সূফীবাদ লাইব্রেরী

সূফীবাদ লাইব্রেরী আপনি কি তরিকা পন্থী

☁️ চতুর্থ আসমানের যাত্রী: হযরত ইদ্রিস (আঃ)-এর অলৌকিক সমাপ্তি ।☁️হযরত ইদ্রিস (আঃ): চতুর্থ আসমানের যাত্রী ও চিরস্থায়ী জান...
02/12/2025

☁️ চতুর্থ আসমানের যাত্রী: হযরত ইদ্রিস (আঃ)-এর অলৌকিক সমাপ্তি ।

☁️হযরত ইদ্রিস (আঃ): চতুর্থ আসমানের যাত্রী ও চিরস্থায়ী জান্নাতবাস ।

হযরত ইদ্রিস (আঃ) ছিলেন মানবজাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)-এর ষষ্ঠ প্রজন্মের বংশধর এবং তাঁর পরবর্তীকালের মহান নবী। তিনি ছিলেন আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত।

তাঁর নামঃ-
তাঁর আসল নাম ছিল আখনূখ (অথবা হানোখ)। তিনি অত্যন্ত বেশি পড়াশোনা করতেন এবং আল্লাহর কিতাব পাঠ করতেন।

এই তথ্যগুলো হযরত ইদ্রিস (আঃ)-এর জ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা এবং আল্লাহর সাথে তাঁর বিশেষ মর্যাদার প্রমাণ বহন করে।

জ্ঞান ও সভ্যতার ভিত্তিপ্রস্তরঃ
ইদ্রিস (আঃ) ছিলেন মানব ইতিহাসের এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। আল্লাহ্‌র হুকুমে তিনি সমাজকে স্থবিরতা থেকে সভ্যতার দিকে নিয়ে যান। তিনি ছিলেন:

প্রথম লেখক: তিনিই সর্বপ্রথম কলম ব্যবহার করে লেখার কাজ শুরু করেন।

প্রথম দর্জি: তিনি সুই-সুতার সাহায্যে চামড়া ও কাপড় সেলাই করে পোশাক তৈরি করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যা মানবসভ্যতার পোশাক পরিধানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে।

গণনাবিদ: প্রাথমিক গণিত ও গণনা বিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করে তিনি মানুষকে হিসাব-নিকাশ শেখান।

শহর নির্মাতা: কিছু বর্ণনা মতে, তিনি বিভিন্ন স্থানে শহর নির্মাণ করেন, এমনকি মিশর ও তার আশেপাশে সভ্যতার গোড়াপত্তন করেন।

দাওয়াত ও ইবাদতের পরাকাষ্ঠাঃ
দাওয়াত ও ইবাদতের পরাকাষ্ঠা হলো মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা এবং নিজেও সৎকর্ম ও ইবাদতে মশগুল থাকা।
হযরত ইদ্রিস (আঃ) তাঁর জাতিকে প্রায় তিন শত বছর ধরে এক আল্লাহ্‌র ইবাদতের দিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং মানুষকে রোজা রাখার জন্য উৎসাহিত করতেন। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তিনি এত বেশি রোজা রাখতেন যে একসময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন।
তাঁর জীবন ছিল আল্লাহ্‌র প্রতি পরিপূর্ণ উৎসর্গীকৃত।

আসমানে আরোহণ ও শেষ যাত্রাঃ
হযরত ইদ্রিস (আঃ)-এর এই একনিষ্ঠতা ও ইবাদতের কারণে আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীন তাঁকে এক বিশেষ মর্যাদা দান করেন। একদিন, অলৌকিকভাবে তাঁকে জীবিত অবস্থায় চতুর্থ আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়।

মালাকুল মাউতের সাথে কথোপকথনঃ
ইবনে কাসীর (রহঃ) এর বর্ণনায় একটি চমকপ্রদ ঘটনা পাওয়া যায়, যা তাঁর আসমানে আরোহণের সাথে সম্পর্কিত:

বর্ণনা অনুসারে, মালাকুল মাউত আল্লাহর কাছে অনুমতি চাইলেন ইদ্রিস (আঃ)-এর সাথে দেখা করার জন্য।

সাক্ষাৎকালে ইদ্রিস (আঃ) মালাকুল মাউতকে অনুরোধ করেন তাঁকে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখানোর জন্য।

আল্লাহর নির্দেশে মালাকুল মাউত প্রথমে তাঁকে জাহান্নাম দেখান। জাহান্নামের ভয়াবহ দৃশ্য দেখে তিনি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চান।

এরপর তাঁকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হয়। জান্নাতের সৌন্দর্য দেখার পর তিনি সেখানে প্রবেশ করেন এবং আর বের হতে রাজি হননি।

মালাকুল মাউত তাঁকে বের হতে বললে ইদ্রিস (আঃ) বলেন, আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, "প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে" (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫)। আমি তো মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে ফেলেছি। আর আল্লাহ বলেছেন, "তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করার পর তা থেকে আর বের হবে না" (সূরা হিজর, আয়াত ৪৮)।

এই যুক্তিতর্কের পর আল্লাহ তা'আলা ইদ্রিস (আঃ)-কে জান্নাতেই থাকার অনুমতি দেন। এই বর্ণনাটি যদিও মুহাদ্দিসদের দ্বারা বিতর্কিত, তবে এটি ইদ্রিস (আঃ)-এর জ্ঞান ও আল্লাহ্‌র প্রতি তাঁর ভালোবাসা ফুটিয়ে তোলে।
সেখানে তিনি মালাকুল মাউতের (মৃত্যুর ফেরেশতা) সাথে সাক্ষাৎ লাভ করেন, জান্নাতও দেখেন এবং এরপর আল্লাহর ইচ্ছায় মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করেন। কিন্তু এরপর যখন তাঁর রূহ (প্রাণ) আবার তাঁর দেহে ফিরে আসে, তখন তিনি আর জমিনে ফিরে আসেননি। তিনি সারাজীবনের জন্য সেখানেই থেকে যান।

পবিত্র কোরআনের সূরা মারইয়ামের ৫৬ থেকে ৫৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর এই সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করে বলেন:

"আর কিতাবে ইদ্রীসের কথা আলোচনা করুন, তিনি ছিলেন সত্যবাদী নবী। আর আমি তাঁকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছিলাম।"

এভাবেই হযরত ইদ্রিস (আঃ) তাঁর পার্থিব জীবন সমাপ্ত করে এক অভূতপূর্ব ও সম্মানজনক উপায়ে আল্লাহ্‌র সান্নিধ্যে চিরস্থায়ী হলেন।

*** হযরত আইয়ুব (আঃ) ছিলেন ধৈর্যের এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ |ইসলামের ইতিহাসে হযরত আইয়ুব (আঃ)ধৈর্যের একটি উজ্জ্বল প্রতীক। তিনি ...
02/12/2025

*** হযরত আইয়ুব (আঃ) ছিলেন ধৈর্যের এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ |

ইসলামের ইতিহাসে হযরত আইয়ুব (আঃ)ধৈর্যের একটি উজ্জ্বল প্রতীক। তিনি ছিলেন ধনী,দানশীল এবং ন্যায়পরায়ণ। সমাজে তার সুনাম ছিল,এবং তিনি আল্লাহর পথে সদা সহায়ক ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এক সময় তার জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। সম্পদ হারিয়ে যায়,প্রিয় সন্তানরা চলে যায়,এবং স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। এমনকি তার শরীর জুড়ে ঘা ধরতে শুরু করে।
এই সময়ে কেউ তার পাশে থাকে না। অনেকেই তাকে এড়িয়ে যায়,কেউ সাহায্য করে না। কিন্তু হযরত আইয়ুব (আঃ)কখনো আল্লাহর প্রতি অভিযোগ করেননি। তিনি শুধু ধৈর্য সহকারে বলেছিলেন,“হে আমার প্রভু! কষ্ট আমাকে ছুঁয়েছে,তুমি পরম দয়ালু।”এই শব্দগুলো দেখায় তার ধৈর্য,বিশ্বাস এবং আল্লাহর প্রতি অটল প্রেম।
হযরত আইয়ুব (আঃ)ছিলেন ধৈর্যের এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ,যিনি দীর্ঘ শারীরিক ও আর্থিক কষ্ট সহ্য করার পরও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ ও অবিচল ছিলেন। তাঁর এই অটল ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার জন্য তিনি আল্লাহর কাছে বিশেষ পুরস্কার লাভ করেন এবং তাঁর জীবনকাহিনি ধৈর্য ও ঈমানের এক কালজয়ী শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়।
হযরত আইয়ুব (আঃ)’এর এই দৃঢ় ধৈর্য আল্লাহর নজর কাড়ে। আল্লাহ তার এই অবিচল আস্থা ও ধৈর্যের পুরস্কার দেন। তিনি তার স্বাস্থ্য,সম্পদ এবং পরিবার ফেরত পান। শুধু তাই নয়,তার প্রতিটি কষ্ট আল্লাহর কাছে তাকে আরও নিকটবর্তী করে তোলে।
এই গল্প আমাদের শেখায় যে জীবনে কখনো বিপদ,ক্ষতি বা কষ্ট আসে, তখনই ধৈর্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দোয়া। আমাদের উচিত অসুবিধার সময় আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখা,ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা এবং কখনো হতাশ না হওয়া। হযরত আইয়ুব (আঃ)প্রমাণ করেছেন যে, সত্যিকারের বিশ্বাস এবং ধৈর্য কখনো বৃথা যায় না।

কষ্ট ও কৃতজ্ঞতা: হযরত আইয়ুব (আঃ) বছরের পর বছর ধরে নানা শারীরিক ও আর্থিক কষ্টের সম্মুখীন হন। কিন্তু এত কিছুর পরও তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অবিচল বিশ্বাস বজায় রেখেছিলেন।

কোরআনে উল্লেখ:তাঁর এই ধৈর্য ও ঈমানের কথা পবিত্র কোরআনের সূরা নিসা,সূরা আনআম,সূরা সাদ এবং সূরা আম্বিয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আজও আমাদের জীবনে ছোট-বড় সমস্যা আসে। এই সময়ে আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে ধৈর্য ও সহনশীলতার দোয়া করা। মনে রাখতে হবে, বিপদই ধৈর্যের সঠিক পরিক্ষা,আর ধৈর্যই শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে প্রতিফলিত হয়।

আল্লাহর প্রশংসা:কোরআনের সূরা আম্বিয়াতে তাঁর কষ্টের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে,"আর আইয়ুবের কথা চিন্তা করে দেখো। সে যখন ফরিয়াদ করলো –'ওগো আমার প্রভু,আমি কঠিন রোগে বড় কষ্টের মধ্যে আছি আর তুমি তো সবচেয়ে বড় করুনাময়। এরপর আল্লাহ তাঁর ফরিয়াদ কবুল করে তাঁর কষ্ট দূর করে দেন।

শিক্ষা:হযরত আইয়ুব (আঃ)-এর জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় যে,ধৈর্যই বিপদের সবচেয়ে বড় দোয়া। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখুন,কঠিন সময়েও ধৈর্য হারাবেন না।

হযরত সুলাইমান (আঃ) এর মৃত্যু সম্পর্কে অজানা ঘটনা।হযরত সুলাইমান (আঃ) ছিলেন একজন অত্যন্ত ক্ষমতাধর নবী,যাঁর রাজত্বে মানুষ,প...
02/12/2025

হযরত সুলাইমান (আঃ) এর মৃত্যু সম্পর্কে অজানা ঘটনা।

হযরত সুলাইমান (আঃ) ছিলেন একজন অত্যন্ত ক্ষমতাধর নবী,যাঁর রাজত্বে মানুষ,পশুপাখি এবং জিনেরা পর্যন্ত তাঁর অনুগত ছিল। আল্লাহর নির্দেশে তিনি জিনদের দিয়ে বড় বড় ও কঠিন কাজ করিয়ে নিতেন।

সুলাইমান (আঃ) একজন শক্তিশালী একজন নবী ছিলো। একবার তিনি মালাকুল মাউত (মৃত্যুর ফেরেশতা)-কে ডেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন:

"আপনি যখন আমার রূহ কবজ করতে আসবেন, তখন কি আমার মৃত্যুর কিছু সময় আগে আমাকে অবহিত করবেন? কারণ, আমার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে যা আমি সম্পন্ন করতে চাই।"

ঠিক যেমনটি কথা ছিল, মালাকুল মউত সুলাইমান (আঃ)-এর কাছে এসে বললেন: "টাইম ইজ ওভার (Time is over), সময় শেষ! আপনার হাতে আর অল্প কিছু সময় বাকি। যা করার আছে, দ্রুত করে নিন।"

মালাকুল মাউত মৃত্যুর কিছু সময় আগে বলেন সুলাইমান time is over সময় শেষ। অল্প কিছু সময় বাকি। কি করবেন করেন।
🔨 জিনদের মহাপ্রকল্প
সংকেত পেয়েই সুলাইমান (আঃ) কালক্ষেপণ না করে জিনদেরকে ডাকলেন। তিনি বললেন: "ওহে জিনের দল! একটি বিশাল এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের কাজ শুরু করো। দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে।

একইসাথে, তিনি তাঁর বিশ্বস্ত কিছু অনুচরকে নির্দেশ দিলেন যেন চারদিকে কাঁচ (গ্লাস) দিয়ে ঘেরা একটি বিশেষ কক্ষ তৈরি করা হয়। সেই কাঁচের ঘরে প্রবেশ করে সুলাইমান (আঃ) নিজের লাঠির ওপর ভর করে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং জিনদের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন।

আসলে, জিনদের একটি অংশ ছিল অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির। তারা সুলাইমান (আঃ)-এর ভয়েই কাজ করত; যদি তিনি দাঁড়িয়ে না থাকতেন বা তদারকি না করতেন, তবে তারা কাজ থেকে বিরত থাকত।

🐜 লাঠি ভক্ষণ ও সত্য প্রকাশ
সুলাইমান (আঃ) এমনভাবেই লাঠির ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন যে, মালাকুল মউত তাঁর রূহ (প্রাণ) কবজ করে নিয়ে গেলেন। তাঁর শরীরটা তখন নিথর হয়ে কেবল একটি লাশে পরিণত হয়েছিল, কিন্তু লাঠির ওপর ভর থাকার কারণে তিনি জমিনে লুটিয়ে পড়েননি—তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন।

দূরে থাকা জিনেরা দেখল যে, তাদের 'বস' (সুলাইমান আঃ) স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। জিনেরা মনে করলো যে, বস যেহেতু দাঁড়িয়ে আছেন, তাই কাজ করতেই হবে। ভয়ে ও কর্তব্যের তাড়নায় তারা বিরতিহীনভাবে সেই বিশাল প্রজেক্টের কাজ চালিয়ে যেতে লাগলো।

অনেকদিন ধরে জিনেরা কাজ করতে করতে সেই পুরো প্রজেক্টের কাজ শেষ করে ফেলল।

ইন দ্য মিনটাইম (In the mean time), একটি ছোট পোকা (তেলাপোকা বা উইপোকা) সুলাইমান (আঃ)-এর লাঠির ভেতরে ঢুকে ধীরে ধীরে তা খেয়ে ফেলছিল। একসময় পোকাটি যখন লাঠির ভেতরের কাঠ শেষ করে দিল, তখন সেই দুর্বল লাঠিটি ভেঙে গেল। আর তখনই, হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর নিথর দেহটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

সুলাইমান (আঃ)-এর লাশ জমিনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জিনেরা বুঝতে পারল যে, তিনি বহু আগেই ইন্তেকাল করেছেন। এই দেখে তারা আফসোস করে বলতে শুরু করল: "হায় হায়! আমরা এত কঠিন কাজ করলাম! খালি খালি এত দিন ধরে কাজ করছি! যদি আমরা অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে জানতাম, তবে কখনও এমন অপমানজনক শাস্তি ভোগ করতাম না।"

এভাবে সুলাইমান (আঃ)-এর মৃত্যুর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, জিনেরা অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না।

আল্লাহর পরিকল্পনা: এটি ছিল আল্লাহর এক বিস্ময়কর পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে তিনি জিনদের ক্ষমতা ও অদৃশ্য জ্ঞান সম্পর্কে তাদের দাবির অসারতা প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন।

শিক্ষা: এই ঘটনার মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ যা চান তা কোন না কোন উপায়ে সম্পন্ন করেন। এমনকি মৃত ব্যক্তির মাধ্যমেও তিনি তাঁর ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারেন।

অপ্রত্যাশিত ঘটনা: জিনরা এই অপমানের শিকার হয়েছিল কারণ তারা গায়েবের বা অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে মিথ্যা দাবি করত।

02/12/2025

🕌 হযরত ইব্রাহীম (আঃ)ও হযরত ইসমাঈল (আঃ)। ঘরের চৌকাঠ ও পারিবারিক বরকত: দুই পুত্রবধূর গল্প 🕌

🕌 ঘরের চৌকাঠ: হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর পারিবারিক শিক্ষা

যখন হযরত ইসমাইল (আঃ)জন্মগ্রহণ করেন,তখন হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর বয়স ছিল ৮৬ বছর। মহান নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ)আল্লাহর নির্দেশে তাঁর স্ত্রী হাজেরা (আঃ) এবং শিশুপুত্র হযরত ইসমাঈল (আঃ) কে মক্কার জনমানবহীন প্রান্তরে রেখে এসেছিলেন। বহু বছর পর,যখন ইসমাঈল (আঃ)বড় হলেন এবং বিবাহ করলেন,তখন ইব্রাহীম (আঃ)একদিন পুত্রকে দেখতে মক্কায় এলেন।

হযরত ইব্রাহীম (আঃ)ও হযরত ইসমাইল (আঃ)এর পরিবার সম্পর্কিত ঘটনাগুলো হলো আল্লাহর নির্দেশে ইব্রাহীম (আঃ)তার স্ত্রী হাজেরাকে ও নবজাতক পুত্র ইসমাইলকে মক্কার জনমানবহীন প্রান্তরে রেখে আসা, সেখানে হাজেরার সংগ্রাম, যমযম কূপের সৃষ্টি এবং পরবর্তীতে ইব্রাহীম (আঃ)কর্তৃক নিজ পুত্রকে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করার এক চরম পরীক্ষামূলক ঘটনা। এই ঘটনাগুলো ত্যাগ,বিশ্বাস এবং আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

প্রথম visit: অকৃতজ্ঞতা
ইব্রাহীম (আঃ)যখন ইসমাঈল (আঃ)-এর বাড়িতে পৌঁছলেন,তখন তাঁর পুত্র বাড়িতে ছিলেন না। দরজায় ছিলেন তাঁর প্রথম পুত্রবধূ।

ইব্রাহীম (আঃ)জিজ্ঞেস করলেন,“তোমার স্বামী কোথায়?”

পুত্রবধূ উত্তর দিলেন,“তিনি শিকার করতে গেছেন।”

এরপর ইব্রাহীম (আঃ)ঘরের হালচাল জানতে চাইলেন। পুত্রবধূ বিরক্তিমাখা কণ্ঠে বললেন,“আমাদের অবস্থা মোটেও ভালো না। আমরা ঠিকমতো খেতেও পাই না,আপনি তো দেখতেই পারছেন।”তিনি দারিদ্র্য ও অভাবের অভিযোগ করলেন,যা তাঁর কন্ঠস্বরে ছিল কেবল অভাব ও অসন্তুষ্টির ছাপ।

ইব্রাহীম (আঃ)তাঁর পুত্রবধূর এই অকৃতজ্ঞতা ও অভিযোগ শুনে আর কিছু বললেন না। তিনি চলে যেতে লাগলেন এবং শুধু বললেন:“তোমার স্বামী ফিরে এলে তাকে বলো—সে যেন তার ঘরের চৌকাঠ বদলে ফেলে।”

ইসমাঈল (আঃ)শিকার থেকে ফিরে এসে স্ত্রীর কাছ থেকে ঘটনাটি শুনলেন। তিনি ছিলেন আল্লাহর নবী এবং পিতার ইশারা বুঝতে পারলেন। তিনি বুঝে গেলেন যে,‘ঘরের চৌকাঠ পরিবর্তন’বলতে তাঁর অসন্তুষ্ট স্ত্রীকে বুঝানো হয়েছে। এই অসন্তুষ্টি ও অকৃতজ্ঞতা পারিবারিক জীবনে অশান্তি ও অনৈক্য সৃষ্টি করছিল।

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং পিতার নির্দেশের তাৎপর্য বুঝে ইসমাঈল (আঃ) সেই স্ত্রীকে তালাক দিলেন।

দ্বিতীয় visit:সন্তুষ্টি ও আতিথেয়তা-কৃতজ্ঞতা ও বরকতের নিদর্শন ✅

কিছুকাল পর হযরত ইসমাঈল (আঃ)আবার বিবাহ করলেন। এরপর একদিন ইব্রাহীম (আঃ)পুনরায় পুত্রকে দেখতে তাঁর বাড়িতে এলেন। এবারও ইসমাঈল (আঃ)বাড়িতে ছিলেন না। দরজায় এলেন তাঁর নতুন পুত্রবধূ।

ইব্রাহীম (আঃ)জিজ্ঞাসা করলেন,“তোমার স্বামী কোথায়?”

পুত্রবধূ অত্যন্ত বিনয়ী ও সুন্দরভাবে উত্তর দিলেন,“তিনি শিকার করতে গেছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা খুব ভালো ও শান্তিতে আছি।”

তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে ইব্রাহীম (আঃ)-কে দুধ ও মাংস খেতে এনে দিলেন। যদিও তিনি জানতেন না যে তিনি একজন নবী এবং তাঁর স্বামীর পিতা। তাঁর আতিথেয়তা ছিল আন্তরিক ও নিঃস্বার্থ।

হযরত ইব্রাহীম (আঃ)পুত্রবধূর এই ভদ্রতা,কৃতজ্ঞতা ও সুন্দর আতিথেয়তায় অত্যন্ত খুশি হলেন। তিনি তাঁকে আশীর্বাদ করলেন এবং বললেন, “তোমার স্বামী ফিরে এলে তাকে আমার সালাম জানাবে। আর বলবে—তার ঘরের চৌকাঠ এখন ঠিক আছে।”

ইসমাঈল (আঃ) বাড়ি ফিরে স্ত্রীর কাছ থেকে ঘটনাটি শুনলেন। তিনি অত্যন্ত আনন্দের সাথে বললেন,“যিনি তোমার কাছে এসেছিলেন,তিনি আমার পিতা—আল্লাহর নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ)। তিনি কাবাঘর নির্মাণ করেছেন এবং মানুষকে হজ্জ্বের দাওয়াত দিয়েছেন।”

ইসমাঈল (আঃ) বুঝতে পারলেন,একজন কৃতজ্ঞ ও সন্তুষ্ট স্ত্রীই হলেন একজন পুরুষের জন্য সেরা চৌকাঠ,যা পরিবারে শান্তি ও আল্লাহর বরকত নিয়ে আসে।

শিক্ষা:
পারিবারিক সুখ-শান্তি এবং আল্লাহর রহমত কেবল ধন-সম্পদের ওপর নির্ভর করে না। বরং,সন্তুষ্টি,কৃতজ্ঞতা,এবং সুন্দর আচরণই একটি পরিবারকে স্থিতিশীল ও বরকতময় করে তোলে।

* প্রিয় নবী (সাঃ)-এর মেরাজ:আল্লাহর আরশ পর্যন্ত রহস্যময় যাত্রা।প্রিয় নবীকে স্পেশাল সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য আল্লাহ প্ল্যান...
02/12/2025

* প্রিয় নবী (সাঃ)-এর মেরাজ:আল্লাহর আরশ পর্যন্ত রহস্যময় যাত্রা।

প্রিয় নবীকে স্পেশাল সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য আল্লাহ প্ল্যান করলেন। হজরত জিব্রাইল (আঃ)ডেকে বললেন ও জিব্রাইল (আঃ) আমার পেয়ারা নবীকে স্পেশাল সারপ্রাইজ দিবো। কিন্তু এই সারপ্রাইজের গিফটা তোমার হাত দিয়ে আমি দিতে চাই না। আমার পেয়ারা নবীকে দুনিয়া থেকে টান দিয়ে আমার আরশের উপরে নিয়ে আসো। সময়ের কে আল্লাহ থামিয়ে দিলেন।

মক্কা থেকে উঠিয়ে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) কে মরুভূমিতে রাখা হলো রাতে। বললেন দোয়া করেন, দোয়া করে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) হজরত জিব্রাইল (আঃ)কে বললেন এটা কোন জায়গা কোথায় দোয়া করবো। জিব্রাইল (আঃ বলেন নবী কিছুদিন পরে আপনি এইখানে হিজরত করবেন। এই জায়গার নাম মদিনা । আবার সেখান থেকে তুলে পাহাড়ে রাখা হলো হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)কে জিব্রাইল (আঃ) বললেন দোয়া করেন। দোয়া করে নবী বললেন এটা কোন পাহাড় অন্ধকার আমিতো কিছু ছিনি না। সাইয়েদুল জিব্রাইল (আঃ)বলেন নবী এটা সাধারণ পাহাড় নয়!
এই পাহাড়ের কথা আল্লাহ কোরআনে বলেছেন। পাহাড়ের কসম আল্লাহ খেয়েছেন।
এই পাহাড়টা হলো আপনার ভাই মূসা (আঃ)তুর পাহাড়।

নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মেরাজ হলো এক আধ্যাত্মিক ও ঐশ্বরিক যাত্রা,যা ২৭ রজব রাতে সংঘটিত হয়েছিল। এই রাতে তিনি বোরাক বাহনে করে প্রথমে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা এবং সেখান থেকে একে একে সপ্ত আসমান, সিদরাতুল মুনতাহা ও অবশেষে আরশে আজিম পর্যন্ত গমন করেন। এই যাত্রাপথে তিনি মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং জান্নাত ও জাহান্নাম পরিদর্শন করেন। মেরাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপহার ছিল দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ।

ঊর্ধ্বগমন:মসজিদুল আকসা থেকে তিনি একে একে প্রথম থেকে সপ্তম আসমান পর্যন্ত ভ্রমণ করেন।

আরশে আজিম: সিদরাতুল মুনতাহা থেকে তিনি রফরফ বাহনে আরশে আজিম পর্যন্ত পৌঁছান এবং আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ লাভ করেন।

উপহার:মেরাজের সবচেয়ে বড় উপহার ছিল দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রতিষ্ঠা করা।

ফেরত আসা:এই অলৌকিক ভ্রমণ শেষে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান ও উপহার নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসেন।

তাৎপর্য:এটি ইসলামের একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, যা মহানবী (সাঃ)-এর আধ্যাত্মিক মর্যাদা প্রমাণ করে।

কারণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও রাসূল হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) ছাড়া অন্য কোনো নবী এ পরম সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেননি। ‘হে রাসূল! আমি আপনাকে গোটা মানবজাতির জন্য রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছি’(সূরা সাবা:২২)।

মেরাজের সত্যতা পবিত্র কোরআনুল কারিম এবং মাশহুর, মুতাওয়াতির হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ বলেন—

‘তাঁর দৃষ্টিভ্রম হয়নি এবং তিনি সীমা লঙ্ঘনও করেননি। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলি অবলোকন করেছেন’ (সুরা নাজম: ১৭-১৮)

Address

Mirpur

Telephone

+8801673304100

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সূফীবাদ লাইব্রেরী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to সূফীবাদ লাইব্রেরী:

Share