26/11/2025
তাহাজ্জুদের আমল ছোট মনে হলেও এর মর্যাদা অপরিসীম। যে আল্লাহর নিকট প্রিয় হতে চায়, এই নফল ইবাদত তার জন্য অপূর্ব এক উপহার। তাহাজ্জুদের তিন রকম অবস্থা আছে।
১. সর্বোত্তম হলো, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে ঘুম ভেঙে নামায আদায় করা।
২. যদি আশঙ্কা থাকে যে রাত জেগে ওঠা সম্ভব হবে না, তাহলে ঘুমানোর আগে—ইশার পরপরই হলেও—তাহাজ্জুদ পড়ে নেওয়া যায়।
৩. আর যদি কোনো কারণে রাতে আদায় করা না যায়, তাহলে পরদিন দুপুরের আগেই এই নামায আদায় করে নেওয়া যায়।
নবীজি ﷺ এই ইবাদতে এতটাই অটল ছিলেন যে, অসুস্থতা বা প্রবল ঘুমের কারণে যদি রাতে মিস হয়ে যেত, তবে দিনে বারো রাকাত পড়ে তা পূরণ করতেন—ইবাদতের ধারাবাহিকতা যেন ভেঙে না যায়, শুধু এজন্যই। [কানযুল উম্মাল : ৮/২৮৮]
এখন একটি ব্যাপার ভালোভাবে বুঝে নিন। ধরা যাক কেউ ব্যাংকে গিয়ে মাত্র পাঁচশ’ টাকা জমা দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলল। ব্যাংক যদি মালিকদের তালিকা প্রস্তুত করে, যেখানে কোটি টাকার মালিক, লক্ষ টাকার মালিক, হাজার টাকার মালিক—সবাই থাকবে, তাহলে সেই পাঁচশ’ টাকার অ্যাকাউন্টধারীর নামও অবশ্যই সেই তালিকায় থাকবে। কারণ তার অ্যাকাউন্ট তো খোলা আছে!
আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের তালিকাও ঠিক এমনই। যেখানে থাকবেন হাসান বসরী রহ., যিনি সারা রাত নামাযে দাঁড়িয়ে থাকতেন; রাবেয়া বসরীয়া রহ., যিনি দীর্ঘ সিজদায় রাত পার করতেন; ইমাম আবু হানিফা রহ., যিনি ইশার ওযু দিয়ে ফজর পর্যন্ত নামায পড়তেন—এরা হবেন আধ্যাত্মিক অর্থে ‘কোটি টাকার মালিক’।
কিন্তু যদি আমরা প্রতিদিন ঘুমানোর আগে মাত্র দু-চার রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ে রাখি, তাহলে আমরাও সেই তালিকার অংশ হয়ে যাব। আমলের পরিমাণ কম—কিন্তু আমাদের হিসাব তো খোলা আছে!
কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহর প্রেমিকদের নাম ঘোষণা করা হবে, তখন যে বান্দা নিয়মিত তাহাজ্জুদের সামান্য আমলও করেছে, তাকে কখনোই শত্রুদের সারিতে দাঁড় করানো হবে না। আল্লাহর অফুরন্ত দয়া এমনটি হতে দেয় না। যে ব্যক্তি প্রতিদিন কিছু রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর প্রেমিকদের দলে নিজের নাম যুক্ত করে রাখে, ফেরেশতারা তাকে কখনোই বলবে না—“চল, আল্লাহর শত্রুদের সঙ্গে দাঁড়াও।” বরং তাকে ডাকা হবে প্রিয় বান্দাদের কাতারে, যেখানে বর্ষিত হবে দয়া, রহমত ও অগণিত পুরস্কার।
তাই এমন কোনো রাত যেন না যায়, যাতে অন্তত কয়েক রাকাত নফল পড়ে নিজেদের নাম তাহাজ্জুদগোযারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করি। যারা এখনও ঘুমাননি—আজকের রাত থেকেই সেই সম্মানিত তালিকায় নিজের নাম লিখে নেওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত হোক আমাদের সবার।
- মাওলানা ওমায়ের কোব্বাদী হাফিজাহুল্লাহ