06/02/2026
উন্মুক্ত ছায়া সংসদ
শুধু ভোটের আগে নয়, ভোটের পরেও জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি।
রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নে, বৈষম্য ও দুর্নীতি মুক্ত, জবাবদিহিতা মূলক স্বচ্ছ রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার।
লেখক: মোঃ আবুল খায়ের আমানউল্লাহ্
(প্রস্তাবনা খসড়া)
দীর্ঘ এক বছর সারা বাংলাদেশে ১০০০+ জন ব্যক্তি। ১৭ থেকে ৮০ বছর এর জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ছাত্র-ছাত্রী এবং পুরুষ ও নারী উপর জরিপ ও গবেষণা করার মাধ্যমে উন্মুক্ত ছায়া সংসদ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছি।
ভূমিকা:
উন্মুক্ত ছায়া সংসদ প্রতিষ্ঠিত হলে, শুধু মাত্র ভোটের আগে নয়, ভোটের পরেও প্রতি ২ (দুই) মাসে ১ (এক) দিন বাধ্যতামূলক ভাবে সাধারণ জনতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সংসদ সদস্য এবং প্রতিটি জনপ্রতিনিধিদের। এতে করে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন, বৈষম্য ও দুর্নীতি মুক্ত, জবাবদিহিতা মূলক স্বচ্ছ রাষ্ট্র গঠন হবে। সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরাও জবাবদিহিতার আওতায় আসবে। এর মাধ্যমে ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনসহ দেশের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, সে সকল শহীদের রক্তের প্রত্যাশা পূরণ হবে। গণতান্ত্রিক সঠিক প্রদ্ধতি চর্চা হবে। জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে বৈষম্য মুক্ত সচেতন সমাজ গঠন পাশাপাশি, যে রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধিগণ দেশের জন্য ভালো কাজ করবে তারা সম্মানিত হবে এবং রাজনৈতিক দলের প্রতি জনগণের দৃঢ় আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
উন্মুক্ত ছায়া সংসদ কি ?
বাংলাদেশের ৩০০ (তিনশত) টি সংসদীয় আসন রয়েছে। প্রত্যেক সাংসদকে রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন, বৈষম্য ও দুর্নীতি মুক্ত, জবাবদিহিতামূলক স্বচ্ছ রাষ্ট্র গঠনে জনগেণর মুখোমুখি হওয়া প্রয়োজন। আর এ প্রয়োজনেই শুধু মাত্র ভোটের আগে নয়, ভোটের পরেও প্রতি ২ (দুই) মাসে ১ (এক) দিন পূর্ব নির্ধারিত তারিখ ও সময় অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে সাধারণ জনতার মুখোমুখি হতে হবে। এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নই হলো উন্মুক্ত ছায়া সংসদ।
এতে করে রাষ্ট্র কিংবা সংসদীয় আসন এলাকায়, সংসদ সদস্য এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের এলাকার উন্নয়নমুলক কাজ করতে সহজ হবে। যারা স্বশরীরে উপস্থিত হতে পারবেন না, তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় ওয়েব পোর্টাল বা অ্যাপস এর মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করার এবং উন্মুক্ত ছায়া সংসদ লাইভ বা সংরক্ষিত লাইভ অনুষ্ঠান দেখার ও পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
উন্মুক্ত ছায়া সংসদ এর সময়:
1. প্রতি ২ (দুই) মাসে ১ (এক) দিন বাধ্যতামূলক ভাবে উন্মুক্ত ছায়া সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে যার সময় হবে সর্বনি¤œ ৪ (চার) ঘন্টা ব্যাপী। প্রথম ২ (দুই) ঘন্টা সাধারণ মানুষ কথা বলার সুযোগ পাবে। এবং পরবর্তী ২ (দুই) ঘন্টা সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউনিয়নের অন্যান্য জনপ্রতিনিধিগণ কথা বলার সুযোগ পাবেন। প্রয়োজনে সময় বৃদ্ধি পেতে পারে।
2. উন্মুক্ত ছায়া সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ কথা বলার জন্য ৩ (তিন) মিনিট সময় পাবেন। এবং উত্তর প্রধান বা যুক্তি উপস্থাপন করার জন্য সংসদ সদস্য এবং প্রয়োজনে অনুমতিক্রমে জনপ্রতিনিধি সময় পাবেন ৫ (পাঁচ) মিনিট।
3. জনপ্রতিনিধিদের কথা বলার জন্য নির্ধারিত সময়:
• সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র- ১৫ (পনেরো) মিনিট।
• পৌরসভার মেয়র বা চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর- ১০ (দশ) মিনিট।
• ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান- ৮ (আট) মিনিট।
• পৌরসভার কাউন্সিলর- ৭ (সাত) মিনিট।
• এবং ইউনিয়ন মেম্বার- ৫ (পাঁচ) মিনিট।
• জনপ্রতিনিধিরা কথা বলার সময় সংসদ সদস্য এবং প্রয়োজনে অনুমতিক্রমে জনপ্রতিনিধি উত্তর এবং যুক্তি উপস্থাপন করার জন সংসদ সদস্য ৫ (পাঁচ) মিনিট করে সময় পাবেন। প্রয়োজনে সময় বৃদ্ধি পেতে পারে।
উন্মুক্ত ছায়া সংসদ গঠন এবং কাঠামো:
1. প্রতিটি সংসদীয় আসন অনুযায়ী উন্মুক্ত ছায়া সংসদ গঠন হবে। যা বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ এর ৩০০ (তিন শত) সংসদীয় এলাকাতেই কার্যকর থাকবে।
2. প্রতি ২ (দুই) মাসে ১ (এক) দিন বাধ্যতামূলক ভাবে উন্মুক্ত ছায়া সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
3. প্রথম ২ (দুই) ঘন্টা সাধারণ জনগণ কথা বলার সুযোগ পাবে। পরবর্তী ২ (দুই) ঘন্টা অন্যান্য জনপ্রতিনিধিগণ কথা বলার সুযোগ পাবে। তবে সাধারণ জনগণ কথা বলার সময় কোন জনপ্রতিনিধিগণ কথা বলতে পারবেন না। প্রয়োজনে সঞ্চালকের অনুমতিক্রমে উত্তর দিবেন।
4. উপজেলা পরিষদের খোলা মাঠে মঞ্চ তৈরি করে অথবা উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।
5. বাধ্যতামূলকভাবে রাষ্ট্রীয় ওয়েব পোর্টাল বা অ্যাপস এর মাধ্যমে উন্মুক্ত ছায়া সংসদ লাইভ স্ট্রিমিং করতে হবে।
6. সংসদ সদস্য এবং সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিগণ কথা বলার সুযোগ পাবেন এবং জবাবদিহিতার আওতায় আসবেন।
7. সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা ওয়ার্ড ভিত্তিক এবং প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য আলাদা আলাদা নাম টানানো থাকবে, নাম অনুযায়ী সে স্থানে সম্মুখ হয়ে সকলেই বসবেন।
8. সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধিগণ এবং সঞ্চালক চেয়ার টেবিল নিয়ে বসবেন।
9. সাধারণ জনগণ বসার জন্য চেয়ার অথবা পাটি/মাদুর/পাটের চট ইত্যাদি ব্যবস্থা থাকবে।
10. উন্মুক্ত ছায়া সংসদের সঞ্চালক হিসেবে থাকবেন উপজেলার প্রথম শ্রেণীর কোন গেজেট কর্মকর্তা। তবে যিনি একবার সঞ্চালনা করবেন তিনি দ্বিতীয়বার আর ৫ (পাঁচ) বছর এর মধ্যে করতে পারবেন না। এবং সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসার।
11. সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি), উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা এবং আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা।
12. প্রতিটি উন্মুক্ত ছায়া সংসদের উপস্থাপনা এবং নোট গ্রহণ করার দায়িত্বে থাকবেন- সংসদীয় আসনে থাকা প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা কলেজের শিক্ষক অথবা ছাত্র প্রতিনিধি। তবে উপস্থাপনা বা নোট গ্রহণ করার দায়িত্বে যিনি থাকবেন তিনি দ্বিতীয়বার আর ৫ (পাঁচ) বছর এর মধ্যে করতে পারবেন না।
13. সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা ওয়ার্ড ভিত্তিক এবং প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১ (এক) জন করে কথা বলবে, এভাবে চক্রাকারে ২ (দুই) ঘন্টা ব্যাপী চলতে থাকবে। যেন সকলে সমান সুযোগ পায়। লিখিত এবং মৌখিকভাবে কথা বলার সুযোগ থাকবে।
14. প্রতিটি উপজেলা ভিতরে মসজিদ এর পাশে একটি করে নোটিশ বোর্ড এবং অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স স্থাপন করতে হবে। যেনো যে কোন সময় যে কেউ বক্সে লিখিত অভিযোগ ও পরামর্শ দিতে পারে এবং নোটিশ পড়তে পারে। যা উন্মুক্ত ছায়া সংসদের দিন সকলের সামনে খোলা হবে। উপস্থাপক নিজে পড়ে যাচাই-বাছাই এর মাধ্যামে সকলের সম্মুখে উপস্থাপন করবেন। সংসদ সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিগণ উত্তর দিবেন।
15. পরবর্তী উন্মুক্ত ছায়া সংসদ অধিবেশনে পূর্ববর্তী উন্মুক্ত ছায়া সংসদ সভার মূল্যায়ন বাধ্যতামূলকভাবে তুলে ধরতে হবে।
16. যারা স্বশরীরে উস্থিত হতে পারবেন না তারা রাষ্ট্রীয় ওয়েব পোর্টাল বা অ্যাপস বা জাতীয় তথ্য সেবা ৩৩৩ নম্বরে ফোন করার মাধ্যমে মতামত দিবে।
17. প্রতিটি উন্মুক্ত ছায়া সংসদ কার্যক্রম শেষ হওয়ার ৩ (তিন) কার্য দিবসের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ওয়েব পোর্টাল প্রেস রিলিজ প্রকাশ করতে হবে এবং নোটিশ বোর্ডে টানাতে হবে।
রাষ্ট্রীয় ওয়েব পোর্টাল এবং অ্যাপস উন্মুক্ত করণ:
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ওয়েব পোর্টাল এবং অ্যাপস তৈরী করে জনসাধারণ এর জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। দেশের সকল জনগণ তার নিজ জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট বা জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ফেইস ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে সহজে একাউন্ট করতে পারবে। যেখানে সারা বাংলাদেশের সকল জনগণ বিভিন্ন অপশন সিলেক্ট করে। যেমন: সর্ম্পূণ বাংলাদেশ, বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন, জেলা, সংসদীয় আসন, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড ইত্যাদি অপশন সিলেক্ট করে তাদের পরামর্শ, চাহিদা, অভিযোগ ইত্যাদি তুলে ধরার জন্য লেখা, ছবি, ডকুমেন্ট ইত্যাদি আকারে যে কোন সময় সাবমিট করার ব্যবস্থা এবং উন্মুক্ত ছায়া সংসদ লাইভ দেখতে পারবেন। এছাড়াও বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ, নির্দেশনা, বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ, নিলাম এবং লাইভ স্ট্রিমিং ইত্যাদি দেখতে পারবে। যা রাষ্ট্রীয় ওয়েব পোর্টালে সংরক্ষিত থাকবে।
রাষ্ট্রীয় ওয়েব পোর্টাল এবং অ্যাপস ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম:
1. বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ওয়েব পোর্টাল এবং অ্যাপস এডমিন হিসেবে থাকবেন: রাষ্ট্রপতি, সকল নিরাপত্তা বাহিনী, প্রধানমন্ত্রী, নির্বাচন কমিশন এবং সংসদীয় স্পিকার। সহযোগী-এডমিন: বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস।
2. বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ওয়েব পোর্টাল এবং অ্যাপস সঞ্চালক: মন্ত্রী, সিটি কর্পোরেশন মেয়র, সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা নির্বাচন অফিস। সহযোগী সঞ্চালক: উপজেলা নির্বাচন অফিস এবং ভূমি অফিস।
3. রাষ্ট্রীয় ওয়েব পোর্টাল এবং অ্যাপস এর বিভিন্ন অপশন যেমন: সম্পূর্ণ বাংলাদেশ, বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন, জেলা, সংসদীয় আসন, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড ইত্যাদি অপশন সিলেক্ট করে তাদের পরামর্শ, চাহিদা, অভিযোগ ইত্যাদি তুলে ধরার জন্য লেখা, ছবি, ডকুমেন্ট ইত্যাদি আকারে যে কোন সময় সাবমিট করার ব্যবস্থা থাকবে। এবং উন্মুক্ত ছায়া সংসদ লাইভ দেখতে পারবেন। যা রাষ্ট্রীয় ওয়েব পোর্টালে সংরক্ষিত থাকবে।
4. ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য সাধারণ জনগণ তার নাম, পরিচয়, ঠিকানা গোপন বা প্রকাশ রাখার অপশন থাকবে।
5. এডমিন/সহযোগী-এডমিন/সঞ্চালক/সহযোগী সঞ্চালক রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন করবে।
6. রাষ্ট্রীয় ওয়েব পোর্টাল এবং অ্যাপসে সকল পোষ্টে এবং লাইভে একাউন্ট দ্বারী যে কেউ মন্তব্য, অভিযোগ ও পরামর্শ দিতে পারবেন।
7. একাউন্ট ছাড়াও দেশের সকল নাগরিক নোটিশ, নির্দেশনা এবং লাইভ দেখতে পারবে।
8. স্মার্টফোন ব্যবহার করতে না পারা নাগরিকদের সুবিধার্থে জাতীয় তথ্য সেবা ৩৩৩ নম্বরে কল করে ভয়েস বা মৌখিক তথ্যের ভিত্তিতে সেবা নিশ্চিত করা। সেবা প্রতিনিধি জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট বা জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী তথ্য যাচাই করে অ্যাকাউন্ট তৈরি ও লিপিবদ্ধ করতে পারেন। এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে ভয়েস-টু-টেক্সট প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি কথা বলে তথ্য এন্ট্রি করা। কল চলাকালীন স্বয়ংক্রিয় ভাবে স্মার্ট পরিচয় যাচাই করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করা। মেনু কমিয়ে সরাসরি এজেন্ট বা এআই-ভিত্তিক সেবা চালু করা। স্থানীয় ও আঞ্চলিক উপভাষায় কথা বলার সুগোগ রাখা। যাতে প্রান্তিক মানুষ সহজে তথ্য দিতে পারে।
9. রাষ্ট্রীয় ওয়েব পোর্টালে সকল কার্যক্রম সংরক্ষিত থাকবে।
10. নোটিশ বোর্ড এবং অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স স্থাপন:
11. বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলাতে একটি করে সম্মিলিত নোটিশ বোর্ড এবং অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স স্থাপন কতে হবে। যা উপজেলা পরিষদ প্রধান গেট অথবা মসজিদ এর পাশে হলে ভালো হবে।
12. রাষ্ট্রের এবং উপজেলার সকল অফিস সহ অন্যান্য সকল গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ, নির্দেশনা, বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ, নিলাম ইত্যাদির একটি কপি এই নোটিশ বোর্ডে টানাতে হবে যেন সকলে দেখতে পারে।
13. এছাড়াও প্রতিটি অফিসে নোটিশ বোর্ড এবং অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স স্থাপন বাধ্যতামূলকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
উন্মুক্ত ছায়া সংসদের প্রয়োজনীয়তা:
1. উন্মুক্ত ছায়া সংসদ এর মাধ্যমে ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলন সহ দেশের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, সে সকল শহীদের রক্তের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
2. রাজনৈতিক দল মত নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন হবে।
3. জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের ন্যায্য অধিকার এবং নিজস্ব বাক স্বাধীনতা ও মানব অধিকার ফিরে পাবে।
4. সংসদ সদস্য প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকেন সংসদীয় আসনের প্রতিটি এলাকায় জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে পরিকল্পিত উন্নয়ন করার জন্য যেতে পারেন না বা সম্ভব হয়ে উঠে না। উন্মুক্ত ছায়া সংসদ এর মাধ্যমে এক স্থান থেকে সকল কিছু জানতে পারবেন, যা সংসদীয় অধিবেশনে উপস্থাপনের মাধ্যমে পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে পারবেন।
5. বৈষম্য মুক্ত দেশ ও সমাজ গঠন হবে এবং রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ জবাবদিহিতা মূলক রাষ্ট্র গঠন হবে।
6. প্রয়োজন অনুযায়ী সংসদ সদস্যগণ দেশে এবং তার নির্বাচিত এলাকার উন্নয়ন সাধিত করার লক্ষ্যে সংসদীয় আসনের জনগণের কাছ থেকে মতামত এবং পরামর্শ নিতে পারবে।
7. কোন প্রকার তৃতীয় পক্ষ, দালাল, প্রতারক চক্র বা অসৎ পন্থা অবলম্বনকারীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই জনগণ তাদের চাহিদা অনুযায়ী পরামর্শ এবং অভিযোগ সংসদ সদস্য এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিগণের সাথে সরাসরি কথা বলা সুযোগ পাবে।
8. সংসদ সদস্য এবং প্রতিটি জনপ্রতিনিধিদের সাথে সাধারণ জনগণ সরাসরি কথা বলা সুযোগ থাকায় কাউকে ভুল বুঝিয়ে দুর্নীতির পথে নিয়ে যেতে পারবে না। এতে করে দুর্নীতি হ্রাস পাবে।
9. উন্মুক্ত ছায়া সংসদ এর মাধ্যমে দুর্নীতি, দুঃশাসন, ঘুষ লেনদেন, কারচুপি, দালালি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং অন্যায় দূর হবে এবং প্রতারক চক্র মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গঠন হবে।
10. তথ্য অধিকার আইন- ২০০৯ কার্যকর বাস্তবায়ন হবে।
11. সমাজে সচেতনা বৃদ্ধি পাবে। অযৌক্তিক আন্দোলন বন্ধ হবে। কাউকে ভুল বুঝিয়ে অযৌক্তিযুক্ত আন্দোলনে নেওয়া যাবে না।
12. একনায়কতন্ত্র ব্যবস্থার দিকে কোন সরকার যেতে পারবে না।
13. গণতান্ত্রিক সঠিক প্রদ্ধতি চর্চা হবে। এতে করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দূর হবে এবং এতে করে কোন রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী অপরাজনীতি করার সাহস পাবেন না।
14. রাষ্ট্রের নাগরিকদের থেকে জনপ্রতিনিধিগণ কোন প্রকার তথ্য গোপন করতে পারবে না। এতে রাষ্ট্রের উন্নয়ন হবে।
15. যারা স্বশরীরে উপস্থিত হতে পাচ্ছেন না তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় ওয়েব পোর্টাল বা অ্যাপস এর মাধ্যমে তাদের পরামর্শ, চাহিদা, অভিযোগ ইত্যাদি তথ্য বিভিন্ন ভাবে জমা দেওয়ার এবং উন্মুক্ত ছায়া সংসদ লাইভ বা সংরক্ষিত লাইভ অনুষ্ঠান দেখার ও পরামর্শ দেওয়া ব্যবস্থা থাকবে।
উন্মুক্ত ছায়া সংসদ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ:
1. সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি), উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা এবং আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা।
2. সার্বক্ষণিক সিসি-ক্যামেরা এবং লাইভ নিশ্চত করতে হবে।
3. পুলিশ এবং আনসার সদস্যসের পাশা-পাশি বিভিন্ন সংগঠনের ভলেন্টিয়ার যেমনঃ স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, বিএনসিসি ইত্যাদির সদস্যগণ উপস্থিত থাকবেন।
4. প্রিন্ট মিডিয়া এবং সাংবাদিকগণ তাদের চ্যানেল এর মাধ্যমে সরাসরি লাইভ করতে পারবেন।
5. অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স উন্মুক্ত ছায়া সংসদের দিন সকলের সামনে খুলতে হবে।
উন্মুক্ত ছায়া সংসদ এর চ্যালেঞ্জ সমূহ:
1. অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য বাজেট প্রয়োজন হবে।
2. অনেক লোকসমাগম হবে তাই নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে হবে।
3. নারী অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
4. প্রচারণার জন্য মাইকিং, লিফলেট, বিজ্ঞাপন এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার ইত্যাদি করতে হবে।
5. প্রাকৃতিক আবহাওয়া খারাপ থাকলে খোলা মাঠে প্রোগ্রাম আয়োজন করা কঠিন হবে। হলরুমে আয়োজন করতে হবে। অথবা সময় পরিবর্তন করতে হবে।
উপসংহার:
উন্মুক্ত ছায়া সংসদ বাস্তবায়ন হলে জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে বৈষম্য মুক্ত সচেতন সমাজ গঠন হবে। এর মাধ্যমে ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলন সহ দেশের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, সে সকল শহীদের রক্তের প্রত্যাশা পূরণ হবে। এটা শুধু আন্দোলন নয়, জনতার অধিকার, বাস্তবায়ন করবে সরকার।
রেফারেন্স:
• যুক্তরাজ্য: যুক্তরাজ্যে উন্মুক্ত ছায়া সংসদ কার্যক্রম ব্যবস্থা আছে। প্রধান বিরোধী দল, লেবার পার্টি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেন।
• কানাডা: কানাডিয়ান ফেডারেল ও প্রাদেশিক স্তরেও উন্মুক্ত ছায়া সংসদ ব্যবস্থা আছে।
• নিউজিল্যান্ড: নিউজিল্যান্ডে উন্মুক্ত ছায়া সংসদ কার্যক্রম ব্যবস্থা আছে। তার নাম “ সুসংহত শ্যাডো ক্যাবিনেট ”।
• ইতালি: ইতালিতে উন্মুক্ত ছায়া সংসদ র্চচা করা হয়। তার নাম হলো “ শ্যাডো গভর্নমেন্ট ”।
• জাপান: জাপানে উন্মুক্ত ছায়া সংসদ চর্চা করা হয়। তার নাম হলো “ পরবর্তী মন্ত্রিসভা ”।
• আয়ারল্যান্ড: আয়ারল্যান্ডে উন্মুক্ত ছায়া সংসদ চর্চা করা হয়। তার নাম হলো “ স্পোকসপারসন ”।
• অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়াতে উন্মুক্ত ছায়া সংসদ কার্যক্রম ব্যবস্থা আছে।
• তুরস্ক: তুরস্কে উন্মুক্ত ছায়া সংসদ কার্যক্রম ব্যবস্থা আছে।
• ফ্রান্স: ফ্রান্সে উন্মুক্ত ছায়া সংসদ কার্যক্রম ব্যবস্থা আছে।
• মালয়েশিয়া: মালয়েশিয়াতে উন্মুক্ত ছায়া সংসদ কার্যক্রম ব্যবস্থা আছে।
• এছাড়াও জ্যামাইকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, হাঙ্গেরি, ইউক্রেন, ইসরায়েল, ভারত ইত্যাদি দেশে উন্মুক্ত ছায়া সংসদ বিভিন্ন নামে চর্চা করা হয়।
উন্মুক্ত ছায়া সংসদ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে চর্চা করা হয়।
রেফারেন্স এর সকল তথ্য ইন্টারনেট থেকে নেওয়া হয়েছে।
" উন্মুক্ত ছায়া সংসদ " নিবন্ধটি দৈনিক প্রলয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। নিচের লিংকটিতে ক্লিক করে, পড়ে আসতে পারেন
দৈনিক-প্রলয়--dainik-proloy-