্যালস এর সম্পাদনাও করেছেন।
বিদেশ ভ্রমণ:
তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে বিশেষ অতিথি হিসেবে সেই দেশে বিভিন্ন আদালত ও রাজ্য ঘুরে দেখেছেন। এছাড়া তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশেও ভ্রমণ করেন। তিনি ব্লাস্ট এর হয়ে ভারতের দিল্লী হাইকোর্টেও কিছুদিন কাজ করেছেন।
বিবাহিত জীবন:
তিনি ২০০২ সালে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মরিয়মনগরের অনুভা ম্রংকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে দুই মেয়ে- ক্যাথি দিবা রেমা ও ডোনা কৃষ্টি রেমা।
মৃত্যু:
২০২৫ সালের ১ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।