24/01/2026
একদিন এক যুবক নবী করীম (সাঃ)-এর দরবারে এসে সরাসরি বলল, "হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ব্যভিচার (জিনা) করার অনুমতি দিন।"
উপস্থিত সাহাবীরা এই কথা শুনে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হলেন। কেউ কেউ তাকে ধমক দিয়ে বললেন, "চুপ করো! চুপ করো! তুমি কি বলছ এসব?" সাহাবীরা তাকে মারধর করতে বা থামিয়ে দিতে উদ্যত হলেন।
কিন্তু নবীজী (সাঃ) বিন্দুমাত্র রাগ করলেন না। তিনি সাহাবীদের শান্ত করলেন এবং যুবকটিকে পরম স্নেহে বললেন, "আমার কাছে এসো।" যুবকটি কাছে এসে বসল।
এরপর নবীজী (সাঃ) তাকে খুব শান্তভাবে কয়েকটি প্রশ্ন করলেন:
১. নবীজী (সাঃ): "তুমি কি তোমার মায়ের জন্য এমন কাজ (ব্যভিচার) পছন্দ করবে?" যুবক: "আল্লাহর কসম! না, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা কখনোই চাইব না।" নবীজী (সাঃ): "অন্য মানুষরাও তাদের মায়েদের জন্য এমন কাজ পছন্দ করে না।"
২. নবীজী (সাঃ): "তুমি কি তোমার মেয়ের জন্য এটি পছন্দ করবে?" যুবক: "আল্লাহর কসম! না, হে আল্লাহর রাসূল!" নবীজী (সাঃ): "অন্য মানুষরাও তাদের মেয়েদের জন্য এটি পছন্দ করে না।"
৩. নবীজী (সাঃ): "তুমি কি তোমার বোনের জন্য এটি পছন্দ করবে?" যুবক: "আল্লাহর কসম! না, হে আল্লাহর রাসূল!" নবীজী (সাঃ): "অন্য মানুষরাও তাদের বোনদের জন্য এটি পছন্দ করে না।"
এভাবে নবীজী (সাঃ) তার ফুফু এবং খালার প্রসঙ্গও তুললেন। প্রতিবারই যুবকটি বলল, "না"। নবীজী তাকে বোঝালেন যে, তুমি যার সাথে জিনা করতে চাও, সে কারো মা, কারো মেয়ে, অথবা কারো বোন। তুমি যা নিজের পরিবারের জন্য ঘৃণা করো, তা অন্যের পরিবারের জন্য কেন করতে চাও?
এই কথোপকথনের ফলে যুবকটির ভুল ধারণা ভেঙে গেল এবং তার মন থেকে পাপের ইচ্ছা দূর হয়ে গেল।
নবীজীর (সাঃ) সেই বিশেষ দুয়া
এরপর নবী করীম (সাঃ) মায়ার পরশ দিয়ে ওই যুবকের বুকে হাত রাখলেন এবং আল্লাহর কাছে এই দুয়াটি করলেন:
اللهُمَّ اغْفِرْ ذَنْبَهُ وَطَهِّرْ قَلْبَهُ، وَحَصِّنْ فَرْجَهُ
বাংলা অর্থ:
"হে আল্লাহ! তুমি তার গুনাহ ক্ষমা করে দাও, তার অন্তরকে পবিত্র করে দাও এবং তার লজ্জাস্থানকে (পাপ কাজ থেকে) হেফাজত করো।"
ঘটনার ফলাফলঃ
হাদিসের বর্ণনাকারী বলেন, এই ঘটনার পর ওই যুবক মদিনার সবচেয়ে চরিত্রবান যুবকদের একজন হয়ে ওঠেন। এরপর সারা জীবন তিনি আর কখনোই কোনো অশ্লীল কাজের দিকে ফিরেও তাকাননি এবং কারো প্রতি কুদৃষ্টি দেননি।
কেউ যদি দুয়াটি নিজের জন্য করতে চায় তাহলে হবেঃ
اَللَّهُمَّ اغْفِر ذَنْبِي، وَطَهِّرْ قَلْبِي، وَحَصِّنْ فَرْجِي