25/10/2025
ISKCON, পশ্চিমে যেই সংগঠন হরেকৃষ্ণ মুভমেন্ট, নামে বেশি মুখাটিব,
গত চল্লিশ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ভাবে শিশু নির্যাতন, যৌন কেলেঙ্কারি
ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক দুর্নীতি নিয়ে অভিযুক্ত ।
ISKCON-এর "অপরাধমূলক" কারনামা নিয়ে একটি মৃদু ফোরেনসিক আলাপ:
২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ISKCON-এর বিরুদ্ধে একটি ক্লাস একশন স্যুট মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে ৯০ জনেরও বেশি ভুক্তভোগী গুরুকুল (বোর্ডিং স্কুল)-এ যৌন এবং শারীরিক নির্যাতনের বিবরণ দেন। অভিযোগগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:
• শিক্ষক এবং প্রশাসকদের দ্বারা যৌন নিপীড়ন।
• কঠোর শারীরিক নির্যাতন, যেমন বেঁধে রেখে প্রহার করা।
• নির্মম পরিশ্রম করানো।
লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস এই মামলার ওপর বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে ১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশকে পশ্চিম ভার্জিনিয়া, টেক্সাস এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গুরুকুলগুলোতে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
আদালতের রায়ে ISKCON $৪০০ মিলিয়নের ক্ষতিপূরণ পরিশোধের নির্দেশ পায়, কিন্তু দেউলিয়া ঘোষণা করে তারা শেষ পর্যন্ত $৯.৫ মিলিয়ন ডলারে নিষ্পত্তি করে।
২. নিউ বৃন্দাবনের হত্যাকাণ্ড ও আর্থিক অপরাধ
পশ্চিম ভার্জিনিয়ার নিউ বৃন্দাবন সম্প্রদায় ISKCON-এর এক ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে পরিচিত, যেখানে কীর্তানানন্দ স্বামী (কিথ হাম)-এর নেতৃত্বে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল:
• হত্যাকাণ্ড: স্টিভেন ব্রায়ান্ট নামের এক সমালোচক, যিনি ISKCON-এর আর্থিক দুর্নীতি ও শিশু নির্যাতনের তথ্য ফাঁস করার হুমকি দিয়েছিলেন, ১৯৮৬ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
• আর্থিক প্রতারণা: নিউ বৃন্দাবনে দাতাদের অনুদানের অর্থ চুরি করে ব্যক্তিগত সম্পদ ক্রয় করা হয়।
• দুর্নীতির দায়ে সাজা: ১৯৯৬ সালে কীর্তানানন্দ স্বামীকে প্রতারণা এবং ডাকঘর জালিয়াতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
৩. Monkey on a Stick বইয়ে উদ্ঘাটিত অপরাধ
জন হুবনার এবং লিন্ডসে গ্রুসনের লেখা Monkey on a Stick বইটি ISKCON-এর অপরাধমূলক ইতিহাস তুলে ধরে। এই বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে:
• নিউ বৃন্দাবনের হত্যাকাণ্ড।
• কীর্তানানন্দ স্বামীর নেতৃত্বে গুরুকুলে শিশু নির্যাতন।
• অনুদানের অর্থ চুরি এবং মন্দিরের তহবিলের অপব্যবহার।
এই বইয়ের ঘটনা নিয়ে একটি ভালো ডকুমেন্টারি বানানো হইসে।
ডকুমেন্টারির বর্ণনা দেখেন: "Monkey on a স্টিক" is a feature-length documentary exposé of the criminal activity that took place in and around the Hare Krishna movement in America।
ডকুমেন্টারির ট্রেইলার কমেন্টে দিলাম।
এই ডকুমেন্টারির মুক্ত শো চিটাগংসহ সারা দেশে হওয়া জরুরি।
৪. ভারতে গুরুকুলের শিশু নির্যাতন
যুক্তরাষ্ট্রের মতোই, ভারতে ISKCON পরিচালিত গুরুকুলগুলোতেও শিশু নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে:
• যৌন ও শারীরিক নির্যাতন: বৃন্দাবনের গুরুকুলের প্রাক্তন ছাত্ররা শিক্ষকদের দ্বারা যৌন হয়রানির বর্ণনা দিয়েছেন।
• জোরপূর্বক শ্রম: শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমে বাধ্য করা হয়, যেগুলোর জন্য কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হতো না।
৫. কলকাতায় সমকামিতার কেলেঙ্কারি
২০১২ সালে কলকাতায় ISKCON-এর এক প্রশাসকের বিরুদ্ধে একাধিক কিশোরের প্রতি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে।
যদিও স্থানীয় প্রশাসন মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, জনমতের চাপে তদন্ত শুরু হয়।
কিন্তু অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের শাস্তি কার্যকর করা হয়নি।
৬. স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় আর্থিক কেলেঙ্কারি
স্ক্যান্ডিনেভিয়া এবং সুইডেনে ISKCON দাতব্য প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ সংগ্রহ করে তা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়:
• অনুদান প্রতারণা: দাতব্য কাজের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়, কিন্তু তা মন্দির নির্মাণ ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্রয়ে ব্যবহার করা হয়।
• কর ফাঁকি: সুইডিশ কর্তৃপক্ষ ISKCON-এর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তহবিল চুরির প্রমাণ পায়।
৭. মাদক চোরাচালান
১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশকে ISKCON-এর ভক্তরা মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
মন্দিরকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাদক সরবরাহ করা হতো।
৮. কীর্তানানন্দ স্বামীর যৌন নির্যাতনের মামলা
কীর্তানানন্দ স্বামী, যিনি আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত, তার বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে:
• গুরুকুলে ছাত্রদের “আধ্যাত্মিক শুদ্ধি”র নামে যৌন হয়রানি করা হতো।
• ফেডারেল কোর্টে সাক্ষ্য দেওয়া হয় যে তিনি তার ধর্মীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে নাবালকদের শোষণ করতেন।
৯. লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস এর অনুসন্ধান
লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ১৯৯০-এর দশক এবং ২০০০-এর শুরুর দিকে ISKCON-এর শিশু নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে:
• প্রায় ৬০ জন প্রাক্তন ছাত্র সাক্ষাৎকারে গুরুকুলে নির্যাতনের বিবরণ দেন।
• প্রতিবেদনে ISKCON-এর নেতাদের বিরুদ্ধে অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়।
১০. নারী পাচার ও যৌন শোষণ
ISKCON-এ নারী পাচারের অভিযোগও রয়েছে:
• ভক্ত হিসেবে নারীদের নিয়োগ করে তাদের যৌন শোষণের শিকার বানানো হয়।
• অনেক নারীকে বিদেশি মন্দিরে পাঠিয়ে প্রতারণার শিকার করা হয়েছে।
১১. দাতব্য কাজের নামে প্রতারণা
১৯৮০-এর দশকে ISKCON বিভিন্ন দাতব্য কাজের নামে অনুদান সংগ্রহ করে, কিন্তু সেই অর্থ মন্দির নির্মাণ এবং ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়।
১২. তথ্য ফাঁসকারীদের দমন
ISKCON ভেতরের অপরাধ ফাঁস করার চেষ্টা করা সদস্যদের হুমকি বা আক্রমণের মাধ্যমে দমন করেছে।
কিছু ক্ষেত্রে তথ্য ফাঁসকারীরা শারীরিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন।
১০। কিছুদিন আগে মুম্বাইয়ের একটি টিভি চ্যানেল ব্যাঙ্গালোরের ISKCON-এর অর্থনৈতিক অনিয়মের উপর একটি রিপোর্ট করে। খুঁজলে এই রকম অসংখ রিপোর্টাজ পাওয়া যাবে, যেগুলো গত ৪০ বছরে, আন্তর্জাতিক ভাবে বানানো ও প্রচার করা হইসে।
আমাদের দায়িত্ব হইতেসে এইগুলার একটা ডাটাবেইস তৈরী করে উন্মুক্ত কইরা দেয়া।
উপসংহার ও প্রস্তাবনা
ISKCON-এর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড একটি বৃহৎ কাঠামোগত সমস্যা নির্দেশ করে।
ISKCON-এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের ব্যবস্থা নেবার আগে আন্তর্জাতিক মতামত প্রস্তুত করা প্রয়োজন।
গত চল্লিশ বছর ধরে ISKCON আন্তর্জাতিক ভাবে শিশু নির্যাতন, যৌন কেলেঙ্কারি ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক দুর্নীতি করসে।
এই দুর্নীতির ভিকটিমদের এক করে, তাদের কণ্ঠস্বর ISKCON -এর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা আমাদের স্ট্রাটেজি হওয়া উচিত, ISKCON -কে ডিলেজিটামাইজ করতে;
ডিলেজিটামাইজ না করে কোন ধরণের নিষিদ্ধ করার আলাপ বিশাল ট্যাকটিক্যাল মিস্টেক।
নিষিদ্ধ করার দাবিকে একটা আন্তর্জাতিক হিউম্যানিটারিয়ান দাবি বানায় ফেলা এই মুহূর্তের কাজ।
এই উদ্দেশ্যে:
1. আন্তর্জাতিক নজরদারি: স্বাধীন তদন্ত ও নিরীক্ষার মাধ্যমে এ ধরনের ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা।
2. ভুক্তভোগীদের সমর্থন: ভুক্তভোগীদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে তারা তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবেন।
3. নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন: সরকারগুলোকে ISKCON-এর দাতব্য মর্যাদা পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং তাদের অপরাধের জন্য দায়ী করতে হবে।
এই প্রক্রিয়া সফল ভাবে একটিভেট করা গেলে,
আপনি কি ভাবসেন, তুলসী বা এমনকি ট্রাম্পের ক্ষমতা আসে
এই ব্যাপারে ড্রাস্টিক কিছু করার!
----------------------------------------------------------
এই সামান্য লেখাটা শহীদ সাইফুল ইসলাম আলিফ ভাইকে উৎসর্গ করা।
তাঁর শাহাদাতের পবিত্র রক্তে উজ্জীবিত হইসে গোটা উম্মাহ।
এই লেখাটা কয়জন বা কে পড়লে কাজ হবে আমি জানিনা।
যে বা যারা পড়লে কাজ হবে তাদের কাছে, মেহেরবানী কইরা পৌঁছায় দিন।
উগ্রবাদ ও চরমপন্থা মুকাবিলায় আলিফ ভাইয়ের জিন্দিগির নাযরানা
আল্লাহ কবুল কইরা নিন--এতটুকুই দোয়ার দরখাস্ত করি।
(গতবছরের ডিসেম্বর মাসে লিখেছিলাম, কেউই পড়েননি। )
লেখা:এবাদ রহমান।