bKash/Nagad/Rocket
01774392665
Bank Account:
Payame Insaniyat Bangladesh
AC No: 1351120048131
Al-Arafah Islami Bank Plc
Pallabi Branch, Dhaka-1216
Routing: 015263582 বিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত ইসলামী মনীষী ও দার্শনিক সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. প্রতিষ্ঠিত দাওয়াতি ও ইসলাহি সংগঠন-
পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ
ভূমিকা :
‘পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ’ বিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তানায়ক ও দার্শনিক ম
ুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. প্রতিষ্ঠিত একটি অরাজনৈতিক, সামাজিক, মানবিক, আধ্যাত্মিক ও দাওয়াতী সংগঠন এবং নির্ভেজাল মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে ব্যক্তি ও সমাজ গড়ার আন্দোলন। এর প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. বলেন, ‘পাশ্চাত্যের ভোগবাদী জীবনদর্শন মানুষের বাহ্যিক বস্তুগত দিকের উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথ দেখালেও তাতে আত্মার উন্নতি ও পরিশুদ্ধির কোনো ব্যবস্থা নেই। অথচ মানুষের আত্মাই তার বাইরের সকল কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে তাকে ভারসাম্য রাখে। আধ্যাত্মিকতার শূন্যতার কারণেই আজ পৃথিবীর এই বিপর্যয়কর অবস্থা। যুদ্ধ-বিগ্রহ, হানাহানি-মারামারি, জুলুম-নির্যাতন, নিপীড়ন-নিষ্পেষণ, অন্যের অধিকার হরণ, আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দুর্নিবার নেশা, সাম্রাজ্য বিস্তারের অন্তহীন প্রতিযোগিতা, বিত্ত-বৈভবের সীমাহীন মোহ, দেশপূজা, জাতিপূজা, গোত্রপূজা, স্বার্থপরতা, উগ্রতা, গোঁড়ামী এবং হিংসা-বিদ্বেষে জর্জরিত এ ধরিত্রী। বিশ্ব অতিদ্রæত ধ্বংসের পথে ধাবমান। মানবতা দলে দলে ছুটে চলেছে আত্মহত্যার পথে। এহেন পরিস্থিতিতে মানবতার মুক্তির একমাত্র পথ হলো- তাদের সামনে সকল সংকীর্ণতা, স্বার্থপরতা, গোঁড়ামী, সাম্প্রদায়িকতা, হঠকারিতা এবং সব ধরনের রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে সেই পয়গাম তুলে ধরা, যার ওপর মানবতার মুক্তি, শান্তি ও নিরাপত্তা নির্ভরশীল এবং যে পয়গাম পশ্চাতে ঠেলে দেয়ার কারণেই আজ গোটা সভ্যতা-সংস্কৃতি, কৃষ্টি-কালচার ও মানব সোসাইটি ভয়াবহ সংকট ও জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে নিমজ্জিত। কী সেই পয়গাম? কী সেই আহবান? সেই পয়গাম নবী-রাসূলগণের পয়গাম, সেই আহবান যুগে যুগে আল্লাহর মনোনীত বান্দাদের আহবান। যাঁরা স্ব স্ব যুগে মানবতার সামনে সেই পয়গাম উপস্থাপন করেছেন এবং তার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম ও নিরন্তর প্রয়াস চালিয়েছেন। সেই পয়গাম এখনো জীবন্ত। কিন্তু মানুষ্য রচিত বিভিন্ন মতবাদ, রাজনৈতিক দর্শন, বস্তুতান্ত্রিক সংগঠন-সংস্থা এবং কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী সেই পয়গামের সামনে এমন ধুলোর পাহাড় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যার তলে চাপা পড়ে গেছে নবী-রাসূলগণের সেই আহবান, সেই পয়গাম। কিন্তু বিবেক এখনো মরেনি। মানব মস্তিষ্ক এখনো ভোতা হয়নি। যদি নিঃস্বার্থভাবে সুদৃঢ় বিশ্বাস, অটুট আস্থা ও পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে সেই পয়গামকে আবারো প্রাঞ্জল ও হৃদয়গ্রাহীভাবে মানবতার সামনে পেশ করা হয়, তাহলে বিবেক আবার জেগে উঠবে, উঞ্চ অভিনন্দন জানাবে তাবৎ মানবতা।’ এই পয়গাম ও আহবানকে একটি সার্বজনীন সামাজিক আন্দোলনের রূপ দেয়ার জন্য নোবেল পুরস্কারতুল্য মুসলিম বিশ্বের সবচাইতে দামী পুরস্কার ‘শাহ ফয়সাল এ্যাওয়ার্ড’ বিজয়ী যুগশ্রেষ্ঠ মনীষী ও দার্শনিক সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. অনানুষ্ঠানিকভাবে ১৯৫১ সনে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৪ সনের ২৮, ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর ভারতের ইলাহাবাদে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে ‘পয়ামে ইনসানিয়াত’ [মানবতার ডাক] নামক সংগঠনটির গোড়াপত্তন করেন।
মূল্য প্রতিবাদ্য বিষয় :
সংগঠনটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় সম্পর্কে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. বলেন, ‘আফসোস! বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান সামাজিক, মানবিক ও নৈতিক ধ্বস প্রতিরোধ এবং নৈতিকতা ও মানবিকতার বিকাশদানের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো দল বা সংগঠন চোখে পড়ে না। আমরা অনেক অপেক্ষা করেছি, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি, যা আছে তাই নিয়েই ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এর বিষয়বস্তু হলো মানবতা ও চরিত্র। বিশ্বমানবতার মধ্যে মানবতা ও মনুষত্বের বিকাশ দান করা, মানব পরিচয়ে দেশ ও জাতির সেবার চেতনা জাগ্রত করা এবং চরিত্র ও নৈতিকতার উৎকর্ষ সাধন করাই সংঠনের মূল উদ্দেশ্য।’
আদর্শ :
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. বলেন, ‘পয়ামে ইনসানিয়াত মহানবী সা.-এর ‘হিলফুল ফুযূল’ এর একটি অনুসরণ, যা নবুওত প্রাপ্তির পূর্বে তিনি মক্কায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যার গুরুত্বপূর্ণ ধারাসমূহ ছিলো ‘আমরা দেশের অশান্তি দূর করব, পথিকদের নিরাপত্তা দিব, নিঃস্ব অসহায়দের সাহায্য করব এবং সকল প্রকার জুলুম-অত্যাচার, অন্যায়-অনাচার ও নৈরাজ্যের অবসান ঘটাবো।’
লক্ষ্য-উদ্দেশ্য :
০১. নির্ভেজাল মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য-স¤প্রীতির পরিবেশ গড়ে তোলা।
০২. ক্রমবর্ধমান সামাজিক, নৈতিক ও মানবিক অধঃপতন রোধ এবং নৈতিকতা ও মানবিকতার বিকাশ দান করা।
০৩. মাদকতা, নগ্নতা, অশ্লীলতা ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুস্থ্য সংস্কৃতির বিকাশ দান করা।
০৪. সমাজ থেকে সুদ, ঘুষ, দূর্নীতি, মজুদদারী, কালোবাজারী, সাম্প্রদায়িকতা ও অর্থনৈতিক লুন্ঠনের পথসমূহ নির্মূল করা।
০৫. সমাজ থেকে সকল প্রকার জুলুম-অত্যাচার, অন্যায়-অবিচার, হত্যা-রক্তপাত ও হিংসা-বিদ্বেষের অবসান ঘটানো।
০৬. জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিঃস্ব, দরিদ্র, বিপদগ্রস্ত ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ কবলিত মানুষের সেবায় এগিয়ে আসা।
০৭. দেশ, জাতি ও মানবতা রক্ষায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে জ্ঞানার্জন, চরিত্র গঠন ও সমাজ সেবার চেতনা জাগ্রত করা।
কর্মসূচি :
০১. দাওয়াহ; ইসলামের শান্তির আদর্শ প্রচার
০২. তা’লীম; ইসলামী শিক্ষার সম্প্রসারণ
০৩. ইসলাহ; সমাজ ও নৈতিকতার সংশোধন
০৪. খিদমাহ; আর্তমানবতার সেবা
এক : দাওয়াহ - ইসলামের শান্তির আদর্শ প্রচার
বিশ্বের তাবৎ মানবতার নিকট ইসলামের শান্তি ও মানবতার আদর্শের দাওয়াত তুলে ধরা, ইসলামের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের আলোকে সমাজ গঠন এবং নির্ভেজাল মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসা, ঐক্য-সংহতি ও সৌহর্দ্য-সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের কর্মপদ্ধতিসমূহ নিম্নরূপ-
০১. বিশ্ব মানবতার নিকট ইসলামের রহমত, শান্তি ও মানবতার আদর্শের দাওয়াত তুলে ধরা।
০২. মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষের মাঝে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তোলা।
০৩. উলামায়ে কেরামের মধ্যে যুগচাহিদার আলোকে দীনি দাওয়াতের অনুভূতি জাগ্রত করা।
০৪. মুসলিম উম্মাহর সমকালীন চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে যুগোপযুগী ইসলামিক দাঈ গড়ে তোলা।
০৫. সাধারণ মুসলমানদের ঈমান, আমল ও আখলাক সংশোধনের প্রচেষ্টা চালানো।
০৬. অমুসলিমদের নিকট ইসলামের সুমহান আদর্শের দা’ওয়াত সম্প্রসারণ করা।
০৭. ইসলাম ধর্ম ত্যাগকারীদের পুনরায় ইসলামে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালানো।
০৮. নাস্তিক ও ধর্মহীনদের নিকট যৌক্তিকভাবে ইসলামের সুমহান আদর্শ তুলে ধরা।
০৯. দাওয়াতী বই-পুস্তক, লিটারেচার, লিফলেট, ম্যাগাজিন ও প্রচারপত্র প্রকাশ ও প্রচার করা।
১০. নবীন আলেম, ইমাম, খতীব, দাঈ ও বক্তাদের জন্য দাওয়াহ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
১১. ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জীবনমুখি বিষয়ের উপর বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
১২. দাওয়াহ বিষয়ক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালা আয়োজন করা।
দুই : তা’লীম - ইসলামী শিক্ষার সম্প্রসারণ
সমাজ পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার হলো শিক্ষা, যা আল্লাহর নামে পড়া হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর নামে পড়ো’ যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ সুতরাং একটি সুস্থ্য, সভ্য, সুশৃংখল ও খোদাভীরু আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে হলে ‘আল্লাহর নামে শিক্ষা’র কোনো বিকল্প নেই। তাই এ লক্ষ্যে পয়ামে ইনসানিয়াতের কর্মপদ্ধতিসমূহ নিম্নরূপ-
০১. ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন ও সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা।
০২. সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ঈমান-আকীদা বিরোধী বিষয়গুলো নির্মূলের প্রয়াস চালানো।
০৩. নতুন প্রজন্মের ঈমান ও আকীদা হেফাজতের লক্ষ্যে ইসলামিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করা।
০৪. স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আফটার স্কুল কুরআন ও দ্বীন শিক্ষা’ কার্যক্রম পরিচালনা করা।
০৫. কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের জন্য ‘ফরজে আইন শিক্ষা’ কার্যক্রম চালু করা।
০৬. ইয়াতীম, প্রতিবন্ধী, নওমুসলিম ও নারীদের জন্য পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
০৭. যুব সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
০৮. সর্বসাধারণ ও ছাত্রদের জন্য পাঠাগার গড়ে তোলা এবং ইসলামী সাহিত্য বিকশিত করা।
০৯. দীনি শিক্ষা বিষয়ক বই-পুস্তক, লিটারেচার, লিফলেট ইত্যাদি প্রকাশ ও প্রচার করা।
১০. গরীব ও অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা।
তিন : ইসলাহ - সমাজ ও নৈতিকতার সংশোধন
‘ইসলাহ’ অর্থ সংস্কার ও সংশোধন। আমাদের নিকট ইসলাহ বলতে ‘ইসলাহে নফস ও ইসলাহে মুআশারা’ তথা ব্যক্তি ও সমাজশুদ্ধি বুঝায়। কারণ ব্যক্তি ও সমাজশুদ্ধিই হলো মৌলিক পরিবর্তনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। পরিপূর্ণ সংশোধনের ভিত্তি। সুতরাং ব্যক্তি ও সমাজের পরিবর্তন ও সংশোধনের লক্ষ্যে আমাদের কর্মপদ্ধতিসমূহ নিম্নরূপ-
০১. শিরক-বিদআত, প্রান্তিকতা, সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রপন্থা নির্মূলে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা।
০২. কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে সর্বত্র দারসুল কুরআনের ধারাবাহিকতা চালু করা।
০৩. সমাজ ও নৈতিকতার পরিশুদ্ধির লক্ষ্যে ‘ইসলাহী ও সংস্কারধর্মী কার্যক্রম’ পরিচালনা করা।
০৪. ক্রমবর্ধমান সামাজিক, নৈতিক ও মানবিক ধ্বস প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা করা।
০৫. ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ এবং অপসংস্কৃতি প্রতিরোধে নানামুখি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
০৬. অবক্ষয় রোধ ও সমাজ সংস্কারে উলামায়ে কেরাম ও সুশীল সমাজের ভূমিকা জাগ্রত করা।
০৭. সমাজ ও নৈতিকতার সংশোধনমূলক দীনি বই-পুস্তক ও লিটারেচার বিতরণ করা।
০৮. মাদকতা, নগ্নতা, অশ্লীলতা ও অনৈতিকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা করা।
০৯. যৌতুক ও বিয়ে শাদীর কুসংস্কার নির্মূল এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১০. অবক্ষয় প্রতিরোধে সেমিনার ও আলোচনা সভার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে তোলা।
চার : খিদমাহ - আর্তমানবতার সেবা
খেদমতে খালক তথা আর্তমানবতার সেবা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। রাসূলুল্লাহ সা. কিশোর বয়সেই অসহায়দের সেবায় পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেন। হিলফুল ফুযুল গঠন করার মাধ্যমে তিনি সমাজের দুঃখ-দুর্দশার করুণ চিত্র পাল্টে দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সেই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই পয়ামে ইনসানিয়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হলো খেদমতে খালক্ব বা মানবসেবা। এ লক্ষ্যে আমাদের কর্মপদ্ধতিসমূহ নিম্নরূপ-
০১. বেকারত্ব দূরীকরণে ও দারিদ্র বিমোচনে বিভিন্নমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
০২. দূর্যোগকবলিত মানুষের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা।
০৩. রমাদানে ইফতার ও ফুড সামগ্রী এবং ঈদের কুরবানীর গোশত বিতরণ করা।
০৪. অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করা।
০৫. পল্লী অঞ্চলে অসহায় মানুষের জন্য সেনিটেশন টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা।
০৬. সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে ঈদসামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা।
০৭. কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন টেকনিক্যাল ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
০৮. এতিম, প্রতিবন্ধী, ছিন্নমুল, পথশিশু ও বিধবা মহিলা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
০৯. দুস্থদের মাঝে রিকশা, গরু-ছাগল, সেলাই মেশিন ইত্যাদি উপার্জন উপকরণ বিতরণ করা।
১০. নওমুসলিমদের দ্বীনি ও ঈমানী প্রশিক্ষণসহ তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
কর্মীদের অঙ্গীকারনামা :
আমি যে মহান সত্ত্বাকে স্রষ্টা ও ক্ষমতার মালিক মনে করি তাঁর শপথ করে এ মর্মে অঙ্গীকার করছি যে-
০১. যদি আমি ছাত্র হই তাহলে আমার মূলনীতি হবে- জ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন, চরিত্র গঠন, সামাজিক কল্যাণ ও সেবায় অংশ গ্রহণ করা এবং একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা, যাতে ভবিষ্যতে নিজ দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে পারি। আমি উগ্রতা, গোঁড়ামী, সাম্প্রদায়িকতা ও আইন শৃংখলা বিরোধী কর্মকান্ড পরিহার করে স্বীয় বয়স, যৌবন ও প্রতিভাকে জনগণের সেবায় ব্যয় করব।
০২. যদি আমি চাকুরীজীবী হই তাহলে আমার মূলনীতি হবে- পরিশ্রম, সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করা এবং ঘুষ, স্বজনপ্রীতি, কর্মে অবহেলা ও দূর্নীতি থেকে মুক্ত থাকা।
০৩. যদি আমি ব্যবসায়ী হই তাহলে- আমি মজুদদারী, কালোবাজারী, অবৈধ মুনাফাখোরী ও জনগণের অর্থনৈতিক লুন্ঠন থেকে বিরত থাকব।
০৪. যদি আমি শিক্ষক, সাংবাদিক ও লেখক হই তাহলে- এমন চিন্তা-চেতনা ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের জন্য আমার প্রতিভাকে ব্যয় করব, যাতে সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানব দরদের চেতনার বিকাশ হয় এবং আপন পরিবেশ বিপথগামিতা, উত্তেজনা, ঘৃণা, ভ্রাতৃহত্যা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড থেকে মুক্ত থাকে।
০৫. যদি আমি কোনো পদে অধিষ্ঠিত হই তাহলে- আমি আমার কার্যসীমা ও গন্ডির মধ্যে ইনসাফ করব এবং হকদারকে তার হক দেয়ার জন্য নিষ্ঠাপূর্ণ প্রয়াস চালাব।
০৬. আমি যে সম্প্রদায়ের সাথেই সম্পর্ক রাখিনা কেন- এই দেশকে আপন মাতৃভূমি মনে করে সকল নাগরিকের সাথে প্রেম-ভালোবাসা, সহযোগিতা-সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের আচরণ করব।
০৭. দেশ ও জাতিকে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় এবং মানবিক অধঃপতন থেকে রক্ষার জন্য ‘পয়ামে ইনসানিয়াত’ যে কাজ করে যাচ্ছে তাতে আমি আন্তরিকতার সাথে স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ এবং যথাসাধ্য তার সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।
চলমান কার্যক্রমসমূহ :
০১. আফটার স্কুল লার্নিং কুরআন
আমাদের দেশে মাদরাসাপড়ুয়ার সংখ্যা ২% আর স্কুলপড়ুয়ার সংখ্যা ৯৮%। এই ৯৮% স্কুলপড়ুয়ার নিকট দ্বীনের মৌলিক শিক্ষা পৌঁছে দেয়া এবং তাদের ঈমান-আকীদা হেফাজতের লক্ষ্যে তাদের জন্য ‘আফটার স্কুল লার্নিং কুরআন’ নামে পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।
০২. ফরজে আইন শিক্ষা কার্যক্রম
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মুসলিম ভাইবোনদের জন্য বিশুদ্ধ কুরআন পড়া ও আয়াতের অর্থ বুঝার পাশাপাশি ঈমান, ইবাদত, মুআমালাত, মুআশারাত ও আখলাকসহ একজন মুসলমানের যতটুকু দ্বীনি জ্ঞান থাকা ফরজ তা শিক্ষাদানের জন্য ‘ফরজে আইন শিক্ষা’ কার্যকমের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ।
০৩. সেমিনার ও কর্মশালা
শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর নিকট বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে ইসলামের দাওয়াত তুলে ধরার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, গোলটেবিল, ডায়ালগ, মতবিনিময়, আলোচনা সভা ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
০৪. দাওয়াহ প্রশিক্ষণ
আধুনিক চিন্তা-দর্শনের প্রভাবে নাস্তিকতা ও ইরতিদাদী প্রবণতায় আক্রান্ত মুসলমানদের মধ্যে দীনি দাওয়াত পরিচালনায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও জ্ঞানগত দক্ষতার সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে নবীন আলেম, ইমাম, খতীব, দাঈ ও বক্তাদের জন্য দাওয়াহ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার ব্যবস্থা করা হয়।
০৫. ইসলাহে মুআশারা
সমাজ থেকে শিরক, বিদআত, সুদ, ঘুষ, দূর্নীতি, যৌতুক, মাদক, অশ্লীলতা ও সামাজিক কুসংস্কার নির্মূলে জনসচেতনতা সৃষ্টি, বই-পুস্তক বিতরণ এবং দাওয়াতী ও ইসলাহী প্রোগ্রামসহ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
০৬. দাওয়াতী কাফেলা প্রেরণ
অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে খৃস্টান মিশনারী, কাদিয়ানী ও বাহাই সহ বিভিন্ন সম্প্রদায় সহজ সরল মুসলমানদের ঈমান হরণ করছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য মানুষ খৃস্টান ও কাদিয়ানী হয়ে যাচ্ছে। এসব মুসলমানের ঈমান-আকীদা হেফাজত এবং অমুসলিমদের নিকট ইসলামের দাওয়াত তুলে ধরার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দাওয়াতী কাফেলা প্রেরণ করা হয়।
০৭. সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা
সুস্থ সংস্কৃতির লালন ও বিকাশ এবং মানবকল্যাণের পরিপন্থী অপসংস্কৃতির অপসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে ও উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃকিত অনুষ্ঠান, সীরাত ও বিষয়ভিত্তিক ইসলামী জ্ঞান প্রতিযোগিতাসহ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
০৮. দাওয়াতি লিটারেচার বিতরণ
ইসলামের সৌন্দর্য, আকীদা-বিশ্বাস, তাওহীদ-রিসালাত-আখিরাত, ইসলামের মানবিকতা, মানবাধিকার ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি, তুলনামূলক ধর্মতত্ত¡, বাতিল ধর্মের অসারতা ইত্যাদি বিষয়ক লিটারেচার, বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা ও প্রচারপত্র প্রকাশ ও বিতরণ করা হয়।
০৯. দাওয়াতি ও ইসলাহি মজলিস
মানুষের ঈমান, আখলাক ও চিন্তার সংশোধন এবং তাদের মধ্যে দাওয়াতি চেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে দাওয়াতি ও ইসলাহি মজলিসের আয়োজন করা হয়।
১০. খেদমতে খালক্ব
খেদমতে খালক্ব বা আর্তমানবতার সেবা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। খৃস্টান মিশনারীরা আজ এ হাতিয়ার ব্যবহার করে গরীব মুসলমানদের ঈমান হরণ করছে। তাই পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্কুল ও চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা; ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প; দুস্থ মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা; শীতবস্ত্র, ত্রাণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ; নওমুসলিমদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
বিনীত
শাইখুল হাদীস ডক্টর শহীদুল ইসলাম ফারুকী
আমীর, পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ
পরিচালক, মাকাসিদ ইনস্টিটিউট অব ইসালামিক স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ