17/01/2026
ফেমিনিজম তোমাদের ‘রানী’ বানায়নি, বানিয়েছে রাস্তার সস্তা পণ্য!
ছবিটার দিকে তাকান।
এই সেই ইউনিফর্ম, যা পরে মেয়েরা তথাকথিত ‘শিক্ষিত’ হতে যায়। যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের এই চিত্র। জামার ওপর লেখা অকথ্য সব গালি—"Fk" You", "Mg", "Mdcd"।
আজ যারা ‘নারী স্বাধীনতা’ আর ‘সমঅধিকার’-এর বুলি আওড়ায়, এই ছবিটা তাদের গালে এক চড়। ফেমিনিজম বা নারীবাদ আপনাদের শিখিয়েছে—লজ্জা হলো দুর্বলতা, আর বেহায়াপনা হলো স্বাধীনতা। ফলাফল? আজকের এই জঘন্য দৃশ্য।
নারীবাদ আপনাদের কী দিয়েছে?
পশ্চিমা ফেমিনিজম আপনাদের মগজ ধোলাই করেছে এই বলে যে, ঘরের কোণে থাকাটা ‘বন্দিদশা’ আর বাইরে গিয়ে পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে অশ্লীলতা করাটা ‘মুক্তি’।
তারা স্লোগান দেয়—"My Body, My Choice"। আর সেই চয়েসের নমুনা হলো এই নোংরা ইউনিফর্ম।
তারা বলে—"নারীর কোনো আটকানো নেই"। সেই বাধনহীনের ফল হলো—আজ আপনারা নিজেদের সম্মান নিজেরাই ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছেন।
এই কি আপনাদের শিক্ষা? এমন শিক্ষার মুখে লা_থি মা-রি!
আজ বড় গলায় নারী শিক্ষার স্লোগান দেওয়া হয়। বলা হয়, নারীকে ঘরের বাইরে আনলেই নাকি উন্নয়ন হবে। কিন্তু এই ছবিই প্রমাণ করে, বর্তমান সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের মা-বোনদের ‘শিক্ষিত’ বানাচ্ছে না, বরং ‘উচ্ছৃঙ্খল’ ও ‘বেহায়া’ বানাচ্ছে। যে শিক্ষা একজন নারীর হায়া-শরম কেড়ে নেয়, যে শিক্ষা তাকে রাজপথে বা স্কুল প্রাঙ্গণে অশ্লীল শব্দ বুকে ধারণ করতে শেখায়—সেই শিক্ষার কোনো প্রয়োজন মুসলিম উম্মাহর নেই। এর চেয়ে মূর্খ হয়ে ঘরে বসে থাকা হাজার গুণ শ্রেয় ছিল। কারণ, ইলমহীন নারী জান্নাতে যেতে পারে, কিন্তু হায়া ও লজ্জাহীন নারী জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।
বোন আমার! আপনাদের আইডল কে?
আপনারা নিজেদের মুসলিম দাবি করেন, অথচ আপনাদের আচরণে জাহেলিয়াত।
মা খাদিজা (রা.) ছিলেন আরবের শ্রেষ্ঠ ধনী, কিন্তু তাঁর শালীনতা ছিল আকাশছোঁয়া। তিনি কি কখনো এমন বেহায়াপনা করেছেন?
মা আয়েশা (রা.) ছিলেন উম্মাহর শিক্ষিকা। কিন্তু তিনি পরপুরুষের সামনে পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলতেন।
মা ফাতিমা (রা.) ওসিয়ত করেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর জানাজা যেন রাতে হয়, যাতে কোনো পরপুরুষ তাঁর কফিনের উচ্চতাও আন্দাজ করতে না পারে।
আর আপনারা? আপনারা সেই ফাতিমা (রা.)-এর উত্তরসূরি হয়ে ফেমিনিজমের ধোকায় পড়ে নিজেদের গায়ে অ"শ্লী"ল গা"লি লিখে উল্লাস করছেন! মনে রাখবেন, ইসলাম নারীকে দিয়েছে ‘রানী’র মর্যাদা (রাব্বাতুল বাঈত), তাকে ঘরের ভেতরে মহামূল্যবান হীরা করে রেখেছে। আর নারীবাদ আপনাদের ঘর থেকে বের করে বাজারের পণ্যে পরিণত করেছে, যা সবাই দেখতে পারে, সবাই ছুঁতে পারে।
পবিত্র কুরআনের নির্দেশ কী?
আল্লাহ তাআলা সূরা আহযাবে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন:
“আর তোমরা নিজগৃহে অবস্থান করবে এবং প্রাক-জাহেলী যুগের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়াবে না।” (সূরা আহযাব: ৩৩)
অথচ আপনারা আজ শিক্ষার নামে, ক্যারিয়ারের নামে ঘর ছেড়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন:
“দুই শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামী... (দ্বিতীয় শ্রেণী হলো) সেই সব নারী যারা পোশাক পরেও নগ্ন থাকে...” (সহীহ মুসলিম)
অভিভাবকদের বলছি:
মেয়ে জিপিএ-৫ পেল কি না, তা নিয়ে গর্ব করার আগে দেখুন নিজের মেয়ে আদোও মানুষ আছে কি না। মেয়েকে তথাকথিত ‘আধুনিক’ বানাতে গিয়ে তাকে জাহান্নামের ইন্ধন বানাচ্ছেন। ফেমিনিজমের বিষাক্ত ছোবল থেকে নিজের মেয়েকে বাঁচান।
শেষ কথা:
তথাকথিত প্রগতিশীলতা আর ফেমিনিজমের কবলে পড়ে আখেরাত হারাবেন না। ফিরে আসুন ইসলামের ছায়াতলে। পর্দা করুন, হায়া রক্ষা করুন। যে শিক্ষা রবকে ভোলায়, লজ্জাকে মারে—সে শিক্ষা বর্জন করাই ঈমানের দাবি।