বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ-মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা।

  • Home
  • Bangladesh
  • Munshiganj
  • বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ-মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা।

বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ-মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা। It is an antifascist, antiimperialist writers' organisation.

19/10/2024

রক্ষণশীলতা মানে কি?

ইংল্যান্ডের টোরি দলকে যারা সমর্থন করে তাদের অনেকেই নাস্তিক কিন্তু তারাও রক্ষণশীল। ভারতের যে নাগরিকগণ সনাতন ধর্মকে টিকিয়ে রাখতে চান সে রক্ষণশীল। অতীত এতিহ্য ও ইতিহাসের কথা বলে যারা অতীত আঁকড়ে থাকতে চান তারা রক্ষণশীল। চট্টগ্রামের যারা বলি খেলার প্রচলন ধরে রাখতে মরিয়া তারা রক্ষণশীল। বহু নাস্তিকও এ খেলা ধরে রাখতে চাইতে পারে। তখন তারাও রক্ষণশীল। যে নারী আজানের সময় মাথায় প্রথামতো কাপড় তুলে দেয় সে সঙ্গীতশিল্পী হলেও রক্ষণশীল। রক্ষণশীল শ্রীলংকানরা বৌদ্ধ, রক্ষণশীল ভারতীয়রা সূর্য উপাসক, রক্ষণশীল ইরানীরা শিয়া, রক্ষণশীল সৌদীরা সুন্নী।

রক্ষণশীল কমিউনিস্টরা স্ট্যালিনের সমর্থক। আরো রক্ষণশীল রাশানরা জার শাসনকেই সমর্থন করে। প্রোটেস্ট্যান্টরা একদা প্রগতিশীল ছিল আজ যারা প্রোটেস্ট্যান্ট তারা অবশ্যই রক্ষণশীল। ১৯৯০ এর আগে গ্লাসনস্ত ও পেরেস্ত্রাইকার সমর্থকরা ছিল প্রগতিশীল কিন্তু আজ যারা গ্লাসনস্ত ও পেরেস্ত্রাইকাতে আছেন তারা রক্ষণশীল। যুক্তরাষ্ট্র যতই অগ্রসর রাষ্ট্র হোক প্রত্যেক ক্যাথলিক মার্কিনিই রক্ষণশীল।

এখনো যারা বউ পেটায় তারা রক্ষণশীল। এখন যারা গণতন্ত্রের বিরোধী ও একনায়কতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র বা সর্বগ্রাসীতন্ত্রের সমর্থক তারা সকলেই রক্ষণশীল। এখনো আপনি লালনের গানের ভক্ত এবং সুফিবাদকে আশ্রয় করে তৃপ্তি পান এর মানে হল, আপনি রক্ষণশীল। আপনি ভারত ভ্রমণে যান বাবাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে কিংবা সিলেটে গিয়েই মাজারে গিয়ে আপ্লুত হন এবং দরগায় দান করতে উতলা হন, আপনি রক্ষণশীল।

আপনি একাত্তরের চেতনায় ফিরে যেতে চান মানে আপনি রক্ষণশীল। আপনি এখনো ব্যক্তিপূজায় আস্থা রাখেন মানে আপনি রক্ষণশীল। ডুনাল্ড ট্রামের রিপাবলিকান দলে বহু নাস্তিক রয়েছেন কিন্তু দলটি মৌলবাদ নির্ভর বলে তার সমর্থকরাও রক্ষণশীল। ডেমোক্রেট দলে বহু ধর্মান্ধ রয়েছে তারাও রক্ষণশীল। তবে ডেমোক্রেট দলে প্রগতিশীল লোকও রয়েছেন। একই রকমভাবে ভারতের বিজেপিতে বা বাংলাদেশের বিএনপিতে বহু নাস্তিক রয়েছেন কিন্তু বিজেপি হিন্দুত্ববাদ আশ্রয়ী ও বিএনপি জাতীয়তাবাদ আশ্রয়ী বলে তাদের সমর্থকরা রক্ষণশীল। ধর্মভিত্তিক যেকোন দলের সমর্থকই রক্ষণশীল। ধর্মান্ধতার মতোই যারা দলান্ধ তারাও রক্ষণশীল। অন্ধত্ব কখনোই প্রগতিশীল চেতনার সাথে যায় না। যদি শেখ হাসিনার রাতের ভোট, ড্যামি ভোট ও বিনা ভোট নিয়ে কথা বলতে না পারেন, তার বিপুল টাকা পাচার ও দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে না পারেন তবে আপনি রক্ষণশীল। ডক্টর ইউনূসের তিন শূন্য তত্ত্ব (দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা) বুঝতে অক্ষম হন তবে আপনি রক্ষণশীল আবার তার দল গঠনের প্রচেষ্টার সমালোচনা করতে ব্যর্থ হন তবুও আপনি রক্ষণশীল। তিনি যদি তার তত্ত্ব বাংলাদেশে প্রয়োগে একেবারেই ব্যর্থ হন তাহলেও তার তত্ত্ব নিয়ে সমালোচনা করতে হবে। না করতে পারা রক্ষণশীলতা।

যারা ধর্মান্ধদের গালিগালাজ করে নিজেকে কেবল নাস্তিক ভেবেই প্রগতিশীল ভাবছেন তারা নিতান্তই ভুলের মধ্যে আছেন। নাস্তিক মানেই প্রগতিশীল নন। আমাদের এলাকার একজন তীব্র হিন্দুত্ববাদী চেতনাধারী যে, সবসময় পূজা কমিটি ও আয়োজন নিয়েই ব্যস্ত থাকে সেও নিজেকে প্রগতিশীল দাবী কর। যেনো হিন্দু হলেই এদেশে প্রগতিশীল। খুবই ভুল ধারণা। তাকে বললাম, আপনিতো মৌলবাদী, হিন্দু হলেইতো প্রগতিশীল হয় না। আপনি ধর্মকর্ম নিয়ে থাকেন বলেই আপনি রক্ষণশীল। কোন দল বা গোষ্ঠী বা ব্যক্তির প্রতি তীব্র অনুগত থেকেও অনেকে নিজেকে প্রগতিশীল দাবী করেন। বাস্তবিক তারাও রক্ষণশীল।

হুমায়ুন আজাদ ছিলেন প্রগতিশীল। তিনি অনায়াসেই বঙ্গবন্ধুকে মহাস্বৈরশাসক বলতে পেরেছেন। জিয়া, এরশাদ ও খালেদাকেও তুলাধুনো করতে পেরেছেন। তিনি শেখ হাসিনার শাসন দেখেননি। কিন্তু আজ যদি কেউ হুমায়ুন আজাদের সমালোচনা করতে ব্যর্থ হন তবে তিনি রক্ষণশীল। ইতোমধ্যেই তাঁর মৃত্যুর ৪ দশক পার হয়েছে। যেমন তিনি আমার গ্রাম ভাগ্যকুল ও তাঁর গ্রাম রাঢ়ীখালের বানান সংশোধনের কথা বলেছিলেন। কিন্তু তা ছিল ভুল। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে, রাঢ় অঞ্চলের ব্রাহ্মণরা পদ্মায় বিলুপ্ত কাউলীবেড়া গ্রাম থেকে রাঢ়ীখালে এসে বসতি স্থাপন করায় গ্রামটির নাম হয় রাঢ়ীখাল। আমরা তাঁর প্রস্তাব মেনে নেইনি, এটাই প্রগতিশীলতা। তার প্রস্তাবিত ভুল নামে পড়ে থাকারা রক্ষণশীল।

18/10/2024

আসল মাস্টারমাইণ্ড কে?

ছাত্রদের আন্দোলন কিভাবে এতোটা জেগে উঠলো, যাতে সর্বগ্রাসী শাসক শেখ হাসিনাকে শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যেতে হলো? আসল অঘটনঘটনপটিয়সীকে আড়ালে রেখে ভুল তিনটি দাবী সামনে আসছে—

১) ড. ইউনূসের মতে মাহফুজ আলম,
২) শামসুজ্জামান দুদুর মতে তারেক রহমান এবং
৩) সোহেল তাজ অবাক হবেন না যদি সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম আসে৷

ছাত্র শক্তি কেবল কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছিল, আদালতের মাধ্যমে কোটা ফিরিয়ে আনার প্রেক্ষিতে৷ সরকার পতনের কোন লক্ষ্যই তাদের ছিল না৷ সাং. ইলিয়াস ও পিনাকী ভট.সহ বিএনপিপন্থী এক্টিভিস্ট, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদরাতো ১৪ তারিখ পর্যন্ত বলেই যাচ্ছিল এ আন্দোলন আওয়ামী লীগের প্রাক্তণীরা করছে এবং এটি ভারতের জন্য রেল সুবিধা প্রদান এবং বেনজিরসহ পুলিশ-আমলা-নেতাদের প্রকাশিত দুর্নীতি থেকে জনগণের দৃষ্টি সরানোর নাটক৷ তারা বলেছিল, কদিন পরেই শেখ হাসিনা দাবী মেনে নিবেন এবং ছাত্ররা ফুল দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানাবে৷ সজীব জয়ের বিষয়টি স্যাটায়ারমাত্র৷ তাহলে শেষ পর্যন্ত এই আন্দোলনের পরিণতি আনলো কে? তার নাম—



কিভাবে?

ইউটিউব ওই সময়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবরগুলোকে মনে করেছিল জনগণ খাবে৷ এটা তাদের এলগরিদম প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করেছিল৷ তারা জানে, হিংসাত্মক, ধ্বংসাত্মক, নিপীড়ন ও প্রতিবাদমূলক, নিবর্তন ও প্রতিরোধমূলক সংবাদগুলো মানুষ পছন্দ করে৷ তারা এভাবেই রুহিঙ্গাবিরোধী সংবাদগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে বৌদ্ধদের উস্কানি দিয়েছিল৷ যাতে বৌদ্ধরা সহিংস হয়ে লক্ষ লক্ষ রুহিঙ্গাদের খুন, ধর্ষণ ও নিপীড়ন করে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়৷ এসবের নেতৃত্ব দিয়েছিল কথিত অহিংস বৌদ্ধ ভিক্ষুরা।

জুলাই আগষ্টের নিপীড়ন ও প্রতিরোধের সংবাদগুলো কি আপনি খুঁজে খুঁজে দেখেছেন? মোটেই না৷ আপনি যখনই ইউটিউবে ঢুকেছেন তখনই দেখেছেন, 'নিরীহভাবে দুহাত টান করে দাঁড়ানো আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করার ভিডিও৷ আপনাকে উজ্জীবিত করতে এরপরই এসেছে 'দেশটা তোমার বাপের নাকি' গানটি৷ অনেকের মনে হতে পারে, এটা করতে কোন শক্তি ইউটিউবকে কোটি কোটি ডলার দিয়েছে বা ইউটিউব কর্তৃপক্ষের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে বাইডেন প্রশাসন৷ কিন্তু বিষয়টা অমন নয়৷ ইউটিউব এটা করেছে তাদের টার্গেট পূরণের জন্য৷ তারা চাইতো আরো বেশি বেশি ব্যবহারকারী আরো বেশি বেশি সময় ইউটিউবে সম্পৃক্ত থাকুক। এজন্যই সরকারবিরোধী কনটেইনগুলো তারাই বাছাই করে আপনার সামনে হাজির করতেন। তাতে থাকতো, শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে তৈরি অসংখ্য মিম ও রিল ভিডিও। শেখ হাসিনা যেসব কথা বলে মানুষের কাছ থেকে সহানুভূতি নিতেন-- যেমন স্বজন হারানোর বেদনা-- তাকেও মারাত্মকভাবে ব্যঙ্গ করা হয়। স্বৈরশাসনবিরোধী বিভিন্ন বিষয়, তাদের নিপীড়ন, আয়নাঘর, দুর্নীতি, টাকা পাচারও প্রকাশিত হতে থাকে। তবে ওই সময় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ হত্যা, পথচারী হত্যা করতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডারদের গুলি করার দৃশ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বহিরাগতদের দিয়ে মারধর করানো ইত্যাদি দৃশ্যগুলো মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলে। বিচারক মানিক, ডিবির হারুণ, শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের আচরণ ও বক্তব্য মানুষকে আরো ক্ষেপিয়ে তুলে। বিপরীতে প্রতিরোধের দৃশ্যগুলো মানুষকে শেখ হাসিনার পতনে আশাবাদী করে তুলে। এ নিয়ে একটি ভিডিও, ‘একজনকে গুলি করলে একজনই মরছে, অন্যরা সরে যাচ্ছে না’ একটি ভিন্ন বার্তা দেয়। পুলিশের বেরিকেড ভাঙ্গার দৃশ্যগুলো প্রতিবাদী গানসহ যখন ইউটিউব ভরে যায় তখন অধিকাংশ মানুষই নিজেকে এই আন্দোলনে সামীল করতে চায়। এ কারণেই বহু আওয়ামী লীগ পরিবার, হিন্দু পরিবারের শিক্ষার্থীরাও এই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে। যে শিল্পী-সাহিত্যিকরা মূলত আওয়ামী লীগের গুণগান গাইতো তাদেরও একটা অংশও যোগ দেয়। ফলে ১৬ জুলাই থেকে যখন আন্দোলনটি সরকার পতনের দিকে যেতে থাকে তখনও তাদের অধিকাংশই মাঠে ছিলেন এবং বিএনপি জামাতের অগুণিত সমর্থক ও সামাধারণ মানুষ মাঠে নেমে আসে। সরকারের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে যায়।

ফলে যাকে তাকে ক্রেডিট দিবেন না। যদি কাউকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ ক্রেডিট দিতে চান তবে, ‘ইউটিউব’কেই দিন। সামান্য কিছু ক্রেডিট অবশ্য ফেসবুককেও দিতে পারেন।

16/10/2024

তবুও আমলাতন্ত্র নির্দোষ!

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে তবুও দেশের মানুষ আমলাতন্ত্রকেই মহিমান্বিত মনে করে। প্রতিটি আন্দোলন শেষে তারা ঠিকই তাদের জায়গায় থেকে যায় এবং সমস্ত দায় চাপানো হয় সাবেক রাজনৈতিক নেতাদের উপর। বহু মন্ত্রীর বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু আমলারা বাইরে থেকে যায় মেধা দিয়েই। একজন বেনজীর কিভাবে হাজার কোটি টাকার মালিক হতে পারেন? যদি তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে না পড়তেন তবে তিনিও আলোয় আসতেন না। রাজনীতিবিদগণ নড়ে গেলেও আমলারা রয়ে যান এবং নতুন সরকারের সাথে সহজেই নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষম হয় এবং দুর্নীতিতে নিমজ্জিত থাকাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। সরকার হাজারো অপকর্ম করে আমলাদের সাক্ষী রেখেই এবং তাদের ভাগ দিয়েই।

আমরা যে তিনটি নির্বাচন নিয়ে এতো কথা বলি তা কারা সম্পন্ন করেছেন? রাতের ভোটের খবর মাঠ পর্যায়ের অনেক নেতাই জানতেন না। আমার এলাকার এক জাঁদরেল নেতা সকালবেলা কেন্দ্রে এসে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে ব্যালট চাইলেন। তিনি বললেন, আপনি কি কিছুই জানেন না? ওনি বললেন, কি জানবো? প্রিসাইডিং অফিসার বললেন, ‘রাতেইতো অর্ধেক ব্যালটে সিল মরা হয়েছে’। কারা সিল মেরেছেন? প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর লোকেরাই। সারাদেশে সিল মারার পরও কারো বিরুদ্ধেই কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এসব কাজ একদমই রাষ্ট্রবিরোধী কাজ। এজন্য রাষ্ট্রীয় আইনে বহুজনেরই ফাঁসি হওয়ার কথা। অন্তত নির্বাচন কমিশনারদের ফাঁসি হওয়ার কথা। যদি রাষ্ট্র তা করতে ব্যর্থ হয় তবে, ভবিষ্যতেও আমলারা এহেন অপকর্ম করবেন।

জনগণকে রাজনীতিবিদ ও আমলা দুপক্ষের বিরুদ্ধেই সচেতন থাকতে হবে। বিগত সরকারের সর্বাত্মকবাদী আচরণ আমরা দেখেছি। তারচেয়েও বড় ক্ষতি ছিল সবকিছুই ছিল একজনের হাতে। তার সিদ্ধান্তেই সবকিছু হতো। অথচ তিনি বিশেষজ্ঞ কেউ নন এমন কি তার কোন গর্জিয়াস রেজাল্টও নেই। অথচ একটি দেশের সবকিছুই চলেছে তার কথায়। যেনো তিনিই স্ট্যালিন, তিনিই নিরো, তিনিই হিটলার! অনুগত দলীয় কর্মীরা ভেবেছিল এভাবেই সারাজীবন চলবে এবং তারা না হলেও তাদের দলের লোকেরা হালুয়ারুটি খেয়ে পার করবে। হয়তো একদিন তাদের ভাগ্যেও কিছু খুদকুঁড়া আসবে। সেই ভাবনা না থাকলে অগণতান্ত্রিকতা একটি রাষ্ট্রকে মারাত্মক ক্ষতির দিকে নিয়ে যায় তা জেনেও কেন তারা চুপ ছিলেন? কেন তাদের কাছে দেশের চেয়ে দল এবং দলের চেয়ে একজন ব্যক্তি বড় হয়ে উঠল? এমন অবস্থা তৈরি করতে দলীয় কর্মীদের চেয়ে আমলদের আগ্রহই বেশি ছিল। কর্মীদের নিস্পৃহতার সুযোগ নিয়ে তারা নেতাদের সবসময়ই ধমকাতেন এবং বলতেন যে, আমরাই রাতে ভোট করে, ড্যামি ভোট করে বা বিনা ভোটে সরকার করে দিয়ে দলকে ক্ষমতায় রেখেছি। আমরাই বিরোধী দলকে ঠেঙ্গিয়ে, মামলা দিয়ে, জেলে পাঠিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছি। আপনাদের ভূমিকা কি? এমন সত্য প্রশ্নে বারবারই দলের নেতারা বিব্রত হতেন। তারা ম্রিয়মান হতেন এবং কর্মীদের সাথে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। ফলে বিপদের সময় যখন কর্মীদের ডাকা হয়েছিল তখন তারা সাড়া দেননি। অধিকন্তু বহু আওয়ামী লীগ পরিবারের ছাত্ররাই শুরু করেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। কিন্তু যদি দলীয় কর্মীরা নেতাদের অগণতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে এবং বিরোধী দল-মত নির্মূলের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারতো তাহলে সরকার বাধ্য হতো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে এবং দেশ থেকে এতো টাকা পাচার হতো না।

এতো টাকা ছাপালে দ্রব্যমূল্য বাড়বে, এতো টাকা পাচার করলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে এবং রিজার্ভ তলানীতে ঠেকবে—ইত্যাদি কথাগুলো সরকারকে কে বলবে? আমলাদেরইতো বলতে হবে? কখন দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাবে যাবে এবং তার প্রতিকার কী হবে তা কে বলবে? গত বছর ১২০০ টাকা কাচা মরিচ কেন হয়েছিল? কারণ প্রচুর বৃষ্টিতে কাচা মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এটা ১২০০ টাকা থেকে দ্রুতই কমে আসবে। কিন্তু একজন প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েই কেন বলাতে হবে, মাংশের বদলে কাঁঠালের বার্গার খাও, বেগুনের বদলে কুমড়া দিয়ে বেগুনি বানাও, সস্তার সময় ডিম সিদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দাও, সোয়াবিন তেলের দাম বাড়লে জলপাই তেল খেতে হবে, খেঁজুরের পরিবর্তে বরই খেতে হবে কিংবা পেয়াজ ছাড়া রান্নার কৌশল তিনি জানেন। এতে প্রধানমন্ত্রী বিতর্কিত হন কিন্তু এ সমস্যার সমাধানতো রয়েছে। প্রথমত সব সিজনের উপযোগী শব্জি উৎপাদন করতে হবে জিন বদলিয়ে। আবার যখন যে সিজন আসবে সে সিজনের শব্জির সরবরাহ রাখা নিশ্চিত করতে হবে। এগুলোর বাস্তবায়ন করবে আমলারা। সুস্থ সমালোচনা থাকলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা না বলে তিনি বিকল্প সুযোগ তৈরির চেষ্টা করতেন। পেয়াজের সংরক্ষণাগারও বানাতে হবে এবং সময়মতো আমদানী করতে হবে। সঠিক সমালোচনা তাকে সঠিক সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ করে দিবে এবং আমলাদের বাধ্য করবে কাজগুলো সম্পাদন করতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের গবেষণার টাকা দিতে হবে। তারা নিজেরাই আবিষ্কার করবে এবং তা রাষ্ট্রের কাজে লাগবে। অন্যের আবিষ্কারের দিকে চেয়ে থাকলেতো হবে না। আর ধর্মান্ধদের মতো বলা যে, এগুলো আমাদের গ্রন্থেই ছিল ওরা আবিষ্কার করেছে। আবিষ্কার করতে না পারলে সবসময়ই আমাদের পিছিয়ে থাকতে হবে।

বেগম পাড়াতে যতগুলো মন্ত্রী ও নেতার বাড়ি তার চেয়ে বহুগুণ বাড়ি আমলা ও পুলিশ কর্তাদের। সরকার বহুবারই এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে। এতোজন ওসি কি করে বেগম পাড়ায় বাড়ি বানাতে পারেন। তাকে কেন ধরা হয় না। আমলারা কাজ করবেন আইন মোতাবেক। তারা যখন লুটপাটে অংশ নিতে দলীয় কর্মীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তখন তাকে থামাবে কে? তাকে শাস্তির আওতায় আনতে পারলেই থামানো সম্ভব।

13/10/2024

বিজ্ঞান এগিয়েছে ভুল স্বীকার করে

খ্রিস্টান পোপ মাঝেমধ্যেই অতীত ভুলের জন্য ক্ষমা চান। তবে তারা কখনোই বলেন না যে, ধর্মগ্রন্থের ভিতরেই ভুল রয়েছে এবং সে কারণেই অতীতে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে গির্জার ভিতরে শিশুদের বলাৎকার করা, বিভিন্ন দেশে স্থানীয়দের সম্পদ লুণ্ঠন করা এবং আদিবাসী সংস্কৃতি ও ধর্মকে গ্রাস করার মতো ঘটনা ঘটেছে। ধর্মীয় আধিপত্য বিস্তার না করে আজ খ্রিস্ট ধর্ম পৃথিবীতে বৃহৎ ধর্মে পরিণত হতে পারতো না। তবুও ইউরোপের মানুষের চাপে তারা ভুল স্বীকার করছে, অনেক কিছু এড়িয়ে কিছুটা হলেও। পৃথিবীতে তারাই সবচেয়ে বেশি ধর্মীয় অপরাধ করেছে। কিন্তু মুসলিমদের একটি প্রকট সংকট হলো কোনভাবেই ভুল স্বীকার না করার প্রবণতা। তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সবসময়ই এসব বিষয় এড়িয়ে যায় এবং তথ্য গোপন করার চেষ্টা করে। যেমন চট্টগ্রামে ইসলামি সঙ্গীত কাণ্ড বা ঢাকার তাতীবাজারে মন্দিরে পেট্রোল বোমা মারাকে স্বীকার করবে না। মাদ্রাসায় শিশু বলাৎকারকেও তারা আমলে নিবে না। এই ধারাটা মুসলিমদের বিপুলভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ করে তুলছে। আবার তাদের এমন কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিত্বও নেই যে, এমন ক্ষমা চাওয়ার বৈধ প্রতিষ্ঠান।

সমাজে ভুল নিয়ে পর্যালোচনা না থাকলে সমাজ আগায় না। মুসলিম সমাজ তাদের ধর্মীয় বিষয়ে নির্ভুলতা দাবী করে। এটা তাদের সংস্কার করতে দেয়নি। বাস্তবিক যখন গ্রন্থ হবে ঐশী এবং ঘোষণা থাকবে পরিবর্তন না করার তখন পরিবর্তন করা সম্ভবও নয়। সংস্কার ছাড়া আবার অগ্রগতি সম্ভব হয় না। সোভিয়েত ইউনিয়নে এবং আজকের রাশিয়াতে সমালোচনাকে গ্রহণ করা হয় না। এর পরিণতি হল, রাষ্ট্রটি একনায়কত্ব থেকে বের হতে পারেনি। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে সরকার প্রধানদের এমনকি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমেরও সমালোচনা করা যায়। এমন কি তাদের ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়েও যুদ্ধকালীন সময়ে বিতর্ক হয়েছে। সেই বিতর্ক তাদের এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। মার্কিন সাম্রাজ নিয়ে আমরা গালমন্দ করতে পারি, কিংবা বলতে পারি যুক্তরাষ্ট্র যার বন্ধু তার শত্রু লাগে না কিংবা মার্কিনিদের দালাল বলে ডক্টর ইউনুসকে খারিজ করে দিতে পারি কিন্তু তারাই এখন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র— অর্থনৈতিক, সামরিক ও বিজ্ঞান গবেষণায়। তাদের জিডিপি ২৮.৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার যা রাশিয়ার চেয়ে ১২/১৩ গুণ বেশি এবং বাংলাদেশ থেকে ৬৩/৬৪ গুণ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি বন্ধু দেশের নাম দেখি— কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি ও ইসরায়েল। তারা সকলেই অর্থনৈতিকভাবে বিপুল এগিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র টিকিয়ে না রাখলে ইসরায়েল বহু আগেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতো। তাহলে এসব কথা কেবলই গালভরা কথা। প্রতিটি উন্নত দেশেই সমাজ ও সরকারে ভুল নিয়ে পর্যালোচনা হয়। আমাদের সমাজ অনেকটাই আবদ্ধ এবং বারবারই স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসায় কথা বলা কঠিন হয়ে যায়। ফলে সরকারের ভুল নিয়ে কথা বললেও তা রাষ্ট্রদ্রোহীতার সামীল হয়ে যেতো। আবার আমাদের বুদ্ধিজীবী লেখকদের সিংহভাগই সামান্য উচ্ছিষ্ট পেয়ে অনবরত স্বৈরশাসনের দালালী করে।

মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতেই স্বৈরতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করতে বারবারই ব্যর্থ হয়। একমাত্র ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। এখানে সাধারণ নাগরিকগণ বারবারই স্বৈরশাসককে উৎখাত করেছে। কিন্তু আমাদের আজ্ঞাবাহী বিচারব্যবস্থা ও নৈশ/ড্যামি/বিনা ভোটের আইনসভা স্বৈরশাসনকে চাপে রাখতে ব্যর্থ হয়। আমাদের লেখক ও বুদ্ধিজীবীরা খুদকুঁড়ার লোভ ছাড়তে পারে না। আমাদের অধ্যাপকরাও আশায় থাকে, সরকারের পক্ষে কথা বলে কিছু টাকা গবেষণার জন্য আনতে। আমাদের পুলিশ ও সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও জানেন যে, তাদের পদোন্নতি নির্ভর করে আনুগত্যে, দক্ষতায় নয়। এই দৃশ্য প্রতিটি মুসলিম রাষ্ট্রেই বিরাজমান। ফলে জনগণের ভরসার কোন জায়গা থাকে না। আদিতে আমরা দেখতাম শাসকগণ ঐশীশক্তির ভাব নিয়ে থাকতো। তারা প্রচার দিতো ঈশ্বর তাদের মনোনীত করেছেন। আরবাঞ্চলের অনেক শাসকই এ কারণে নবী!

আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখেছি ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে তার-কেন্দ্রিক করে ফেলতে। মন্ত্রীরা নিজেরা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না। কোন দপ্তরও নিতেন না। সবাই চেয়ে থাকতো প্রধানমন্ত্রী কী বলেন সেদিকে। রাষ্ট্রের সব সিদ্ধান্ত কেন একজন ব্যক্তি নিবে? এটা একজন প্রধানমন্ত্রীকে মারাত্মকভাবে স্বৈরশাসনে পরিণত করে। তিনি তখন ভেবেই নেন, আমার চেয়ে বুদ্ধিমান, দীপ্তিমান, ক্ষমতাবান, প্রজ্ঞাবান দেশে কেউ নেই। তার ভুলকেও ধরা হয় সঠিক হিসেবে। সর্বত্র যখন একজন ব্যক্তির জয়গান উঠে তখন তার নিজের ও রাষ্ট্রের জন্য সর্বনাশ নেমে আসে। ফলে চারদিকে একটি দালালচক্র গড়ে উঠে। সেটা শাসককে শেষ পর্যন্ত সুরক্ষা দেয় না। সব দায় গিয়ে পড়ে তার উপরই। সেই সুযোগে সুবিধাভোগী দুর্বৃত্তরা লুট ও পাচারে লিপ্ত হয়। এই চেতনার সংস্কার না করলে বারবারই স্বৈরশাসন ফিরে আসবে। আমাদের শাসকগণ কখনোই ভুল স্বীকার করবেন না। সর্বোচ্চ বলবেন যে, যদি ভুল করি তবে ক্ষমা করে দেন! যদি শব্দ দিয়ে তারা বোঝাতে চান যে, তারা কোন ভুল করেন নি তবে কেউ তা ভাবলে ক্ষমা করে দিন। এমন ভাবনা সংস্কারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। ভুল ও অপরাধ স্বীকার না করার প্রবনতা সমাজকে আটকে দেয়। যেমনটা মুসলিমদের দিয়েছে। বিপরীতে বিজ্ঞান এগিয়েছে ভুলকে স্বীকার করে তার সংশোধন করে, তারও সংশোধন করে, তারও সংশোধন ভবিষ্যতে হবে। এটাই এগিয়ে যাওয়ার ধারা।

08/10/2024

জামাত ব্র্যান্ডিং কী ক্ষতি করতে পারে?

ব্র্যান্ডিং কিভাবে প্রভাব বিস্তার করে তা নিয়ে নোয়া হারারি তার সদ্য প্রকাশিত নেক্সাস গ্রন্থে বিস্তর লিখেছেন৷ আমরা কোকাকোলা খাই কেবল ব্র্যান্ডিং এর কারণেই৷ এর ক্ষতিকর বহু দিক থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞাপনের জোরে তৈরি ব্র্যান্ডিং তা অতিক্রিম করিয়ে কোকাকোলা খেতে আমাদের বাধ্য করে৷ সামাজিকভাবে তৈরি ব্র্যান্ডিংও ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। যেমন ঘি খাওয়া সম্পূর্ণই ক্ষতিকর। কিন্তু সমাজ সুদীর্ঘকাল ধরেই বলে আসছে এর বিস্তর উপকারীতার কথা। ফলে ১৫০০ টাকা কেজি দরেই মানুষ ঘি খেয়ে নিজের ক্ষতি করছে। ডাক্তার জাহাঙ্গীর কবিরের কিটো ডায়েট শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং তিনি কিটো ডায়েটের চিকিৎসকও নন। কেবল ইউটিউবে বিস্তর প্রচারণা দিয়েই তিনি বিস্তর মুরগী (রোগী) ধরে ব্যবসা করছেন।

এখন পৃথিবীতে খ্রিস্টধর্মের মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রায় ২৮০ কোটি! অথচ যিশুখ্রিস্টের ঐতিহাসিক সত্যতাই প্রশ্নহীন নয়৷ বাইবেল থেকে যতটুকু জানা যায় তাতে বলা যায়, ওই সময় তাঁর প্রভাব ছিল অতি সামান্য৷ তিনি একজন কুষ্ঠ রোগীকে ভাল করেছেন, একজন মৃতকে জীবিত করেছেন৷ শাসক ক্ষুন্ন হওয়ায় তাঁকে ধরে এনে শরীরে পিত্তরস মিশিয়ে পেটানো হয়৷ এরপর ক্রসে হাত, পা ও কপালে পেড়েক গেঁথে ঝুলিয়ে রাখা হয়৷ ছয় ঘন্টার মধ্যেই তিনি নিদারুণ কষ্টকর মৃত্যুবরণ করেন৷ এরপর তার ব্র্যান্ডিং শুরু করেন সেইন্ট পল এবং তা কিছুটা ছড়ায়৷ পরে দাসপ্রথা দমনের জন্য সম্রাট কনস্টান্টাইন শুরু করান নতুন করে ব্র্যান্ডিং৷ তার পরিণতি হল আজকের খ্রিস্ট ধর্মের বিপুল প্রসার৷

গত পনের বছর আমরা কেবল বঙ্গবন্ধুর ব্র্যান্ডিং দেখেছি৷ তিনি এমনিতেই আমাদের সেরা ব্র্যান্ড৷ ফলে একটা শ্রেণির কাছে তিনি মহামানব হয়ে উঠেন৷ বিপরীতে নোবেল বিজয়ী ডক্টর ইউনূসের বিরুদ্ধে লাগাতার নেতিবাচক ব্র্যান্ডিংও মানুষকে বিভ্রান্ত করে৷ ফলে একটি দলের লোকসহ অনেকেই মনে করে তিনি বুঝি বাস্তবিকই মহাজনী সুদের কারবারী ও মহা দুর্নীতিবাজ৷ তিনি ক্ষমতায় আসার পরে আবার ভিন্ন ব্রান্ডিং তাঁকেও ভিন্ন পরিচয় দেয়াচ্ছে৷

আমরা কতিপয় অকাট মূর্খ প্রগতিশীলকে দেখছি জামাত ক্ষমতায় আসছে এমন ব্রান্ডিং করতে৷ যদিও তাদের পরিসর সীমিত এবং তাদের প্রভাবও কম৷ এমন ব্র্যান্ডিং জামাতের করার কথা৷ বিস্ময়কর যে, জামাতের হয়ে সেই ব্র্যান্ডিংটা করে দিচ্ছে কথিত প্রগতিশীলরা৷ এর পরিণতি যে ভয়ানক হতে পারে তা বুঝতে সক্ষম নন প্রগতিশীলগণ৷ তাদের কেউ কেউ বই পড়ার বিরুদ্ধেও বলে যাচ্ছেন৷ তাদের জানাশোনা ও বোঝার ক্ষমতা খুবই কম এবং তাদের অনেকেই শেষ জীবনে ধর্মান্ধ হিসেবে আবির্ভূত হন। ভাল বুঝেন এমন অনেকেও সমাজটা পড়তে পারেন না। আমাদের চারপাশের তিনটা দিকই ভারত। প্রভাব বিস্তার করে চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারা কেউই চাইবে না এদেশে মৌলবাদ মাথাচাড়া দিক। এর বাইরে রয়েছে আমাদের সংস্কৃতি। সেখানে উগ্রতা গ্রহণযোগ্যতা পায় না। তালেবানের উত্থান ঘটলে (১৯৯৪-২০০১) এবং ঢাকায় ‘আমরা হবো তালেবান/ বাংলা হবে আফগান’ শ্লোগান উঠলে অনেক বুদ্ধিজীবীই মনে করেছিলেন শিঘ্রই বাংলাদেশ আফগানিস্তান হয়ে উঠবে। এ সময় ড. হুমায়ুন আজাদ স্যারও এমনটা মনে করতেন। স্যারের সাথে বারবারই ভিন্নমত পোষণ করেছি। আমরাতো গ্রামে থাকি, সমাজতো তালেবানকে গ্রহণ করছে না। শতকরা ১/২ জনই পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না যদি সাধারণ মানুষ তাদের পক্ষে না যায়। তসলিমা নাসরিন না হয় দীর্ঘদিন প্রবাসী এবং সমাজ যে এসব বিষয়ে তেমন বদলায়নি তা তিনি বোঝবেন না। কিন্তু যারা দেশে আছেন এবং ৩০ বছর ধরে দেখছেন দেশে ইসলামপন্থীরা এগিয়ে যেতে পারেনি। হাফেজ্জি হুজুর থেকে মামুনুল হক যতই হুমকি দিক, সমাজ অতোটা আগ্রহী নন। সাইদীর ওয়াজে ১০ লক্ষ লোক নাকি হতো। মানুষ ওয়াজ শুনে এসে ঘুমিয়ে উগ্রতা ঝেড়ে ফেলে।

এখন সবচেয়ে শক্তিশালী বিষয় হল তথ্য এবং নতুন নতুন গল্প তৈরি করা৷ জামাত ক্ষমতায় আসছে, এটা একটা গল্প৷ এর প্রচার জামাতের সাথে কথিত প্রগতিশীলরাও দিচ্ছে৷ মহাভারত ও রামায়নের গল্পকে কি অবহেলা করা যায়? কৃষ্ণ ও রামকে নিয়ে লেখা মহাভারত দুটি থেকে বহু কিছুই সমাজে রীতি হিসেবে ঢুকেছে যেমন দীপাবলী অনুষ্ঠান এখন ধর্মীয় অনুষ্ঠান৷

সম্প্রতি ঢাকায় এক জামাত কর্মী বললেন, 'দুই দলতো অনেক করেছেন এবার আমাদের দলে আসেন ভাল কিছুর জন্য৷' বলি, 'ভালত্বতো একাত্তরে দেখেছি, রগকাটা ও গলাকাটার কথাও জানি৷' ওনি বললেন, 'হিরোশিমার কথা জাপানিরাও ভুলে গেছে, আমাদের অতীত ভুলে যেতে হবে৷ আমরাতো ক্ষমতায় যাইনি। আমাদেরও সুযোগ দেন।' বললাম, '২০০১ সালেতো ক্ষমতায় ছিলেন!’ ওনি বললেন, ‘নিজামী সাহেব শিল্পমন্ত্রী হিসেবেতো সৎ ছিলেন।’ বললাম, ‘ওনি শিল্পের তো বিকাশ ঘটাতে পারেননি। খুনি ও ধর্ষকওতো খুন ও ধর্ষণ করে বলবে অতীত ভুলে যান৷ আমরা ভুলে গেলেতো সর্বনাশ হবে৷' অন্যরাও হেসে উঠায় জামাত কর্মী মাথা নিচু করেই সটকে পড়লো৷ তাদের হিরোশিমা গল্পটি আমাদের কাছে পাত্তা পেলো না৷ ফলে ওরা যাবে অসচেতন দরিদ্র মানুষের কাছে ব্র্যান্ডিং করতে৷ সেখানেও প্রতিপক্ষ রয়েছে৷ সমাজ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে বিভক্ত। এখানে বিশ্বাসের চেয়ে স্থানীয় দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারই বেশি ভূমিকা রাখে।

এখন জামাতের আশার আলো কতিপয় প্রগতিশীল যারা অনবরত ব্র্যান্ডিং করে যাচ্ছে যে, ‘জামাত ক্ষমতায় আসছে। সব দখল করে ফেলবে। পালাও পালাও।’ আমরা যদি বাক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সুযোগ পাই আর তার সদব্যবহার করতে পারি তাহলে সমাজকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিতে পারবো। কারো ব্র্যান্ডিং করে বা ভয় দেখিয়ে নয়।

07/10/2024

দেশটা কি জামাত হিজবুতের দখলে যাচ্ছে?

১। পাকিস্তানের কায়েদে আজম জিন্নার জন্মদিন এদেশে পালিত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরেই। ৫/৭ জন সমর্থক এটি পালন করেন। এ নিয়ে কখনোই কোন হইচই হয়নি। জিন্নাহ ছিলেন কংগ্রেসের নেতা এবং ঘোরতর নাস্তিক। তিনি রাজনীতি ছেড়ে ইংল্যান্ডে চলে যান। পরে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ তাকে অনুনয় করে নেতৃত্ব তুলে দেন। তার জীবন অধ্যয়ন করা যেতেই পারে, চর্চাও হতে পারে। কিন্তু হঠাৎই কিছু মানুষ হইচই করে অস্থির করে ফেললো। যেনো বাঙালির জাতই চলে গিয়েছে। হঠাৎই এই হইচই এর কারণটা আমরা বুঝতে পারি।

২। নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরী রাজধানীতে সমাবেশ ও মিছিল করেছে মাত্র ৫০/৬০ জন মিলে। আমাদের দায়িত্ব হল, নিষিদ্ধ হওয়ায় জঙ্গি হিযবুত তাহরীর সদস্যদের গ্রেফতারের দাবী জানানো। কিন্তু তা নয়, এমনভাবে চেঁচামেচি করা হল যে, দেশই হিযবুত তাহরী দখল করে ফেলেছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলমকেও হিযবুত তাহরী বানিয়ে দেয়া হল। বিস্ময়কর যে, তসলিমা নাসরিনও এমন একটি ভুয়া ফটোকার্ড তার ওয়ালে পোস্ট করেছেন। এরপরও সরকার হিযবুত তাহরীর মিডিয়া উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী ইমতিয়াজ সেলিমকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

৩। অনেকে এমনভাবে প্রচারণা দিচ্ছেন যেনো, জামাত ক্ষমতায় চলে আসছে। এবং ক্ষমতায় এসেই এদেশের সব মানুষকে কতল করে ফেলবে, রগ কেটে দিবে এবং গলা কাটবে। যেনো তাদের ক্ষমতায় যাওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। এসব করতে গিয়ে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং ডক্টর ইউনূস সরকারের উপর তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছে যেনো তারাই জামাতকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিচ্ছে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নাকি জামাতের ভিসি নিয়োগ দেয়া হয়েছে! ক্ষোভে তারা ১০ কোটি জেনজিকে লাগাতার গালিগালাজ করে যাচ্ছে।

ওরা মূর্খ সেটা বলবো না, তবে ওরা যে, জেনে বুঝে এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবেই মিথ্যাচার করছে সেটা বলার যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। নোয়অ হারারি তার নতুন বই নেক্সাসে লিখেছেন, স্বৈরাচারী শাসন নিজেদের এজেন্টদের ভয় দেখিয়ে এবং সেন্সর করে টিকে থাকে। অর্থাৎ এজেন্টরা বাস্তবিকই সেই ভয় এখনো ধারণ করে প্রপাগাণ্ডা ছড়াতে পারে। তবে তারা ভেবেছিল, এমন বিপুল প্রচার দিতে পারলে, মানুষ আতঙ্কে প্রতিবিপ্লবের দিকে এগিয়ে যাবে এবং তারা আবারো ক্ষমতায় ফিরবে। কিন্তু এর ক্ষতিকর দিকটা তারা একবারও ভাবেনি। এতে যে, প্রগতিশীল মানুষ বিভ্রান্ত হবে এবং সাধারণ মানুষ ভুল বুঝে উল্টো জামাত ক্ষমতায় আসছে ভেবে তাদের সাপোর্ট দিয়ে বসতে পারে। এমন প্রচারণা চালাতে গিয়ে প্রগতিশীলদেরই মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। অতীতেও প্রতিটি আন্দোলন শেষে নিজেদের বিজয় তারা লাত্থি মেরে অন্যের কোর্টে পাঠিয়ে দিয়েছে। এটা এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে দেখেছি এবং প্রকটভাবে এবারে দেখলাম। ছাত্র ইউনিয়ন এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে দেশবাসীর যে আস্থা অর্জন করেছিল তা স্রেফ জলাঞ্জলি দিয়েছে কথিত কতিপয় বাম-প্রগতিশীল। তারা অনবরত মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে, এই অর্জনে নিজেদের ভূমিকাকেই বিতর্কিত করেছেন এবং জামাত-শিবিরের অর্জন বলে তা ঠেলে দিয়েছেন। অবিশ্বাস্য কাণ্ড! নিজের পায়ে কুড়াল মারা বুঝি একেই বলে। এমন ভুল তারা একাত্তরেও করেছে। ফলে জনমানুষ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। মাঝেমধ্যে যখন সুযোগ আসে জনগণের পক্ষে দাঁড়ানোর এবং তারা কালেভদ্রে দাঁড়ায়ও কিন্তু বিজয় আসলেই তারা তা পরিত্যাগ করার জন্য অস্থির হয়ে পড়ে।

আমরা পশ্চিমবঙ্গে জ্যোতি বসুকে দেখেছি জীবনভর মানুষের এবং বিশেষ করে রেল-শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে। শ্রীলংকায় বামপন্থীরা শক্তিশালী অবস্থায় ছিলেন না। অথচ অনূড়া কুমারা দিশানায়েকে লাগাতারভাবেই জনমানুষের পক্ষে লড়াই করেছেন। তিনি গোতাবায়ে রাজাপাকসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি একবারও ভাবেননি গোতাবায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করলে বিপক্ষ শক্তি লাভবান হবে মাঝখান থেকে আমি ফাঁকে পড়ে যাবো। তিনি বুঝেছিলেন মানুষ রাজাপাকসে পরিবারকে উৎখাত করতে চায়। এই দৃঢ়তাই তাকে এবার ক্ষমতায় এনেছে।

মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম ভাইদের যদি কেউ বলতো, ‘এতো ইস্যু অথচ আপনারা সরকারের বিরুদ্ধে কিছু করছেন না কেন?’ তিনি বা তারা অনায়াসেই বলতেন, ‘আপনি কি চান, আমরা এমন আন্দোলন করে বিএনপি-জামাতকে সুবিধা করে দেই!’ অবিশ্বাস্য ভাবনা! এমনটা ভেবে থাকলে আপনারা কিভাবে জনগণের জন্য কাজ করবেন? ১৯৭২ সালে সেলিম ভাই ডাকসুর ভিপি হন। পরের বছরই তারা বিভিন্ন চাপে হাত মেলায় প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগের সাথে। সেটাই কাল হয়ে উঠে। সেলিম ভাই যে ছবিটা প্রায়শই পোস্ট করে নিজেকে ঐতিহাসিক চরিত্র হিসেবে প্রকাশ করেন সেটাও ছাত্র ইউনিয়নকে ক্ষতি করে। লেনিন-গামা পরিষদ নিশ্চিত পরাজয়ের দিকে যাচ্ছিল আর তখনই তারা ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে। এরচেয়েও বড় ক্ষতি হয়ে যায় আর তা হল, আওয়ামী লীগের বি-টীম খেতাব পাওয়া। এই ক্ষতিটা সিপিবি আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি। পারতো যদি তারা ভাবতে পারতো, আমরা জনগণের জন্য আন্দোলন করবো, তাতে আমাদেরই লাভ হবে। সেটা পারেনি বলে, বাংলাদেশে জ্যোতি বসু বা অনূড়া দিশানায়েকে হতে পারেনি কোন কমরেড।

আজ যারা মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে তাদের যে কারো ফেসবুক আইডি দেখুন। ১৪ জুলাই পর্যন্ত তারা এক রকম বক্তব্য দিয়েছে। এরপরই তারা অনবরত ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে পোস্ট দিয়েছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তারা সেসব পোস্ট ডিলিট করেছে অথবা হাইড করেছে। এরপর তারা আবারো লাগাতারভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে যাচ্ছে। তাতে এই জনমানুষের আন্দোলনে যে, প্রগতিশীলদের অংশগ্রহন ছিল তা বলার আর জায়গা থাকছে না। আমাদের মেধাহীন ও উচ্ছিষ্টভোগী বুদ্ধিজীবী-লেখকগণ এ সহজ বিষয়টাও বুঝতে অক্ষম!!

02/10/2024

বাংলাদেশ ও পাশ্চাত্যের লেখকদের তুলনা‼

স্বাধীনতার পরে যে দুজন কবি সবচেয়ে বেশি খ্যাতি পান তারা হলেন, যে জলে আগুন জ্বলের কবি হেলাল হাফিজ এবং পোয়েট অব বঙ্গবন্ধু খ্যাত নির্মলেন্দু গুণ। কয়েক বছর আগে গুণের একজন সহচর আমাকে বলেছিলেন, গুণদা সরকারের কাছ থেকে ২১ বার আর্থিক সহায়তা নিয়েছে। সেই টাকা দিয়ে তিনি কামরাঙ্গির চরে জমি-বাড়ি করেছেন। তারুণ্যের কবি হেলাল হাফিজ তারুণ্যে কবিতায় লিখেছিলেন--

এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়

কিন্তু পরিণত বয়সে তিনিও গ্রহণ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান। প্রতিটি জেলা ও উপজেলার লেখকদের কেনা হয়েছে টাকা ও পুরস্কারের ফাঁদ পেতে। আমার মতো তুচ্ছ মানুষকেও ডিসি অফিস ও ইউএনও অফিস থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল। আমি প্রত্যাখ্যান করি। বহু সাংবাদিককেও টাকা ঢেলে কেনা হয়েছিল। কেউ টাকা পেয়ে খুশি ছিলেন, কেউ পাবেন সেই আশাতেও খুশি ছিলেন। তাই লেখক ও সাংবাদিক কারো পক্ষেই বিগত সরকারের সমালোচনা করা সম্ভব ছিল না। হায় তাদের জন্য সরকারি হালুয়া-রুটির কি সময়ই না গিয়েছে! এখনো অনেকেই নাকি পাচ্ছেন লুটের টাকার ভাগ‼ বিপরীতে ইউরোপের লেখকগণ সর্বদায়ই সংগ্রাম করেছেন স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে। নির্মলেন্দু গুণের ও হেলাল হাফিজের সাথে রাসেল ও সার্ত্রের তুলনা করতে পারি।

বার্ট্রান্ড রাসেল (১৮৭২-১৯৭০) সোজা বলতেই পছন্দ করতেন। এজন্যই তিনি ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে সরাসরিই লিখেই নিজের বক্তব্যকে প্রকাশ করেছেন। প্রকাশ করেছেন ‘কেন আমি ধর্ম বিশ্বাসী নই’ নামের একটি গ্রন্থ। স্পষ্ট বলার কারণে তিনি বহুবারই সমস্যার সন্মুখীন হয়েছেন কিন্তু তিনি সবসময় সৎ থাকারই চেষ্টা করেছেন। তাঁর পিতামহ ছিলেন ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। পিতা ছিলেন পার্লামেন্টের সদস্য। তাঁর পিতাও সাহসী ও অগ্রসর চিন্তার মানুষ ছিলেন। তিনি পার্লামেন্টে পরিবার পরিকল্পনার সপক্ষে কথা বলে নিন্দিত হয়ে সদস্যপদই হারান। রাসেলের যুগান্তকারী গ্রন্থ প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা প্রকাশের পরে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পার্লামেন্টের সদস্য পদে নির্বাচন করেন। কিন্তু ভোটারগণ অভিযোগ আনল, রাসেল ঈশ্বর মানে না, চার্চে যায় না। তিনি তিনবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এ অভিযোগে পাশ করতে পারেননি। তবে এমন অভিযোগকে তিনি অস্বীকার না করে, প্রকাশ্যেই বলতেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিরোধীতা করায় তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে তাঁর লাইব্রেরির অধিকাংশ বই বিক্রি করে সরকার জরিমানার টাকা আদায় করে। এরপর আমেরিকার বিরুদ্ধে লেখায় তাকে জেলে যেতে হয়। তিনি আদর্শিক কারণে পৈতৃক সম্পত্তি নিজের অর্জিত নয় বলে তা গ্রহণ করেননি। সব সম্পত্তি সেবমূলক প্রতিষ্ঠানে দান করে দিয়ে, দরিদ্র থেকেছেন। ‘বিবাহ ও নৈতিকতা’ গ্রন্থটি লেখার পরে তিনি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে অধ্যাপনার জন্য আমন্ত্রণ পান। কিন্তু এক ছাত্রীর মা ওই বইটির জন্য অভিযোগ এনে দাবি করেন, ওনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এলে তাঁর মেয়ের সর্বনাশ হয়ে যাবে। একজন বিশপ অভিযোগ তুলেন, রাসেল ধর্ম ও নৈতিকতা মানেন না। একজন বিচারক রায় দিলেন- রাসেল যা লিখেছেন তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর বিধায় এখানে শিক্ষক হতে পারবেন না। ধর্মান্ধ মৌলবাদীরা পদে পদে রাসেলের বিরোধীতা করেছেন। অভিযোগ এনেছেন মানহীন লেখার। রাসেল এসবকে পাত্তা দেননি। তার চাকরি চলে যায়। কিন্তু তিনি নোবেল পেয়েছিলেন ওই ‘বিবাহ ও নৈতিকতা’ গ্রন্থটি লেখার জন্যই। অথচ এটি লিখেও কম হ্যাপা পোহাতে হয়নি। যে বিশ্ববিদ্যালয় তাকে পড়াতে দেয়নি, আবার তারাই তাকে ডেকে নিয়েছে। তিনি কখনোই আপোষ করেননি। সরকার বা রাষ্ট্রকে খুশি করতে কখনোই কাজ করেননি। তিনি সত্য বলতে পেরেছিলেন বলেই পাশ্চাত্য তাঁর কথাকেই গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।

জ্যঁ পল সার্ত্রে (১৯০৫-১৯৮০) একজন লেখক হিসেবে প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়াতেন, প্রয়োজনে নিজ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও। রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা পেয়েছেন কিন্তু আপোস করেন নি। আলজেরিয়ার সাথে অন্যায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে সার্ত্রসহ ১২১ জন বুদ্ধিজীবী ফ্রান্সের যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়ে আলজেরিয়ার স্বাধীনতার জন্য সমর্থন দিয়েছিলেন। তারা গ্রেফতারও হয়েছিলেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জোয়ারে প্রতাপশালী প্রেসিডেন্ড জেনারেল দ্য গল, সার্ত্রকে সম্মানের সাথে চিঠি লিখতে বাধ্য হয়েছিলেন। সার্ত্রেকে এক নজর দেখার জন্য বা তাঁর পাশে একটু হাঁটার জন্য মানুষ চেষ্টা চালিয়ে যেতো। তাঁর বাসস্থান থেকে সকালে পত্রিকা কেনার জন্য বের হলে, সাধারণ মানুষের সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অনেক বুদ্ধিজীবীও তাঁর সঙ্গ পাওয়ার জন্য, একটু কথা বলার জন্য তাঁর চারপাশে ভীর জমাতেন। সার্ত্রের পাশে হাঁটাও অনেক গর্বের মনে করতেন তারা। সার্ত্রে কোন এনভেলপের উপর কলম রেখেছিলন সেটা দখলের জন্যও কাড়াকাড়ি পড়ে যেতো। সিগারেটের পরিত্যক্ত পাছা নিয়ে একটি ঘটনা রয়েছে। কেউ একটি সিগারেট খেয়ে তা জ্বলন্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে দিয়েছিল। সার্ত্র তা জুতো দিয়ে মাড়িয়ে নিভিয়ে দিয়েছিলেন। সাথে সাথেই একজন ভাস্কর তা নিয়ে নেন এবং একটি ভাস্কর্যে তা ব্যবহার করেন। ফ্রান্স ভ্রমণের সময় এক সন্ধ্যায় সোভিয়েত রাষ্ট্রনেতা ব্রেজনেভ এর দাওয়াত ছিল ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হাউজে। একই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের পলাতক বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার ছিল সার্ত্রের। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেন ফ্রান্সের বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ। সারা বিশ্বের শতাধীক রেডিও ও টিভি প্রচার করে সেই অনুষ্ঠান। প্রেসিডেন্ট হাউজের অনুষ্ঠান মিডিয়ার কাছে গুরুত্ব হারিয়েছিল। সার্ত্রের লোভ ছিল না। তিনি ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত নোবেল পুরস্কারও প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি প্রতিষ্ঠান বিরোধী ছিলেন এবং মনে করতেন এতে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর আনুগত্য প্রকাশিত হবে। তিনি মারা গেলে সুবিশাল শোকমিছিলে হেঁটেছিল লক্ষ লক্ষ মানুষ। অথচ তিনি ছিলেন নাস্তিক, বিয়ে না করেই থাকতেন লেখিকা সিমন দ্য বোভোয়ারের সাথে। ফ্রান্সের মানুষের উপর এতোটাই প্রভাব বিস্তার করতেন সার্ত্রে। এমন প্রভাব আমরা পাশ্চাত্যের আরো অনেক লেখক/দার্শনিক এর মধ্যেও দেখি।

কিন্তু বাংলাদেশের লেখকগণ সবসময়ই ব্যস্ত থাকেন সরকারের আনুকূল্য লাভ করতে। তারা দৌড়াতে থাকেন এক শিল্পপতির বাড়ি থেকে আরেক শিল্পপতির কারখানায়—অর্থের জন্য। অবিশ্বাস্য দৈন্যতা একেকজনের। যেনো যাকাতের শাড়ির জন্য দৌড়াচ্ছে নিরন্ন মানুষ। ইমদাদুল হক মিলন ও তসলিমা নাসরিনকে কেন বসুন্ধরার আনভীরের জন্য কলম ধরতে হয়? বিনা স্বার্থেতো নয়? এমন লেখকদের দিয়ে এদেশ আগাবে না। এদেশের তরুণ প্রজন্মও বিষয়টি জানে বলেই তাদের প্রতি অনায়াসেই অবজ্ঞা প্রদর্শন করতে পারে।

Address

Munshiganj

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ-মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ-মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা।:

Share