21/04/2026
সংসদে বিমান মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) শমশেরনগর বিমানবন্দর নিয়ে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। আমি একজন কমলগঞ্জ এর সন্তান ও প্রবাসী হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রদত্ত ভুল তথ্যগুলোর যথাযথ সংশোধন তুলে ধরছি।
কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বিমানবন্দর মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত, যা প্রায় ৮০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই বিমানবন্দর বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। এর রানওয়ে প্রায় ৬,০০০ ফুট দীর্ঘ ও ৭৫ ফুট প্রশস্ত এবং এটি বর্তমানে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মাননীয় মন্ত্রী দাবি করেছেন যে, বিমান ওঠানামার সময় এটি নাকি ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করে—যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। বাস্তবতা হলো, শমশেরনগর থেকে ভারতের সীমান্তের দূরত্ব প্রায় ১৭–১৮ কিলোমিটার। ফলে কোনোভাবেই বিমান সরাসরি ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করে না।
বিমানবন্দরটির রানওয়ে উত্তর-দক্ষিণমুখী, এবং সাধারণত বিমান দক্ষিণ দিক দিয়েই ওঠানামা করে। উড্ডয়নের পর বিমান শ্রীমঙ্গলের আকাশের দিকে অগ্রসর হয়, ভারতের দিকে নয়। সুতরাং ভারতের আকাশসীমার অজুহাত দেখিয়ে এই বিমানবন্দর অচল রাখা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
এছাড়াও স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে যে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ব্যক্তিস্বার্থে এই বিমানবন্দর চালু না করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। চাকরির সুবাদে এসে তারা এখানে জমি-জমা ক্রয় করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন, এমনকি পারিবারিক সম্পর্কও গড়ে তুলেছেন। তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ যেন জনস্বার্থের পথে অন্তরায় না হয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
কমলগঞ্জ শমশেরনগর ও সমগ্র মৌলভীবাজার জেলার জনগণ এবং প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি—শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু করা হোক। এটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং সামগ্রিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অতএব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বিনীত আহ্বান—ভুল তথ্য ও অযৌক্তিক অজুহাত পরিহার করে দ্রুত এই বিমানবন্দর চালুর কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন এবং এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য দাবিকে বাস্তবায়ন করুন।
পরিশেষে, মৌলভীবাজার-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব এম নাসের রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, যিনি এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন।
ধন্যবাদান্তে,
একজন সচেতন প্রবাসী ও শমশেরনগরের সন্তান
পোষ্টঃ সাইদুল বাছিত সাহেদ