19/05/2026
🌍 স্বপ্ন যখন গ্লোবাল ক্যারিয়ারের: বাংলাদেশে বিশ্বমানের ডিমেনশিয়া কেয়ারগিভার তৈরির মহৎ উদ্যোগ!
ঢাকা, ১৯ মে, ২০২৬ - আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মর্যাদাপূর্ণ পেশায় দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও পরিশ্রমী তরুণ-তরুণীদের বৈশ্বিক ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলো আলঝেইমার সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ASB)। গত ১৭ মে, ২০২৬, রবিবার সোসাইটির উত্তরাস্থ কার্যালয়ে অত্যন্ত আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে 'ডিমেনশিয়া কেয়ার (লেভেল-৩)' ৬ মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ২য় ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই মানবিক ও যুগোপযোগী বৈশ্বিক দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোগে ওতপ্রোতভাবে সহযোগিতা করছে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (EBL)।
🌟 অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিবৃন্দ:
অনুষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (IGP) জনাব মো. আশরাফুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মাসকুর রেজা, FCA, EVP & Head of BIS এবং সদস্য, সিএসআর (CSR) ডেস্ক, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (EBL)।
🧠 জনাব মো. আজিজুল হক (সেক্রেটারি জেনারেল, ASB):
পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সোসাইটির দীর্ঘ ২০ বছরের মানবিক লড়াইয়ের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন—
ডিমেনশিয়ার এখনো কোনো শতভাগ নিরাময় (CURE) আবিষ্কার হয়নি; তাই সঠিক যত্নের (CARE) মাধ্যমেই তাঁদের জীবনমান উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। দেশে ১৫ লক্ষ রোগীর বিপরীতে ১৫ লক্ষ দক্ষ কেয়ারগিভার প্রয়োজন, অথচ আমাদের প্রশিক্ষিত জনবলের তীব্র সংকট। ASB এবং EBL-এর এই যৌথ প্রয়াস দেশের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের বিশ্বমানের দক্ষ পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলছে, যা আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের এক বিশাল দুয়ার খুলে দেবে।"
ডা.বেনজির জাহাঙ্গীর (কেয়ার কনসালটেন্ট ও ট্রেইনার, ASB): "ডিমেনশিয়া একটি নিউরো-ডিজেনারেটিভ ডিসঅর্ডার, যেখানে সময়ের সাথে সাথে রোগীর মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তন ঘটে। সঠিক ও দীর্ঘমেয়াদী সেবার জন্য দক্ষ (Skilled) কেয়ারগিভারের কোনো বিকল্প নেই। NSDA (জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) অনুমোদিত আমাদের এই 'ডিমেনশিয়া কেয়ার লেভেল-৩' কোর্সটি দেশের এই বিশাল চাহিদার ক্ষেত্র পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।"
মিসেস জাহানারা ইসলাম (ফ্যামিলি কেয়ারগিভার): "একটি ডিমেনশিয়া আক্রান্ত মানুষ নিয়ে ২৪ ঘণ্টা বসবাস করা যে কতখানি কষ্টসাধ্য, তা শুধু ভুক্তভোগী পরিবারই বোঝে। এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আমি সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই যেন দ্রুত এই অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো হয়।"
বদরুন নেসা বর্ষা (প্রশিক্ষণার্থী, ডিমেনশিয়া কেয়ার লেভেল-৩): প্রথমে ভেবেছিলাম শুধু ইউরোপে উচ্চশিক্ষার সিভিতে যুক্ত করার জন্য কোর্সটি করব। কিন্তু এখানে এসে রোগীদের বাস্তবতা দেখে এখন এটি আমার আত্মার তাগিদ ও সামাজিক দায়িত্ববোধে পরিণত হয়েছে। ধন্যবাদ EBL ও ASB-কে আমাদের এই বিশ্বমানের সুযোগটি দেওয়ার জন্য।"
আজমীর হাসনাত (প্রশিক্ষণার্থী, ডিমেনশিয়া কেয়ার লেভেল-৩):"এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের ও মানবিক কোর্সের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। ASB দেশে ডিমেনশিয়া সচেতনতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অসাধারণ কাজ করছে। আমরা গভীরভাবে প্রত্যাশা করি যেন EBL তাদের এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখে।"
তানজিলা আক্তার (প্রশিক্ষণার্থী, ডিমেনশিয়া কেয়ার লেভেল-৩):
"প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে আমরা অত্যন্ত কাছ থেকে শ্রদ্ধেয় ড. মো. আজিজুল হক স্যারের কাজের প্রতি গভীর একাগ্রতা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব দেখেছি। তিনি সর্বদা এমন একদল মানুষকে অনুপ্রাণিত ও একত্রিত করছেন, যারা সমাজ পরিবর্তনের জন্য আন্তরিকভাবে নিবেদিত। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, স্যারের এই মানবিক উদ্যোগ ও দূরদর্শী ভাবনার হাত ধরে আমরা বাংলাদেশে ডিমেনশিয়া কেয়ারের অন্ধকার দূর করে এক নতুন আলোর পথ তৈরি করতে পারব। আমরা কেবল দেশের অভ্যন্তরেই পরিবর্তন আনব না, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক মর্যাদার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বাংলাদেশকে গৌরবোজ্জ্বলভাবে উপস্থাপন করব।"
বিশেষ অতিথি জনাব মাসকুর রেজা, FCA (EVP, Eastern Bank PLC):
ASB-এর সেক্রেটারি জেনারেলের ত্যাগ ও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন—
"জনাব মো. আজিজুল হক ভাই একজন অসাধারণ নিবেদিতপ্রাণ (Passionate) মানুষ। নিজের মায়ের দীর্ঘদিনের ডিমেনশিয়ার কষ্টকে তিনি যেভাবে শক্তিতে রূপান্তর করে ২০ বছর ধরে এই সামাজিক আন্দোলন সচল রেখেছেন, তা অতুলনীয়। EBL-এর CSR ডেস্ক এই মহতী উদ্যোগের অংশ হতে পেরে গর্বিত। সমাজ থেকে ডিমেনশিয়া নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার বা সামাজিক কলঙ্ক (Stigma) দূর করতে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। EBL সবসময় এই আলোর যাত্রায় ASB-এর পাশে থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক আইজিপি জনাব মো. আশরাফুল হুদা তাঁর জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল সত্যটি প্রকাশ করে আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন—
"ডিমেনশিয়ার সাথে বসবাসকারী ভুক্তভোগী পরিবারগুলোই শুধু জানে এর ভয়াবহতা কতটা নির্মম। আজকে আমার বলতে কোনো দ্বিধা নেই-আমার অত্যন্ত প্রিয়তমা স্ত্রীও এই রোগে আক্রান্ত। গত ৩ বছর ধরে আমার স্ত্রী আলঝেইমার সোসাইটির এই ডিমেনশিয়া সেন্টারে নিয়মিত আসছেন। এখানকার আন্তর্জাতিক মানের 'পার্সন-সেন্টার্ড কেয়ার' (Person-Centered Care) এবং ব্রেন অ্যাক্টিভিটিজ আমার ভীষণ ভালো লাগে। ASB যেভাবে একটি বিশেষায়িত 'ডিমেনশিয়া ভিলেজ' ও আধুনিক কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে, তা সত্যি প্রশংসনীয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ ডিমেনশিয়া নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করছেন। বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশেও এখন দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট 'ডিমেনশিয়া কেয়ার পলিসি' বা জাতীয় নীতিমালা হওয়া দরকার। আমি নিজে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এই বিষয়ে জোরালো অ্যাডভোকেসি (Advocacy) করবো, যাতে বর্তমান সরকার দ্রুত এই মানবিক মহাপরিকল্পনায় সম্পৃক্ত হয়।
আমি ডিমেনশিয়া কেয়ার (লেভেল ৩) এই ২য় ব্যাচের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি। তোমরা যে এই মানবিক কাজে এগিয়ে এসেছো এ জন্য তোমাদের প্রতি রইলো অভিনন্দন ও শুভ কামনা।
এই যাত্রাকে আরও বেগবান করতে আমি ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির (EBL) প্রতি সদয় সহযোগিতা গভীরভাবে প্রত্যাশা করি।"